৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫৮৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫৮২১
স্বপ্নের ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ নাই
উবাইদুল্লহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) অথবা আবু হুরাইরা (রাঃ) হাদিস রিওয়ায়াত করতেন যে, জনৈক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলো .....। ভিন্ন সূত্রে হারমালাহ ইবনু ইয়াহিয়া তুজীবী (রহঃ) উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ (রাঃ) [ইবনু শিহাব (রহঃ)]-কে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ হাদিসটি রিওয়ায়াত করতেন যে, জনৈক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি আজ রাতে স্বপ্ন দেখলাম যে, শামিয়ানা হতে ঘি ও মধু ঝরে পড়ছে আর লোকদের দেখলাম- তারা তা থেকে তাদের হাতের অঞ্জলি ভরে ভরে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ বেশি পরিমাণ নিচ্ছে, কেউ স্বল্প পরিমাণে। আর একটি রশি দেখলাম আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনকারী, আর দেখলাম আপনি তা ধরলেন এবং উপরে উঠে গেলেন, এরপর এক ব্যক্তি তা ধরল এবং সে উপর উঠে গেল, তারপর আর এক ব্যক্তি তা ধরল এবং তা ছিঁড়ে পড়ে গেল। পরিশেষে তা তার জন্য জুড়ে দেয়া হলো এবং সেও উপরে উঠে গেল।”স্বপ্ন বর্ণনার এ পর্যায়ে আবু বকর (রাঃ) বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত! আল্লাহর শপথ! আপনি অবশ্য আমাকে অনুমতি দিবেন, তাহলে আমি এ স্বপ্নটির ব্যাখ্যা করব।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “আপনি ব্যাখ্যা করুন।” আবু বকর (রাঃ) বললেন, “শামিয়ানাটি হলো ইসলামের (রূপক) শামিয়ানা, আর যে ঘি ও মধু ফোটা ঝরে পড়ছিল, তা হচ্ছে আল-কুরআনের মধুরতা ও কোমলতা আর মানুষেরা যে তা থেকে অঞ্জলি ভরে ভরে নিয়ে যাচ্ছিল তা হলো- কেউ বেশি পরিমাণে আর কেউ সামান্য পরিমাণে আল-কুরআন হতে সংগ্রহ করছে। আর আসমান হতে জমিন পর্যন্ত সংযুক্ত রশিটি হলো হক ও সত্য (পথ), যার উপরে আপনি রয়েছেন তা ধারণ করলেন, আর আল্লাহ তা দিয়ে আপনাকে উপরে উঠিয়ে নিলেন। তারপর আপনার পরে এক লোক তা ধারণ করলেন এবং তা দিয়ে সেও উপরে উঠে যাবে, তারপর আর এক লোক তা ধারণ করবে এবং তা দিয়ে সেও উপরে উঠে যাবে, তারপর আর এক লোক তা ধারণ করবে এবং তা ছিঁড়ে পরে যাবে, পরে তা তার জন্য জুড়ে দেয়া হবে এবং তা দিয়ে সে উপরে উঠে যাবে। হে আল্লাহর রাসূল! এখন আমাকে বলে দিন, আমার পিতা আপনার উদ্দেশে উৎসর্গিত, আমি ঠিক বলেছি নাকি ভুল বলেছি?”রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “কতক ঠিক বলেছেন আর কতক ভুল করেছেন।” তিনি বললেন, “তাহলে আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রাসূল! যা আমি ভুল করেছি তা আপনি অবশ্যই আমাকে বর্ণনা করে দিবেন।” তিনি বললেন, “এভাবে শপথ করবে না।”
৫৮২২
স্বপ্নের ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
উহুদ (যুদ্ধক্ষেত্র) হতে তাঁর ফিরে আসার সময় জনৈক লোক নবী (ﷺ)-এর দরবারে এলো। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আজ রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম- একটি শামিয়ানা তা থেকে ফোঁটা ফোঁটা ঘি ও মধু ঝরছে। হাদীসের পরবর্তী অংশ ইউনুস (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অর্থানুরূপ।
