৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১২৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১২৩১
সালাতের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ্‌ তাদের আযাদকৃত দাস আবুয্‌ যুবায়র (রহঃ)
আব্দুল্লাহ ইবনুজ যুবাইর (রাঃ) প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের শেষে ইবনু নুমাইর (রহঃ) এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ তাহলিল (অর্থাৎ- “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ” আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই) বলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন। হাদীসটির শেষে তিনি এভাবে বলেছেন, অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনুজ যুবাইর (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথাগুলো বলে প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের পর তাহলিল বা আল্লাহর প্রশংসা করতেন।
১২৩২
সালাতের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবুয্‌ যুবায়র (রহঃ)
আমি আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়রকে এ মিম্বারে দাঁড়িয়ে এই বলে খুতবা দিতে শুনেছি যে, সালাতের শেষে সালাম ফিরিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন...। অতঃপর তিনি হিশাম ইবনু উরওয়া বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।
১২৩৩
সালাতের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবুয্‌ যুবায়র আল মাক্কী (রহঃ)
তিনি আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর (রাঃ)-কে প্রতি ওয়াক্ত সালাতে সালাম ফিরানোর পর বলতে শুনেছেন- হিশাম ও হাজ্জাজ বর্ণিত পূর্বের হাদীসে উল্লেখিত দোয়ার অনুরূপ দোয়া করতেন। অবশ্য এ হাদীসের শেষে তিনি এ কথা বলেছেনঃ বিষয়টি আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করতেন।
১২৩৪
সালাতের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
কুতায়বাহও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন: একদিন গরীব মুহাজিরগণ রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে বললেন, সম্পদশালী লোকেরা উচ্চ মর্যাদা ও স্থায়ী নিয়ামতসমূহ লুটে নিচ্ছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: কিভাবে? তারা বললেন: আমরা সালাত আদায় করি, তারাও সালাত আদায় করে। আমরা সিয়াম পালন করি, তারাও সিয়াম পালন করে। কিন্তু তারা দান করে, আমরা দান করতে পারি না। আর তারা দাস মুক্ত করে, আমরা দাস মুক্ত করতে পারি না।এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দিব, যা করলে তোমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রসর লোকদের সমকক্ষ হতে পারবে? আর যারা তোমাদের পিছনে পড়ে আছে, তাদের পিছনে রেখে এগিয়ে যেতে পারবে? আর তোমাদের মতো কাজ না করে কেউ তোমাদের মতো উত্তম হতে পারবে না। তারা বললেন: হে আল্লাহর রসূল! তা অবশ্যই বলবেন।তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: প্রত্যেক সালাতের পর তোমরা তেত্রিশ বার করে তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বলবে।আবু সালেহ বর্ণনা করেছেন, এরপর গরীব মুহাজিরগণ পুনরায় রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন: আমরা যা করেছি আমাদের সম্পদশালী ভাইয়েরা তা জেনে ফেলেছে। সুতরাং এখন তারাও এ কাজ করতে শুরু করেছে। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: এ তো আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন।কুতায়বাহ ছাড়া এ হাদীসটি লায়স ও ইবনু আজলান-এর মাধ্যমে সুমাই থেকে বর্ণনা করেছেন, তারা এতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, সুমাই (হাদীসটির এক পর্যায়ের বর্ণনাকারী) বলেছেন: আমি ভুলে গিয়েছি হাদীসটি বরং এভাবে বলা হয়েছে: তেত্রিশবার তাসবিহ বর্ণনা করবে, তেত্রিশবার হামদ করবে আর তেত্রিশবার তাকবির বলবে।সুতরাং (এ কথা শুনে) আমি আবু সালেহ-এর কাছে গিয়ে এ বিষয়টি বললে, তিনি আমার হাত ধরে বললেন: বরং তুমি বলবে- “আল্লাহু আকবার ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি আল্লাহু আকবার ওয়া সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ” (অর্থাৎ- আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তাঁর। আল্লাহ মহান। তিনি পবিত্র, সব প্রশংসা তাঁর।) এভাবে সবগুলো মোট তেত্রিশবার বলবে। ইবনু আজলান বলেছেন: আমি রাজা ইবনু হাওয়াহ-এর কাছে হাদীসটি বর্ণনা করলে তিনিও আমাকে আবু সালেহ ও আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করে শোনালেন।
১২৩৫
সালাতের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
একদিন গরীব মুহাজিররা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সম্পদশালী লোকেরা উচ্চ মর্যাদা ও স্থায়ী নি‘আমাতসমূহ লুটে নিচ্ছে।অর্থাৎ- এভাবে তিনি লায়স থেকে কুতায়বা বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে তিনি আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে আবু সালিহ বর্ণিত হাদীসের “অতঃপর গরীব মুহাজিররা ফিরে আসলো” কথাটা শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। আর হাদীসটির মধ্যে তিনি এতটুকু কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, সুহাইল বলেন, এগারোবার করে সবগুলো মিলিয়ে মোট তেত্রিশবার পড়তে হবে।
১২৩৬
সালাতের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
কা’ব ইবনু ‘উজ্‌রাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক ফরজ সালাতের পরে কিছু দোয়া আছে, যে ব্যক্তি ঐগুলো পড়ে বা কাজে লাগায় কখনো নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তা হলোঃ তেত্রিশবার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পড়া, তেত্রিশবার তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) পাঠ করা এবং চৌত্রিশবার তাকবির (আল্লাহু আকবার) পাঠ করা।
১২৩৭
সালাতের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
কা’ব ইবনু ‘উজ্‌রাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কিছু দোয়া আছে প্রত্যেক ফরজ সালাতের পরে যে ব্যক্তি ঐগুলো পড়ে বা আমল করে সে কখনও নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। দোয়াগুলো হলোঃ তেত্রিশবার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ, অর্থাৎ- আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করা) পড়া, তেত্রিশবার তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ, অর্থাৎ- আল্লাহর প্রশংসা করা) পড়া এবং চৌত্রিশবার তাকবির (আল্লাহু আকবার, অর্থাৎ- আল্লাহর মহত্ব বর্ণনা করা) পড়া।
১২৩৮
সালাতের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
হাকাম
একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
১২৩৯
সালাতের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ওয়াক্ত সালাতের শেষে তেত্রিশবার আল্লাহর তাসবিহ বা পবিত্রতা বর্ণনা করবে, তেত্রিশবার আল্লাহর তাহমিদ বা আল্লাহর প্রশংসা করবে এবং তেত্রিশবার তাকবির বা আল্লাহর মহত্ব বর্ণনা করবে আর এভাবে নিরানব্বই বার হওয়ার পর শততম পূর্ণ করতে বলবে-“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শরীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর” (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক ও তাঁর কোনো শরীক নেই। সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র তিনিই। সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম)-তার গুনাহসমূহ সমুদ্রের ফেনারাশির মতো অসংখ্য হলেও ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
১২৪০
সালাতের পর যিকির মুস্তাহাব এবং এর বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এরপর উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।