৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৪৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৪৬১
মু’মিন ব্যক্তি কোন রোগ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদিতে পতিত হলে এমনকি তার গায়ে কাঁটাবিদ্ধ হওয়াও তার সাওয়াব পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, ঈমানদার ব্যক্তির উপর কোন বিপদ আপতিত হলে, এমনকি কোন কাঁটা বিঁধলেও তার বিনিময়ে তাকে একটি প্রতিদান দেয়া হয়; কিংবা তার একটি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
৬৪৬২
মু’মিন ব্যক্তি কোন রোগ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদিতে পতিত হলে এমনকি তার গায়ে কাঁটাবিদ্ধ হওয়াও তার সাওয়াব পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
তারা উভয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, কোন ঈমানদার ব্যক্তির এমন কোন ব্যথা-বেদনা, রোগ-ব্যাধি, দুঃখ-কষ্ট পৌঁছে না, এমনকি দুর্ভাবনা পর্যন্ত, যার প্রতিদানে তার কোন গুনাহ ক্ষমা করা হয় না।
৬৪৬৩
মু’মিন ব্যক্তি কোন রোগ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদিতে পতিত হলে এমনকি তার গায়ে কাঁটাবিদ্ধ হওয়াও তার সাওয়াব পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
যখন এ আয়াত “যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে, তার প্রতিফল সে ভোগ করবে”- (সূরা আন নিসা ৪ : ১২৩) অবতীর্ণ হলো তখন কতিপয় মুসলিম ভয়ানক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো এবং সঠিক পন্থা গ্রহণ করো। একজন মুসলিম তার প্রত্যেকটি বিপদের পরিবর্তে, এমনকি সে আছাড় খেলে কিংবা তার শরীরে কোন কাঁটা বিদ্ধ হলেও তাতে তার (গুনাহের) কাফফারা হয়ে যায়। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, উমর ইবনু আব্দুর রহমান ইবনু মুহাইসিন মক্কার অধিবাসী ছিলেন।
৬৪৬৪
মু’মিন ব্যক্তি কোন রোগ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদিতে পতিত হলে এমনকি তার গায়ে কাঁটাবিদ্ধ হওয়াও তার সাওয়াব পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন উম্মু সায়িব অথবা উম্মুল মুসাইয়্যাব (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বললেন, “তোমার কি হয়েছে হে উম্মু সায়িব অথবা উম্মুল মুসাইয়্যাব! কাঁপছ কেন?” তিনি বললেন, “ভীষণ জ্বর, একে আল্লাহ বর্ধিত না করুন।” তখন তিনি বললেন, “তুমি জ্বরকে গালমন্দ করো না। কেননা জ্বর আদম সন্তানের পাপরাশি মোচন করে দেয়, যেভাবে হাঁপর লোহার মরিচিকা দূরীভূত করে।”
৬৪৬৫
মু’মিন ব্যক্তি কোন রোগ, দুশ্চিন্তা ইত্যাদিতে পতিত হলে এমনকি তার গায়ে কাঁটাবিদ্ধ হওয়াও তার সাওয়াব পরিচ্ছেদ নাই
আতা ইবনু রাবাহ্‌ (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাকে বলেছেন, আমি কি তোমাকে এক জান্নাতি মহিলার কথা বলব? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, এক কৃষ্ণকায় মহিলা নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলেছিল, আমি মৃগিরোগে আক্রান্ত হই এবং এ অবস্থায় আমি উলঙ্গ হয়ে পড়ি। অতএব আপনি আমার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন।তিনি বললেন, যদি তুমি চাও, ধৈর্য ধারণ কর। তাহলে তোমার জন্য বিনিময় রয়েছে জান্নাত। আর যদি তুমি চাও তাহলে আমি আল্লাহর দরবারে দোয়া করি যেন তিনি তোমাকে আরোগ্য দান করেন। তখন সে বলল, আমি ধৈর্য ধারণ করব। তবে আমি যে সে অবস্থায় সতর খুলে ফেলি, কাজেই আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আমি সতর খুলে না ফেলি। তখন তিনি তার জন্য দোয়া করলেন।
৬৪৬৬
যুল্‌ম হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
