৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭৩১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭৩০১
কিয়ামাত সন্নিকটবর্তী পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযি:)
এক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করলেন যে, কেয়ামত কবে সংঘটিত হবে? এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ নীরবতা অবলম্বন করেন। এরপর তিনি সম্মুখস্থ আযদ গোত্রের এক যুবকের প্রতি তাকালেন, বস্তুতঃ আযদ শানুআ একটি শাখা গোত্র। অতঃপর তিনি বললেন, “এ ছোট ছেলেটি যদি দীর্ঘায়ু লাভ করে তবে তার বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার আগেই কেয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।” আনাস (রাঃ) বলেন, তখন এ বালক আমার সমবয়স্ক ছিল।
৭৩০২
কিয়ামাত সন্নিকটবর্তী পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাযি:)
আমার সমবয়সী মুগিরা ইবন শুআবা (রাঃ)-এর এক গোলাম একদিন পথ অতিক্রম করছিল, তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ যদি তার হায়াত দীর্ঘায়ু হয় তবে সে বার্ধক্যে পৌঁছার আগেই কেয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।
৭৩০৩
কিয়ামাত সন্নিকটবর্তী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযি:)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এক লোক তার উটনি দোহন করবে; কিন্তু পাত্র তার মুখের নিকটে পৌঁছার আগেই কেয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে দুইজন লোক কাপড় ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকবে। তারা ক্রয়-বিক্রয় শেষ না করতেই কেয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। এমনিভাবে এক লোক তার হাউজ মেরামত করতে থাকবে। কিন্তু মেরামত শেষ করে মুখ ফেরাবার আগেই কেয়ামত এসে উপস্থিত হবে।
৭৩০৪
উভয় ফুঁৎকারের মধ্যে ব্যবধান পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযি:)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ উভয় ফুৎকারের মাঝে (ব্যবধান) চল্লিশ হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আবু হুরায়রা (রাঃ)! চল্লিশ দিন (ব্যবধান)? তিনি বললেন, আমি এ ব্যাপারে সন্দিহান। তারা আবারো প্রশ্ন করলেন, এ কি চল্লিশ মাস? এবারও তিনি বললেন, এ সন্দেহ পোষণ করি। তারা আবারও বললেন, তা কি চল্লিশ বছর? তিনি বললেন, আমি তা বলি না। তারপর আকাশ হতে বৃষ্টিপাত হবে, এতে মানুষ উদ্গত হবে যেমন উদ্ভিদ উদ্গত হয়। এরপর তিনি বললেন, একটি হাড় ছাড়া মানুষের সকল শরীর পঁচে যাবে। আর সে হাড়টি হলো, মেরুদণ্ডের হাড়। কেয়ামতের দিন এ হাড় হতেই পুনরায় মানুষকে পুনঃসৃষ্ট করা হবে।
৭৩০৫
উভয় ফুঁৎকারের মধ্যে ব্যবধান পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযি:)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, মানুষের সবকিছুই মাটিতে খেয়ে ফেলবে, কেবল মেরুদণ্ডের হাড় বাকি থাকবে। এর দ্বারাই প্রথমত মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর দ্বারাই আবার তাদেরকে জোড়া লাগানো হবে।
৭৩০৬
উভয় ফুঁৎকারের মধ্যে ব্যবধান পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযি:)
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে কতিপয় হাদীস উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে একটি হাদীস হচ্ছে এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মানুষের শরীরে এমন একটি হাড় আছে, যা জমিন কখনো ভক্ষণ করবে না। কেয়ামতের দিন এর দ্বারাই পুনরায় মানুষ সৃষ্টি করা হবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আবার কোন হাড়? তিনি বললেন, এ হলো, মেরুদণ্ডের হাড়।
৭৩০৭
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুনিয়া মুমিনের জন্য কয়েদখানা এবং কাফিরের জন্য জান্নাততুল্য।
৭৩০৮
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ)
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলিয়া অঞ্চল থেকে মদিনায় আসার পথে এক বাজার দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উভয় পাশে বেশ লোকজন ছিল। যেতে যেতে তিনি ক্ষুদ্র কান বিশিষ্ট একটি মৃত বকরির বাচ্চার পাশ দিয়ে যেতে তার কাছে গিয়ে এর কান ধরে বললেন, “তোমাদের কেউ কি এক দিরহাম দিয়ে এটা ক্রয় করতে আগ্রহী?” তখন উপস্থিত লোকেরা বললেন, “কোনো কিছুর বিনিময়ে আমরা এটা নিতে আগ্রহী নই এবং এটি নিয়ে আমরা কী করব?” তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “বিনামূল্যে তোমরা কি সেটা নিতে আগ্রহী?” তারা বললেন, “এটা যদি জীবিত হত তবুও তো এটা দোষী। কেননা এর কান ছোট ছোট। আর এখন তো এটা মৃত, আমরা কীভাবে তা গ্রহণ করব?” অতঃপর তিনি বললেন, “আল্লাহর শপথ! এটা তোমাদের কাছে যতটা নগণ্য, আল্লাহর কাছে দুনিয়া এর তুলনায় আরও বেশি নগণ্য।”
৭৩০৯
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাযিঃ)
তিনি নবী (ﷺ) হতে অবিকল বর্ণনা করেছেন, তবে আস-সাকাফীর হাদীসের মধ্যে এ কথা বর্ধিত বর্ণিত রয়েছে যে, এটি যদি জীবিতও হত, তবুও ক্ষুদ্র কানবিশিষ্ট হওয়ায় এটি একটি দোষণীয় ব্যাপার ছিল।
৭৩১০
যারা নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে (সামূদ গোত্রের) তাদের আবাসস্থলে তোমরা যাবে না; তবে কান্নাজড়িত অবস্থায় যেতে পার পরিচ্ছেদ নাই
মুতার্রিফ (রাযিঃ)
একদা আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলাম। তখন তিনি সূরা أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ (আত-তাকাসুর) পাঠ করছিলেন। তিনি বললেন, আদম সন্তান বলে, আমার মাল আমার সম্পদ। বস্তুতঃ হে আদম সন্তান! তোমার সম্পদ সেটা যা তুমি খেয়ে নিঃশেষ করে দিয়েছ, পরিধান করে পুরাতন করে ফেলেছ এবং দান করে খরচ করেছো।