৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫৬৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫৬২১
চোখলাগা, পার্শ্বঘা, বিষাক্ত প্রাণীর বিষক্রিয়া ও দুরাবস্থা হতে (মুক্তির জন্য) ঝাড়ফুঁক করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে উপরোক্ত সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেছেন-তখন ব্যক্তিদের মাঝে এক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমি তাকে ঝাড়ফুঁক করতে পারি? তিনি (শুধু) ‘ঝাড়ফুঁক করি’ বলেননি (বরং ‘তাকে’ শব্দটিও বলেছেন)।
৫৬২২
চোখলাগা, পার্শ্বঘা, বিষাক্ত প্রাণীর বিষক্রিয়া ও দুরাবস্থা হতে (মুক্তির জন্য) ঝাড়ফুঁক করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
আমার একজন মামা ছিলেন, যিনি বিচ্ছুর ছোবলে ঝাড়ফুঁক করতেন। এ সময় (একদিন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সব ঝাড়ফুঁক নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেন। সে সময় তিনি (আমার মামা) তাঁর খিদমতে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি ঝাড়ফুঁক হারাম করে দিয়েছেন। হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমি তো বিচ্ছার ছোবল থেকে আত্মরক্ষার্থে ঝাড়ফুঁক করে থাকি? তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে যে কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের কোন উপকার করতে সমর্থ হলে সে যেন তা করে।
৫৬২৩
চোখলাগা, পার্শ্বঘা, বিষাক্ত প্রাণীর বিষক্রিয়া ও দুরাবস্থা হতে (মুক্তির জন্য) ঝাড়ফুঁক করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আ‘মাশ (রহঃ)
উসমান ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) .... আ‘মাশ (রহঃ) হতে উপরোল্লিখিত সূত্রে অবিকল হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন।
৫৬২৪
চোখলাগা, পার্শ্বঘা, বিষাক্ত প্রাণীর বিষক্রিয়া ও দুরাবস্থা হতে (মুক্তির জন্য) ঝাড়ফুঁক করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এক সময়) ঝাড়ফুঁক নিষিদ্ধ করে দিলেন। অতঃপর আমর ইবনু হাজম সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের নিকট একটি ঝাড়ফুঁক ছিল, যা দিয়ে আমরা বিচ্ছুর ছোবলে ঝাড়ফুঁক করতাম, এখন আপনি তো ঝাড়ফুঁক নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। বর্ণনাকারী [জাবির (রাঃ)] বলেন, তারা তা তাঁর নিকট উপস্থাপন করল। তখন তিনি বললেন, “কোনো সমস্যা দেখতে পাচ্ছি না। তোমাদের মধ্যে যে কেউ তার ভাইয়ের কোনো উপকার করতে সমর্থ হলে সে যেন তার উপকার করে।”
৫৬২৫
শিরক মুক্ত ঝাড়ফুঁকে কোন দোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
আওফ ইবনু মালিক আশজা’ঈ (রাঃ)
আমরা জাহিলি যুগে (বিভিন্ন) মন্ত্র দিয়ে ঝাড়ফুঁক করতাম। এজন্যে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আবেদন করলাম-হে আল্লাহর রাসূল! এক্ষেত্রে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন, তোমাদের মন্ত্রগুলো আমার নিকট উপস্থাপন করো, ঝাড়ফুঁকে কোন দোষ নেই-যদি তাতে কোন শিরক (জাতীয় কথা) না থাকে।
৫৬২৬
কুরআন মাজীদ এবং অন্যান্য দু‘আ-যিকর দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে বিনিময় গ্রহণ বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু সংখ্যক সাহাবী কোন এক সফরে ছিলেন। তাঁরা কোন একটি আরব সম্প্রদায়ের বসতির নিকট দিয়ে রাস্তা অতিক্রমকালে তাদের নিকট মেহমানদারীর ব্যাপারে বললেন। কিন্তু তারা তাঁদের আতিথেয়তা করল না। পরে তাদেরকে তারা বলল, তোমাদের দলে কি কোন ঝাড়ফুঁককারী আছে? কারণ, বসতির সর্দারকে সাপে দংশন করেছে অথবা (বর্ণনাকারীর সংশয়ে তারা বলল-) বিপদগ্রস্ত হয়েছে।