নবী (ﷺ) ইরশাদ করেন : আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “ওহে আমার বান্দারা! আমি আমার নিজ সত্তার উপর অত্যাচারকে হারাম করে নিয়েছি এবং তোমাদের মধ্যেও তা হারাম বলে ঘোষণা করছি। অতএব তোমরা একে অপরের উপর অত্যাচার করো না। হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই ছিলে দিশেহারা, তবে আমি যাকে সুপথ দেখিয়েছি সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে হিদায়াত প্রার্থনা কর আমি তোমাদের হিদায়াত দান করব। হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই ক্ষুধার্ত, তবে আমি যাকে খাদ্য দান করি সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে আহার্য চাও, আমি তোমাদের আহার করাব। হে আমার বান্দারা! তোমরা সবাই বস্ত্রহীন, কিন্তু আমি যাকে পরিধান করাই সে ব্যতীত। তোমরা আমার কাছে পরিধেয় চাও, আমি তোমাদের পরিধান করাব। হে আমার বান্দারা! তোমরা রাতদিন অপরাধ করে থাকো। আর আমিই সব অপরাধ ক্ষমা করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে মাগফিরাত প্রার্থনা করো, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিব। হে আমার বান্দারা! তোমরা কখনো আমার অনিষ্ট করতে পারবে না, যাতে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হই এবং তোমরা কখনো আমার উপকার করতে পারবে না, যাতে আমি উপকৃত হই। হে আমার বান্দারা! তোমাদের আদি, তোমাদের অন্ত, তোমাদের মানুষ ও জিন জাতির মধ্যে যার অন্তর আমাকে সবচাইতে বেশী ভয় পায়, তোমরা সবাই যদি তার মতো হয়ে যাও তাতে আমার রাজত্ব একটুও বৃদ্ধি পাবে না। হে আমার বান্দারা! তোমাদের আদি, তোমাদের অন্ত, তোমাদের সকল মানুষ ও জিন জাতির মধ্যে যার অন্তর সবচাইতে পাপিষ্ঠ তোমরা সবাই যদি তার মতো হয়ে যাও তাতে আমার রাজত্ব কিছুমাত্র হ্রাস পাবে না। হে আমার বান্দারা! তোমাদের আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সকল মানুষ ও জিন যদি কোন বিশাল মাঠে দাঁড়িয়ে সবাই আমার কাছে আবদার করে আর আমি প্রত্যেক ব্যক্তির চাহিদা পূরণ করি তাহলে আমার কাছে যা আছে তাতে এর চাইতে বেশী হ্রাস পাবে না, যেমন কেউ সমুদ্রে একটি সূচ ডুবিয়ে দিলে যতটুকু তাতে হ্রাস পায়। হে আমার বান্দারা! আমি তোমাদের আমলই তোমাদের জন্য সংরক্ষিত রাখি। এরপর পুরোপুরিভাবে তার বিনিময় প্রদান করে থাকি। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন কল্যাণ অর্জন করে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে তা ব্যতীত অন্য কিছু পায়, তবে সে যেন নিজেকেই দোষারোপ করে।” সাঈদ (রহঃ) বলেন, আবু ইদ্রিস আল খাওলানি (রহঃ) যখন এ হাদীস বর্ণনা করতেন তখন তিনি দুই হাঁটুর উপর ভর দিয়ে বসতেন।
৬৪৬৭
যুল্‌ম হারাম পরিচ্ছেদ নাই
সা‘ঈদ ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয (রাযীঃ)
সাঈদ ইবন আব্দুল আজীজ (রহঃ) এ সানাদে রেওয়ায়াত করেন। তবে তাদের উভয়ের মধ্যে মারওয়ান পূর্ণাঙ্গ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৬৪৬৮
যুল্‌ম হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক্ (রহঃ) বলেন, বিশর্ (রহঃ) এর পুত্রদ্বয় হাসান ও হুসাইন এবং মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াহ্ইয়া
আমাদের নিকট আবু মুসহির এ হাদীসটি পুরোটাই বর্ণনা করেছেন।
৬৪৬৯
যুল্‌ম হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তাঁর মহিমান্বিত পরওয়ারদিগার ইরশাদ করেন, আমি আমার নিজের উপর ও বান্দাদের উপর অত্যাচারকে হারাম করে নিয়েছি। অতএব তোমরা পরস্পর পরস্পরকে অত্যাচার করো না। অতঃপর রাবী হাদিসটি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আবু ইদ্রিস (রহঃ) বর্ণিত যে হাদিসটি আমরা বিবৃত করেছি তা এর চাইতে অধিক পূর্ণাঙ্গ।
৬৪৭০
যুল্‌ম হারাম পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আব্দুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা অত্যাচার করা থেকে বিরত থাক। কেননা কেয়ামত দিবসে অত্যাচার অন্ধকারে পরিণত হবে। তোমরা কৃপণতা থেকে সাবধান হও। কেননা এ কৃপণতাই তোমাদের আগেকার কাওমকে ধ্বংস করেছে। এ কৃপণতা তাঁদের খুন-খারাবি ও রক্তপাতে উৎসাহ যুগিয়েছে এবং হারাম বস্তুসমূহ হালাল জ্ঞান করতে প্রলোভন দিয়েছে।