৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪১
মৃত্যুর লক্ষণ দেখা দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত ঈমান গ্রহণযোগ্য হওয়া, মুশরিকদের ব্যাপারে ইসতিগফার রহিত হওয়া ও মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর জাহান্নামী হওয়া এবং সে কোন ওয়াসীলায় পরিত্রাণ না পাওয়ার দলীল পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর সময় তাকে বলেছিলেন, “আপনি ‘লা ইলা হা ইল্লাল্লাহ’ বলুন, কেয়ামতের দিন আমি আপনার জন্য এর সাক্ষ্য দিব।” কিন্তু তিনি তা বলতে অস্বীকার করলেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করেনঃ অর্থাৎ “আপনি যাকে পছন্দ করেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না” (সূরা আল-কাসাস ২৮ : ৫৬)।
৪২
মৃত্যুর লক্ষণ দেখা দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত ঈমান গ্রহণযোগ্য হওয়া, মুশরিকদের ব্যাপারে ইসতিগফার রহিত হওয়া ও মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণকারীর জাহান্নামী হওয়া এবং সে কোন ওয়াসীলায় পরিত্রাণ না পাওয়ার দলীল পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চাচাকে বললেন, আপনি ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলুন, কেয়ামত দিবসে আপনার পক্ষে আমি এর সাক্ষ্য দিব। তিনি বললেন, আবু তালিব ভীত হয়ে এ কথা বলেছেন, কুরায়শদের থেকে এরূপ দোষারোপের যদি আশংকা না থাকত তাহলে আমি তা পাঠ করে তোমার চোখ জুড়াতাম। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করলেনঃ “তুমি যাকে চাইবে হিদায়াত করতে পারবে না, কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন হিদায়াত করেন”-(সূরা আল-কাসাস ২৮ : ৫৬)।
৪৩
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
উসমান (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অন্তরে এ বিশ্বাস রেখে মৃত্যুবরণ করলো যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। মুহাম্মাদ ইবনু আবু বাকর আল মুকাদ্দামী (রাঃ) ..... উসমান (রাঃ) বলেন যে, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অনুরূপ বলতে শুনেছি ..... অবশিষ্টাংশ উপরের হাদীসের অনুরূপ।
৪৪
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে একটি সফরে ছিলাম। এক পর্যায়ে দলের খাদ্যসামগ্রী শেষ হয়ে গেল। পরিশেষে রসূল (ﷺ) তাদের কিছু সংখ্যক উট যবেহ করার মনস্থ করলেন। রাবী বলেন যে, এতে উমর (রাঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যদি সকলের খাদ্য সামগ্রী একত্রিত করে আল্লাহর নিকট দোয়া করতেন তবে উত্তম হতো। রসূল (ﷺ) সেটাই করলেন। যার নিকট গম ছিল সে গম নিয়ে এবং যার নিকট খেজুর ছিল তা নিয়ে উপস্থিত হলো। (তালহা ইবনে মুসাররিফ বলেন) মুজাহিদ আরো বর্ণনা করেন যে, যার নিকট খেজুরের আঁটি ছিল সে আঁটি নিয়েই উপস্থিত হলো। আমি (তালহা) জিজ্ঞেস করলাম আঁটি দিয়ে কি করতেন? তিনি বললেন, সেটা চুষে পানি পান করতেন। রাবী বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) সংগৃহীত খাদ্যসামগ্রীর উপর দোয়া করলেন। রাবী বলেন, অতঃপর লোকেরা তাদের পাত্রসমূহ খাদ্য দ্বারা পূর্ণ করে নিল। রাবী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। যে এ বিষয় দু’টোর প্রতি নিঃসন্দেহে বিশ্বাস রেখে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
৪৫
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ কিংবা আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তাবূকের যুদ্ধের সময় লোকদের খুবই খাদ্যাভাব দেখা দেয়। তারা বলল, ইয়া রসূলুল্লাহ! যদি আপনি অনুমতি দেন তাহলে আমরা আমাদের উটগুলো যবেহ করে তার গোশত খাই এবং তার চর্বি ব্যবহার করি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যবেহ করতে পার। রাবী বলেন, এমন সময় উমর (রাঃ) আসলেন এবং বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ! যদি এমন করা হয় তাহলে বাহন কমে যাবে। বরং আপনি লোকেদেরকে তাদের অবশিষ্ট খাদ্য নিয়ে আসতে বলুন, তাতে তাদের জন্য আল্লাহর দরবারে বরকতের দোয়া করুন। আশা করা যায়, আল্লাহ তাতে বরকত দান করবেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ ঠিক আছে।তিনি একটি চাদর আনতে বললেন এবং তা বিছালেন, এরপর সকলের অবশিষ্ট খাদ্য চেয়ে পাঠালেন। রাবী বলেন, তখন কেউ এক মুঠো গম নিয়ে উপস্থিত হলো, কেউ এক মুঠো খেজুর নিয়ে উপস্থিত হলো, কেউ বা এক টুকরো রুটি নিয়ে আসলো, এভাবে কিছু পরিমাণ খাদ্য-সামগ্রী চাদরে জমা হলো। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বরকতের দোয়া করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমরা নিজ নিজ পাত্রগুলো খাদ্য দ্বারা পূর্ণ করে নাও। সকলেই আপন আপন পাত্র ভরে নিল, এমনকি এ বাহিনীর কোন পাত্রই আর অপূর্ণ থাকল না। এরপর সকলেই পরিতৃপ্তি সহকারে আহার করলেন। কিছু রয়েও গেল।তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রসূল, যে ব্যক্তি নিঃসন্দেহে এ কথা দু’টোর উপর ঈমান রেখে আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবে সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে না।
