৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬০১
মহিলার মানী (বীর্য) বের হলে তার উপর গোসল করা ওয়াজিব পরিচ্ছেদ নাই
উম্মুল মু‘মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ)
আবু তালহার সন্তানদের মা উম্মু সুলাইম (রাঃ) একদা রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে হিশামের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এ হাদীসটিতে ব্যতিক্রম যা রয়েছে তা হল, আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, “ছিঃ ছিঃ (অসন্তোষ প্রকাশক শব্দ)! মেয়েলোক কি ঐরূপ দেখে?”
৬০২
মহিলার মানী (বীর্য) বের হলে তার উপর গোসল করা ওয়াজিব পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলল, মেয়েলোকের যখন স্বপ্নদোষ হবে এবং সে বীর্যরস দেখতে পাবে তখন কি সে গোসল করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর আয়িশা (রাঃ) মহিলাটিকে বললেন, তোমার উভয় হাত ধূলিময় হোক এবং তাতে অস্ত্রের খোঁচা লাগুক। তিনি [আয়িশা (রাঃ)] বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ছেড়ে দাও ওকে (ভর্ৎসনা করো না)। সন্তান মা-বাবার সদৃশের কারণেই হয়ে থাকে। যখন স্ত্রীর বীর্য পুরুষের বীর্যের আগে জরায়ুতে প্রবেশ করে তখন সন্তানের আকৃতি তার মামাদের মতই হয়। আর যখন পুরুষের বীর্য মেয়েলোকের বীর্যের উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন তার আকৃতি চাচাদের মতই হয়।
৬০৩
পুরুষ ও মহিলার বীর্যের বর্ণনা এবং সন্তান যে উভয়ের বীর্য ও শুক্র থেকে সৃষ্টি হয় তার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মুক্তিপ্রাপ্ত গোলাম সাওবান (রাঃ)
আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে দাঁড়িয়েছিলাম। ইতোমধ্যেই ইয়াহুদীদের এক আলিম এসে বলল, আসসালামু আলাইক ইয়া মুহাম্মাদ! এরপর আমি তাকে এমন এক ধাক্কা মারলাম যে, সে প্রায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো! সে বলল, তুমি আমাকে ধাক্কা মারলে কেন? আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! বলতে পারো না। ইহুদি বলল, আমরা তাঁকে তাঁর পরিবার-পরিজন যে নাম রেখেছে সে নামেই ডাকি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার নাম মুহাম্মাদ। আমার পরিবারের লোকই আমার এ নাম রেখেছে।এরপর ইহুদি বলল, আমি আপনাকে (কয়েকটি কথা) জিজ্ঞেস করতে এসেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার কী লাভ হবে, যদি আমি তোমাকে কিছু বলি? সে বলল, আমি আমার কান পেতে শুনব। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কাছে যে খড়িটি ছিল তা দিয়ে মাটিতে আঁকাঝোকা দাগ কাটতে ছিলেন। তারপর বললেন, জিজ্ঞেস করো।ইহুদি বলল, যেদিন এ জমিন ও আকাশমণ্ডলী পাল্টে গিয়ে অন্য জমিন ও আকাশমণ্ডলীতে পরিণত হবে (অর্থাৎ কেয়ামত হবে) সেদিন লোকজন কোথায় থাকবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তারা সেদিন পুলসিরাতের কাছে অন্ধকারে থাকবে। সে বলল, কে সর্বপ্রথম (তা পার হবার) অনুমতি লাভ করবে? তিনি বললেন, দরিদ্র মুহাজিরগণ!ইহুদি বলল, জান্নাতে যখন তারা প্রবেশ করবে তখন তাদের তোহফা কি হবে? তিনি বললেন, মাছের কলিজার টুকরা। সে বলল, এরপর তাদের মধ্যাহ্নভোজন কি হবে? তিনি বললেন, তাদের জন্য জান্নাতের ষাঁড় যবেহ করা হবে যা জান্নাতের আশেপাশে চড়ে বেড়ায়। সে বলল, এরপর তাদের পানীয় কি হবে? তিনি বললেন, সেখানকার একটি ঝর্ণার পানি যার নাম ‘সালসাবিল’। সে বলল, আপনি ঠিক বলেছেন।সে আরও বলল যে, আমি আপনার কাছে এমন একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছি যা নবী ছাড়া পৃথিবীর কোন অধিবাসী জানে না অথবা একজন কি দুজন লোক ছাড়া। তিনি বললেন, আমি যদি তোমাকে তা বলে দেই তবে তোমার কি কোন উপকার হবে? সে বলল, আমি আমার কান পেতে শুনব। সে বলল, আমি আপনাকে সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে এসেছি।তিনি বললেন, পুরুষের বীর্য সাদা এবং মেয়েলোকের বীর্য হলুদ। যখন উভয়টি একত্রিত হয়ে যায় এবং পুরুষের বীর্য মেয়েলোকের বীর্যের উপর প্রাধান্য লাভ করে তখন আল্লাহর হুকুমে পুত্র সন্তান হয়। আর যখন মেয়েলোকের বীর্য পুরুষের বীর্যের ওপর প্রাধান্য লাভ করে তখন আল্লাহর হুকুমে কন্যা সন্তান হয়।ইহুদি বলল, আপনি ঠিকই বলেছেন এবং নিশ্চয়ই আপনি নবী। এরপর সে চলে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ লোক আমার কাছে যা জিজ্ঞেস করছে, ইতোপূর্বে আমার সে সম্পর্কে কোন জ্ঞানই ছিল না। আল্লাহ এক্ষণে আমাকে তা জানিয়ে দিলেন।
