৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৫৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৫২১
যাদের উপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিসম্পাত করেছেন, তিরস্কার করেছেন অথবা বদদু‘আ করেছেন; অথচ তারা এর যোগ্য নয় তাদের জন্য তা হবে পবিত্রতা, পুরস্কার ও রহ্‌মাত স্বরূপ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আনাস (রাঃ)-এর মা উম্মু সুলাইম (রাঃ)-এর নিকট এক ইয়াতিম মেয়ে ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে দেখে বললেন, “এ তুমি সে মেয়ে? তুমি তো অনেক বড় হয়েছ; কিন্তু তুমি দীর্ঘায়ু হবে না।” তখন ইয়াতিম মেয়েটি উম্মু সুলাইম (রাঃ)-এর নিকট এসে কাঁদতে লাগল। তখন উম্মু সুলাইম (রাঃ) বললেন, “তোমার কী হয়েছে? হে আমার স্নেহের মেয়ে!” মেয়েটি বলল, “নবী (ﷺ) আমাকে বদদোয়া করেছেন। আমি দীর্ঘায়ু হব না। সুতরাং এখন থেকে আমি বয়সে আর বড় হব না।” অথবা সে سِنِّي এর স্থলে قَرْنِي (আমার সমবয়সী) বলেছিল।এ কথা শুনে উম্মু সুলাইম (রাঃ) তাড়াতাড়ি গায়ে চাদর দিয়ে বেরিয়ে পড়েন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে দেখা করেন। তখন তাঁর উদ্দেশে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “কী ব্যাপার, হে উম্মু সুলাইম!” তিনি বললেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনি কি আমার ইয়াতিম মেয়েটিকে বদদোয়া করেছেন?” তিনি বললেন, “হে উম্মু সুলাইম! এটা কেমন কথা! বদদোয়া করব কেন?” উম্মু সুলাইম (রাঃ) বললেন, “সে তো মনে করেছে যে, আপনি তাকে বদদোয়া করেছেন যেন তার বয়স না বাড়ে কিংবা তার সমবয়সীর বয়স বৃদ্ধি না পায়।” রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হেসে বললেন, “হে উম্মু সুলাইম! তুমি বোধহয় জানো না যে, আমার রবের সাথে এ মর্মে আমি শর্ত করেছি এবং আমি বলেছি যে, আমি একজন মানুষ মাত্র। মানুষ যাতে সন্তুষ্ট থাকে আমিও তাতে সন্তুষ্ট হই। আমিও রাগান্বিত হই যেভাবে মানুষ রাগান্বিত হয়ে থাকে। সুতরাং আমি আমার উম্মতের কোন লোকের বিরুদ্ধে বদদোয়া করলে সে যদি তার যোগ্য না হয় তাহলে তা তার জন্য পবিত্রতা, আত্মশুদ্ধি ও নৈকট্যের সোপান বানিয়ে দাও, যার দ্বারা কেয়ামতের দিনে সে তোমার নৈকট্য অর্জন করতে পারে।” আবূ মান (রহঃ) উল্লেখিত হাদীস-এ তিন জায়গায় يَتِيمَةٌ এর স্থলে يُتَيِّمَةٌ শব্দ বর্ণনা করেছেন, যার অর্থ ছোট ইয়াতিম মেয়ে।
৬৫২২
যাদের উপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিসম্পাত করেছেন, তিরস্কার করেছেন অথবা বদদু‘আ করেছেন; অথচ তারা এর যোগ্য নয় তাদের জন্য তা হবে পবিত্রতা, পুরস্কার ও রহ্‌মাত স্বরূপ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
কোন একদিন আমি বালকদের সাথে খেলায় লিপ্ত ছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে আসলেন। তখন আমি একটি দরজার পিছনে লুকিয়ে থাকলাম। তিনি আমাকে তাঁর হাতে (আদর করে) চড় দিলেন এবং বললেন, যাও, মু’আবিয়াকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে আসো। তখন আমি তার নিকট গেলাম এবং বললাম, তিনি খাচ্ছিলেন। তারপর তিনি (ﷺ) আমাকে বললেন, যাও, মু’আবিয়াকে আমার নিকট ডেকে নিয়ে আসো। তখন আমি তার নিকট গেলাম এবং (ফিরে এসে) বললাম, তিনি খাচ্ছেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ যেন তার পেট ভর্তি না করেন। ইবনুল মুসান্না (রহঃ) বলেন, আমি উমাইয়্যাকে বললাম, مَا حَطَأَنِي ‘আমাকে চড় মেরেছেন’-এর অর্থ কি? তিনি বললেন, قَفَدَنِي قَفْدَةً অর্থাৎ-তিনি আমাকে আদর করেছেন।
৬৫২৩
