৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭০৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭০৮১
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
হারিসাহ্ ইবনু ওয়াহ্ব আল খুযা‘ঈ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাতবাসীদের পরিচয় আমি কি তোমাদেরকে জানাব না? তারা হবে দুর্বল, কোমলহৃদয়, বিনয়ী লোক, যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে কসম করলে আল্লাহ তা পূর্ণ করেন। তিনি আবার বললেন, আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামীদের পরিচয় বলব না? তারা হবে দাম্ভিক, হীন বা নীচ এবং অহংকারী লোক।
৭০৮২
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: বহু অগোছালো ও ধূলিমলিন লোক আছে, যাদেরকে মানুষের দ্বার হতে বিতাড়িত করা হয়, (অথচ তারা আল্লাহর নিকট এত প্রিয় যে,) তারা যদি আল্লাহর নামে কোন কসম করে তবে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন।
৭০৮৩
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু যাম‘আহ্ (রাঃ)
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবা প্রদানকালে [সালিহ (আঃ)-এর] উটনী সম্পর্কে এবং যে লোক সেটার পা কেটেছিল তার সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, যখন ঐ উটনীকে হত্যা করার জন্য তাদের কওমের সবচেয়ে হতভাগ্য লোকটি উদ্যত হল, তখন এ কাজের জন্য ঐ কওমের মধ্যে আবু যাম‘আর ন্যায় সবচেয়ে শক্তিশালী, নিষ্ঠুর, অসভ্য ও হতভাগ্য লোক ছিল। এ খুতবায় তিনি নারীদের বিষয়ে আলোচনা করলেন এবং তাদের নসিহত করলেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন, “তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যে তার স্ত্রীকে অযথা প্রহার করে।” আবু বকর-এর বর্ণনায় আছে, “ক্রীতদাসীর ন্যায় প্রহার করে।” আবু কুরায়ব-এর বর্ণনায় আছে, “ক্রীতদাসের ন্যায় প্রহার করে। কিন্তু আবার দিন শেষে রাতের বেলা তার সঙ্গে মিলিত হয়।” এরপর তিনি বায়ু নিঃসরণ করে হাসি দেওয়া সম্পর্কে উপদেশ করলেন এবং বললেন, “যে কাজ তোমরা স্বয়ং করবে সে ব্যাপারে তোমরা কীভাবে হাসতে পার?”
৭০৮৪
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: আমি বনি কা‘ব-এর বাবা ‘আমর ইবন লুহাই ইবন কামা‘আহ ইবন খিন্দিফকে জাহান্নামের মাঝে দেখেছি, সে তার পেট হতে সব নাড়ি-ভুঁড়ি টেনে বের করছে।
৭০৮৫
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
সা‘ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রাঃ)
বাহীরা বলা হয় এমন উষ্ট্রীকে, যা কোন দেবতার নামে মানত করে স্বাধীনভাবে ছেড়ে দেয়া হয়। তাকে আর কেউ দোহন করে না। আর সায়েবা বলা হয় এমন উটকে, মুশরিকগণ তাদের দেবতার নামে ছেড়ে দিত। এভাবে ছেড়ে দেয়ার পর এর পিঠে কোন বোঝা বহন করা হত না। ইবনু মুসাইয়্যাব (রাঃ) আরো বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি জাহান্নামের মাঝে আমর ইবনু আমির আল খুযাঈকে দেখেছি, সে তার নাড়ী-ভুড়ি টেনে বের করছে। কেননা সে-ই সর্বপ্রথম দেব-দেবীর নামে সায়েবা (উটের) জন্তুর প্রথা চালু করেছিল।
৭০৮৬
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুই প্রকার লোক জাহান্নামী হবে। আমি তাদেরকে দেখিনি। এক প্রকার সেই সব লোক যাদের কাছে গরুর লেজের ন্যায় ছড়ি থাকবে। তারা তা দ্বারা মানুষকে পিটাবে। দ্বিতীয় প্রকার সেই শ্রেণীর নারী, যারা কাপড় পরিধান করেও উলঙ্গ, আকর্ষণীয় ও নিজেরাও বিপথগামী। যাদের মাথার খোঁপা বুখতী উটের পিঠের উঁচু কুঁজের মতো। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ অনেক দূর থেকে পাওয়া যায়।
৭০৮৭
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামার মুক্তদাস ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাফি’ (রহঃ)
আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সেদিন আর খুব বেশি দূরে নয়, অচিরেই তোমরা এক সম্প্রদায় দেখতে পাবে, যাদের হাতে থাকবে গরুর লেজের মতো চাবুক। সকাল অতিবাহিত হবে তাদের আল্লাহর গজবের মধ্যে এবং সন্ধ্যা যাপন হবে আল্লাহর অভিশাপের মধ্যে।
৭০৮৮
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছি, তুমি যদি দীর্ঘজীবী হও তাহলে অচিরেই তোমরা এমন এক সম্প্রদায় দেখতে পাবে, যাদের সকাল হবে আল্লাহর অসন্তুষ্টির ভিতর এবং সন্ধ্যা হবে আল্লাহর অভিসম্পাতের মাঝে। তাদের হাতে গরুর লেজের মতো চাবুক থাকবে।
৭০৮৯
দুনিয়ার নশ্বরতা ও কিয়ামাতের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
বানূ ফিহ্‌র-এর ভাই মুসতাওরিদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: আল্লাহর শপথ! ইহকাল-পরকালের তুলনায় ততটুকুই, যেমন তোমাদের কেউ তার এ আঙুলটি সমুদ্রের পানিতে ভিজিয়ে দেখলে যে, কতটুকু পরিমাণ এতে পানি লেগেছে। বর্ণনাকারী ইয়াহিয়া এ সময় শাহাদাত আঙুলের দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। ইয়াহিয়া ছাড়া সকলের বর্ণনার মাঝেই আছে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি। আর আবূ উসামার বর্ণনাতেও শব্দ উল্লেখ রয়েছে। তাতে এ কথাও উল্লেখ আছে যে, ইসমাঈল বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন।
৭০৯০
দুনিয়ার নশ্বরতা ও কিয়ামাতের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ সিদ্দীকা (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কেয়ামতের মাঠে সকল মানুষকে একত্রিত করা হবে খালি পা, উলঙ্গ দেহ এবং খাতনাবিহীন অবস্থায়। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষ এবং মহিলা এক সঙ্গেই উত্থিত হবে আর তারা পরস্পর একে অপরের প্রতি তাকাবে? তিনি বললেন, হে আয়েশা! তখনকার প্রেক্ষাপট এতটা কঠিন ও ভয়ংকর হবে যে, একে অপরের প্রতি তাকানোর কল্পনারও উদ্রেক হবে না।