সে সময় এক লোক বলল, হ্যাঁ। তারপরে সে তার নিকট গমন করে সূরা আল-ফাতিহা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করল। যার দরুন ব্যক্তিটি ভাল হয়ে গেল এবং ঝাড়ফুঁককারীকে বকরীর একটি ক্ষুদ্র পাল দেয়া হলো। সে তা নিতে আপত্তি জানালো এবং সে বলল, যতক্ষণ তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বর্ণনা না করি-(ততক্ষণ গ্রহণ করতে পারি না)।অতঃপর সে নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বিষয়টি তাঁর নিকট বর্ণনা করে সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি ফাতিহাতুল কিতাব ছাড়া ভিন্ন কোন কিছু দিয়ে ঝাড়ফুঁক করিনি। সে সময় তিনি মৃদু হাসলেন এবং বললেন, তুমি কি করে বুঝলে যে, তা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা যায়? অতঃপর বললেন, তাদের নিকট থেকে তা নিয়ে নাও এবং তোমাদের সঙ্গে আমার জন্যও এক অংশ রেখো।
৫৬২৭
কুরআন মাজীদ এবং অন্যান্য দু‘আ-যিকর দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে বিনিময় গ্রহণ বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বিশর (রহঃ)
যে (ওঝা) উম্মুল কুরআন-সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করতে লাগল এবং তার থুতু একত্রে করে থুতু দিতে লাগল। ফলে ব্যক্তিটি সুস্থ হয়ে গেল।
৫৬২৮
কুরআন মাজীদ এবং অন্যান্য দু‘আ-যিকর দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে বিনিময় গ্রহণ বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ)
আমরা একটি স্থানে অবতরণ করলাম। অতঃপর আমাদের নিকট একটি মহিলা এসে বলল, "এলাকার সর্দারকে সাপে কেটেছে, তোমাদের মাঝে কি কোনো ঝাড়ফুঁককারী আছে?" সে সময় আমাদের এক লোক উঠে তার সাথে গেল- সে যে সুন্দর ঝাড়ফুঁক করতে পারে তা আমাদের জানা ছিল না। সে সূরা আল-ফাতিহা দ্বারা তাকে ঝাড়ফুঁক করল। এতে সে সুস্থ হয়ে গেল। তখন তারা তাকে এক পাল বকরী দিল এবং আমাদের দুধ পান করাল।আমরা বললাম, "তুমি কি ভালো ঝাড়ফুঁক করতে জানতে?" সে বলল, "আমি তো সূরা আল-ফাতিহা ব্যতীত আর কিছু দিয়ে তাকে ঝাড়ফুঁক করিনি।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি বললাম, "তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গমন না করা পর্যন্ত ঐ বকরীগুলোকে এখান হতে নিয়ে যেও না।" তারপরে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁর নিকট তা পেশ করলাম। তিনি বললেন, "সে কি করে বুঝল যে, এ সূরাটি দ্বারা ঝাড়ফুঁক করা যায়? তোমরা বকরীগুলো বণ্টন করে নাও এবং আমার জন্যেও তোমাদের সাথে একটি অংশ রেখ।"
৫৬২৯
কুরআন মাজীদ এবং অন্যান্য দু‘আ-যিকর দিয়ে ঝাড়ফুঁক করে বিনিময় গ্রহণ বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম (রহঃ)
মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) .......... হিশাম (রহঃ) এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন-সে সময় তার সঙ্গে আমাদের এক লোক উঠে দাঁড়াল-যাকে আমরা ঝাড়ফুঁক বিষয়ে (পারদর্শী) মনে করতাম না।
৫৬৩০
ঝাড়ফুঁকের সময় আক্রান্ত জায়গায় হাত রাখা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
উসমান ইবনু আবুল ‘আস-সাকাফী (রাঃ)
উসমান ইবন আবি আস-সাকাফি (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একটি ব্যথার অভিযোগ করলেন, যা তিনি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে তার দেহে অনুভব করছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার শরীরের যে অংশ ব্যথাযুক্ত হয়, তার উপরে তোমার হাত রেখে তিনবার ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে এবং সাতবার বলবে-أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ (আমি আল্লাহ এবং তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় প্রার্থনা করছি—যা আমি অনুভব করি এবং যা ধারণা করি তার অনিষ্ট হতে)।