৫৮২৩
স্বপ্নের ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) কিংবা আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আবদুর রায্জাক বলেন (আমার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী উস্তাদ) মা‘মার (রহঃ) কখনো বর্ণনা করতেন ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে, আবার কখনো বর্ণনা করতেন আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে এ মর্মে যে, জনৈক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বললেন, আজ রাতে (স্বপ্নে) আমি একটি শামিয়ানা দেখতে পাই, তারপর পূর্বোল্লিখিত বর্ণনাকারীগণের বর্ণিত হাদিসের অর্থে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৫৮২৪
স্বপ্নের ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর (যেসব অভ্যাসে অভ্যস্ত ছিলেন) (সে সবের মধ্যে একটি ছিল এই) যে, তিনি তাঁর সাহাবীগণকে (ফজরের সালাতের পরে) বলতেন, “তোমাদের কেউ কোন স্বপ্ন দেখলে সে তা আমার নিকট প্রকাশ করুক, তাহলে আমি তাকে তার ব্যাখ্যা বলে দিব।” জনৈক লোক এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি শামিয়ানা দেখলাম …..।” পরবর্তী বর্ণনা (পূর্বোল্লিখিত) বর্ণনাকারীগণের বর্ণিত হাদীসের অবিকল।
৫৮২৫
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্বপ্ন পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক রাতে আমি দেখলাম যেভাবে ঘুমন্ত লোক দেখে (অর্থাৎ স্বপ্ন), যেন আমরা উকবা ইবন রাফি-এর গৃহে রয়েছি। তখন আমাদের নিকট ইবন তাব নামক খেজুর হতে কিছু তাজা খেজুর নিয়ে আসা হলো। তখন আমি এর বিশ্লেষণ করলাম- পৃথিবীর বুকে আমাদের জন্য উন্নতি এবং আখিরাতে উত্তম পরিণতি। আর আমাদের দ্বীন অবশ্যই উত্তম।
৫৮২৬
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্বপ্ন পরিচ্ছেদ নাই
নাফি’ (রহঃ)
আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) এ মর্মে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমি ঘুমের মধ্যে দেখলাম, একটি দাঁতন দিয়ে মিসওয়াক করছি। তখন দুই লোক আমাকে আকৃষ্ট করল, যাদের একজন অন্যজনের চেয়ে বয়সে বড়। তখন আমি মিসওয়াকটি কম বয়স্ককে দিতে গেলে আমাকে বলা হলো- ‘বড়কে দিন’, তাই আমি বয়স্ককে দিয়ে দিলাম।
৫৮২৭
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্বপ্ন পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। “আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, আমি মাক্কা থেকে এমন এক দেশে হিজরত করে যাচ্ছি, যেখানে খেজুর বৃক্ষ আছে, তাতে আমার কল্পনা এদিকে গেল যে, তা ইয়ামামা অথবা হাজর (এলাকা) হবে। পরে (বাস্তবে) দেখি যে, তা হলো মদীনা- (যার পূর্ব নাম) ইয়াস্রিব।আমি আমার এ স্বপ্নে আরও দেখলাম যে, আমি একটি তলোয়ার নাড়াচাড়া করলাম, ফলে তার মধ্যখান ভেঙে গেল। তা ছিল উহুদের দিনে যা মুমিনদের উপর আপতিত হয়েছিল। তারপরে আমি আর একবার সে তলোয়ার নাড়া দিলে তা পূর্বের চাইতে ভালো হয়ে গেল। তারপরে মূলত তা হলো সে বিজয় ও ঈমানদারদের সম্মেলন- যা আল্লাহ সংঘটিত করলেন (মক্কা বিজয়)।আমি তাতে একটি গরুও দেখলাম। আর আল্লাহ তা‘আলাই কল্যাণের অধিকারী। মূলত তা হলো- উহুদের যুদ্ধে (শাহাদাতপ্রাপ্ত) মুমিনদের দলটি। আর মঙ্গল হলো, সে কল্যাণ যা পরবর্তীতে আল্লাহ তা‘আলা দান করেছেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সে সওয়াব ও প্রতিদান- যা আল্লাহ তা‘আলা আমাদের বদর যুদ্ধের পরে দিয়েছেন।”
