৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১০৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১০৮১
রুকূর সময় দু’হাত হাঁটুতে রাখা উত্তম হওয়া এবং তাত্ববীক্ব(দু’ হাত জোড় করে দু’পায়ের মাঝখানে) রাখা রহিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
মুস’আব ইবনু সা’দ (রহঃ)
আমি আমার পিতার পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছি। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, ওই সময় (পিতার সাথে সালাত আদায়ের সময়) আমি আমার হাত দুটি দুই হাঁটুর মাঝখানে রাখলে আমার পিতা আমাকে বললেন, তোমার হাত দুটি হাঁটুর উপর রাখো। কিন্তু আবারও ওই রকম করলে তিনি আমার হাত দুটি ধরে বললেন, আমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং হাতের তালু হাঁটুর উপর রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
১০৮২
রুকূর সময় দু’হাত হাঁটুতে রাখা উত্তম হওয়া এবং তাত্ববীক্ব(দু’ হাত জোড় করে দু’পায়ের মাঝখানে) রাখা রহিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইয়া’ফুর (রহঃ)
তিনি এ একই সানাদে (উপরে বর্ণিত হাদিসটি) “ফানুহীনা ‘আনহু” পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁরা উভয়েই (ফানুহীনা ‘আনহু) পরবর্তী অংশটুকু বর্ণনা করেননি।
১০৮৩
রুকূর সময় দু’হাত হাঁটুতে রাখা উত্তম হওয়া এবং তাত্ববীক্ব(দু’ হাত জোড় করে দু’পায়ের মাঝখানে) রাখা রহিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
মুস’আব ইবনু সা’দ (রহঃ)
(কোন এক সময়ে সালাত আদায় করতে) আমি রুকুতে গিয়ে হাত দুইটি একত্রে মিলিয়ে দুই উরুর মাঝে রাখলাম। তখন আমার পিতা আমাকে বললেন, আমরাও এভাবে করতাম। কিন্তু এরপর আমাদেরকে হাঁটুর উপর হাত রাখতে আদেশ করা হয়েছে।
১০৮৪
রুকূর সময় দু’হাত হাঁটুতে রাখা উত্তম হওয়া এবং তাত্ববীক্ব(দু’ হাত জোড় করে দু’পায়ের মাঝখানে) রাখা রহিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
মুস’আব ইবনু সা’দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ)
আমি আমার পিতা সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাঃ)-এর পাশে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেছি। রুকুতে গিয়ে আমি এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অন্য হাতের আঙ্গুলসমূহের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে হাত দুইটি হাঁটুর মাঝে রাখলে তিনি আমার হাতে মৃদু আঘাত করলেন। সালাত শেষে তিনি বললেন, প্রথমে আমরা এরূপই করতাম। কিন্তু পরে আমাদেরকে হাঁটুর উপর রাখার নির্দেশ করা হয়েছে।
১০৮৫
গোড়ালির উপর নিতম্ব রেখে বসা পরিচ্ছেদ নাই
ত্বাউস (রহঃ)
আমি আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে দুই পায়ের উপর নিতম্ব রেখে বসা (ইক্‌আ করা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এরূপ করা সুন্নত। (এ কথা শুনে) আমি তাকে বললাম, এভাবে বসা তো মানুষের জন্য কষ্টকর। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস বললেন, এটা তো বরং তোমাদের নবী (ﷺ)-এর সুন্নত।
১০৮৬
সালাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ পরিচ্ছেদ নাই
মু’আবিয়াহ্ ইবনুল হাকাম আস্ সুলামী (রাঃ)
কোন এক সময় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায় করছিলাম। ইতোমধ্যে (সালাত আদায়কারীদের মধ্যে) কোন একজন লোক হাঁচি দিলে (জবাবে) আমি “ইয়ারহামুকাল্লাহ” (অর্থাৎ আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন) বললাম। এতে সবাই রুষ্ট দৃষ্টিতে আমার প্রতি তাকাতে থাকল।তা দেখে আমি বললামঃ আমার মা আমার বিয়োগ ব্যথায় কাতর হোক। (অর্থাৎ এভাবে আমি নিজেকে ভৎসনা করলাম)। কি ব্যাপার! তোমরা আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছ যে? তখন তারা নিজ নিজ উরুতে হাত চাপড়াতে থাকল। (আমার খুব রাগ হওয়া সত্ত্বেও) আমি যখন দেখলাম যে, তারা আমাকে চুপ করাতে চায় তখন আমি চুপ করে রইলাম।পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শেষ করলে আমি তাঁকে সবকিছু বললাম। আমার পিতা ও মাতা তাঁর জন্য কুরবান হোক। আমি ইতোপূর্বে বা এর পরে আর কখনো অন্য কোন শিক্ষককে তাঁর চেয়ে উত্তম পন্থায় শিক্ষা দিতে দেখিনি। আল্লাহর শপথ করে বলছি, তিনি আমাকে ধমকালেন না বা মারলেন না কিংবা বকাঝকাও করলেন না। বরং বললেনঃ সালাতের মধ্যে কথাবার্তা ধরণের কিছু বলা যথোচিত নয়। বরং প্রয়োজনবশতঃ তাসবীহ, তাকবির বা কুরআন পাঠ করতে হবে অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেরূপ বলেছেন।আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি সবেমাত্র জাহিলিয়াত বর্জন করেছি এবং এরপর আল্লাহ আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা গণকদের কথায় বিশ্বাস করে। তিনি (ﷺ) (এ কথা শুনে) বললেনঃ তুমি গণকদের কাছে যেয়ো না।সে বললঃ আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা শুভ অশুভ লক্ষণ নির্ধারণ করে থাকে। তিনি বললেনঃ এটা তাদের হৃদয়ের বদ্ধমূল বিশ্বাস। এটি তাদেরকে (ভাল কাজ করতে) বাধা না দেয়। হাদিস বর্ণনাকারী সাব্বাহ বলেছেন, তা যেন তোমাকে বাধা না দেয়। লোকটি বর্ণনা করেছেন- আমি আবারও বললামঃ আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা রেখা টেনে শুভ-অশুভ নির্ধারণ করে থাকে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ একজন নবী এভাবে রেখা টানতেন। সুতরাং কারো রেখা যদি (নবীর রেখা) অনুরূপ হয় তাহলে তা ঠিক হবে।বর্ণনাকারী মু’আবিয়া বলেন, আমার এক দাসী ছিল সে উহুদ ও জাওয়ানিয়্যাহ এলাকায় আমার বকরিপাল চরাত। একদিন আমি হঠাৎ সেখানে গিয়ে দেখলাম তার বকরিপাল থেকে বাঘে একটি বকরী নিয়ে গিয়েছে। আমি তো অন্যান্য আদম সন্তানের মত একজন মানুষ। তাদের মত আমিও ক্ষোভ ও চপেটাঘাত করলাম।এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলাম (এবং সব কথা বললাম) কেননা বিষয়টি আমার কাছে খুবই গুরুতর মনে হলো। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাকে (দাসী) মুক্ত করে দিব? তিনি বললেনঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো। সুতরাং আমি তাকে এনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে হাজির করলাম। তিনি তাঁকে (দাসীকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ (বলো তো) আল্লাহ কোথায়? সে বলল- আকাশে। নবী (ﷺ) বললেন, (বলো তো) আমি কে? সে বললঃ আপনি আল্লাহর রসূল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তুমি তাকে মুক্ত করে দাও, সে একজন মু’মিনাহ নারী।
১০৮৭
সালাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীর
একই সানাদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
১০৮৮
সালাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতেন সে অবস্থায় আমরা তাঁকে সালাম দিলে তিনি (ﷺ) তাঁর জবাব দিতেন কিন্তু (হাবশায় হিজরতের পর) নাজাশীর কাছ থেকে আমরা ফিরে এসে তাঁকে (সালাতরত অবস্থায়) সালাম দিলে তিনি জবাব দিলেন না। তখন (সালাত শেষে) আমরা বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সালাত আদায় করতেন এমন অবস্থায় আমরা আপনাকে সালাম দিলে তার জবাব দিতেন। (কিন্তু আজকে আমাদের সালামের জবাব দিলেন না!) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সালাতের মধ্যে নির্ধারিত করণীয় থাকে।
১০৮৯
সালাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
একই সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
১০৯০
সালাতে কথা বলা নিষেধ এবং এর পূর্ব অনুমতির বিধান রহিতকরণ পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু আরকাম (রাঃ)
আমরা সালাতরত অবস্থায় কথা বলতাম। লোকে সালাতরত অবস্থায় তার পাশে (সালাতে) দাঁড়ানো অপর ব্যক্তির সাথে কথা বলত। এরপর আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ “আর তোমরা আল্লাহর প্রতি পূর্ণ অনুগত ও একনিষ্ঠ হয়ে দাঁড়াও” – (সূরা আল বাকারা ২ : ২৩৮)। এ হুকুম অবতীর্ণ হওয়ার পর আমাদেরকে সালাতের মধ্যে চুপ থাকতে আদেশ দেয়া হলো এবং কথা বলতে নিষেধ করা হলো।