৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৩১
গোসলকারিনীর (অপবিত্রতার) মাথার বেনীর হুকুম মাথা এবং কতিপয় অঙ্গে (গোসলের সময়) তিনবার পানি ঢেলে দেয়া মুস্তাহাব
উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি তো মাথায় চুলের বেণী গেঁথে থাকি। সুতরাং অপবিত্রতার গোসলের সময় কি আমি তা খুলব? তিনি বললেন, “না, বরং তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, তুমি মাথার ওপর তিন আঁজলা পানি ঢেলে দিবে। অতঃপর সারা শরীরে পানি ঢেলে দিয়ে পবিত্র হয়ে যাবে।”
৬৩২
মাথা এবং কতিপয় অঙ্গে (গোসলের সময়) তিনবার পানি ঢেলে দেয়া মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আম্‌র আন্‌ নাকিদ ও ‘আব্‌দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ)
এ সনদে উক্ত হাদিসটি বর্ণিত আছে। আবদুর রায্জাকের হাদিসে রয়েছে যে, “আমি কি তা হায়েয ও অপবিত্রতা থেকে গোসলের জন্য খুলব?” তিনি বললেন, “না”। এরপর ইবনু উয়াইনার (উপরোক্ত) হাদিসের অনুরূপ।
৬৩৩
মাথা এবং কতিপয় অঙ্গে (গোসলের সময়) তিনবার পানি ঢেলে দেয়া মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আহমাদ ইবনু সা’ঈদ আদ্‌ দারিমী (রহঃ) এর সূত্রে আইয়ূব ইবনু মূসা (রাঃ)
সেখানে উল্লেখ আছে যে, “আমি কি তা খুলে অপবিত্রতা থেকে গোসল করব?” সেখানে তিনি হায়েজের কথা উল্লেখ করেননি।
৬৩৪
মাথা এবং কতিপয় অঙ্গে (গোসলের সময়) তিনবার পানি ঢেলে দেয়া মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
উবায়দ ইবনু ‘উমায়র (রহঃ)
আয়িশা (রাঃ) এর নিকটে খবর পৌঁছল যে, আবদুল্লাহ ইবনু আমর স্ত্রীলোকদেরকে গোসলের সময় তাদের মাথার চুল (বেণী) খোলার আদেশ দিয়ে থাকেন। এ কথা জানার পর আয়িশা (রাঃ) বলেন, আশ্চর্য লাগে ইবনু আমর (রাঃ) এর মত লোক মেয়েদেরকে গোসলের সময় মাথার চুল খোলার আদেশ করেন। তাহলে তো তিনি তাদেরকে মাথার চুল মুড়ে ফেলার আদেশ দিতে পারেন। অথচ আমি এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সাথে একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে অপবিত্রতার গোসল করেছি। এ সময় আমি আমার মাথায় তিন কোষ (দুই হাতের তালুর) অধিক পানি ঢালিনি।
৬৩৫
হায়িয থেকে গোসলকারিনীর জন্যে রক্তের স্থানে (লজ্জাস্থানে) সুগন্ধযুক্ত কাপড়ের টুকরা বা তুলা ব্যবহার করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল যে, কিভাবে সে তার হায়িয থেকে গোসল করবে? হাদীসের রাবী বলেন, আয়িশা (রাঃ) উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভদ্রমহিলাকে সে কিভাবে গোসল করবে, তা শিখিয়ে দিলেন।তারপর সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা ব্যবহার করবে এবং তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। সে বলল, এ সুগন্ধযুক্ত কাপড় দ্বারা আমি কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করব? তিনি বললেন, তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করো। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! (এত সোজা কথাও বুঝ না)। এরপর তিনি (মুখ) সরিয়ে নিলেন।(রাবী বলেন) সুফিয়ান ইবন উয়াইনাহ নিজ মুখের উপর হাত দিয়ে আমাদেরকে ইশারা করে দেখালেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি তাঁকে আমার দিকে টেনে আনলাম। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি বুঝাতে চাচ্ছেন তা আমি বুঝে ফেললাম। অতঃপর আমি মহিলাটিকে বললাম, তুমি তা (সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা) রক্তের স্থানে (লজ্জাস্থানে) বুলিয়ে নিবে। ইবন উমর তাঁর বর্ণিত হাদীসে বলেছেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, রক্তের স্থানে সুগন্ধযুক্ত কাপড়টি বুলিয়ে নাও।
