৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫৫১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫৫০১
উত্তম নামে মন্দ নামের পরিবর্তন এবং ‘বার্‌রাহ’ নামকে যাইনাব, জুওয়াইরিয়াহ্‌ ও অনুরূপ নামে পরিবর্তন করা পরিচ্ছেদ নাই
যাইনাব বিনতু উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
পূর্বে আমার নাম বাররাহ ছিল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নাম রাখলেন যায়নাব। যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) তাঁর (ﷺ) নিকট আসলেন। তাঁরও নাম ছিল বাররাহ। তাঁর নামও তিনি যায়নাব রেখে দিলেন।
৫৫০২
উত্তম নামে মন্দ নামের পরিবর্তন এবং ‘বার্‌রাহ’ নামকে যাইনাব, জুওয়াইরিয়াহ্‌ ও অনুরূপ নামে পরিবর্তন করা পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আম্‌র ইবনু ‘আতা (রহঃ)
আমার কন্যার নাম রাখলাম বাররা। সে সময় যায়নাব বিনতু আবু সালামা (রাঃ) আমাকে বললেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ নাম রাখতে বারণ করেছেন। আমার নাম বাররা (পুণ্যবতী) রাখা হয়েছিল। তাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা স্বয়ং আত্মা পরিশুদ্ধ বলে দাবি করো না। আল্লাহ তাআলা অধিকতর জানেন তোমাদের মাঝে পুণ্যবানদের সম্পর্কে। অতঃপর তাঁরা বললেন, তবে আমরা তাঁর কি নামকরণ করবো? তিনি বললেন, তার নাম রাখো যায়নাব।
৫৫০৩
মালিকুল আমলাক কিংবা মালিকুল মুলূক নাম রাখা নিষিদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর তা’আলার নিকট অধিকতর ঘৃণিত নাম ঐ লোকের, যার নাম ‘মালিকুল আমলাক’ (বাদশাহর বাদশাহ) রাখা হয়। ইবনু আবু শাইবাহ (রহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদিসে আরো বর্ণনা করেছেন- ‘আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে অন্য কোন ‘মালিক’ ‘অধিপতি’ নেই।” আশ’আসী (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারী সুফইয়ান (রহঃ) বলেছেন, এ শব্দ (ফারসি) ভাষায় ‘শাহান শাহ’-এর অবিকল। আর আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) বলেন, আমি আবু আমর (রহঃ) কে أَخْنَعَ এর অর্থ জানতে চাইলে তিনি বলেন, أَوْضَعَ চরম নিকৃষ্ট।
৫৫০৪
মালিকুল আমলাক কিংবা মালিকুল মুলূক নাম রাখা নিষিদ্ধকরণ পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ্‌ (রহঃ)
এগুলো আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন। তারপর তিনি কিছু হাদিস বর্ণনা করলেন। তন্মধ্যে অন্যতম একটি হলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে রাগের কারণ, সবচেয়ে ঘৃণিত, অধিকতর ক্ষিপ্রতার সম্মুখীন হবে সে লোক যার নাম রাখা হয়েছে ‘মালিকুল আমলাক’ (রাজাধিরাজ সম্রাট), আল্লাহ ছাড়া অন্য আর কেউ ‘মালিক’ (সম্রাট) নেই।
৫৫০৫
সন্তান জন্ম নিলে নবজাতককে খুরমা (ইত্যাদি) চিবিয়ে তাঁর মুখে দেয়া এবং এ উদ্দেশে তাকে কোন নেককার ব্যক্তির নিকট নিয়ে যাওয়া মুস্তাহাব; জন্মের দিন নাম রাখা জায়িয; ‘আব্দুল্লাহ এবং ইবরাহীম ও অন্যান্য নবীগণের নামে নামকরণ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু আবু তালহা আনসারী (রাঃ)-এর জন্মকালে আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে নিয়ে গেলাম। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় গায়ে একটি ‘আলখাল্লা’ জড়িয়ে তাঁর উটের গায়ে তেল মালিশ করছিলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, “তোমার সাথে খেজুর আছে কি?” আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর আমি তাঁর হাতে কয়েকটি খেজুর দিলাম। তিনি তাঁর মুখে দিয়ে চিবালেন। তারপর শিশুটির মুখ ফাঁক করে তার মুখের ভিতরে দিলেন। শিশুটি তা চুষতে লাগল। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘আনসারীদের খেজুরের প্রতি ভালবাসা’। এবং তিনি তাঁর নাম রাখলেন, আবদুল্লাহ।
৫৫০৬
সন্তান জন্ম নিলে নবজাতককে খুরমা (ইত্যাদি) চিবিয়ে তাঁর মুখে দেয়া এবং এ উদ্দেশে তাকে কোন নেককার ব্যক্তির নিকট নিয়ে যাওয়া মুস্তাহাব; জন্মের দিন নাম রাখা জায়িয; ‘আব্দুল্লাহ এবং ইবরাহীম ও অন্যান্য নবীগণের নামে নামকরণ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আবু তালহা (রাঃ)-এর এক পুত্র সন্তান রোগগ্রস্ত ছিল। (একদিন) আবু তালহা (রাঃ) (তাঁর কর্মে) বের হলেন, এদিকে তাঁর বাচ্চাটি মারা যায়। যখন আবু তালহা (রাঃ) ফিরে আসলেন, তিনি (স্ত্রীকে) প্রশ্ন করলেন, আমার সন্তান কি করছে? (স্ত্রী) উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বললেন, সে পূর্বের চেয়ে অধিকতর শান্ত। তারপর তিনি তাঁকে রাতের খাদ্য দিলেন, তিনি তা খেলেন, তারপর তার সাথে মিলিত হলেন। তারপর তিনি অবসর হলে উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বললেন, শিশুটিকে দাফন করে এসো। যখন সকাল হলো আবু তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে এসে তাঁকে (সব) ঘটনা অবহিত করলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি গতরাতে মিলিত হয়েছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (দোয়া করে) বললেন, হে আল্লাহ! তাদের দুজনের জন্যে বারাকাত দিন। তারপর তাঁর স্ত্রী একটি সন্তান প্রসব করলেন। সে সময় আবু তালহা (রাঃ) আমাকে বললেন, তাকে (কোলে) তুলে নবী (ﷺ)-এর দরবারে নিয়ে যাও। তাকে নিয়ে রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আসলেন। উম্মু সুলাইম (রাঃ) তাঁর সঙ্গে কতক খেজুরও দিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে (শিশুটিকে) কোলে নেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তার সাথে কিছু আছে কি? তাঁরা বললো, হ্যাঁ, কয়েকটি খেজুর। তখন নবী (ﷺ) সেগুলো বের করলেন ও চিবালেন। তারপর তা তাঁর মুখ হতে নিলেন এবং বাচ্চাটির মুখের মধ্যে দিলেন। এরপর তাকে তাহনীক করে তাঁর জন্যে দোয়া করলেন এবং তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ।
৫৫০৭
সন্তান জন্ম নিলে নবজাতককে খুরমা (ইত্যাদি) চিবিয়ে তাঁর মুখে দেয়া এবং এ উদ্দেশে তাকে কোন নেককার ব্যক্তির নিকট নিয়ে যাওয়া মুস্তাহাব; জন্মের দিন নাম রাখা জায়িয; ‘আব্দুল্লাহ এবং ইবরাহীম ও অন্যান্য নবীগণের নামে নামকরণ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
মুহাম্মাদ ইবন বাশার (রহঃ) ... আনাস (রাঃ) হতে এ ঘটনা সহকারে রাবী ইয়াজিদ (রহঃ)-এর হাদিসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
৫৫০৮
সন্তান জন্ম নিলে নবজাতককে খুরমা (ইত্যাদি) চিবিয়ে তাঁর মুখে দেয়া এবং এ উদ্দেশে তাকে কোন নেককার ব্যক্তির নিকট নিয়ে যাওয়া মুস্তাহাব; জন্মের দিন নাম রাখা জায়িয; ‘আব্দুল্লাহ এবং ইবরাহীম ও অন্যান্য নবীগণের নামে নামকরণ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মুসা (রাঃ)
