৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৭০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৬৯১
শেষ যামানায় ‘ইল্‌ম উঠে যাওয়া, অজ্ঞতা ও ফিতনা প্রকাশ পাওয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ)
হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্ বর্ণিত হাদীস অনুরূপ।
৬৬৯২
শেষ যামানায় ‘ইল্‌ম উঠে যাওয়া, অজ্ঞতা ও ফিতনা প্রকাশ পাওয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
আমাকে আয়িশা (রাঃ) বললেন, “হে আমার বোনের ছেলে! আমার নিকট সংবাদ এসেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) আমাদের সাথে হজ্জব্রত পালনে এসেছেন। তাঁর সাথে তুমি দেখা করে প্রশ্ন করো। কেননা, নবী (ﷺ) থেকে তিনি বহু জ্ঞানার্জন করেছেন।” তিনি (উরওয়াহ্) বলেন, এমন সময় আমি তাঁর সাথে দেখা করে এমন বহু ব্যাপারে প্রশ্ন করলাম, যা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে উল্লেখ করেছেন। উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, যা তিনি আলোচনা করেছিলেন সে সকল বিষয়ের মধ্যে একটি ছিল এই যে, নবী (ﷺ) বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা মানুষের নিকট থেকে ইলম কেড়ে নিবেন না। তবে তিনি আলিমদের উঠিয়ে নিয়ে যাবেন। সুতরাং তাদের সাথে ইলমও উঠে যাবে। আর মানুষের মধ্যে অবশিষ্ট থাকবে মূর্খ নেতারা। তারা না জেনে-শুনে মানুষদের ফাতাওয়া দিবে। ফলে তারা পথভ্রষ্ট হবে এবং তাদেরও পথভ্রষ্ট করবে।”উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, আমি যখন এ হাদীসটি আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম তখন তিনি হাদীসটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেন এবং বিরক্তিভাব প্রকাশ করে বললেন, “তিনি [আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)] কি তোমার কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এটি বলতে শুনেছেন?” উরওয়াহ (রহঃ) বললেন, এমনকি পরবর্তী বছর হজ্জের সময় এসে গেলো তখন তিনি তাকে [উরওয়াহ (রহঃ)-কে] বললেন, “অবশ্যই ইবনু আমর (রাঃ) (হজ্জে) গমন করেছেন। তার সাথে দেখা করো। তারপর তুমি তাকে সে হাদীসের ব্যাপারে প্রশ্ন করো ইলম সম্পর্কে তিনি তোমার নিকট আলোচনা করেছেন।” উরওয়াহ (রহঃ) বললেন, তখন আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি তা আমার নিকটে আলোচনা করলেন, যেমন তিনি প্রথমবার আমার কাছে বর্ণনা করেছিলেন। উরওয়াহ বলেন, যখন আমি তাঁকে [আয়িশা (রাঃ)-কে] বিষয়টি অবহিত করলাম তখন তিনি বললেন, “আমি আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-কে সত্য কথা বলে এমনটি মনে করি এবং তিনি এ হাদীসে বিন্দুমাত্র বেশি কিংবা কম করেননি।”
৬৬৯৩
যে লোক কোন সুন্দর নীতি অথবা মন্দ নীতি চালু করে এবং যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে অথবা বিভ্রান্তের দিকে আহ্বান করে পরিচ্ছেদ নাই
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
কিছু সংখ্যক যাযাবর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে আসলেন। তাদের পরনে পশমী পোশাক ছিল। তিনি তাদের নিকৃষ্ট অবস্থা দেখলেন। তাদের অভাবে আক্রমণ করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মানুষদের (তাদেরকে) দান-সদাকা করার জন্যে উৎসাহিত করলেন। মানুষেরা দান-সদাকা দিতে ইতস্তত করছিল, এমনকি এর প্রতিক্রিয়া তাঁর চেহারায় দেখা গেল।রাবী বলেন, তারপর একজন আনসারী লোক একটি রূপার (টাকার) ব্যাগ নিয়ে আসলেন। তারপর অন্যজন আসলেন। তারপর পর্যায়ক্রমে আসতে লাগলেন, পরিশেষে তাঁর মুখে আনন্দের চিহ্ন দেখা গেল। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে লোক ইসলামে কোন সুন্নত চালু করলো এবং পরবর্তীকালে সে অনুসারে আমল করা হলো তাহলে আমলকারীর প্রতিদানের সমান প্রতিদান তার জন্য লিখিত হবে, এতে তাদের প্রতিদানে কোন ঘাটতি হবে না, আর যে লোক ইসলামে কোন অশুভ নীতি চালু করলো এবং তারপর সে অনুযায়ী আমল করা হলো তাহলে ওই আমলকারীর খারাপ প্রতিদানের সমান গুনাহ তার জন্য লিখিত হবে, এতে তাদের পাপ সামান্য ঘাটতি হবে না।
