৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭১০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭০৯১
দুনিয়ার নশ্বরতা ও কিয়ামাতের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
হাতিম ইবনু আবূ সাগীরাহ্ (রাঃ)
এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এতে غُرْلاً “খতনাবিহীন” শব্দটি বর্ণিত নেই।
৭০৯২
দুনিয়ার নশ্বরতা ও কিয়ামাতের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি নবী (ﷺ)-কে খুতবারত অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছেন যে, অবশ্যই তোমরা খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে, উলঙ্গদেহ ও খাতনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে। তবে যুহাইর (রহঃ) তাঁর হাদীসে খুতবা প্রদানের শব্দটি বর্ণনা করেননি।
৭০৯৩
দুনিয়ার নশ্বরতা ও কিয়ামাতের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
উপদেশ সম্বলিত ভাষণ প্রদানের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সামনে খালি পা ও উলঙ্গদেহে এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় উপস্থিত হবে। (আল্লাহর বাণী) ‘যেমন আমি প্রথম দিন সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, তেমনি তার পুনরাবৃত্তি করব। এটা আমার একটি ওয়াদা, তা পালন করা আমার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। আমি তা পালনে বদ্ধপরিকর।’ সাবধান! কেয়ামতের দিন সৃষ্টির মাঝে সর্বপ্রথম ইব্রাহিম (আঃ)-কে পোশাক পরিধান করানো হবে, সেদিন আমার উম্মতের মধ্য থেকে কিছু মানুষকে হাজির করা হবে, এদের মধ্যে যারা বামহাতে আমলনামা প্রাপ্ত তাদের পাকড়াও করা হবে। তখন আমি বলব, হে আমার রব! এরা তো আমার উম্মত। উত্তরে আমাকে বলা হবে, তুমি জানো না তোমার পরে এরা কি কার্যকলাপে জড়িত ছিল।আমি তখন আল্লাহর সৎ বান্দা [ঈসা (আঃ)]-এর ন্যায় বলব, ‘যতদিন আমি তাদের মাঝে ছিলাম ততদিন আমি তাদের কার্যকলাপের সাক্ষী; কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে তখন তুমিই তো ছিলে তাদের কার্যকলাপের পর্যবেক্ষণকারী এবং তুমিই সর্ব বিষয়ে সাক্ষী, তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদের মাফ করো তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ তখন আমাকে বলা হবে, তুমি তাদের থেকে বিদায় গ্রহণের পর থেকে তারা সবসময় মুখ ফিরিয়ে কুফরির আশ্রয় নিয়েছিল।” ওয়াকী‘ এবং মু‘আয-এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে- অতঃপর বলা হবে, আপনি অবশ্য জানেন না আপনার পরে তারা কোন্ নতুন ধর্মমত আবিষ্কার করেছে?
