৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১১০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১০৯১
সালাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ পরিচ্ছেদ নাই
ইসমা’ঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ)
অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
১০৯২
সালাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনূ ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
এক সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কোন একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম সওয়ারীতে আরোহণ করে (নফল সালাত আদায়রত) অতিক্রম করেছেন। কুতাইবা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ﷺ) সালাত আদায় করছিলেন। জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ আমি (ফিরে আসার পর ঐ অবস্থায়) তাঁকে সালাম দিলে তিনি (ﷺ) আমাকে ইশারা করলেন (ইশারা দ্বারা সালামের জবাব দিলেন)। সালাত শেষ করে তিনি (ﷺ) আমাকে ডেকে বললেনঃ তুমি এইমাত্র আমাকে সালাম দিয়েছ। তখন আমি সালাত আদায় করছিলাম। ঐ সময় তিনি (ﷺ) পূর্ব দিকে মুখ করে ছিলেন।
১০৯৩
সালাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
বানী মুস্তালিক গোত্রের দিকে যাওয়ার সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখলাম তিনি (ﷺ) উটের পিঠে বসে সালাত আদায় করছেন। আমি তাঁকে বললাম (অর্থাৎ- যে কাজে পাঠিয়েছিলেন সে সম্পর্কে) কিন্তু তিনি (ﷺ) আমাকে হাত দ্বারা এভাবে ইশারা করলেন। বর্ণনাকারী যুহায়র তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে [তিনি (ﷺ) ] কিভাবে ইশারা করেছিলেন তা দেখালেন। জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ বলেনঃ আমি তখন শুনেছিলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু পড়ছেন এবং মাথা দ্বারা ইশারা করছেন। সালাত শেষ হলে তিনি (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি তোমাকে যে জন্য পাঠিয়েছিলাম তার কি করেছ? আমি শুধু এ কারণে তোমার সাথে কথা বলিনি যে, আমি তখন সালাত আদায় করেছিলাম।হাদীসটির বর্ণনাকারী যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) বলেনঃ কথাগুলো বলার সময় আবুয্ যুবায়ের কা’বার দিকে মুখ করে বসে ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি (আবুয্ যুবায়ের) হাত দিয়ে ইশারা দেখাচ্ছিলেন তখন কা’বার দিকে মুখ না করে বানী মুস্তালিকের দিকে মুখ করে বলছিলেন।
১০৯৪
সালাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
কোন এক সফরে আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। তিনি (ﷺ) আমাকে একটি কাজে পাঠালেন। আমি ফিরে এসে দেখতে পেলাম তিনি (ﷺ) তাঁর সাওয়ারীর পিঠে বসে কিবলা ছাড়া অন্যদিকে মুখ করে সালাত আদায় করছেন। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। কিন্তু তিনি (ﷺ) আমার সালামের কোন জবাব দিলেন না। সালাত শেষ করে বললেনঃ আমি সালাত আদায় করছিলাম তাই তোমার সালামের কোন জবাব দিতে পারিনি। এছাড়া আর কিছুই আমাকে তোমার সালামের জবাব দেয়া থেকে বিরত রাখেনি।
১০৯৫
সালাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
(এক সময়ে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে কোন একটি কাজে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি হাম্মাদ বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করলেন।
১০৯৬
সালাতে শায়ত্বনকে লা’নাত করা, শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং ‘আমালে ক্বালীল’ (সামান্য কাজ) করা বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গত রাতে এক দুষ্ট জিন আমার সালাত নষ্ট করার জন্য আমার উপর আক্রমণ করতে শুরু করল। তবে আল্লাহ আমাকে তাকে কাবু করার শক্তি দান করলেন। আমি তাকে গলা টিপে ধরেছিলাম। আমার ইচ্ছে হলো তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি যাতে সকাল বেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখনই আমার স্মরণ হল আমার ভাই নবী সুলায়মানের দোয়ার কথা। তিনি (আঃ) দোয়া করেছিলেনঃ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي “হে প্রভু; তুমি আমাকে এমন রাজত্ব দান করো যা আমার পরে আর কার জন্য যেন না হয়”- (সূরা সোয়াদ ৩৮ : ৩৫)। (অর্থাৎ- জিন, বাতাস ও পশু-পাখির ওপর রাজত্ব করার ক্ষমতা। তাই আমি তাকে বেঁধে রাখা থেকে বিরত থাকলাম।) অতঃপর আল্লাহ জিনটিকে (আমার হাতে) লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দিলেন। ইবনু মনসূর, শু’আবাহ, মুহাম্মাদ ইবনু জিয়াদ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
১০৯৭
সালাতে শায়ত্বনকে লা’নাত করা, শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং ‘আমালে ক্বালীল’ (সামান্য কাজ) করা বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ্‌ (রহঃ)
উপরোক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তবে মুহাম্মাদ ইবনু জাফর বর্ণিত হাদীসে নবী (ﷺ) এর কথা فَذَعَتُّهُ অর্থাৎ- “আমি তাঁকে গলা টিপে ধরেছিলাম” বর্ণিত হয়নি। আর আবু বকর ইবনু আবু শায়বাহ বর্ণিত হাদীসে নবী (ﷺ)-এর কথা فَذَعَتُّهُ বর্ণিত হয়েছে।
১০৯৮
সালাতে শায়ত্বনকে লা’নাত করা, শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং ‘আমালে ক্বালীল’ (সামান্য কাজ) করা বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আবুদ্ দারদা (রাঃ)
(একদিন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমরা শুনতে পেলাম, তিনি বলেছেনঃ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ আমি তোমার (অনিষ্ট) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (আমরা শুনলাম) এরপর তিনি বলছেনঃ أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللَّهِ আমি তাকে লা’নত করছি যেমন আল্লাহ লা’নত করেছিলেন। তিনি এ কথাগুলো তিনবার বললেন। এ সময় (যে সময় তিনি লা’নত করছিলেন) তিনি হাত বাড়ালেন যেন কিছু ধরতে যাচ্ছেন। সালাত শেষ করলে আমরা তাঁকে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! (আজ) আমরা সালাতের মধ্যে আপনাকে এমন কিছু কথা বলতে শুনেছি যা ইতিপূর্বে আর কোন দিন বলতে শুনিনি। আর আমরা দেখলাম যে আপনি হাতও বাড়িয়ে দিলেন। (এর কারণ কি?) তিনি বললেনঃ আল্লাহর দুশমন ইবলীস আমার মুখের উপর নিক্ষেপ করার জন্য দগদগে অগ্নি-শিখা নিয়ে এসেছিল। তাই আমি তিনবারঃ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ বললাম। এরপর তিনবার أَلْعَنُكَ بِلَعْنَةِ اللَّهِ বললাম। এ কথাটিও আমি তিনবার বললাম। কিন্তু তবু সে পিছু হটল না। অবশেষে আমি তাকে পাকড়াও করতে ইচ্ছা করলাম। আল্লাহর শপথ করে বলছি, আমাদের ভাই নবী সুলায়মান যদি দোয়া না করে থাকতেন তাহলে সে সকাল পর্যন্ত বাঁধা থাকত। আর সকালবেলা মদীনা বাসীদের ছেলে সন্তানেরা তাকে নিয়ে আনন্দ করত বা মজা করে খেলত।
১০৯৯
সালাতের শিশুদেরকে কাঁধে উঠানো যায় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ক্বাতাদাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতরত অবস্থায় তাঁর নাতনী আবু আল আস ইবন রাবি (রাঃ)-এর ঔরসজাত কন্যা উমামা বিনতে যায়নাবকে কাঁধে উঠিয়ে সালাত আদায় করেছিলেন। তিনি যখন দাঁড়াচ্ছিলেন, তাকে (উমামা বিনতে যায়নাবকে) উঠিয়ে নিচ্ছিলেন এবং যখন সিজদায় যাচ্ছিলেন তখন নামিয়ে রাখছিলেন। ইয়াহিয়া ইবনু ইয়াহিয়া বলেন, (আমি এ হাদীসটি সম্পর্কে মালিককে জিজ্ঞেস করলে) মালিক বলেনঃ হ্যাঁ।
১১০০
সালাতের শিশুদেরকে কাঁধে উঠানো যায় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ক্বাতাদাহ্‌ আল আনসারী (রাঃ)
আমি নবী (ﷺ)-কে দেখেছি, তিনি (ﷺ) সালাতে লোকদের ইমামতি করছেন আর তাঁর নাতনি আবু আস ইবন রাবি'র ঔরসজাত কন্যা উমামা-কে (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা যায়নাবের গর্ভজাত মেয়ে) তাঁর কাঁধের উপর রেখে ইমামতি করতে দেখেছি। তিনি (ﷺ) যখন রুকুতে যাচ্ছেন তখন তাকে (কাঁধ থেকে) নামিয়ে রাখছেন, আবার সিজদা থেকে উঠার পর পুনরায় কাঁধে উঠিয়ে নিচ্ছেন।