আমার একটি পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে আমি তাকে নিয়ে নবী (ﷺ) এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তার নাম রাখলেন ইব্রাহিম এবং একটি খেজুর চিবিয়ে তাঁর মুখে দিলেন।
৫৫০৯
সন্তান জন্ম নিলে নবজাতককে খুরমা (ইত্যাদি) চিবিয়ে তাঁর মুখে দেয়া এবং এ উদ্দেশে তাকে কোন নেককার ব্যক্তির নিকট নিয়ে যাওয়া মুস্তাহাব; জন্মের দিন নাম রাখা জায়িয; ‘আব্দুল্লাহ এবং ইবরাহীম ও অন্যান্য নবীগণের নামে নামকরণ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ্‌ ইবনু যুবায়র ও ফাতিমাহ্‌ বিনতু মুনযির ইবনু যুবায়র (রহঃ)
তাঁরা বলেন, আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ) যে সময় হিজরত করলেন, সে সময় তিনি আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাঃ)-কে পেটে ধারণ করছিলেন। কুবায় পৌঁছলে তিনি আবদুল্লাহকে প্রসব করলেন।তারপর প্রসবের পর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে গেলেন যাতে তিনি তাকে (নবজাতককে) খেজুর চিবিয়ে বারাকাত দেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাচ্চাটিকে তাঁর নিকট থেকে নিয়ে নিজের কোলে রাখলেন। এরপর একটি খেজুর নিয়ে আসলেন।বর্ণনাকারী বলেন, আয়িশা (রাঃ) বলেন, তা পাওয়ার আগ পর্যন্ত খুঁজে যোগাড় করতে আমাদের কিছু সময় দেরি হলো। তারপর তিনি তা চিবিয়ে নিজের মুখ থেকে তার মুখের ভিতরে দিলেন। অতএব তার পেটে প্রথম যা ঢুকল তা ছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর লালা।আসমা (রাঃ) আরও বলেছেন, তারপর তিনি তাকে হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তার জন্য দোয়া করলেন, আর তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ। তারপর সাত কিংবা আট বছর বয়সে সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে বাইয়াত হওয়ার জন্য এলো। (পিতা) যুবাইর (রাঃ) তাকে তা করার উপদেশ দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এগিয়ে আসতে দেখে মুচকি হাসলেন। তারপর তাকে বাইয়াত গ্রহণ করলেন।
৫৫১০
সন্তান জন্ম নিলে নবজাতককে খুরমা (ইত্যাদি) চিবিয়ে তাঁর মুখে দেয়া এবং এ উদ্দেশে তাকে কোন নেককার ব্যক্তির নিকট নিয়ে যাওয়া মুস্তাহাব; জন্মের দিন নাম রাখা জায়িয; ‘আব্দুল্লাহ এবং ইবরাহীম ও অন্যান্য নবীগণের নামে নামকরণ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আসমা (রাঃ)
তিনি মক্কায় (থাকাকালে) আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর (রাঃ)-কে গর্ভে ধারণ করেন। আমি (মক্কা থেকে) মদীনায় (হিজরতের উদ্দেশ্যে) বের হলাম। সে সময় আমার গর্ভকাল পূর্ণ হয়ে আসছিল। আমি মদীনায় এসে কুবায় গমন করলাম এবং তাকে প্রসব করলাম।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে গেলাম। তিনি তাকে (নবজাতককে) তাঁর কোলে রাখলেন, এরপর একটি খেজুর আনিয়ে তা চিবালেন, অতঃপর তাঁর মুখ থেকে লালাসহ তার (বাচ্চাটির) মুখে দিলেন। অতএব রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর লালাই ছিল প্রথম খাদ্য, যা তার পেটে ঢুকল। অতঃপর খেজুর চিবিয়ে তার মুখে দেওয়ার পর তার জন্য দোয়া করলেন এবং তাকে বরকতের (এর দোয়া) দিলেন। এ সন্তানই ছিল (মদীনায়) হিজরতের পর ইসলামের প্রথম নবজাতক।