৪৬
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
উবাদাহ্‌ ইবনু সামিত (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলে—আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল; আর নিশ্চয়ই ‘ঈসা (‘আলাইহিস সালাম) আল্লাহর বান্দা, তাঁর বান্দীর (মারইয়ামের) পুত্র ও তাঁর সেই কালিমা—যা তিনি মারইয়ামের নিকট পৌঁছিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত একটি ‘রূহ’ মাত্র; জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য—আল্লাহ তাকে জান্নাতের আটটি দরজার যেটি দিয়ে প্রবেশ করাতে চাইবেন, প্রবেশ করাবেন।’
৪৭
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
উমায়র ইবনু হানী (রাঃ)
উমাইর ইবন হানী (রাঃ) থেকে এ সানাদে উপরের বর্ণনার অনুরূপই বর্ণিত হয়েছে, তবে আরো রয়েছে, তার আমল যাই হোক না কেন আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। কিন্তু ‘জান্নাতের আটটি দরজার যেটি দিয়েই সে চাইবে’ এ বাক্যটি এ বর্ণনায় উল্লেখ নেই।
৪৮
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
সুনাবিহী (রহঃ)
উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে সুনাবিহী বলেন, উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ) যখন মৃত্যু শয্যায় তখন আমি তাঁর নিকট গেলাম, (তাঁকে দেখে) আমি কেঁদে ফেললাম। এ সময় তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, থামো, কাঁদছো কেন? আল্লাহর কসম! আমাকে যদি সাক্ষী বানানো হয়, আমি তোমার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দিব, আর যদি সুপারিশ করার অধিকারী হই তবে তোমার জন্য সুপারিশ করব। আর যদি তোমার কোন উপকার করতে পারি, নিশ্চয়ই সেটাও করব।অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এ যাবৎ আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যে কোন হাদীস শুনেছি, যার মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত আছে, তা আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে বর্ণনা করেছি। কিন্তু একটি মাত্র হাদীস (যা এতদিন আমি তোমাদেরকে বলিনি) আজ এখনই তা আমি তোমাদের কাছে বর্ণনা করব। কেননা বর্তমানে আমি মৃত্যুর বেষ্টনীতে আবদ্ধ। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দেয় যে, “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রসূল, আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন।”
৪৯
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ)
আমি এক সময় নবী (ﷺ)-এর বাহনের পিছনে বসা ছিলাম। আমার ও নবী (ﷺ)-এর মাঝে হাওদার কাঠের টুকরা ব্যতীত কোন ব্যবধান ছিল না। নবী (ﷺ) বললেন, ‘হে মুয়াজ ইবন জাবাল!’ আমি বললাম, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! উপস্থিত আছি; আপনার আনুগত্য শিরোধার্য’।অতঃপর তিনি কিছু দূর অগ্রসর হয়ে পুনরায় বললেন, ‘হে মুয়াজ ইবন জাবাল!’ আমি বললাম, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! উপস্থিত আছি; আপনার আনুগত্য শিরোধার্য’। তিনি বললেন, তুমি কি জান, বান্দার উপর আল্লাহর কী হক রয়েছে? আমি বললাম, ‘আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই তা উত্তম জানেন।’ নবী (ﷺ) বললেন, ‘বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো তারা তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না।’অতঃপর কিছু দূর চললেন, নবী (ﷺ) আবার বললেন, ‘হে মুয়াজ ইবন জাবাল!’ আমি বললাম, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! উপস্থিত আছি; আপনার আনুগত্য শিরোধার্য’। নবী (ﷺ) বললেন, ‘তুমি কি জান, এগুলো করলে আল্লাহর কাছে বান্দার কী হক আছে?’ আমি বললাম, আল্লাহ তাঁর রসূলই ভালো জানেন। নবী (ﷺ) বললেন, ‘আল্লাহ তা’আলা তাকে শাস্তি দিবেন না।’
৫০
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ)
আমি এক সফরে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গাধা উফাইর-এর পিঠে তাঁর পিছনে বসা ছিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘হে মু'আয! তুমি কি জান, বান্দার উপর আল্লাহর হক কী এবং আল্লাহর উপর বান্দার হক কী?’আমি বললাম, ‘আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভালো জানেন।’ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘বান্দার উপর আল্লাহর হক হলো তারা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছু শরীক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হলো, যে তাঁর সঙ্গে শরীক করবে না, তাঁকে তিনি শাস্তি দিবেন না।’মু'আয বললেন, ‘আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি কি লোকদের এ সংবাদ জানিয়ে দেব না?’ তিনি বললেন, না; লোকেদের এ সংবাদ দিও না, তাহলে তারা এর উপর ভরসা করে থাকবে। (অর্থাৎ, আমল করা ছেড়ে দিবে)