৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৯০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৮৯১
কিরাআত পাঠ মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
মহান আল্লাহর বাণীঃ “এ ওহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য নিজের জিহ্বা নাড়াবেন না” - (সূরা আল কিয়ামাহ ৭৫ : ১৬)। তিনি এ আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, ওহী নাযিল হওয়াকালীন সময়ে নবী (ﷺ) খুব কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হতেন। তিনি তা আয়ত্ত করার জন্য নিজের ঠোঁটদ্বয় নাড়তেন। সাঈদ ইবন যুবায়ের (রহঃ) বলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে তাঁর ঠোঁট নাড়তেন- আমি তোমাকে তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি [ইবন আব্বাস (রাঃ)] তাঁর ঠোঁট নাড়ালেন। সাঈদ (রহঃ) বলেন, ইবন আব্বাস (রাঃ) যেভাবে ঠোঁট নেড়েছেন আমিও তেমন করে দেখাচ্ছি। অতঃপর তিনি [সাঈদ (রহঃ)] নিজের ঠোঁট নাড়লেন, মহান আল্লাহ নাযিল করলেন: “এ ওহী তাড়াহুড়া করে মুখস্থ করার জন্য বারবার নিজের জিহ্বা নাড়িও না। এটা মুখস্থ করিয়ে দেয়া ও পড়িয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমার”- (সূরা আল কিয়ামাহ ৭৫ : ১৬-১৭)।অর্থাৎ- তোমার অন্তরে তা গেঁথে দেয়া এবং তোমার মুখে তা পাঠ করিয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব।- (আল কিয়ামাহ ৭৫ : ১৮)। তুমি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে থাকো ও চুপচাপ থাকো। এরপর তা তোমার মুখ দিয়ে পড়িয়ে দেয়া আমার দায়িত্ব।” এরপর থেকে জিবরীল (আঃ) ওহী নিয়ে আসলে তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। জিবরীল (আঃ) চলে যাওয়ার পর নবী (ﷺ) তার পাঠ হুবহু পড়তেন।
৮৯২
ফাজরের সালাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পড়া এবং জিনদের সামনে কিরাআত পড়া পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিনদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেননি এবং তিনি তাদের দেখেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর একদল সাহাবীকে নিয়ে উকাজের বাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। এ সময় আকাশমণ্ডলী থেকে তথ্য সংগ্রহকারী শয়তানদের জন্য আকাশমণ্ডলীর সংবাদ শোনা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এবং তাদের উপর উল্কা (জ্বলন্ত আগুনের টুকরা) নিক্ষেপ করা হচ্ছিল। শয়তানেরা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে আসলে তারা জিজ্ঞেস করল, তোমাদের কী হয়েছে? তারা বলল, ঊর্ধ্বলোকের তথ্য ও আমাদের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আমাদের উপর উল্কা নিক্ষেপ করা হয়েছে। সম্প্রদায়ের লোকেরা বলল, এর কারণ হচ্ছে- নিশ্চয়ই নতুন কিছু ঘটছে। পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী বিচরণ করে দেখো তোমাদের মাঝে ও আসমানের খবরাদির মাঝে কোন জিনিস প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দলে দলে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবী ঘুরে এর কারণ উদঘাটন করার জন্য বেরিয়ে পড়ল। এদের মধ্যে একদল তিহামা প্রদেশের পথ ধরে উকাজের বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলো। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম 'নাখলাহ' নামক স্থানে তাঁর সাহাবীদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করছিলেন। তারা যখন কুরআন পড়া শুনতে পেল, খুব মনোযোগ দিয়ে শুনল। অতঃপর তারা বলল, আমাদের ও আসমানের খবরাদির মাঝখানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ার এটাই একমাত্র কারণ। তারা নিজেদের সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল, ‘হে আমাদের জাতির লোকেরা! “আমরা এক অতীব আশ্চর্যজনক পাঠ (কুরআন) শুনেছি। তা কল্যাণের পথের দিকে হিদায়াত দান করে। এজন্য আমরা এর উপর ঈমান এনেছি। আমরা আর কখনো আমাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে শরীক করব না”- (সূরা জিন ৭২ : ১-২)। এ ঘটনার পর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর ওহী অবতীর্ণ করে বললেনঃ “বলো আমাকে ওহীর মাধ্যমে অবগত করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল মনোযোগ সহকারে (কুরআন) শুনেছে …..”- (সূরা জিন ৭২:১) নাযিল করলেন।
৮৯৩
ফাজরের সালাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পড়া এবং জিনদের সামনে কিরাআত পড়া পরিচ্ছেদ নাই
আমির (রহঃ)