৭০৯৪
দুনিয়ার নশ্বরতা ও কিয়ামাতের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
লোকদেরকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করে সমবেত করা হবে। প্রথম দল আশা পোষণকারী এবং ভীত-সন্ত্রস্ত লোকদের দল। দ্বিতীয় দলে সেসব লোক থাকবে যাদের মধ্যে দুইজন থাকবে এক উটের উপর, কোনো উটের উপর তিনজন, কোনোটির উপর চারজন, আর কোনোটির উপরে আরোহিত হবে দশজন। অবশিষ্টরা হবে সে সকল লোক যাদেরকে আগুন তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। তারা যেখানে রাত্রিযাপন করবে আগুনও তাদের সঙ্গে রাত কাটাবে। তারা যেখানে বিশ্রাম নেবে আগুনও সেখানে বিশ্রাম নেবে। তাদের যেখানে সকাল হবে আগুনও তাদের সঙ্গে থাকবে। আর যেখানে তাদের সন্ধ্যা হবে একই সঙ্গে আগুনও তাদের সাথে থাকবে।
৭০৯৫
কিয়ামাত দিবসের বর্ণনা, এ দিবসের ভীতিকর অবস্থাতে আল্লাহ আমাদেরকে সহযোগিতা করুন পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ - এর ব্যাখ্যায় নবী (ﷺ) বলেন, সেদিন মানুষ অর্ধ কর্ণ পর্যন্ত ঘামে ডুবে দাঁড়িয়ে থাকবে। ইবনুল মুসান্নার বর্ণনাতে তিনি يوم “যেখানে” শব্দটি উল্লেখ করা ছাড়া শুধু يَقُومُ النَّاسُ “লোকজন দাঁড়িয়ে থাকবে” উল্লেখ করেছেন।
৭০৯৬
কিয়ামাত দিবসের বর্ণনা, এ দিবসের ভীতিকর অবস্থাতে আল্লাহ আমাদেরকে সহযোগিতা করুন পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূ্ত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
উবাইদুল্লাহর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে মূসা ইবনু ‘উক্‌বাহ্‌ ও সালিহ (রহঃ)-এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, অর্থাৎ- তাদের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তি স্বীয় ঘামে দুই কানের অর্ধেক অবধি ডুবে যাবে।
৭০৯৭
কিয়ামাত দিবসের বর্ণনা, এ দিবসের ভীতিকর অবস্থাতে আল্লাহ আমাদেরকে সহযোগিতা করুন পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: কেয়ামতের দিন ঘাম জমিনের উপর দিয়ে একশ’ চল্লিশ হাত পর্যন্ত উঁচু হয়ে বয়ে যাবে এবং তা মানুষের মুখমণ্ডল পর্যন্ত বা কান পর্যন্ত পৌঁছাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দুইয়ের মধ্যে কোনটির কথা বলেছেন, বর্ণনাকারী সাওর এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
৭০৯৮
কিয়ামাত দিবসের বর্ণনা, এ দিবসের ভীতিকর অবস্থাতে আল্লাহ আমাদেরকে সহযোগিতা করুন পরিচ্ছেদ নাই
মিকদাদ ইবনুল আস্ওয়াদ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কেয়ামতের দিন সূর্যকে মানুষের নিকটবর্তী করে দেয়া হবে। অবশেষে তা মানুষের এক মাইলের দূরত্বের মাঝে চলে আসবে। বর্ণনাকারী সুলায়ম ইবন আমির (রহঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি জানি না, مِيلٍ শব্দ দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে, যমীনের দূরত্ব, না ঐ শলাকা যা চোখে সুরমা দেয়া কাজে ব্যবহৃত হয়। মানুষ তাদের আমল অনুসারে ঘর্মের মাঝে ডুবে থাকবে। তাদের কারো ঘাম পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত হবে, কেউ হাঁটু পর্যন্ত ঘামের মধ্যে থাকবে, কেউ কোমর পর্যন্ত আর কারো মুখ পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় রাসূল (ﷺ) নিজ মুখের প্রতি ইঙ্গিত করলেন।
৭০৯৯
পৃথিবীতে জান্নাতী ও জাহান্নামী লোকদের পরিচয় পরিচ্ছেদ নাই
‘ইয়ায ইবনু হিমার আল মুজাশি‘ঈ (রাঃ)
