৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫৬৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫৬৭১
প্লেগ, লক্ষণ ও জ্যোতিষীর গণনা ইত্যাদির বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
আবু কামিল জাহদারী (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) হতে ইউনুস (রহঃ)-এর সূত্রে তার বর্ণিত হাদীসের অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৫৬৭২
প্লেগ, লক্ষণ ও জ্যোতিষীর গণনা ইত্যাদির বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
হাবীব (রহঃ)
আমরা মদীনায় ছিলাম। তখন আমার নিকট সংবাদ আসলো যে, কুফায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। তখন আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) প্রমুখ আমাকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন তুমি কোন অঞ্চলে অবস্থান করবে সেখানে তা প্রকাশ পেলে সেখান থেকে বের হয়ো না। আর যদি তোমার নিকট খবর পৌঁছে যে, তা কোন অঞ্চলে রয়েছে, তাহলে সেখানে গমন করো না।বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম- এ বর্ণনা কার পক্ষ হতে? তাঁরা বললেন, আমির ইবনু সাদ (রাঃ) হতে-তিনি তা বর্ণনা করে থাকেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি তাঁর নিকট গেলাম। তারা বলল, তিনি গৃহে নেই। তখন আমি তাঁর ভাই ইব্রাহীম ইবনু সাদ (রহঃ) -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে প্রশ্ন করলাম।তিনি বললেন, উসামা (রাঃ) যখন সাদ (রাঃ) -কে হাদিস শুনাচ্ছিলেন, তখন আমি উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, এ রোগ একটি মহামারী অথবা একটি আজাব কিংবা আজাবের অবশিষ্টাংশ-যা দ্বারা তোমাদের পূর্বেকার কতিপয় লোককে শাস্তি দেয়া হয়েছিল। অতএব কোন অঞ্চলে তোমাদের অবস্থানকালে যদি তা থাকে সে সময় সেখান থেকে তোমরা বের হয়ো না। আর যদি তোমাদের নিকট খবর আসে যে, তা কোন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে, তবে সেখানে গমন করো না। হাবীব (রহঃ) বলেন, তখন আমি ইব্রাহীম (রহঃ) -কে বললাম, আপনি কি শুনেছেন যখন উসামা (রাঃ) সাদ (রাঃ) -এর নিকট হাদিস বর্ণনা করেছিলেন, আর তিনি তা অস্বীকার করেননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
৫৬৭৩
প্লেগ, লক্ষণ ও জ্যোতিষীর গণনা ইত্যাদির বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
শু‘বাহ্‌ (রহঃ)
উবাইদুল্লাহ ইবন মু'আয (রহঃ) ... শু'বাহ (রহঃ)-এর সূত্রে হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি হাদিসের শুরুতে আতা ইবন ইয়াসার (রহঃ) সম্পর্কিত ঘটনা উল্লেখ করেননি।
৫৬৭৪
প্লেগ, লক্ষণ ও জ্যোতিষীর গণনা ইত্যাদির বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
সা‘দ ইবনু মালিক (রাঃ)
আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) .... সাদ ইবনু মালিক (রাঃ), খুযাইমা ইবনু সাবিত (রাঃ) ও উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ অতঃপর শু'বাহ (রহঃ)-এর হাদিসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৫৬৭৫
প্লেগ, লক্ষণ ও জ্যোতিষীর গণনা ইত্যাদির বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
ইব্‌রাহীম ইবনু সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাসাম (রাঃ)
উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) ও সা‘দ (রাঃ) বসে বসে আলাপ করছিলেন। তাঁরা উভয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ (পূর্বোল্লেখিত) বর্ণনাকারীদের হাদিসের মতো।
৫৬৭৬
প্লেগ, লক্ষণ ও জ্যোতিষীর গণনা ইত্যাদির বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
ইব্‌রাহীম ইবনু সা‘দ ইবনু মালিক (রাঃ)
ওয়াহব ইবনু বাকীয়্যাহ (রহঃ) ..... ইব্রাহীম ইবনু সা’দ ইবনু মালিক (রাঃ) তাঁর পিতা (সা’দ)-এর সানাদে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে উপরোল্লিখিত বর্ণনাকারীদের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করেছেন।
৫৬৭৭
প্লেগ, লক্ষণ ও জ্যোতিষীর গণনা ইত্যাদির বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া তামীমী (রহঃ)
ইয়াহিয়া ইবনু ইয়াহিয়া তামীমী (রহঃ) ..... আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত করেন যে, উমর (রাঃ) শামের (সিরিয়ার) দিকে রওয়ানা হলেন। সার্‌গ নামক স্থান পর্যন্ত পৌঁছালে আজনাদ অধিবাসীদের (প্রতিনিধি ও অধিনায়ক) আবু উবাইদা ইবনু জাররাহ (রাঃ) ও তাঁর সহকর্মীগণ তাঁর সাথে দেখা করলেন। তখন তাঁরা সংবাদ দিলেন যে, শামে মহামারী আরম্ভ হয়েছে।ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন উমর (রাঃ) বললেন-প্রাথমিক যুগের মুহাজিরদের আমার নিকট ডেকে আন। আমি তাঁদেরকে ডেকে নিয়ে আসলে তিনি তাঁদেরকে সংবাদ দিলেন যে, শামে মহামারী আরম্ভ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে তাঁদের কাছে থেকে পরামর্শ চাইলেন। অতঃপর তাঁরা দ্বন্দ্বে পড়ে গেল। তাঁদের কেউ কেউ বলল, আপনি একটি বিশেষ কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন, তাই আমরা আপনার ফিরে যাওয়া যথাযথ মনে করি না। আর কেউ কেউ বললেন, আপনার সঙ্গে অনেক প্রবীণ লোক এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ রয়েছেন। তাই আমরা তাঁদেরকে এ মহামারীর সম্মুখে ছেড়ে দেয়া যুক্তিসঙ্গত মনে করি না। তিনি বললেন, আপনারা উঠুন! তারপর বললেন, আনসারীদের আমার নিকট ডেকে আনো। আমি তাঁদেরকে তাঁর নিকট ডেকে নিয়ে আসলে তিনি তাঁদের কাছেও পরামর্শ চাইলেন। তাঁরা মুহাজিরদের পন্থা অনুকরণ করলেন এবং মুহাজিরগণের মতো তাঁদের মধ্যেও দ্বিমত সৃষ্টি হলো। তিনি বললেন, আপনারা উঠুন!তারপর তিনি বললেন, (মক্কা) বিজয়ের পূর্বে হিজরতকারী কুরাইশের মুরুব্বীদের যারা এখানে আছেন, তাঁদের আমার নিকট পাঠাও। আমি তাঁদেরকে ডেকে আনলাম। তাঁদের দু’জনও কিন্তু ভিন্নমত পোষণ করলেন না। তাঁরা (সকলেই) বললেন, আমরা যুক্তিযুক্ত মনে করি যে, আপনি লোকদের নিয়ে ফিরে যান এবং তাঁদেরকে এ মহামারীর দিকে ঠেলে দিবেন না। তখন উমর (রাঃ) লোকদের মাঝে ঘোষণা দিলেন, আমি ভোরে সাওয়ারীর উপর থাকবো, তোমরাও ভোরে সাওয়ারীর উপর আরোহণ করবে।তখন আবু উবাইদা ইবনু জাররাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর তাকদীর হতে পালিয়ে যাওয়া? তখন উমর (রাঃ) বললেন, হে আবু উবাইদা! তুমি ছাড়া অন্য কেউ এমন করলে (রাবী বলেন) উমর (রাঃ) তাঁর বিরুদ্ধাচারণ অপছন্দ করতেন। (তিনি বললেন) হ্যাঁ! আমরা আল্লাহর তাকদীর হতে আল্লাহরই তাকদীরের দিকে পলায়ন করছি। তোমার যদি একপাল উট থাকে আর তুমি একটি উপত্যকায় অবতীর্ণ হও যার দু’টি প্রান্তর রয়েছে, যার একটি সবুজ শ্যামল, অপরটি তৃণশূন্য; সে ক্ষেত্রে তুমি যদি সবুজ শ্যামল প্রান্তরে (উট) চরাও, তাহলে আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে আর যদি তৃণশূন্য প্রান্তরে চরাও, তাহলেও আল্লাহর তাকদীরেই সেখানে চরাবে।