৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭৩৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭৩২১
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
তিনি নবী (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, বনী ইসরাইলের মাঝে তিনজন লোক ছিল—একজন ছিল কুষ্ঠরোগী, দ্বিতীয়জন টাক মাথা বিশিষ্ট এবং তৃতীয়জন অন্ধ। আল্লাহ তা‘আলা এ তিনজনকে পরীক্ষা করার ইচ্ছা করলেন। তাই তিনি তাদের কাছে একজন ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতা প্রথমে কুষ্ঠরোগীর নিকট এসে বললেন, “তোমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় জিনিস কি?” সে বলল, “উত্তম (গায়ের) রং, ভালো চামড়া এবং আমার থেকে যেন এ রোগ নিরাময় হয়ে যায়, যার কারণে লোকেরা আমাকে ঘৃণা করে।” অতঃপর ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলালেন। এতে তার এ কুৎসিত ব্যাধি ভালো হলো এবং তাকে সুন্দর রং ও সুন্দর চর্ম দান করা হলো। ফেরেশতা আবার তাকে প্রশ্ন করলেন, “তোমার কাছে প্রিয় মাল কোনটি?” সে বলল, “উট বা গাভী।” বর্ণনাকারী ইসহাক সন্দেহ পোষণ করেছেন। তবে কুষ্ঠরোগী বা টাক মাথাওয়ালা তাদের একজন বলল, “উট” আর অপরজন বলল “গাভী”। অতঃপর তাকে গর্ভবতী উষ্ট্রী প্রদান করা হলো এবং বললেন, “আল্লাহ তোমাকে এতে বারাকাত দান করুন।”এরপর ফেরেশতা টাক মাথা লোকের কাছে এসে তাকে প্রশ্ন করলেন, “তোমার নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় জিনিস কি?” সে বলল, “সুন্দর চুল এবং আমার থেকে যেন এ ব্যাধি নিরাময় হয়ে যায় যার কারণে লোকেরা আমাকে ঘৃণা করছে।” ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলালে তার ব্যাধি ভালো হয়ে যায়। এরপর তাকে দান করা হয় সুন্দর চুল। পুনরায় ফেরেশতা তাকে প্রশ্ন করলেন যে, কোন মাল তোমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়? সে বলল, “গাভী।” তারপর তাকে গর্ভবতী একটি গাভী দান করা হলো এবং ফেরেশতা বললেন, “আল্লাহ তোমাকে এতে বারাকাত দান করুন।”এরপর ফেরেশতা অন্ধ ব্যক্তির নিকট আসলেন এবং বললেন, “তোমার নিকট কোন জিনিস সবচেয়ে প্রিয়?” সে বলল, “আল্লাহ তা‘আলা আমাকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিক যাতে আমি লোকজন দেখতে পারি।” অতঃপর ফেরেশতা তার চোখের উপর হাত বুলালে আল্লাহ তার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। এরপর ফেরেশতা আবার তাকে প্রশ্ন করলেন, “কোন সম্পদ তোমার কাছে বেশি প্রিয়?” সে বলল, “বকরী।” তাকে গর্ভবতী বকরী দান করা হলো। অতঃপর উষ্ট্রী, গাভী এবং বকরী সবই বাচ্চা দিল। ফলে তার এক মাঠ উট, তার এক মাঠ গাভী এবং তার এক মাঠ বকরী হয়ে গেল।অতঃপর ফেরেশতা অনতিকাল পরে তার পূর্ববৎ আকৃতিতে কুষ্ঠরোগীর কাছে এসে বলল, “আমি একজন মিসকীন ও নিঃস্ব ব্যক্তি, সফরে আমার সকল অবলম্বন নিঃশেষ হয়ে গেছে। আল্লাহর, অতঃপর তোমার সহযোগিতা ছাড়া বাড়ি পৌঁছা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং যে আল্লাহ তোমাকে উত্তম রং, সুন্দর চামড়া এবং অনেক সম্পদ প্রদান করেছেন তাঁর নামে আমি তোমার কাছে একটি উট সাহায্য চাচ্ছি, যেন এ সফরে আমি তাতে আরোহণ করে বাড়ি পৌঁছতে পারি।” এ কথা শুনে সে বলল, “দায়-দায়িত্ব অনেক বেশি, তাই দেওয়া সম্ভব নয়।” তখন ফেরেশতা বললেন, “আমি তোমাকে চিনি বলে মনে হচ্ছে। তুমি কি নিঃস্ব, কুষ্ঠরোগী ছিলে না? এরপর আল্লাহ তোমাকে অনেক সম্পদ প্রদান করেছেন।” সে বলল, “বাহ! আমি তো বাপ-দাদা হতেই বংশপরম্পরায় এ সম্পদের উত্তরাধিকার হয়েছি।” অতঃপর ফেরেশতা বললেন, “যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও, তবে আল্লাহ তা‘আলা যেন তোমাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।”এবার ফেরেশতা তার আগের আকৃতিতে টাক মাথা লোকের কাছে এসে ঐ লোকের ন্যায় তাকেও বললেন এবং সে-ও প্রথম লোকের মতোই জবাব দিল। অতঃপর তিনি বললেন, “যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও তবে যেন আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে তোমার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।”এরপর ফেরেশতা তাঁর আগের আকৃতিতে অন্ধ লোকের কাছে এসে বলল, “আমি একজন নিঃস্ব, মুসাফির ব্যক্তি। আমার সফরের যাবতীয় সম্বল নিঃশেষ হয়ে গেছে। আল্লাহ তা‘আলা এবং পরে তোমার সহযোগিতা ছাড়া আজ বাড়ি পৌঁছা আমার পক্ষে অসম্ভব। যে আল্লাহ তোমাকে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন তাঁর নামে তোমার কাছে আমি একটি বকরী চাই যেন আমি সফর শেষে বাড়ি পৌঁছতে পারি।” এ কথা শুনে লোকটি বলল, “হ্যাঁ, আমি অন্ধ ছিলাম, আল্লাহ আমার দৃষ্টিশক্তি আবার ফিরিয়ে দিয়েছেন। আপনার ইচ্ছামতো আপনি নিয়ে যান এবং যা মনে চায় রেখে যান। আল্লাহর শপথ! আজ আল্লাহর নামে আপনি যা নেবেন এ বিষয়ে আমি আপনাকে বাধা দেব না।” অতঃপর ফেরেশতা বললেন, “তুমি তোমার সম্পদ রেখে দাও। তোমাদের তিনজনের পরীক্ষা হলো। আল্লাহ তোমার প্রতি সন্তুষ্ট এবং তোমার অপর দুই সাথীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন।”
৭৩২২
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
আমির ইবনু সা‘দ (রহঃ)
সা‘দ ইবনু ওয়াক্কাস (রাঃ) তাঁর উটের পালের মাঝে উপবিষ্ট ছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর পুত্র ‘উমার এসে পৌঁছলেন। সা‘দ (রাঃ) তাঁকে দেখামাত্রই পাঠ করলেন, “আউযু বিল্লা-হি মিন্‌ শাররি হা-যার র-কিব" অর্থাৎ- ‘আমি এ আরোহীর অনিষ্ট হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই’। তারপর সে তাঁর আরোহী হতে নেমে বলল, আপনি লোকেদেরকে ছেড়ে দিয়ে উট এবং বকরীর মাঝে এসে বসে আছেন। আর এদিকে কর্তৃত্ব নিয়ে লোকেরা পরস্পর একে অপরের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত। এ কথা শুনে সা‘দ (রাঃ) তাঁর বুকে আঘাত করে বললেন, চুপ থাকো। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুত্তাকী, আত্মনির্ভরশীল ও লোকালয় হতে নির্জনে বাসকারী বান্দাকে আল্লাহ তা‘আলা ভালোবাসেন।
৭৩২৩
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ)
আল্লাহর শপথ! আরবের বাসিন্দাদের মাঝে সর্বপ্রথম আমিই আল্লাহর রাস্তায় তীর ছুঁড়েছি। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে যুদ্ধ করতাম। তখন হুবলাহ এবং সামুর নামের বৃক্ষের পাতা ছাড়া আমাদের কাছে খাবার উপযোগী কোন খাদ্যই অবশিষ্ট থাকত না। তাই আমাদের একজন বকরীর মতো মল ত্যাগ করত। আর এখন বনু আসাদের লোকেরা দ্বীনের ব্যাপারে আমাদেরকে ধমকাচ্ছে, এমনই যদি হয় তবে তো আমি অকৃতকার্য এবং আমার আমল সবই ব্যর্থ। ইবনু নুমায়র তার বর্ণনায় إِذًا শব্দটি উল্লেখ করেননি।
৭৩২৪
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
ইসমা‘ঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ)
অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে এতে রয়েছে যে, ফলে আমাদের একজনের বকরির মতো মল নির্গত করত— যার একাংশ অন্য অংশের সাথে মিশতো না।
৭৩২৫
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
খালিদ ইবনু ‘উমায়র আল ‘আদাবী (রহঃ)
