৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৪৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৪৭১
যুল্‌ম হারাম পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “অবশ্যই জুলুম কেয়ামত দিবসে ঘোরতর অন্ধকারে পরিণত হবে।”
৬৪৭২
যুল্‌ম হারাম পরিচ্ছেদ নাই
সালিম
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন: এক মুসলিম আরেক মুসলিমের ভাই। সে তার প্রতি অত্যাচার করে না এবং তাকে দুশমনের হাতে সোপর্দও করে না। যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের অভাব-অনটন পূরণ করবে, আল্লাহ তাঁর অভাব-অনটন দূর করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তা'আলা তার প্রতিদানে কেয়ামত দিবসে তাকে বিপদ থেকে পরিত্রাণ দিবেন। আর যে ব্যক্তি মুসলিমের দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবে, আল্লাহ তা'আলা কেয়ামত দিবসে তার দোষ-ত্রুটি লুকিয়ে রাখবেন।
৬৪৭৩
যুল্‌ম হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা কি বলতে পার অভাবী লোক কে? তাঁরা বললেন, আমাদের মাঝে যার দিরহাম (টাকা কড়ি) ও ধন-সম্পদ নেই সে তো অভাবী লোক। তখন তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে সে প্রকৃত অভাবী লোক, যে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন সালাত, সাওম ও যাকাত নিয়ে আসবে; অথচ সে এ অবস্থায় আসবে যে, সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে অপবাদ দিয়েছে, অমুকের সম্পদ ভোগ করেছে, অমুককে হত্যা করেছে ও আরেকজনকে প্রহার করেছে। এরপর সে ব্যক্তিকে তার নেক আমল থেকে দেয়া হবে, অমুককে নেক আমল থেকে দেয়া হবে। এরপর যদি পাওনাদারের হক তার নেক আমল থেকে পূরণ করা না যায় সে ঋণের পরিবর্তে তাদের পাপের একাংশ তার প্রতি নিক্ষেপ করা হবে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
৬৪৭৪
যুল্‌ম হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন প্রত্যেক পাওনাদারকে তার পাওনা চুকিয়ে দিতে হবে। এমনকি শিং বিশিষ্ট বকরী থেকে শিং বিহীন বকরীর প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে।
৬৪৭৫
যুল্‌ম হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশ’আরী (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: অবশ্যই মহান আল্লাহ যালিমকে সুযোগ দেন। এরপর তিনি যখন তাকে পাকড়াও করেন তখন তাকে ছাড়েন না। এরপর তিনি তিলাওয়াত করেন, “এভাবেই তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও-যখন কোন অত্যাচারী জনপদবাসীকে তিনি পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই তাঁর পাকড়াও চরম মর্মান্তিক, অতিশয় কঠোর”— (সূরা হূদ ১১/১০২)।
৬৪৭৬
ভাইকে সাহায্য করা যালিম হোক কিংবা মাযলুম পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
আনসার ও মুহাজিরদের দুইটি গোলাম হাতাহাতি করছিল। তখন মুহাজির গোলাম এ বলে চিৎকার দিল, ‘হে মুহাজিরগণ!’ পক্ষান্তরে আনসারী গোলামও ডাকল, ‘হে আনসারগণ!’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে বললেন, “এ কী ব্যাপার! জাহিলি যুগের লোকেদের মতো হাঁক-ডাক করছ?” তারা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! না, দুইটি গোলাম ঝগড়া করেছে। তাদের একজন অপরজনের পশ্চাতে আঘাত করেছে।’ তখন তিনি বললেন, “এ তো সাধারণ ব্যাপার। প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য উচিত যেন সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে, সে অত্যাচারী হোক কিংবা অত্যাচারিত। যদি সে অত্যাচারী হয় তাহলে তাকে (জুলুম থেকে) বিরত রাখবে। এ হচ্ছে তার জন্য সাহায্য। আর যদি সে অত্যাচারিত হয় তাহলে তাকে সাহায্য করবে।”
৬৪৭৭
ভাইকে সাহায্য করা যালিম হোক কিংবা মাযলুম পরিচ্ছেদ নাই
সুফ্ইয়ান ইবনু ‘উয়াইনাহ্ (রহঃ)
আমর (রহঃ) জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, আমরা এক যুদ্ধে নবী (ﷺ) এর সাথে ছিলাম। তখন একজন মুহাজির একজন আনসারের পশ্চাদদেশে আঘাত করেছিল। সে সময় আনসারি চিৎকার করে বলল, “হে আনসার!” আর মুহাজির ব্যক্তি ডাক দিল, “হে মুহাজিরগণ!” তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “কি ব্যাপার! জাহিলিয়াত যুগের মতো হাঁক-ডাক করছ কেন?” তারা বলল, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! একজন মুহাজির একজন আনসারির পশ্চাতে আঘাত করেছে।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তোমরা এ ধরনের হাঁক-ডাক ছেড়ে দাও। কেননা এটা নিন্দনীয় কাজ।”এরপর ঘটনাটি আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই শুনে বলল, “তারা কি এরূপ কাণ্ড ঘটিয়েছে? আল্লাহর কসম! আমরা মদীনায় ফিরে গেলে সেখানকার শক্তিশালীরা অবশ্যই দুর্বলকে বহিষ্কৃত করে দিবে।” উমর (রাঃ) বললেন, “(হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)!) আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের মস্তক উড়িয়ে দেই।” তখন তিনি বললেন, “একে ছেড়ে দাও, যাতে লোকেরা বলতে না পারে যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের হত্যা করেন।”
৬৪৭৮
ভাইকে সাহায্য করা যালিম হোক কিংবা মাযলুম পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
একজন মুহাজির একজন আনসারীকে পশ্চাতে আঘাত করেছিলেন। এরপর সে নবী (ﷺ) এর নিকট এলো এবং তাঁর কাছে প্রতিশোধ চাইল। তখন নবী (ﷺ) বললেন, এটা বাদ দাও। কেননা এ-তো নোংরা কাজ। ইবনু মানসূর (রহঃ) ‘আমর বর্ণিত হাদীসে বলেছেন যে, তিনি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন।
৬৪৭৯
মু’মিনদের পারস্পারিক সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও সহযোগিতা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন : একজন মুমিন ব্যক্তি অপর মুমিনের জন্য একটি অট্টালিকা সদৃশ, যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে।
৬৪৮০
মু’মিনদের পারস্পারিক সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও সহযোগিতা পরিচ্ছেদ নাই
নু’মান ইবনু বাশীর
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক ভালবাসা, দয়ার্দ্রতা ও সহানুভূতির দিক থেকে একটি মানবদেহের ন্যায়। যখন তার একটি অঙ্গ আক্রান্ত হয় তখন তার সমস্ত দেহ ডেকে আনে তাপ ও অনিদ্রা।