করেছেন, এ থেকে তোমাদেরকে এমন বিষয়ের শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি আমাকে আদেশ করেছেন, যে বিষয়ে তোমরা সম্পূর্ণরূপে অজ্ঞাত। তা হলো এই যে, আমি আমার বান্দাদেরকে যে প্রাচুর্য দিয়েছি তা সম্পূর্ণরূপে হালাল। আমি আমার সকল বান্দাদেরকে একনিষ্ঠ (মুসলিম) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের নিকট শয়তান এসে তাদেরকে দ্বীন হতে সরিয়ে দেয়। আমি যে সমস্ত জিনিস তাদের জন্য হালাল করেছিলাম সে তা হারাম করে দেয়। অধিকন্তু সে তাদেরকে আমার সাথে এমন বিষয়ে শরীক করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে, যে বিষয়ে আমি কোন প্রমাণ পাঠাইনি। আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীবাসীদের প্রতি দৃষ্টি দিয়ে কিতাবীদের কিছু লোক ছাড়া আরব-আজম সকলকে অপছন্দ করেছেন।” অতঃপর তিনি বললেন: “তোমাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে এবং তোমার দ্বারা অন্যদেরকে পরীক্ষা করার উদ্দেশে আমি তোমাকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছি এবং তোমার প্রতি আমি এমন কিতাব অবতীর্ণ করেছি যা পানি কখনো ধুয়ে-মুছে ফেলতে পারবে না। ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় তুমি সেটা পাঠ করবে।”রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: “কুরাইশ সম্প্রদায়ের লোকেদেরকে জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য আল্লাহ আমাকে নির্দেশ করেছেন। আমি তখন বললাম, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি যদি এ কাজ করি তবে তারা তো আমার মাথা ভেঙে রুটির মতো টুকরো টুকরো করে ফেলবে।’ আল্লাহ তা‘আলা বললেন, ‘তারা যেমনিভাবে তোমাকে বহিষ্কার করেছে ঠিক তেমনিভাবে তুমিও তাদেরকে বহিষ্কার করে দাও। তুমি তাদের সাথে যুদ্ধ করো। আমরা তোমাকে সাহায্য করব। ব্যয় করো আল্লাহর পথে, আমরা তোমার জন্যও ব্যয় করা হবে। তুমি একটি সেনাদল প্রেরণ করো, আমি অনুরূপ পাঁচটি বাহিনী প্রেরণ করব। যারা তোমার আনুগত্য করে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যারা তোমার বিরুদ্ধাচরণ করে তাদের সাথে যুদ্ধ করো’।”তিনি বলেন: “তিন শ্রেণীর মানুষ জান্নাতী হবে।(১) এক প্রকার মানুষ তারা, যারা রাষ্ট্রীয় কর্ণধার, ন্যায়পরায়ণ, সত্যবাদী এবং নেক কাজের তাওফীক লাভে ধন্য লোক।(২) দ্বিতীয় ঐ সকল মানুষ, যারা দয়ালু এবং আত্মীয়-স্বজন ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কোমলচিত্ত।(৩) তৃতীয় ঐ শ্রেণীর মানুষ, যারা পবিত্র চরিত্রের অধিকারী, যাঞ্চাকারী নয় এবং সন্তানাদি সম্পন্ন লোক।”অতঃপর তিনি বললেন, “পাঁচ ধরনের মানুষ জাহান্নামী হবে।(১) এমন দুর্বল মানুষ যাদের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা নেই, যারা তোমাদের মধ্যে তাবেদার যে, না তারা পরিবার-পরিজন চায়, না ধনসম্পদ।(২) এমন খিয়ানতকারী মানুষ, সাধারণ বিষয়েও যে খিয়ানত করে, যার লোভ কারো নিকটই গোপন থাকে না।(৩) ঐ ব্যক্তি, যে তোমার পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিষয়ে তোমার সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা প্রতারণা করে।”অবশেষে তিনি কৃপণতা, মিথ্যা বলা এবং গালমন্দ করার কথাও বর্ণনা করেছেন। তবে আবু গাস্‌সান (রহঃ) তার হাদীস-এ অর্থাৎ- “তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় কর, আমিও তোমার জন্য ব্যয় করব” বাক্যটি উল্লেখ করেননি।
৭১০০
পৃথিবীতে জান্নাতী ও জাহান্নামী লোকদের পরিচয় পরিচ্ছেদ নাই
কাতাদাহ্ (রহঃ)
অবিকল বর্ণনা করেছেন, তবে এতে তিনিكُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حَلاَلٌ কথাটি বর্ণনা করেননি।