৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭০৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭০৭১
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ আর্ রুয্‌যী (রহঃ)
মহান আল্লাহর বানী يَوْمَ نَقُولُ لِجَهَنَّمَ هَلِ امْتَلأْتِ وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ‏ –এর ব্যাখ্যায় আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে উল্লেখ করেন যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ অনবরত (জাহান্নামীদেরকে) জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তবুও জাহান্নাম বলবে, আরো বেশি আছে কি? অবশেষে আল্লাহ রব্বুল আলামীন এতে আপন পা মুবারক স্থাপন করবেন। তখন এর একাংশ অপরাংশের সাথে মিলে গিয়ে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে এবং বলবে, তোমার ইয্‌যত ও অনুগ্রহের কসম! হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। পক্ষান্তরে জান্নাতের মধ্যস্থলে কিছু জায়গা অব্যাহতভাবে খালি পরে থাকবে। পরিশেষে আল্লাহ তা‘আলা এর জন্য অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন এবং শূন্যস্থানে তাদেরকে আবাসের ব্যবস্থা করবেন।
৭০৭২
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
আল্লাহর যে পরিমাণ ইচ্ছা সে পরিমাণ স্থান জান্নাতে শূন্য থাকবে। পরিশেষে আল্লাহ তা‘আলা নিজ ইচ্ছানুযায়ী এর জন্য অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন।
৭০৭৩
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি সাদা মেষের আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে। আবূ কুরায়ব বর্ধিত বর্ণনা করে বলেন, তারপর তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যস্থলে দাঁড় করানো হবে। এরপর উভয়ই অবশিষ্ট হাদীস একই রকম বর্ণনা করেছেন। তখন বলা হবে, হে জান্নাতীগণ! তোমরা কি একে চিনো? এ কথা শুনে তারা মাথা উঠিয়ে দেখবে এবং বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বলা হবে, হে জাহান্নামীগণ! তোমরা কি একে চিনো? তখন তারা মাথা তুলে দেখবে এবং বলবে, হ্যাঁ! এতো মৃত্যু। তারপর নির্দেশ দেয়া হবে এবং সেটাকে যবাহ করা হবে।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বলা হবে, হে জান্নাতীগণ! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল এখানে থাকবে। হে জাহান্নামীরা! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল এখানেই থাকবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠ করলেন, “তুমি তাদেরকে সাবধান করে দাও-অনুশোচনার দিন সম্পর্কে, যখন সকল বিষয়ে ফায়সালা করা হবে। অথচ তারা গাফলতির মাঝে নিপতিত হয়ে আছে এবং ঈমান গ্রহণ করছে না।” এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় হাত দ্বারা দুনিয়ার প্রতি ইশারা করলেন।
৭০৭৪
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যখন জান্নাতী লোকেদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে এবং জাহান্নামী লোকেদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে, তখন বলা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তারপর জারীর (রহঃ) আবূ মু‘আবিয়াহ্ (রহঃ)-এর অবিকল হাদীস উল্লেখ করেন। কিন্তু তাতে ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم –এর স্থলে فَذَلِكَ قَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ –কথাটি বর্ণনা করেছেন। আর এতে ‘অতঃপর তিনি স্বীয় হাত দ্বারা পৃথিবীর দিকে ইশারা করেছেন’-এ কথাটিও তিনি বর্ণনা করেননি।
৭০৭৫
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতবাসীদেরকে জান্নাতে আর জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে দাখিল করানোর পর জনৈক ঘোষণাকারী তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করবে, হে জান্নাতবাসীগণ! এখন মৃত্যু নেই, হে জাহান্নামীরা! এখন আর মৃত্যু নেই। প্রত্যেকে চিরকাল নির্ধারিত স্থানে থাকবে।
৭০৭৬
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: যখন জান্নাতীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তখন মৃত্যুকে আনা হবে এবং তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে দাঁড় করিয়ে যবেহ করে দেয়া হবে। অতঃপর একজন ঘোষক ঘোষণা করবে, হে জান্নাতবাসীগণ! এখানে আর তোমাদের মৃত্যু নেই। অনুরূপভাবে জাহান্নামীদেরকেও বলা হবে, হে জাহান্নামীরা! আর তোমাদের মৃত্যু নেই। এতে জান্নাতীদের আনন্দের সাথে আরো আনন্দ বেড়ে যাবে এবং জাহান্নামীদের শোকের সাথে আরো শোক বহুগুণ বেড়ে যাবে।
৭০৭৭
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইয়াহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কাফিরদের দাঁত উহুদ পাহাড়ের ন্যায় বড় হবে এবং তাদের চামড়া তিন দিনের দূরত্ব পরিমাণ মোটা হবে।
৭০৭৮
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে মারফূ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: জাহান্নামে কাফিরদের দুই কাঁধের মাঝখানে দ্রুতগামী আরোহী ব্যক্তির তিন দিনের দূরত্বের পথ হবে। তবে ওয়াকীঈ (রহঃ) “জাহান্নামে” কথাটি বর্ণনা করেননি।
৭০৭৯
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
হারিসাহ্ ইবনু ওয়াহ্ব (রহঃ)
তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, তিনি বলেন, “আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতবাসীর পরিচয় বলব না?” সাহাবীগণ বললেন, “হ্যাঁ! অবশ্যই।” তিনি বললেন, “তারা হবে দুর্বল লোক—তাদের (দুনিয়াতে) দুর্বলই মনে করা হতো। যারা আল্লাহর নামে শপথ করলে আল্লাহ তা পূরণ করেন।” অতঃপর তিনি বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামবাসীর পরিচয় জানাব না?” সাহাবীগণ বললেন, “হ্যাঁ, জানাবেন।” তিনি বললেন, “তারা হবে নিষ্ঠুর, দাম্ভিক ও অহংকারী লোক।”
৭০৮০
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে পরিচ্ছেদ নাই
শু‘বাহ্ (রহঃ)
অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে পার্থক্য এই যে, তিনি أَلاَ أُخْبِرُكُمْ স্থলে أَلاَ أَدُلُّكُمْ শব্দ উল্লেখ করেছেন, অর্থ একই (আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দিব না)।