রাবী বলেন, এ সময়ে আবদুর রহমান ইবনু আউফ (রাঃ) এলেন, তিনি (এতক্ষণ) তাঁর কোন প্রয়োজনে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, এ বিষয়ে আমার নিকট (হাদীসের) ইলম রয়েছে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা কোন এলাকায় সেটার খবর শুনতে পাও, তখন তার উপরে (দুঃসাহস দেখিয়ে) এগিয়ে যাবে না। আর যখন কোন দেশে তোমাদের সেখানে থাকা অবস্থায় তা দেখা যায়, তখন তা হতে পলায়ন করে বেরিয়ে পড়ো না। বর্ণনাকারী বলেন, তখন উমর (রাঃ) আল্লাহর প্রশংসা করলেন। অতঃপর চলে গেলেন।
৫৬৭৮
প্লেগ, লক্ষণ ও জ্যোতিষীর গণনা ইত্যাদির বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
মালিক (রহঃ)
ইসহাক ইবন ইব্রাহিম (রহঃ), মুহাম্মাদ ইবন রাফি (রহঃ) ও আবদ ইবন হুমাইদ (রহঃ) মা‘মার (রহঃ) উপরোক্ত সূত্রে মালিক (রহঃ) বর্ণিত হাদিসের হুবহু বর্ণনা করেছেন। মা‘মার (রহঃ)-এর হাদিসে অতিরিক্ত বলেছেন, বর্ণনাকারী বলেন, [উমর (রাঃ)] আবু উবাইদাহকে আরো বললেন, বলো তো, সে যদি তৃণশূন্য উপত্যকায় চড়ায় আর সবুজ শ্যামল উপত্যকা পরিত্যাগ করে তাহলে তুমি কি তাকে ব্যর্থ সাব্যস্ত করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ! তিনি বললেন, তাহলে এবার চলো। বর্ণনাকারী বলেন, পরবর্তীতে সফর করে তিনি মদীনায় এসে বললেন, এটি অবস্থান স্থল অথবা তিনি বললেন, ইনশাআল্লাহ, এটি অবতরণ স্থল।
৫৬৭৯
প্লেগ, লক্ষণ ও জ্যোতিষীর গণনা ইত্যাদির বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু শিহাব (রহঃ)
আবু তাহির (রহঃ) ও হারমালা ইবনু ইয়াহিয়া (রহঃ) ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে উপরোল্লিখিত সানাদে হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস এটি বর্ণনা করেছেন, বলেননি যে ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন।
৫৬৮০
প্লেগ, লক্ষণ ও জ্যোতিষীর গণনা ইত্যাদির বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমির ইবনু রাবী‘আহ্‌
উমর (রাঃ) শামের দিকে সফরে বের হলেন, সার্গ পর্যন্ত গমন করলে তাঁর নিকটে খবর আসল যে, শামে মহামারী দেখা দিয়েছে। তখন আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ) তাঁকে সংবাদ দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যখন কোন অঞ্চলে মহামারীর সংবাদ শুনবে, তখন তার দিকে অগ্রসর হবে না। আর যখন কোন অঞ্চলে সেটা দেখা দিবে, আর তোমরা সেখানে রয়েছ, তাহলে সেখান থেকে পালিয়ে বের হয়ে যেও না। অতঃপর উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সার্গ হতে প্রত্যাবর্তন করলেন। সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (ইবনু উমর) (রাঃ) হতে ইবনু শিহাব (রহঃ)-এর বর্ণনাতে রয়েছে যে, আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ)-এর হাদীসের অনুসরণে উমর (রাঃ) লোকদের নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন।