৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১২৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১২৪১
তাকবীরে তাহ্‌রীমা ও ক্বিরাআতের মধ্যে কি পাঠ করবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শুরু করলে তাকবীরে তাহরিমা বলে কিরাআত শুরু করার আগে কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। এ দেখে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি সালাতের তাকবীরে তাহরিমা ও কিরাআতের মাঝে যখন চুপ থাকেন তখন কি পড়েন? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তখন বলিঃ “আল্লাহুম্মা বা'ইদ বায়নি ওয়া বায়না খাতা-ইয়া কামা বায়নাল বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিব, আল্লাহুম্মা নাক্কিনী মিন খাতা-ইয়া কামা ইউনাক্কাস্ সাওবুল আবিয়াদু মিনাদ দানাস, আল্লাহুম্মা আগসিলনী মিন খাতা-ইয়া বিস্‌সালজি ওয়াল মা-য়ি ওয়াল বারাদ” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার ও আমার পাপের মাঝে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করে দাও পশ্চিম ও পূর্বের মধ্যে তুমি যে পরিমাণ দূরত্ব রেখেছ। হে আল্লাহ! আমাকে আমার পাপ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করে দাও যেমনভাবে সাদা কাপড় থেকে ময়লা পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমার পাপসমূহ বরফ, পানি ও তুষারের শুভ্রতা দ্বারা ধুয়ে পরিষ্কার করে দাও।
১২৪২
তাকবীরে তাহ্‌রীমা ও ক্বিরাআতের মধ্যে কি পাঠ করবে পরিচ্ছেদ নাই
উমরাহ্‌ ইবনু ক্বা’ক্বা’ (রহঃ)
একই সানাদে জারীর কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
১২৪৩
তাকবীরে তাহ্‌রীমা ও ক্বিরাআতের মধ্যে কি পাঠ করবে পরিচ্ছেদ নাই
ইমাম মুসলিম
ইয়াহিয়া ইবন হাসান এবং ইউনুস আল মুয়াদ্দিব ও অন্যান্য আবদুল ওয়াহিদ ইবন জিয়াদ ও উমারাহ ইবন কাক্কা -এর মাধ্যমে আবু যুরআ থেকে আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে। আবু যুরআ বলেছেন, আমি আবু হুরাইরা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ সালাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্বিতীয় রাকাত শেষে উঠে দাঁড়িয়ে “আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন” বলে শুরু করতেন। চুপ থাকতেন না (অর্থাৎ- দ্বিতীয় রাকাত থেকে উঠা এবং সূরা ফাতিহা পাঠের মাঝখানে কোন বিরতি থাকত না)।
১২৪৪
তাকবীরে তাহ্‌রীমা ও ক্বিরাআতের মধ্যে কি পাঠ করবে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
জনৈক ব্যক্তি এসে সালাতের কাতারে ঢুকে পড়ল। তখন সে হাঁপাচ্ছিল। এ অবস্থায় সে বলে উঠল- “আল হামদুলিল্লাহি হামদান কাসীরান ত্বইয়্যিবান মুবারাকান ফীহি” (অর্থাৎ- সব প্রশংসাই মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। তাঁর অনেক অনেক প্রশংসা যা পবিত্র কল্যাণময়।) সালাত শেষ করে রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন: কথাগুলো কে বলেছ? তখন সবাই চুপ করে রইল। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন: ঐ কথাগুলো যে বলেছে সে তো কোন খারাপ কথা বলেনি। তখন জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল: আমি এসে যখন সালাতে শরীক হই তখন আমি হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। তাই আমি এ কথাগুলো বলেছি। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আমি দেখলাম, বারোজন ফেরেশতা ঐ কথাগুলোকে আগে উঠিয়ে নেওয়ার জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতা করছে।
১২৪৫
তাকবীরে তাহ্‌রীমা ও ক্বিরাআতের মধ্যে কি পাঠ করবে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