৬৩৬
হায়িয থেকে গোসলকারিনীর জন্যে রক্তের স্থানে (লজ্জাস্থানে) সুগন্ধযুক্ত কাপড়ের টুকরা বা তুলা ব্যবহার করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ(রাঃ)
এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করল যে, আমি তুহর-এর (হায়েজ থেকে পবিত্রতার) সময় কিভাবে গোসল করব? তিনি বললেন, “এক টুকরো সুগন্ধযুক্ত কাপড় বা তুলা নিবে তারপর তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে।” এরপর সুফিয়ান-এর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৬৩৭
হায়িয থেকে গোসলকারিনীর জন্যে রক্তের স্থানে (লজ্জাস্থানে) সুগন্ধযুক্ত কাপড়ের টুকরা বা তুলা ব্যবহার করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশা (রাঃ)
একদা আসমা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে হায়েযের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, তোমাদের কেউ পানি এবং বরইয়ের পাতা নিয়ে সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে। তারপর মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করবে যাতে পানি সমস্ত চুলের গোড়া পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তারপর তার উপর পানি ঢেলে দিবে। তারপর সুগন্ধযুক্ত কাপড় নিয়ে তার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করবে। আসমা বলল, তা দিয়ে সে কিভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে। অতঃপর আয়িশা (রাঃ) তাকে যেন চুপি চুপি বলে দিলেন, রক্ত বের হবার জায়গায় তা বুলিয়ে দিবে। সে অপবিত্রতার গোসল সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, পানি নিয়ে তার দ্বারা সুন্দরভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে। তার মাথায় পানি ঢেলে দিয়ে ভাল করে নাড়াচাড়া করবে যাতে চুলের গোঁড়ায় পানি পৌঁছে যায়। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিবে। আয়িশা (রাঃ) বললেন, আনসারদের মহিলারা কত ভাল! লজ্জা তাদেরকে দীন-এর জ্ঞান থেকে ফিরিয়ে রাখে না।
৬৩৮
হায়িয থেকে গোসলকারিনীর জন্যে রক্তের স্থানে (লজ্জাস্থানে) সুগন্ধযুক্ত কাপড়ের টুকরা বা তুলা ব্যবহার করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ্‌
অবিকল বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা দ্বারা পবিত্রতা লাভ করবে। অতঃপর তিনি আড়াল করলেন।
৬৩৯
হায়িয থেকে গোসলকারিনীর জন্যে রক্তের স্থানে (লজ্জাস্থানে) সুগন্ধযুক্ত কাপড়ের টুকরা বা তুলা ব্যবহার করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশা (রাযিঃ)
আস্মা বিনত শাকাল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রসূলুল্লাহ! আমাদের কেউ যখন হায়িজ থেকে পবিত্র হবে তখন সে কিভাবে গোসল করবে? এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে হাদীসটির মধ্যে অপবিত্রতার গোসলের কথা উল্লেখ করেননি।
৬৪০
ইসতিহাযাহ [৮৯] বা রক্তপ্রদর রোগগ্রস্ত মহিলার গোসল ও তার সালাত প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশা (রাঃ)
ফাতিমা বিনত আবু হুবাইশ নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি একজন ইস্তিহাযা বা রক্তপ্রদর রোগগ্রস্ত নারী। কখনো এ রোগ থেকে মুক্ত হই না। তাই আমি কি সালাত আদায় করা ছেড়ে দিব?রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ না, তুমি সালাত আদায় ছাড়বে না। কেননা, এটা হায়েয না, বরং একটি শিরা নিঃসৃত রক্ত। তাই যখন হায়েয দেখা দিবে তখন শুধু সালাত আদায় করবে না। আর যখন হায়েয ভালো হয়ে যাবে তখন রক্ত ধুয়ে ফেলে গোসল করে পবিত্র হয়ে সালাত আদায় করবে।