৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১০৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১০৭১
ক্ববরের উপর মসজিদ নির্মাণ, মাসজিদে ছবি বানানো, ক্ববরকে সাজদার স্থান নির্ধারণ করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রোগ-শয্যায় বলেছিলেন, “আল্লাহ ইয়াহুদ ও নাসারাদের (খৃষ্টানদের) প্রতি লা’নাত বর্ষণ করুন। কারণ তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বা সিজদার স্থান করে নিয়েছেন।” আয়েশা (রাঃ) বলেছেনঃ যদি এরূপ করার আশঙ্কা না থাকতো তাহলে তাকে উন্মুক্ত স্থানে কবর দেয়া হত। কিন্তু যেহেতু তিনি আশংকা করতেন যে, তার কবরকে মসজিদ বা সিজদার স্থান করা হতে পারে তাই উন্মুক্ত স্থানে কবর করতে দেননি। বরং আয়েশা (রাঃ) এর কক্ষে তার কবর করা হয়েছে। তবে ইবনু আবূ শায়বাহ এর বর্ণিত হাদীসে فَلَوْلاَ ذَاكَ স্থানে وَلَوْلاَ ذَاكَ কথাটি বর্ণনা করা হয়েছে। আর তিনি ক্বলাত শব্দটি বর্ণনা করেননি।
১০৭২
ক্ববরের উপর মসজিদ নির্মাণ, মাসজিদে ছবি বানানো, ক্ববরকে সাজদার স্থান নির্ধারণ করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ ইয়াহুদীদের ধ্বংস করুন। তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদ বা সিজদার স্থান বানিয়ে নিয়েছে।
১০৭৩
ক্ববরের উপর মসজিদ নির্মাণ, মাসজিদে ছবি বানানো, ক্ববরকে সাজদার স্থান নির্ধারণ করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ ইয়াহূদ ও নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করুন। কারণ তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদ বা সিজদার স্থান করে নিয়েছে।
১০৭৪
ক্ববরের উপর মসজিদ নির্মাণ, মাসজিদে ছবি বানানো, ক্ববরকে সাজদার স্থান নির্ধারণ করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তারা উভয়েই বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাতের সময় ঘনিয়ে আসলে তিনি চাদর টেনে টেনে মুখমণ্ডলের উপর দিচ্ছিলেন। কিন্তু আবার যখন অস্বস্তিবোধ করছিলেন তখন তা সরিয়ে দিচ্ছিলেন। এ অবস্থায় তিনি বলছিলেন, “ইহুদি ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষিত হোক। তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদ বা সিজদার স্থান করে নিয়েছে (অর্থাৎ-সেখানে তারা সিজদা করে)।” আর ইহুদি ও নাসারাদের মতো না করতে তিনি (ﷺ) বার বার হুঁশিয়ার করে দিচ্ছিলেন।
১০৭৫
ক্ববরের উপর মসজিদ নির্মাণ, মাসজিদে ছবি বানানো, ক্ববরকে সাজদার স্থান নির্ধারণ করার প্রতি নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ নাই
জুনদুব (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে তাঁকে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের মধ্যে থেকে আমার কোন খলীল বা একান্ত বন্ধু থাকার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে মুক্ত। কারণ মহান আল্লাহ ইব্রাহিম (আঃ)-কে যেমন খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন, সেরকমভাবে আমাকেও খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আমি আমার উম্মাতের মধ্যে থেকে কাউকে খলীল বা একান্ত বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলে আবু বকর (রাঃ)-কেই তা করতাম। সাবধান থেকো, তোমাদের পূর্বের যুগের লোকেরা তাদের নবী ও নেককার লোকদের কবরসমূহকে মসজিদ (সিজদার স্থান) হিসেবে গ্রহণ করত। সাবধান, তোমরা কবরসমূহকে সিজদার স্থান বানাবে না। আমি এরূপ করতে তোমাদেরকে নিষেধ করে যাচ্ছি।
১০৭৬
মসজিদ নির্মাণের ফাযীলত এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
উবায়দুল্লাহ আল খাওলানী (রহঃ)
উসমান ইবন আফফান (রাঃ) যে সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মসজিদ নির্মাণ করলেন এবং এ কারণে লোকজন তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে শুরু করলো তখন উবাইদুল্লাহ খাওলানি উসমানকে বলতে শুনেছেন, তোমরা আমার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছ। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করবে, হাদিস বর্ণনাকারী বুকাইর বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন এর মাধ্যমে (মসজিদ নির্মাণ) যদি সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশা করে তাহলে মহান আল্লাহ তা’আলাও তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি ঘর নির্মাণ করেন বলে উল্লেখ করেছেন।ইবন ঈসা তাঁর বর্ণনায় (জান্নাতের মধ্যে অনুরূপ) শব্দ ব্যবহার করেছেন।
