৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৬৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৬৭১
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ)
একদিন বারীরা (রাঃ) আমার কাছে এল। এরপর সে বলল, আমার মনিব আমাকে প্রতি বছর একটি করে নয় বছরে নয়টি উকিয়া (চল্লিশ দিরহামে এক উকিয়া) আদায় করার শর্তে আমাকে মুক্তি দানের ব্যাপারে লিখিত চুক্তি করেছে। আপনি আমাকে সাহায্য করুন। আমি আয়িশা (রাঃ) তাকে বললাম, তোমার মনিব যদি এ শর্তে রাজি হয় যে তোমার মুক্তিপণ এক সঙ্গে আদায় করে দিলে তোমার ওয়ালা আমি পাব তাহলে আমি তোমাকে মুক্তির ব্যাপারে সাহায্য করতে চাই।তখন বারীরা (রাঃ) এ বিষয়টি তার মুনিবের কাছে উঠালে তাদের জন্য ওয়ালা ব্যতীত তারা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। এরপর সে আমার আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে এসে তাদের কথা বলল। আমি তাকে ধমক দিয়ে বললামঃ তাহলে আল্লাহর কসম! আমি রাজি নই।আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিষয়টি শুনলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁর কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। এরপর তিনি বললেনঃ হে আয়িশা! তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও এবং তাদের জন্যে ওয়ালার শর্ত করে দাও। তবে নিশ্চয়ই ওয়ালা সে পাবে যে মুক্তি দান করে। আমি (আয়িশা) তাই করলাম।রাবী বলেনঃ এরপর সন্ধ্যা বেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা ও তাঁর মহিমা ঘোষণা করলেন। এরপর বললেনঃ লোকের অবস্থা কেমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, তারা এমন সব শর্ত দেয় যা আল্লাহর কিতাবে নেই। স্মরণ রাখ, যে শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই, তা বাতিল বলে গণ্য, যদিও একশতবার শর্তারোপ করা হয়। আল্লাহর কিতাবের শর্তই যথার্থ সঠিক, আল্লাহর শর্তই সর্বাধিক সুদৃঢ়। তোমাদের মধ্যে কতক লোকের কী হয়েছে যে, তারা অপরকে বলে অমুককে মুক্ত করে দাও আর ওয়ালা গ্রহণ করব আমরা? অথচ ওয়ালা তো আসলে তারই পাওনা যে মুক্ত করে।
৩৬৭২
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্ (রহঃ)
অনুরূপ একই সনদে বর্ণিত আছে। তবে জারীর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে- "তিনি বলেন, তার (বারীরার) স্বামী ছিল ক্রীতদাস। সে কারণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দান করেছিলেন। (যখন সে মুক্ত হবে তখন ক্রীতদাস স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রাখতে কিংবা তা নাকচ করে দিতে পারবে- এ ইখতিয়ার তাকে দেয়া হয়েছিল)। সে নিজের স্বার্থটাকেই সমর্থন করল (ক্রীতদাস স্বামীকে পছন্দ করল না)। যদি সে স্বাধীন হতো তাহলে তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) তাকে (বারীরাকে) ইখতিয়ার দিতেন না।” আর তাদের বর্ণিত হাদীসে أَمَّا بَعْدُ (অতঃপর) শব্দটির উল্লেখ নেই।
৩৬৭৩
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ)
বারীরার কল্যাণে তিনটি শরীয়তী বিধান পাওয়া গিয়েছিল-১. তার মুনিবেরা তাকে বিক্রি করতে চেয়েছিল এবং তার ওয়ালাদের উপর তাদের অধিকার লাভের শর্তারোপ করেছিল। আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে বিষয়টি উঠালাম। তিনি আমাকে বললেন, তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দাও। কেননা ওয়ালাদ সেই পাবে যে আযাদ করে।২. যখন তাকে (বারীরা) মুক্ত করে দেয়া হল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে (তার ক্রীতদাস স্বামীকে রাখা, না রাখার) ইখতিয়ার দিয়েছিলেন। এরপর সে নিজের স্বার্থটাকেই সমর্থন করল। (তাঁর ক্রীতদাস স্বামীকে প্রত্যাখ্যান করল।)৩. তিনি (আয়িশা (রাঃ)) বলেন, লোকেরা বারীরাকে সদাকা খয়রাত করত এবং সে তা (সদাকা-কৃত জিনিস) থেকে আমাদেরকে কিছু হাদিয়া হিসেবে দিত। এরপর আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে বিষয়টি পেশ করলাম। তিনি বললেন, “তা তাঁর জন্য সদাকা এবং তোমাদের জন্য হাদিয়া। সুতরাং তোমরা তা খাও।”
৩৬৭৪
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ)
