৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫১
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘হে মুয়াজ! তুমি কি জান, বান্দার উপর আল্লাহর কী হক?’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভালো জানেন।’ রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তা হলো, আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কিছুকে শরীক না করা।’ তিনি বললেন, ‘তুমি কি জান, তা করলে আল্লাহর নিকট বান্দার হক কী?’ মুয়াজ বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভালো জানেন।’ তিনি বললেন, ‘তাদের তিনি শাস্তি দিবেন না।’
৫২
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
মু’আয (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর আহ্বানে সাড়া দিলাম। তারপর তিনি বললেন, তুমি কি জান মানুষের উপর আল্লাহর হক কী? ..... বাকি অংশ উপরোক্ত হাদীসের মত।
৫৩
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
একদা আমরা (সাহাবীগণ) রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ঘিরে বসেছিলাম। আমাদের জামাআতে আবু বকর এবং উমর (রাঃ)-ও ছিলেন। এ সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে থেকে উঠে গেলেন। দীর্ঘক্ষণ অতিক্রান্তের পর আমরা শঙ্কিত হলাম যে, তিনি কোথাও কোন বিপদের সম্মুখীন কিনা। তাই আমরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়লাম। আর আমি সর্বপ্রথম বিচলিত হলাম। তাই আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খোঁজে বের হয়ে পড়লাম।আমি বানু নাজ্জারের জনৈক আনসারীর বাগানের নিকট এসে উপনীত হলাম। আর বাগানের অভ্যন্তরে প্রবেশের কোন পথ খুঁজে পাওয়া যায় কিনা সেজন্য চারদিকে ঘুরলাম। কিন্তু পেলাম না। হঠাৎ দেখতে পেলাম বাইরের একটি কুয়া থেকে একটি নালা বাগানের অভ্যন্তরে প্রবাহিত হচ্ছে। সংকীর্ণ নালাকে ‘জাদওয়াল’ বলা হয়। অতঃপর আমি নিজেকে শেয়ালের ন্যায় সংকুচিত করে নর্দমার মধ্য দিয়ে গিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপনীত হলাম। তিনি বললেন, আবু হুরাইরা নাকি? আমি বললাম, জী-হ্যাঁ, ইয়া রসূলাল্লাহ! তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার? আমি বললাম, আপনি আমাদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ উঠে চলে আসলেন, আর দীর্ঘক্ষণ পরও ফিরে না যাওয়ায় আমরা বিচলিত হয়ে পড়েছি। আমাদের অনুপস্থিতিতে কোথাও বিপদের সম্মুখীন হলেন কিনা আমাদের এ আশঙ্কা হলো। আর আমি সর্বপ্রথম বিচলিত হয়ে পড়ি। আমি এ দেয়ালের কাছে এসে শেয়ালের ন্যায় সংকুচিত হয়ে নালার ভিতর দিয়ে এখানে উপস্থিত হলাম। অন্যান্যরা আমার পেছনে আছে।তিনি তাঁর জুতা জোড়া আমাকে দিয়ে বললেন, হে আবু হুরাইরা! আমার জুতা জোড়া সাথে নিয়ে যাও। এ বাগানের বাইরে যার সাথেই তোমার সাক্ষাৎ হয় তাকে বলোঃ ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে এ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই’ তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।”বর্ণনাকারী [আবু হুরাইরা (রাঃ)] বলেন, সর্বপ্রথম উমর (রাঃ)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমাকে বললেন, হে আবু হুরাইরা! জুতা জোড়া কার? আমি বললাম, আল্লাহর রসূলের। তিনি আমাকে এ জুতা জোড়াসহ এই বলে পাঠিয়েছেন যে, ‘যে ব্যক্তি প্রশান্ত মনে এ সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই, তাকে তুমি জান্নাতের সুসংবাদ দিবে”তিনি [আবু হুরাইরা (রাঃ)] বলেন, আমার এ কথা শুনে উমর (রাঃ) আমার বুকের উপর এমন জোরে চপেটাঘাত করলেন যে, আমি পেছন দিকে পড়ে গেলাম। আর তিনি বললেন, হে আবু হুরাইরা! তুমি (রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর) নিকট ফিরে চলো। তাই আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কাঁদো কাঁদো অবস্থায় ফিরে আসলাম। আমার পেছনে পেছনে উমর (রাঃ) সেখানে উপস্থিত হলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু হুরাইরা! তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, আমার সাথে উমরের সাক্ষাৎ হয়েছিল এবং আপনি আমাকে যে সুসংবাদ দিয়ে পাঠিয়েছিলেন তাঁকে এটা জানালে তিনি আমার বুকে এমন জোরে ঘুষি মারলেন যে, আমি পেছন দিকে পড়ে যাই। তিনি এটাও বলেছেন যে, আমি যেন (আপনার নিকট) ফিরে আসি।রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে উমর! কোন বস্তু তোমাকে এমন কাজ করতে উদ্যত করলো? তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। আপনি কি আপনার জুতা জোড়াসহ আবু হুরাইরাকে এ বলে পাঠিয়েছেন যে, যার সাথে তোমার সাক্ষাৎ হয় তাকে বলো, যে ব্যক্তি সর্বান্তঃকরণে এ সাক্ষ্য দিবে যে, “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই” তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ।উমর (রাঃ) বললেন, এরূপ করবেন না, কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে এতে লোকেরা (আমল বর্জন করে) এর উপর ভরসা করে বসে থাকবে, কাজেই লোকদেরকে আমল করার সুযোগ দিন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আচ্ছা তাদেরকে ছেড়ে দাও।
৫৪
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
নবী (ﷺ) ও মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) একই বাহনের পৃষ্ঠে উপবিষ্ট ছিলেন। তারপর নবী (ﷺ) বললেন, “হে মু’আয!” মু’আয (রাঃ) বলেন, “ইয়া রসূলুল্লাহ! আমি উপস্থিত, আপনার আনুগত্য শিরোধার্য।” নবী (ﷺ) পুনরায় বললেন, “হে মু’আয!” মু’আয (রাঃ) বলেন, “ইয়া রসূলুল্লাহ! আমি হাজির, আপনার আনুগত্য শিরোধার্য।” রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “যদি কোন বান্দা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রসূল- তবে তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন।” মু’আয (রাঃ) বলেন, “ইয়া রসূলুল্লাহ! আমি কি লোকদের এ সংবাদ দিব? যাতে তারা সুসংবাদ পায়।” রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তাহলে লোকেরা এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।” পরে সত্য কথা গোপন রাখার গুনাহের ভয়ে মু’আয (রাঃ) মৃত্যুর সময় এ খবরটি শুনিয়ে যান।
৫৫
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আমাকে মাহমূদ ইবন রবী' ইতবান ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, মাহমূদ বলেন, আমি মদিনায় আসলাম এবং ইতবানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললাম, আপনার সূত্রে একটি হাদিস আমার কাছে পৌঁছেছে (সুতরাং ঘটনাটি আমাকে সবিস্তারে বলুন)।তিনি (ইতবান) বললেন, আমার দৃষ্টিশক্তি কিছুটা কমে যাওয়ায় আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ মর্মে সংবাদ পাঠালাম যে, আমার ইচ্ছা আপনি আমার বাড়িতে এসে এক জায়গায় সালাত আদায় করবেন এবং আমি সে জায়গাটি সালাতের জন্য নির্দিষ্ট করে নেবো। তিনি (ইতবান) বলেন, নবী (ﷺ) আসলেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর সাথে তাঁর কতিপয় সাহাবীও আসলেন। তিনি ঘরে প্রবেশ করেই সালাত আদায় করতে লাগলেন। আর তাঁর সাহাবীগণ আপোষে কথাবার্তা বলতে থাকলেন। তাঁদের আলোচনার এক পর্যায়ে এসে তাঁরা মালিক ইবন দুখশুম সম্পর্কে মস্ত বড় আপত্তিকর আলোচনা জুড়ে দিলেন। তাঁদের কেউ বললেন, আমার আকাঙ্ক্ষা এই যে, নবী (ﷺ) তার জন্য বদদোয়া করুন এবং সে ধ্বংস হয়ে যাক। আবার কেউ এ ইচ্ছাও প্রকাশ করলেন যে, নবী (ﷺ) তাকে বদদোয়া করুন এবং সে ধ্বংস হয়ে যাক। আবার কেউ এ বাসনাও প্রকাশ করলেন যে, যদি তার উপর আকস্মিক কোন দুর্ঘটনা নেমে আসতো তাহলে খুবই উত্তম হতো।