৬৬৯৪
যে লোক কোন সুন্দর নীতি অথবা মন্দ নীতি চালু করে এবং যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে অথবা বিভ্রান্তের দিকে আহ্বান করে পরিচ্ছেদ নাই
জারীর (রাঃ)
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুতবা দিলেন এবং মানুষদেরকে দান করার জন্য উৎসাহ প্রদান করলেন। এরপর জারীর (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনানুযায়ী।
৬৬৯৫
যে লোক কোন সুন্দর নীতি অথবা মন্দ নীতি চালু করে এবং যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে অথবা বিভ্রান্তের দিকে আহ্বান করে পরিচ্ছেদ নাই
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন লোক কোন ভাল কর্মের প্রবর্তন করে না, যা পরবর্তীকালে কাজে পরিণত করা হয়। তারপর তিনি সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
৬৬৯৬
যে লোক কোন সুন্দর নীতি অথবা মন্দ নীতি চালু করে এবং যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে অথবা বিভ্রান্তের দিকে আহ্বান করে পরিচ্ছেদ নাই
জারীর (রাঃ)-এর সানাদে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, আবু বকর ইবনু আবু শাইবা ও উবাইদুল্লাহ ইবনু মুআয (রহঃ) ... জারীর (রাঃ)-এর সানাদে নবী (ﷺ) হতে এ হাদীস-এর অবিকল বর্ণনা করেছেন।
৬৬৯৭
যে লোক কোন সুন্দর নীতি অথবা মন্দ নীতি চালু করে এবং যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে অথবা বিভ্রান্তের দিকে আহ্বান করে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না। আর যে লোক বিভ্রান্তির দিকে ডাকে তার উপর সে রাস্তার অনুসারীদের পাপের অনুরূপ পাপ বর্তাবে। এতে তাদের পাপরাশি সামান্য হালকা হবে না।
৬৬৯৮
আল্লাহ তা‘আলার যিক্‌রের প্রতি অনুপ্রাণিত করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ জাল্লা শানুহু বলেন, “আমি বান্দার ধারণা অনুযায়ী নিকটে আছি। যখন সে আমার যিকির (স্মরণ) করে, সে সময় আমি তার সাথে থাকি। বান্দা আমাকে একাকী স্মরণ করলে আমিও তাকে একাকী স্মরণ করি। আর যদি সে আমাকে কোন সভায় আমার কথা স্মরণ করে, তাহলে আমি তাকে তার চেয়ে উত্তম সভায় স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তাহলে আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে আসি। যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়িয়ে আসি।”
৬৬৯৯
আল্লাহ তা‘আলার যিক্‌রের প্রতি অনুপ্রাণিত করা পরিচ্ছেদ নাই
আ‘মাশ (রাঃ)
অবিকল বর্ণনা করেছেন। ‘যদি সে আমার দিকে এক হাত এগিয়ে আসে তাহলে আমি তার দিকে এক গজ অগ্রসর হই’ তিনি এ কথাটি বর্ণনা করেননি।
৬৭০০
আল্লাহ তা‘আলার যিক্‌রের প্রতি অনুপ্রাণিত করা পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ)
এগুলো আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আবু হুরায়রা (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করেছেন। তারপর তিনি কিছু হাদীস উল্লেখ করেন। তম্মধ্যে একটি হাদীস এই, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যখন কোন বান্দা আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয় তখন আমি তার পানে এক হাত অগ্রসর হই। আর যখন সে এক হাত অগ্রসর হয় আমি তখন এক গজ অগ্রসর হই। যখন সে দুই হাত অগ্রসর হয় তখন আমি তার কাছে অতি তাড়াতাড়ি আসি।