১০৭৭
মসজিদ নির্মাণের ফাযীলত এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
মাহমূদ ইবনু লাবীদ (রহঃ)
(তিনি বলেছেন) উসমান ইবন আফফান (রাঃ) মসজিদ নির্মাণ করতে মনস্থ করলে লোকজন তা করা পছন্দ করলো না। বরং মসজিদ যেমন আছে তেমন রেখে দেয়াই তারা ভাল মনে করলো। তখন উসমান বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কেউ মসজিদ নির্মাণ করলে আল্লাহ তা’আলাও তার জন্য জান্নাতের মধ্যে অনুরূপ একখানা ঘর তৈরি করেন।
১০৭৮
রুকূর সময় দু’হাত হাঁটুতে রাখা উত্তম হওয়া এবং তাত্ববীক্ব(দু’ হাত জোড় করে দু’পায়ের মাঝখানে) রাখা রহিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আসওয়াদ ও ‘আলক্বামাহ্ (রহঃ)
তারা (উভয়ে) বলেছেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) -এর বাড়িতে তার কাছে গেলাম। তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, “এসব আমীর-উমারা ও তাদের অনুসারীগণ যারা তোমাদের পেছনে রয়েছে তারা কি সালাত আদায় করেছে?” জবাবে আমরা বললাম, “না।” তখন তিনি বললেন, “তাহলে উঠে সালাত আদায় করে নাও।” (কারণ সালাতের সময় হয়ে গিয়েছে)। কিন্তু তিনি আমাদেরকে আজান কিংবা ইকামত দিতে বললেন না।বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, সালাত আদায়ের জন্য আমরা তার পিছনে দাঁড়াতে গেলে তিনি আমাদের একজনকে ধরে তার ডানপাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন এবং অপরজনকে বাঁ পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। তিনি রুকুতে গেলে আমরাও রুকুতে গিয়ে হাঁটুর উপর আমাদের হাত রাখলাম। তখন তিনি আমাদের হাত ধরলেন এবং হাতের দু’তালু একত্রিত করে দু’উরুর মাঝখানে স্থাপন করলেন। পরে সালাত শেষে বললেন, “অচিরেই এমন সব আমীর–উমারা ও ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গের আবির্ভাব ঘটবে যারা সময়মত সালাত না পড়ে বিলম্ব করবে এবং সালাতের সময় এত সংকীর্ণ করে ফেলবে যে, সূর্য অস্তমিত প্রায় হয়ে যাবে। তাদেরকে এরূপ করতে দেখলে তোমরা সময়মত সালাত আদায় করে নিবে। আর তাদের সাথে পুনরায় নফল হিসেবে পড়ে নিবে (ইমামকে মাঝখানে রেখে)। তিনের অধিকজন থাকলে একজন ইমাম হবে (সামনে দাঁড়াবে) আর রুকু করার সময় দুই হাত উরুর উপর রেখে রুকুতে যাবে এবং উভয় (হাতের) তালু একত্রিত করে দুই উরুর মাঝখানে রাখবে। (এসব কথা বলার পর তিনি বললেন,) এ মুহূর্তে আমি যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এক হাতের অঙ্গুলি অপর হাতের অঙ্গুলিতে ঢুকাতে দেখতে পাচ্ছি।” অতঃপর তিনি তা তাদেরকে দেখালেন।
১০৭৯
রুকূর সময় দু’হাত হাঁটুতে রাখা উত্তম হওয়া এবং তাত্ববীক্ব(দু’ হাত জোড় করে দু’পায়ের মাঝখানে) রাখা রহিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
মিনজাব ইবনুল হারিস আত্ তামীমী, ‘উসমান ইবনু আবূ শায়বাহ্ ও মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রহঃ) ‘আলক্বামাহ্ ও আসওয়াদ (রহঃ)
তারা (উভয়ে) আবদুল্লাহ (রাঃ) এর কাছে গেলেন। এরপর তারা মু'আবিয়া বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করলেন। তবে ইবনু মুসহির ও জারীর বর্ণিত হাদীসে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করা হয়েছে যে, এ মুহূর্তে আমি যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরস্পর বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে রাখা আঙুলগুলো দেখতে পাচ্ছি এবং তিনি রুকূ অবস্থায় আছেন।
১০৮০
রুকূর সময় দু’হাত হাঁটুতে রাখা উত্তম হওয়া এবং তাত্ববীক্ব(দু’ হাত জোড় করে দু’পায়ের মাঝখানে) রাখা রহিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান আদ্ দারিমী (রহঃ) ‘আলক্বামাহ্ ও আসওয়াদ (রহঃ)
তারা (আলকামা ও আসওয়াদ) এক সময়ে আবদুল্লাহর কাছে গেলে আবদুল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, যারা (আমির-উমারাহগণ) থেকে গেল তারা কি সালাত আদায় করেছে? তারা বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি (আবদুল্লাহ) তাদের দুইজনের মাঝখানে দাঁড়ালেন। তখন তিনি তাদের দুইজনের একজনকে ডানে এবং অপরজনকে বামে দাঁড় করালেন। এরপর আমরা (তাঁর সাথে) রুকু করলাম। এতে তিনি আমাদের হাত আমাদের হাঁটুর উপর রাখলেন। তিনি আমাদের হাত ধরে তা পরস্পর মিলিয়ে (একত্রিত করে) দিয়ে দুই উরুর মাঝখানে স্থাপন করলেন। সালাত শেষে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন।