৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭১২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭১১১
মৃত ব্যক্তির কাছে জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ঠিকানা উপস্থিত করা হয়, আর কবরের শাস্তি প্রমাণ করা এবং তাত্থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ)- এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
তিনি আল্লাহর বাণী : “যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন” সম্পর্কে বলেন, এ আয়াত কবরের ‘আজাব সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। কবরে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব আল্লাহ এবং আমার নবী মুহাম্মাদ (ﷺ)। এটাই আল্লাহর নিম্নবর্ণিত বাণীর মর্ম, “যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন”।
৭১১২
মৃত ব্যক্তির কাছে জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ঠিকানা উপস্থিত করা হয়, আর কবরের শাস্তি প্রমাণ করা এবং তাত্থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
আল্লাহর বাণী: “যারা শাশ্বত বাণীতে ঈমান রাখে তাদেরকে আল্লাহ দুনিয়া ও পরকালে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন” (সূরা ইব্রাহিম ১৪: ২৭) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, এই আয়াতটি কবরের শাস্তির ব্যাপারে নাজিল হয়েছে।
৭১১৩
মৃত ব্যক্তির কাছে জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ঠিকানা উপস্থিত করা হয়, আর কবরের শাস্তি প্রমাণ করা এবং তাত্থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
মুমিন লোকের রুহ কবজ করার পর দুইজন ফেরেশতা এসে তার রুহ আকাশের দিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) এখানে ওই রুহের সুগন্ধি এবং মিশকের কথা বর্ণনা করেছেন। আকাশের বাসিন্দারা বলতে থাকে, এক পবিত্র আত্মা পৃথিবী হতে আগমন করেছে! আল্লাহ তোমার প্রতি এবং তোমার আবাদকৃত শরীরের প্রতি করুণা বর্ষণ করুন। তারপর তাকে তাঁর প্রতিপালকের নিকট নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও।আর যখন কোন কাফির লোকের রুহ বের হয়- বর্ণনাকারী হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) এখানে তার দুর্গন্ধ এবং তার প্রতি অভিসম্পাতের কথা উল্লেখ করেছেন। তখন আকাশমণ্ডলীর অধিবাসীরা বলতে থাকে, এক অপবিত্র আত্মা দুনিয়া হতে এসেছে। অতঃপর বলা হয়, তোমরা তাকে তার স্থানে নিয়ে যাও। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গায়ে জড়ানো একটি পাতলা কাপড় দ্বারা নিজের নাকটি এভাবে ধরলেন।
৭১১৪
মৃত ব্যক্তির কাছে জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ঠিকানা উপস্থিত করা হয়, আর কবরের শাস্তি প্রমাণ করা এবং তাত্থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
উমর (রাঃ)-এর সাথে একদা আমরা মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে ছিলাম। তখন আমরা চাঁদ দেখছিলাম। আমি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিসম্পন্ন ছিলাম, তাই আমি চাঁদ দেখে ফেললাম। আমি ব্যতীত কেউ বলেনি যে, সে চাঁদ দেখেছে। আমি উমর (রাঃ)-কে বলছিলাম, আপনি কি চাঁদ দেখছেন না? এ-ই তো চাঁদ। কিন্তু তিনি দেখছিলেন না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমর (রাঃ) বলছিলেন, আমি আমার বিছানায় শুয়ে থেকেই তা দেখতে পাব। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কাফিরদের (নিহত হবার) ঘটনার অবস্থা বর্ণনা করতে শুরু করলেন। বললেন, গতকাল বদর যোদ্ধাদের ধরাশায়ী হবার স্থান রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে (পূর্ব থেকেই) দেখাচ্ছিলেন।তিনি বলছিলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় এটা অমুকের ধরাশায়ী হবার স্থান। বর্ণনাকারী বলেন, উমর (রাঃ) বলেছেনঃ শপথ সে সত্তার! যিনি তাঁকে সত্য বাণী সহ পাঠিয়েছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সীমারেখা বলে দিয়েছেন, তারা সে সীমারেখা একটুও অতিক্রম করেনি। তারপর তাদেরকে একটি কূপে একজনের উপর অপরজনকে নিক্ষেপ করা হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের কাছে গিয়ে বললেন, হে অমুকের ছেলে অমুক, হে অমুকের ছেলে অমুক! আল্লাহ ও তাঁর রসূল যে ওয়াদা তোমাদের সঙ্গে করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পেয়েছ? আমার প্রতিপালক আমার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন আমি তা বাস্তবে সঠিক পেয়েছি। তখন উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যেসব দেহে প্রাণ নেই, আপনি তাদের সাথে কিভাবে কথা বলছেন? নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি যা বলছি, তা তোমরা তাদের চেয়ে অধিক শুনছ না। তবে তারা এ কথার প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম।
৭১১৫
মৃত ব্যক্তির কাছে জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ঠিকানা উপস্থিত করা হয়, আর কবরের শাস্তি প্রমাণ করা এবং তাত্থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বদর যুদ্ধে নিহত লোকদেরকে তিন দিন পর্যন্ত এভাবেই রেখে দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তাদের কাছে এসে তাদের লাশের সামনে দাঁড়ালেন এবং তাদেরকে উচ্চ আওয়াজে বললেন, "হে হিশামের পুত্র আবু জাহল! হে উমাইয়া ইবনু খালাফ! হে উতবা ইবনু রাবীআহ! হে শাইবা ইবনু রাবীআহ! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সঙ্গে যা ওয়াদা করেছেন তোমরা কি তা বাস্তবে পাওনি? আমার প্রতিপালক আমার সাথে যা ওয়াদা করেছেন আমি তা বাস্তবে পেয়েছি।"নবী (ﷺ)-এর এ কথা উমর (রাঃ) শুনে বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তারা তো মৃত। কিভাবে তারা শুনবে এবং কিভাবে তারা উত্তর দিবে?" তিনি বললেন, "আমি তাদেরকে যা বলছি এ কথা তাদের থেকে তোমরা বেশি শুনছ না। তবে তারা প্রত্যুত্তর দিতে অক্ষম।" অতঃপর তিনি তাদের সম্বন্ধে আদেশ দিলে তাদেরকে হিঁচড়ে নিয়ে বদরের কূপে নিক্ষেপ করা হলো।
৭১১৬
মৃত ব্যক্তির কাছে জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ঠিকানা উপস্থিত করা হয়, আর কবরের শাস্তি প্রমাণ করা এবং তাত্থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ তাল্‌হাহ্‌ (রাঃ)
বদর যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ) যখন কাফিরদের উপর বিজয়ী হলেন, তখন তিনি বিশের অধিক কুরায়শ নেতৃবৃন্দ—অপর হাদীসে রাওহ (রহঃ) বলেন, চব্বিশ জন কুরায়শ নেতৃবৃন্দ সম্বন্ধে আদেশ দিলেন। তারপর তাদের লাশ বদর প্রান্তে এক নোংরা আবর্জনাপূর্ণ কুয়ায় নিক্ষেপ করা হলো। অতঃপর তিনি আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত সাবিত-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
৭১১৭
হিসাব-নিকাশের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: কেয়ামতের দিন যার হিসাব (কষাকষিভাবে) করা হবে তার শাস্তি নিশ্চিত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ তা'আলা কি বলেননি: “তার হিসাব-নিকাশ সহজেই নেওয়া হবে”? এ কথা শুনে তিনি বললেন: এটা তো হিসাব নয় বরং এটা তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ কেয়ামতের দিন যার হিসাব (কঠিনভাবে) নেওয়া হবে তার শাস্তি নিশ্চিত।
৭১১৮
হিসাব-নিকাশের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আইয়ূব (রহঃ)
অবিকল হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৭১১৯
হিসাব-নিকাশের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
যারই হিসাব (কঠিনভাবে) নেয়া হবে তার ধ্বংস অনিবার্য। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহ কি সহজ হিসাবের কথা বলেননি? তিনি বললেন, এ তো কেবল নামে মাত্র পেশ করা। কারণ যার হিসাবে কষাকষি করা হবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে।
৭১২০
হিসাব-নিকাশের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
যার হিসাব নেওয়া হবে তার ধ্বংস অবধারিত। এরপর উসমান ইবন আসওয়াদ (রহঃ) আবু ইউনুস-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।