উতবা ইবনু গাজওয়ান (রাঃ) একদিন আমাদের মাঝে খুতবা দিলেন এবং প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করে বললেন, অতঃপর বলেছেন- পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার সংবাদ দিয়েছে ও শীঘ্রই বিদায় নিচ্ছে। পৃথিবীর কিয়দংশ অবশিষ্ট রয়েছে, যেমন আহারের পর পাত্রের মধ্যে কিছু খাদ্য অবশিষ্ট থাকে, যা ভক্ষণকারী রেখে দেয়। একদিন এ দুনিয়া পরিত্যাগ করে তোমরা স্থায়ী জগতের দিকে রওয়ানা করবে। অতএব তোমরা ভবিষ্যতের জন্য কিছু পুণ্য নিয়ে রওনা করো। কেননা আমাদের সম্মুখে আলোচনা করা হয়েছে যে, জাহান্নামের এক কোণে একটি পাথর নিক্ষেপ করা হবে, তারপর এটা সত্তর বছর পর্যন্ত ক্রমাগতভাবে যেতে থাকবে, তথাপিও সেটা তার তলদেশে গিয়ে পৌঁছতে পারবে না। আল্লাহর কসম! জাহান্নাম অবশ্যই পূর্ণ হয়ে যাবে। তোমরা কি এতে আশ্চর্য হচ্ছ? এবং আমার নিকট এটাও বর্ণনা করা হয়েছে যে, জান্নাতের এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত চল্লিশ বছরের পথ। শীঘ্রই একদিন এমন আসবে, যখন এটা মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণতা লাভ করবে।আমি নিজেকে দেখেছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গী সাত ব্যক্তির সপ্তমজন ছিলাম। তখন আমাদের কাছে বৃক্ষের পাতা ছাড়া আর কোনো খাবারই ছিল না। ফলে আমাদের চোয়াল ঘা হয়ে গেল। এ সময় আমি একটি চাদর পেয়েছিলাম। অতঃপর আমার ও সাদ ইবনু মালিক (রাঃ)-এর জন্য আমি সেটাকে দুইটি টুকরো করে নেই। এক টুকরো দিয়ে আমি লুঙ্গি বানিয়েছি এবং আরেকটি টুকরোটি দিয়ে লুঙ্গি বানিয়েছেন সাদ ইবনু মালিক (রাঃ)। আজ আমাদের সকলেই কোনো না কোনো শহরের আমির। এরপর তিনি বলেন, আমি আমার কাছে বড় এবং আল্লাহর কাছে ছোট হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। সকল নবীদের নবুওয়তই এক পর্যায়ে শেষ হয়ে যাবে। পরিশেষে সেটা রাজতন্ত্রে রূপ নেবে। আমার পর আগমনকারী আমীর-উমারদের খবর তোমরা শীঘ্রই পাবে এবং তাদেরকে পরীক্ষা করে নিবে।
৭৩২৬
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
খালিদ ইবনু ‘উমায়র (রহঃ)
তিনি জাহিলি যুগ পেয়েছিলেন। খালিদ (রহঃ) বলেন, একদিন উতবা ইবন গাযওয়ান (রাঃ) ভাষণ দিলেন। তখন তিনি বসরার শাসনকর্তা ছিলেন। অতঃপর ইসহাক সূত্রে শাইবান-এর অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৭৩২৭
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
খালিদ ইবনু ‘উমায়র (রহঃ)
আমি উতবা ইবনু গাজওয়ান (রাঃ)-কে এ কথা বলতে শুনলাম যে, তিনি বলেন, এক সময় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গী সাতজনের সপ্তম ব্যক্তি ছিলাম, তখন হুবলাহ গাছের পাতা ছাড়া আমাদের কোন খাবার ছিল না। পাতা খেতে খেতে অবশেষে আমাদের মুখে ঘা হয়ে যায়।
৭৩২৮
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! কেয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রবকে দেখতে পাব?” জবাবে তিনি বললেন, “আকাশে মেঘ না থাকাবস্থায় দুপুরের সময় সূর্য দেখতে তোমাদের কোনো কষ্ট হয় কি?” সাহাবীগণ বললেন, “জি না।” অতঃপর তিনি বললেন, “আকাশে মেঘ না থাকাবস্থায় পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে তোমাদের কোনো কষ্ট হয় কি?” সাহাবীগণ বললেন, “জি না।” তারপর তিনি বললেন, “ঐ সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার জীবন! চন্দ্র-সূর্য কোনো একটি দেখতে তোমাদের যেরূপ কষ্ট হয় না, তোমাদের রবকেও দেখতে তোমাদের ঠিক তদ্রূপ কষ্ট হবে না। আল্লাহর সাথে বান্দার সাক্ষাৎ হবে। তখন তিনি বলবেন, ‘হে অমুক! আমি কি তোমাকে সম্মান দান করিনি, কর্তৃত্ব দান করিনি, জোড়া মিলিয়ে দেইনি, ঘোড়া-উট তোমার কাজে লাগিয়ে দেইনি এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মাঝে তোমার পানাহারের ব্যবস্থা করিনি?’ জবাবে বান্দা বলবে, ‘হ্যাঁ, হে আমার রব।’ তারপর তিনি বলবেন, ‘তুমি কি মনে করতে যে, তুমি আমার মুখোমুখি হবে?’ সে বলবে, ‘না, তা মনে করতাম না।’ তিনি বলবেন, ‘তুমি যেরূপভাবে আমাকে ভুলে গিয়েছিলে, তদ্রূপভাবে আমিও তোমাকে ভুলে যাচ্ছি।’”অতঃপর দ্বিতীয় একজন ব্যক্তির আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হবে। তখন তিনি তাকেও বলবেন, “হে অমুক! আমি কি তোমাকে সম্মান দান করিনি, নেতৃত্ব দান করিনি, তোমার পরিবার (জোড়া মিলিয়ে) দেইনি, উট-ঘোড়া তোমার কাজে লাগিয়ে দেইনি এবং সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য তোমাকে সুবিধা করে দেইনি?” সে বলবে, “হ্যাঁ করেছেন, হে আমার রব!” তারপর তিনি বলবেন, “আমার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে এ কথা তুমি মনে করেছিলে?” সে বলবে, “না।” তখন আল্লাহ বলবেন, “তুমি যেমন আমাকে ভুলে গিয়েছিলে, অনুরূপভাবে আমিও তোমাকে ভুলে যাব।”তারপর তৃতীয় একজন ব্যক্তির আল্লাহর সাথে দেখা হবে। এরপর তিনি আগের মতো অবিকল বলবেন। তখন লোকটি বলবে, “হে আমার রব! আমি আপনার প্রতি এবং আপনার কিতাব ও রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছি। আমি সালাত আদায় করেছি, সাওম পালন করেছি এবং সদকা করেছি।” এমনিভাবে সে যথাসাধ্য নিজের প্রশংসা করবে। এমতাবস্থায় আল্লাহ বলবেন, “এখনই তোমার মিথ্যা প্রকাশিত হয়ে যাবে।” তারপর তাকে বলা হবে, “এখনই আমি তোমার উপর আমার সাক্ষী উপস্থিত করব।” তখন বান্দা মনে মনে চিন্তা করতে থাকবে যে, কে তার বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে? তখন তার মুখ বন্ধ করে দেয়া হবে এবং তার উরু, গোশত ও হাড়কে বলা হবে, “তোমরা কথা বলো।” ফলে তার উরু, গোশত ও হাড় তার আমল সম্পর্কে বলতে থাকবে। এ ব্যবস্থা এজন্য করা হবে যেন আত্মপক্ষ সমর্থন করার কোনো সুযোগ তার অবশিষ্ট না থাকে। এ ব্যক্তি হচ্ছে মুনাফিক, যার প্রতি আল্লাহ অসন্তুষ্ট।
৭৩২৯
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)
একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ছিলাম। এ সময় তিনি হেসে বললেন, “তোমরা কি জান, আমি কেন হাসলাম?” আমরা বললাম, “এ সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) ভালো জানেন।” অতঃপর তিনি বললেন, “বান্দা তার রবের সঙ্গে যে কথা বলবে, এজন্য হাসলাম। বান্দা বলবে, ‘হে আমার পালনকর্তা! তুমি কি আমাকে অত্যাচার হতে আশ্রয় দাওনি?’” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, ‘হ্যাঁ, আমি কারো প্রতি অত্যাচার করি না।’”এরপর বান্দা বলবে, “আমি আমার ব্যাপারে স্বীয় সাক্ষ্য ছাড়া অন্য কারো সাক্ষী হওয়াকে বৈধ মনে করি না।” তখন মহান আল্লাহ বলবেন, “আজ তুমি নিজেই তোমার সাক্ষী হওয়ার জন্য যথেষ্ট এবং সম্মানিত কিরামান কাতিবীনও (লিপিকারবৃন্দ) যথেষ্ট।” তারপর বান্দার জবান বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নির্দেশ দেওয়া হবে যে, তোমরা বলো। তারা তার আমল সম্পর্কে বলবে। তারপর বান্দাকে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হবে। তখন বান্দা তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে উদ্দেশ্য করে বলবে, “তোমাদের প্রতি অভিসম্পাত, তোমরা দূর হয়ে যাও। আমি তো তোমাদের জন্যই বিবাদ করছিলাম।”
৭৩৩০
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনকে জীবনধারণোপযোগী রিজিক দান করো।”