তিনি কিছু সংখ্যক আনসার মনিবদের কাছ থেকে বারীরাকে খরিদ করলেন। তবে তারা (সে সময়) ‘ওয়ালা’র শর্ত দিয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ প্রকৃত পক্ষে ‘ওয়ালা’ তারই প্রাপ্য যে নেয়ামতের অধিকারী (মুক্তিদাতা)।আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ইখতিয়ার প্রদান করেছিলেন। তাঁর স্বামী ছিল ক্রীতদাস। একবার সে (বারীরা) আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে কিছু পরিমাণ গোশত হাদিয়া পাঠাল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা যদি এই গোশত থেকে আমার জন্য কিছুটা রান্না করে আনতে......তখন আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ এটা তো বারীরার জন্য সদাকা হিসেবে এসেছে (আর আপনার জন্য সদাকা হারাম)। তিনি বললেনঃ তা তার জন্য সদাকা এবং আমাদের জন্য হাদিয়া।
৩৬৭৫
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ)
তিনি মুক্ত করে দেয়ার উদ্দেশে বারীরাকে খরিদ করার ইচ্ছা করলেন। কিন্তু তারা (বারীরার মুনিবেরা) তার ওয়ালা পাওয়ার শর্তারোপ করে বসল। তখন তিনি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উঠালেন। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও। মূলত ওয়ালা সে পাবে যে মুক্ত করে দেয়।রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য কিছু গোশত হাদিয়া রূপে পেশ করা হল। তখন তারা নবী (ﷺ)-কে বললেনঃ এ গোশত বারীরাকে সদকা হিসেবে দেয়া হয়েছে। তিনি বললেনঃ এটা তার জন্য সদকা এবং আমাদের জন্যে হাদিয়া। তাকে (বারীরাকে) তার (ক্রীতদাস) স্বামীর বিষয়ে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল।আবদুর রহমান বললেন, তার স্বামী স্বাধীন ছিল। শু’আবাহ (রহঃ) বলেনঃ আমি পুনরায় তাকে (আবদুর রহমানকে) তার (বারীরাহ) স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমার জানা নেই।
৩৬৭৬
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ (রহঃ)
শু’আবাহ (রহঃ)-এর সূত্রে এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩৬৭৭
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ)
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) আবু হিশাম হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মুসান্না (রহঃ) বলেন, আমাদের কাছে মুগীরা ইবনু সালামা আল-মাখজূমি (রহঃ) হাদিস বর্ণনা করেছেন। আর আবু হিশাম (রহঃ) বলেন, আমাদের কাছে ওহাইব (রহঃ) হাদিস বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে উবাইদুল্লাহ (রহঃ), ইয়াজিদ ইবনু রুমান (রহঃ) হতে, তিনি উরওয়া (রহঃ) হতে, তিনি আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। বারীরার স্বামী ছিলেন একজন ক্রীতদাস।
৩৬৭৮
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ)
বারীরার ঘটনায় তিনটি বিধান জারী হয়েছিলঃ১. যখন সে মুক্তি লাভ করেছিল তখন স্বামীর (বৈবাহিক সূত্র বহাল রাখা, না রাখার) ব্যাপারে তাকে ইখতিয়ার প্রদান করা হয়েছিল।২. তাকে গোশত সদাকাহ করা হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের (আয়িশার) কাছে এলেন। তখন গোশতের হাঁড়ি চুলার উপর টগবগ করছিল। তিনি খাবার চাইলেন। তখন তাঁর সামনে রুটি এবং ঘর থেকে তরকারি পরিবেশন করা হল। তিনি বললেনঃ আমি কি লক্ষ্য করিনি যে, চুলার উপর হাঁড়ি আছে যার মধ্যে গোশত রয়েছে। তারা বললেনঃ জ্বি হ্যাঁ, আল্লাহর রাসূল! ওটা তো বারীরাকে সদাকাহ দেয়া গোশত। আমরা তা থেকে আপনাকে খাওয়ানো পছন্দ করিনা। তখন তিনি বললেনঃ এতো তার জন্য সদাকাহ এবং তার পক্ষ থেকে তা আমাদের জন্য হাদিয়া।৩. নবী (ﷺ) তার (বারীরার) মুক্তির ব্যাপারে বললেনঃ আসলে ‘ওয়ালা’ সে-ই পাবে যে আযাদ করে।
৩৬৭৯
প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযিঃ)
একবার আয়িশা (রাঃ) একটি ক্রীতদাসী খরিদ করে আযাদ করে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। তার মুনিবেরা তাদের জন্য তার ওয়ালা ব্যতিরেকে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। তিনি এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উঠালেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তাকে খরিদ করে মুক্তি দিয়ে দাও। তার (মুক্তি দেয়া) তোমাকে ওয়ালা থেকে বাধাপ্রাপ্ত করবে না। কেননা ওয়ালা তারই প্রাপ্য যে মুক্তি দান করে।
৩৬৮০
ওয়ালা (আযাদ করা দাসের স্বত্বাধিকার) বিক্রি কিংবা হেবা করা নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওয়ালা বিক্রি করা এবং তা হেবা (দান বা উইল) করা নিষিদ্ধ করেছেন। ইব্রাহিম (আঃ) বলেছেন, আমি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এ হাদীসের ব্যাপারে সকল মানুষ আবদুল্লাহ ইবনু দীনারের পৌষ্য।