আমি আলকামাকে প্রশ্ন করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে ইবনু মাসউদ (রাঃ) কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে ছিলেন? রাবী বলেন, আলকামা (রাঃ) বললেন, আমি ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে আপনাদের মধ্যে কেউ কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলেন? তিনি উত্তরে বললেনঃ না, তবে আমরা এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। আমরা তাঁকে হারিয়ে ফেললাম। আমরা পাহাড়ের উপত্যকায় ও গিরিপথে তাঁকে খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। আমরা মনে করলাম, হয় জিনেরা তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে অথবা কেউ তাঁকে গোপনে মেরে ফেলেছে। রাবী [ইবনু মাসউদ (রাঃ)] বলেন, এ রাতটি আমাদের জন্য এতই দুর্ভাগ্যজনক ছিল যে, মনে হয় কোন জাতির উপর এমন রাত আসেনি। যখন ভোর হলো, আমরা তাঁকে হেরা পর্বতের দিক থেকে আসতে দেখলাম। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা আপনাকে হারিয়ে ফেললাম এবং অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আপনার কোন সন্ধান পেলাম না। তাই সারারাত আমরা চরম দুশ্চিন্তায় কাটিয়েছি। মনে হয় এরূপ দুর্ভাগ্যজনক রাত কোন জাতির উপর আসেনি। জিনদের পক্ষ থেকে এক আহ্বানকারী আমাকে নিতে আসে। আমি তার সাথে গেলাম এবং তাদেরকে কুরআন পাঠ করে শুনালাম। রাবী (ইবনু মাসউদ (রাঃ)) বলেন, তিনি আমাদেরকে সাথে করে নিয়ে গিয়ে তাদের বিভিন্ন নিদর্শন ও আগুনের চিহ্ন দেখালেন। তারা তাঁর কাছে খাদ্যের জন্য প্রার্থনা করল। তিনি বললেন, যে জন্তু আল্লাহর নাম নিয়ে যবেহ করা হয়েছে তা তোমাদের খাদ্য। তোমাদের হাতের স্পর্শে তা পুনরায় গোশতে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। উটের বিষ্ঠা তোমাদের পশুর খাদ্য। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (আমাদের) বললেনঃ এ দুটো জিনিস দিয়ে শৌচকার্য করো না। কেননা এ দুটো তোমাদের ভাইদের (জিনদের) খাদ্য।
৮৯৪
ফজরের সালাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পড়া এবং জিনদের সামনে কিরাআত পড়া পরিচ্ছেদ নাই
দাউদ (রহঃ)
উপরের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে—“তাদের আগুনের চিহ্ন” পর্যন্ত।
৮৯৫
ফজরের সালাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পড়া এবং জিনদের সামনে কিরাআত পড়া পরিচ্ছেদ নাই
শা’বী (রহঃ)
এরা তাঁর কাছে খাদ্যের জন্য আবেদন করে। এরা জাযীরাতুল আরবের জিন ছিল। শা’বীর এই বর্ণনা পর্যন্ত হাদিস শেষ হয়েছে। আবদুল্লাহর হাদিস থেকে এ সূত্রে বর্ণনা কিছুটা ব্যাপক।
৮৯৬
ফজরের সালাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পড়া এবং জিনদের সামনে কিরাআত পড়া পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
“তাদের আগুনের চিহ্ন” বক্তব্য পর্যন্ত বর্ণিত হয়েছে এবং এর পরের অংশ উল্লেখ নেই।
৮৯৭
ফজরের সালাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পড়া এবং জিনদের সামনে কিরাআত পড়া পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
জিনদের সাথে সাক্ষাতের রাতে আমি নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম না। আফসোস! আমি যদি তাঁর সাথে থাকতাম।
৮৯৮
ফজরের সালাতে উচ্চৈঃস্বরে কিরাআত পড়া এবং জিনদের সামনে কিরাআত পড়া পরিচ্ছেদ নাই
মা’ন (রহঃ)
আমি আমার পিতার কাছে শুনেছি। আমি মাসরূককে জিজ্ঞেস করলাম, জিনের রাত, কে নবী (ﷺ)-কে জানিয়ে দিল যে, তারা এসে তাঁর কুরআন পাঠ শুনছে? মাসরূক বলেছেন, আমাকে তোমার পিতা অর্থাৎ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেন যে, গাছই তাদের সম্পর্কে নবী (ﷺ)-কে জানিয়ে দিয়েছিলেন।
৮৯৯
যুহ্‌র ও ‘আস্‌র-এর সলাতের কিরাআত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ কাতাদাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সাথে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। তিনি যুহর ও আসরের প্রথম দুই রাকাতে সূরাতুল ফাতিহা এবং এর সাথে আরো দুইটি সূরা পাঠ করতেন। কখনো কখনো তিনি আমাদেরকে শুনিয়ে আয়াত পাঠ করতেন। তিনি যুহরের প্রথম রাকাত দীর্ঘ করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাত সংক্ষিপ্ত করতেন। ফজরের সালাতেও তিনি এভাবেই করতেন।
৯০০
যুহ্‌র ও ‘আস্‌র-এর সালাতের কিরাআত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) যুহর ও আসরের দুই রাকাতে সূরা আল ফাতিহার সাথে একটি করে সূরা পাঠ করতেন। তিনি কখনো কখনো আমাদেরকে শুনিয়ে আয়াত পাঠ করতেন। আর শেষের দুই রাকাত তিনি কেবল সূরা ফাতিহাই পাঠ করতেন।