যাদের উপর নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিসম্পাত করেছেন, তিরস্কার করেছেন অথবা বদদু‘আ করেছেন; অথচ তারা এর যোগ্য নয় তাদের জন্য তা হবে পবিত্রতা, পুরস্কার ও রহ্‌মাত স্বরূপ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হামযাহ্ (রহঃ)
আমি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি কিছু ছেলের সাথে খেলায় লিপ্ত ছিলাম। অকস্মাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তথায় আসলেন, আমি তাঁর থেকে লুকিয়ে থাকলাম। তারপর তিনি তার হুবহু হাদীস উল্লেখ করেছেন।
৬৫২৪
দ্বি-মুখী লোকের নিন্দা ও তার এ কাজে হারামকরণ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্, (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: মানুষের মধ্যে দুই রূপধারী লোক সবচেয়ে নিকৃষ্ট। যে এ দলের নিকট আসে একরূপ নিয়ে এবং অন্য দলের নিকট আসে অন্য আরেক রূপ নিয়ে।
৬৫২৫
দ্বি-মুখী লোকের নিন্দা ও তার এ কাজে হারামকরণ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
নিশ্চয়ই তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ “দুইরূপধারী লোক সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যে ব্যক্তি এ দলের নিকটে আসে একরূপ নিয়ে ও অন্য দলের কাছে আসে একরূপ নিয়ে।”
৬৫২৬
দ্বি-মুখী লোকের নিন্দা ও তার এ কাজে হারামকরণ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে দুই রূপধারী মানুষকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাবে। এ দলের নিকট আসে একরূপ নিয়ে অন্য দলের কাছে আসে আর একরূপ নিয়ে।
৬৫২৭
মিথ্যা হারামকরণ ও তা মুবাহ হওয়ার বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
হিজরতকারিণীদের মধ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাতে প্রথম বাই’আত গ্রহণকারিণীদের অন্যতমা সহাবীয়া উম্মু কুলসূম বিনতু ‘উকবাহ ইবনু আবূ মু’আয়ত (রাঃ)
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, সে ব্যক্তি মিথ্যুক নয়, যে লোকের মধ্যে আপোষে মীমাংসা করে দেয়। সে কল্যাণের জন্যই মিথ্যা বলে এবং কল্যাণের জন্যেই চোগলখোরী করে। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, তিনটি স্থান ছাড়া আর কোন বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিথ্যা বলার অনুমতি দিয়েছেন বলে আমি শুনিনি(১) যুদ্ধ কৌশলের ক্ষেত্রে,(২) মানুষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করার জন্য,(৩) সহধর্মিণীর সাথে স্বামীর কথা ও স্বামীর সাথে সহধর্মিণীর কথা বলার ক্ষেত্রে
৬৫২৮
মিথ্যা হারামকরণ ও তা মুবাহ হওয়ার বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু শিহাব (রহঃ)
এ সনদে হুবহু বর্ণনা করেছেন। এছাড়া সালিহ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে রয়েছে। রাবি বলেন, আর লোকেরা যা বলে তাতে শুধু এই তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে মিথ্যা বলার অনুমতি দানের কথা আমি শুনিনি, যা ইবনু শিহাব (রহঃ)-এর কথা ইউনুস (রহঃ) বর্ণনা করেছেন।
৬৫২৯
মিথ্যা হারামকরণ ও তা মুবাহ হওয়ার বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
এ সনদে তাঁর কথা نَمَى خَيْرًا পর্যন্ত বর্ণিত আছে। পরবর্তি অংশ তিনি উল্লেখ করেননি।
৬৫৩০
চোগলখোরী হারামকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেন, “আমি কি তোমাদের হুশিয়ার করব না, চোগলখোরী কী? তা হচ্ছে কুৎসা রটনা করা, যা মানুষের মধ্যে বৈরিতার সৃষ্টি করে।” মুহাম্মাদ (ﷺ) আরও বলেছেন, “নিশ্চয়ই কোন ব্যক্তি সত্য কথা বলায় সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়; আবার কেউ মিথ্যা কথা বলায় মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।”