একদিন আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাত আদায় করেছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি বলে উঠলঃ “আল্লাহু আকবার কাবীরা-ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাসীরা-ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসীলা-” (অর্থাৎ- আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, বড়। সব প্রশংসা আল্লাহর। আর সকাল ও সন্ধ্যায় তারই পবিত্রতা বর্ণনা করতে হবে।)(সালাত শেষে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, এ কথাগুলো কে বলল? সবার মধ্যে থেকে জনৈক ব্যক্তি বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল আমি ঐ কথাগুলো বলেছি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কথাগুলো আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছে। কারণ কথাগুলোর জন্য আসমানের দরজা খুলে দেয়া হয়েছিল। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথাগুলো বলতে শোনার পর থেকে তাঁর ওপর আমল করা কখনো ছাড়িনি।
১২৪৬
সালাতে ধীরে-সুস্থে আসা উত্তম এবং দৌঁড়িয়ে আসা নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, সালাত শুরু হয়ে গেলে তোমরা তাতে শরীক হওয়ার জন্য দৌড়াবে না বা তাড়াহুড়া করবে না। বরং ধীরস্থিরভাবে হেঁটে হেঁটে যাও। তোমাদেরকে গাম্ভীর্য বজায় রাখতে হবে। এভাবে ইমামের সাথে সালাতের যে অংশ পাবে তাই আদায় করবে। আর যা পাবে না তা পূর্ণ করে নিবে।
১২৪৭
সালাতে ধীরে-সুস্থে আসা উত্তম এবং দৌঁড়িয়ে আসা নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতের জন্য ইকামত দেয়া হয়ে গেলে তোমরা দৌড়াদৌড়ি বা তাড়াহুড়া করে সালাতে এসো না। বরং প্রশান্তিসহ গাম্ভীর্য রেখে সালাতে শরীক হও। অতঃপর ইমামের সাথে যতটা সালাত পাও তা আদায় করো। আর যতটা না পাবে তা পূরণ করে নাও। কেননা তোমাদের মধ্যে কেউ যখন সালাত আদায়ের সংকল্প করে তখন সে সালাতরত থাকে বলেই গণ্য হয়।
১২৪৮
সালাতে ধীরে-সুস্থে আসা উত্তম এবং দৌঁড়িয়ে আসা নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মাদ ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ)
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) আমাদের নিকট রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস তিনি এভাবে বর্ণনা করলেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন সালাতের জন্য আহবান করা (আযান দেওয়া) হয়, তখন তোমরা স্বাভাবিকভাবে হেঁটে গিয়ে সালাতে শরীক হও। এ সময় তোমাদের উচিত প্রশান্তভাব ও গাম্ভীর্য বজায় রাখা। এভাবে যতটুকু জামাআতের সাথে পাবে আদায় করবে। আর যতটুকু পাবে না তা পূরণ করে নিবে।
১২৪৯
সালাতে ধীরে-সুস্থে আসা উত্তম এবং দৌঁড়িয়ে আসা নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া হয়ে গেলে তোমাদের কেউ যেন দৌড়ে না যায়। বরং প্রশান্তভাবে গাম্ভীর্য বজায় রেখে হেঁটে হেঁটে যেন যায়। জামাতে বা ইমামের সাথে যতটুকু পাবে আদায় করবে। আর যা ছুটে যায় তা পূরণ করে নেবে।
১২৫০
সালাতে ধীরে-সুস্থে আসা উত্তম এবং দৌঁড়িয়ে আসা নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
ক্বাতাদাহ্‌ (রাঃ)
এক সময়ে আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম। ইতোমধ্যে তিনি শোরগোল ও কোলাহল শুনতে পেয়ে (সালাত শেষে) বললেন: কি ব্যাপার! তোমরা এরূপ করলে কেন? সবাই বলল, আমরা সালাতের জন্য তাড়াহুড়া করে আসছিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: না, এরূপ করবে না। বরং তোমরা সালাতে আসার সময় শান্তভাবে আসবে। এভাবে জামাতে সালাতের যে অংশ পাবে, তা আদায় করে নিবে এবং যে অংশ পাবে না, তা পরে পূর্ণ করে নিবে।