ইত্যবসরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত সমাপ্ত করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, সে (মালিক) কি এ কথার সাক্ষ্য দেয় না যে, ‘আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল?’ লোকেরা বলল, সে মুখে বলে ঠিকই কিন্তু তার অন্তরে এর প্রতি কোন বিশ্বাস নেই। তিনি বললেন, “যে কেউ এ সাক্ষ্য দিবে যে, “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল” সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।” অথবা তিনি বলেছেন, আগুন তাকে গ্রাস করবে না।আনাস (রাঃ) বলেন, এ হাদিসটি আমার নিকট খুবই চমৎকার মনে হয়েছে। তাই আমি আমার পুত্রকে বললাম, এটা লিখে নাও। সুতরাং সে তা লিখে নিলো।
৫৬
যে ব্যক্তি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে- এর দলীল প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
ইতবান (রাঃ) অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ বলে খবর পাঠালেন, আপনি আমার ঘরে তাশরীফ আনুন এবং আমার জন্য একটি সালাতের স্থান নির্দিষ্ট করে দেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে তাশরীফ আনলেন এবং মালিক ইবনু দুখশুম নামক এক ব্যক্তির কথা সেখানে উল্লেখ করা হলো ..... তারপর বর্ণনাকারী সুলাইমান ইবনু মুগীরার মতো হাদীসটি বর্ণনা করেন।
৫৭
যে ব্যক্তি আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রসূল হিসেবে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয় সে মু’মিন যদিও সে কাবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হয় পরিচ্ছেদ নাই
‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)
তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন: সে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে, যে রব হিসেবে আল্লাহকে, দ্বীন হিসেবে ইসলামকে এবং রসূল হিসেবে মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সন্তুষ্ট চিত্তে স্বীকার করেছে।
৫৮
ঈমানের শাখা-প্রশাখার সংখ্যা, তাঁর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাখার বর্ণনা, লজ্জা শরমের ফাযীলাত এবং তা ঈমানের অঙ্গ হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ঈমানের শাখা সত্তরটির চেয়েও বেশি, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।
৫৯
ঈমানের শাখা-প্রশাখার সংখ্যা, তাঁর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাখার বর্ণনা, লজ্জা শরমের ফাযীলাত এবং তা ঈমানের অঙ্গ হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ঈমানের শাখা সত্তরটিরও কিছু বেশি অথবা ষাটটির কিছু বেশি। এর সর্বোচ্চ শাখা হচ্ছে "আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই" এ কথা স্বীকার করা, আর এর সর্বনিম্ন শাখা হচ্ছে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি বিশেষ শাখা।
৬০
ঈমানের শাখা-প্রশাখার সংখ্যা, তাঁর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শাখার বর্ণনা, লজ্জা শরমের ফাযীলাত এবং তা ঈমানের অঙ্গ হওয়ার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
সালিমের পিতা ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
এক ব্যক্তি তার ভাইকে লজ্জার ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছিলেন, শুনতে পেয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, লজ্জা ঈমানের অঙ্গ।