৬০৪
পুরুষ ও মহিলার বীর্যের বর্ণনা এবং সন্তান যে উভয়ের বীর্য ও শুক্র থেকে সৃষ্টি হয় তার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
মু‘আবিয়াহ্ ইবনু সাল্লাম
একই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তার বর্ণনাতে এতটুকু অতিরিক্ত বলেছেন যে, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বসে ছিলাম। আর তিনি বললেন: ‘মাছের কলিজার টুকরা’। আর তিনি ‘আয্কর’ ও ‘আনাস’ শব্দ দুটির একবচন রূপ ব্যবহার করেছেন, দ্বিবচন ব্যবহার করেননি।
৬০৫
অপবিত্রতার গোসলের বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ(রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন অপবিত্রতা থেকে গোসল করতেন তখন প্রথমে দুই হাত ধুতেন। তারপর ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে লজ্জাস্থান ধুতেন। তারপর সালাতের ওজু-এর মত ওজু করতেন। তারপর পানি নিয়ে তাঁর আঙুলগুলো চুলের গোড়ায় ঢুকাতেন। এমনিভাবে যখন মনে করতেন যে, চুল ভিজে গেছে তখন মাথায় তিন আজল (দুই হাতের তালু ভরা) পানি ঢালতেন। তারপর সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিতেন। তারপর তাঁর উভয় পা ধুয়ে ফেলতেন।
৬০৬
অপবিত্রতার গোসলের বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম
অবিকল সনদে উক্ত হাদীসটি বর্ণিত আছে। তবে তাদের হাদীসে পা ধোয়ার কথা উল্লেখ নেই।
৬০৭
অপবিত্রতার গোসলের বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অপবিত্রতা থেকে গোসলের সময় প্রথমে তাঁর উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধুতেন। এরপর আবূ মু‘আবিয়ার হাদীসের অবিকল উল্লেখ করেন কিন্তু তিনি উভয় পা ধোয়ার কথা উল্লেখ করেননি।
৬০৮
অপবিত্রতার গোসলের বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন অপবিত্রতা থেকে গোসল করতেন তখন পাত্রে হাত ঢুকানোর আগে প্রথমেই তাঁর দুই হাত ধুতেন, তারপর সালাতের ওজুর মত ওজু করতেন।
৬০৯
অপবিত্রতার গোসলের বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূদল্লাহ্ ইবনু আব্বাস (রাঃ)
আমার খালা মাইমুনা (রাঃ) আমাকে বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অপবিত্রতার গোসলের জন্যে পানির পাত্র এগিয়ে দিতাম। তিনি প্রথমে দু’হাতের কব্জি পর্যন্ত দু’বার অথবা তিনবার ধুয়ে নিলেন। তারপর পাত্রের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বাম হাতে লজ্জাস্থান ধুয়ে পরিষ্কার করলেন।পরে বাম হাতখানা মাটিতে খুব করে রগড়ালেন, এরপর ধুয়ে নিলেন। অতঃপর সালাতের ওজুর মতো ওজু করলেন। তারপর তাঁর মাথায় তিন আঁজলা পানি ঢাললেন। তারপর তাঁর বাকি শরীর ধুয়ে নিলেন।অতঃপর উক্ত স্থান থেকে সরে গিয়ে পা দু’খানা ধুলেন। অতঃপর আমি তাঁর শরীর মোছার জন্য কাপড় বা রুমাল নিয়ে আসলে তিনি তা ব্যবহার না করে বরং ফিরিয়ে দিলেন।
৬১০
অপবিত্রতার গোসলের বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মাদ ইবনু সাব্বাহ্, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, আবূ কুরায়ব, আল আশাজ্জ ও ইসহাক্ প্রত্যেকেই ওয়াকী’ হতে এবং ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া ও আবূ কুরায়ব আবূ মু‘আবিয়াহ্ হতে উভয়ে আ‘মাশ
উক্ত সানাদের হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে তাদের উভয়ের হাদীসে তিন আঁজলা পানি মাথায় ঢেলে দেয়ার কথা নেই। আর ওয়াকী‘-এর হাদীসে ওজুর পূর্ণ বর্ণনা দেয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি কুলি করা এবং নাকে পানি দেয়ার কথা তাঁর হাদীসে বর্ণনা করেছেন। আবু মু‘আবিয়ার হাদীসে রুমালের কথা উল্লেখ নেই।