৫৮২৮
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্বপ্ন পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
(ভণ্ড নবী) মুসায়লিমা কায্যাব নবী (ﷺ)-এর আমলে মদীনায় আসলো, সে তখন বলতে থাকল- ‘মুহাম্মদ যদি তার (মৃত্যুর) পরে আমাকে নেতৃত্ব দেয়ার ওয়াদা করে, তাহলে আমি তার অনুসরণ করব। সে তার সম্প্রদায়ের প্রচুর লোকজন নিয়ে মদীনায় আসলো।নবী (ﷺ) তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাবিত ইবনু কায়স ইবনু শাম্মাস (রাঃ), আর তখন নবী (ﷺ)-এর হাতে ছিল খেজুর শাখার একটি টুকরো। পরিশেষে তিনি সহচর বেষ্টিত মুসায়লিমার সম্মুখে গিয়ে থামলেন এবং কথাবার্তার এক পর্যায়ে বললেন (তুমি যদি আমার কাছে এ) সামান্য খেজুর ডালের টুকরাটিও আবদার করো, তবু আমি তা তোমাকে দিব না এবং আমি কিছুতেই তোমার বিষয়ে আল্লাহর আইন লঙ্ঘন করব না। আর যদি তুমি (অবাধ্য হয়ে) পিছনে ফিরে যাও, তাহলে অবশ্যই আল্লাহ তোমাকে পরাভূত করবেন। আর আমি অবশ্যই ধারণা করি যে, যা আমাকে স্বপ্নে দেখানো হয়েছে তা তোমার বিষয়েই দেখানো হয়েছে। আর (আমি তোমার সঙ্গে বেশি কথা বলতে চাই না) এ সাবিত আমার তরফ থেকে তোমাকে উত্তর দিবে। তারপর তিনি তার নিকট হতে ফিরে চললেন।
৫৮২৯
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্বপ্ন পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
পরে আমি নবী (ﷺ)-এর বক্তব্য- ‘আমি মনে করি যে, আমাকে (স্বপ্নে) যা দেখানো হয়েছে তা তোমার বিষয়েই দেখানো হয়েছে’ সম্বন্ধে প্রশ্ন করলাম। তখন আবু হুরায়রা (রাঃ) আমাকে বললেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমি ঘুমে থাকাবস্থায় আমার দুই হাতে দুইটি সোনার কাঁকন দেখতে পেলাম; সে দুইটি অবস্থা আমাকে মহাদুশ্চিন্তায় ফেলল। স্বপ্নে আমার নিকট ওহী পাঠানো হলো যে, ও দুইটি ফুঁ দাও। আমি সে দুইটি ফুঁ দিলে সে দুইটি ভেসে গেল। তখন আমি স্বপ্নে দেখা সে বালা দুইটি ব্যাখ্যা করলাম- দুইজন নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদার, যারা আমার পরে আত্মপ্রকাশ করবে। (বর্ণনাকারী বলেন), তাদের দুইজনের একজন হলো আল-আনসী সান'আ-বাসীদের নেতা এবং অপরজন হলো মুসায়লিমা- ইয়ামামাবাসীদের সরদার।
৫৮৩০
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্বপ্ন পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ)
এ হলো সেসব হাদীস যা আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। এ কথা বলে তিনি কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করেন। এটি হলো (সেগুলোর একটি)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেন, “আমি নিদ্রিত ছিলাম, এমতাবস্থায় আমার নিকট দুনিয়ার ভাণ্ডারসমূহ নিয়ে আসা হলো। সে সময় আমার হাতে দুইটি স্বর্ণের কাঁকন রেখে দেয়া হলে সে দুইটি আমার জন্য অনেক ওজন মনে হলো এবং তারা আমাকে দুর্ভাবনায় ফেলল। তখন আমার নিকট ওহীর মাধ্যমে জানানো হলো যে, আমি যেন সে দুইটির উপরে ফুঁ দেই। তখন আমি ফুঁ দিলে সে দুইটি উড়ে গেল। আমি সে দুইটির ব্যাখ্যা করলাম— সে দুইজন মিথ্যাবাদী (ভণ্ড নবী) যে দুইজনের মাঝে আমি রয়েছি— (অর্থাৎ) সান'আ অধিবাসী আসওয়াদ আল-আনসী এবং ইয়ামামা অধিবাসী মুসাইলামাতুল কায্‌যাব।”