৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৩১
মহান আল্লাহ্‌র বাণীঃ “নিশ্চয় তিনি তাঁকে দ্বিতীয়বার দেখেছেন”-(সূরাহ আন্‌ নাজ্‌ম ৫৩ : ১৩) নাবী( সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি ইসরা মি’রাজের রাত্রে তাঁর প্রভূকে দেখেছেন? পরিচ্ছেদ নাই
মাসরূক (রহঃ)
আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, (আপনি তো বলেন, মহানবী (ﷺ) তাঁর প্রতিপালককে দেখেননি) তাহলে আল্লাহর এ বাণীর জবাব কি? “এমনকি দুই ধনুকের সমান কিংবা তার চেয়েও কম দূরত্ব থেকে গেল। তখন আল্লাহর বান্দাকে যে ওহী পৌঁছার ছিল তা পৌঁছে দিল”— (সূরা আন-নাজম ৫৩ : ৯-১১)।আয়িশা (রাঃ) বললেন, ইনি তো হলেন জিবরীল (আঃ)। সাধারণত তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে আসতেন মানুষের আকৃতিতে। কিন্তু এবার এসেছিলেন তাঁর আসল রূপে। তাঁর দেহ আকাশের সীমা ঢেকে ফেলেছিল।
৩৩২
রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণীঃ তা ছিল উজ্জ্বল জ্যোতি আমি তা দেখেছি। অন্য বর্ণনায়ঃ আমি উজ্জ্বল জ্যোতি দেখেছি। পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেছি, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? তিনি (ﷺ) বললেনঃ তিনি (আল্লাহ) নূর, তা আমি কীভাবে দেখবো?
৩৩৩
রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণীঃ তা ছিল উজ্জ্বল জ্যোতি আমি তা দেখেছি। অন্য বর্ণনায়ঃ আমি উজ্জ্বল জ্যোতি দেখেছি। পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ ইবনু শাকীক (রহঃ)
আমি আবু যার (রাঃ)-কে বললাম, যদি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দেখা পেতাম তবে অবশ্যই তাঁকে একটি কথা জিজ্ঞেস করতাম। আবু যার (রাঃ) বললেন, কি জিজ্ঞেস করতে? তিনি বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতাম যে, আপনি কি আপনার প্রতিপালককে দেখেছেন? আবু যার (রাঃ) বললেন, এ কথা তো আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছেন, আমি নূর দেখেছি।
৩৩৪
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী- নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তা’আলাকে নিদ্রা স্পর্শ করে না; তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেনঃ “নূরই তাঁর আড়াল, যদি তা প্রকাশ পেত তাহলে তাঁর চেহারার জ্যোতি সৃষ্টি জগতের যতদুর পর্যন্ত পৌঁছতো তা পুড়ে ছারখার করে দিতো” পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
একবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে পাঁচটি কথা বললেনঃ(১) আল্লাহ কখনও নিদ্রা যান না।(২) নিদ্রিত হওয়া তাঁর সাজেও না।(৩) তিনি তাঁর ইচ্ছানুসারে মীযান (দাঁড়িপাল্লা) নামান এবং উত্তোলন করেন।(৪) দিনের পূর্বেই রাতের সকল আমল তাঁর কাছে পেশ করা হয়। রাতের পূর্বেই দিনের সকল আমল তাঁর কাছে পেশ করা হয়।(৫) তিনি নূরের পর্দায় আচ্ছাদিত। আবূ বকর (রাঃ)-এর আরেক বর্ণনায় لنُّورُ এর পরিবর্তে النَّارُ শব্দের উল্লেখ রয়েছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যদি সে আবরণ খুলে দেয়া হয়, তবে তাঁর নূরের আলোচ্ছটা সৃষ্টি জগতের দৃশ্যমান সব কিছু ভস্ম করে দিবে।
৩৩৫
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী- নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তা’আলাকে নিদ্রা স্পর্শ করে না; তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেনঃ “নূরই তাঁর আড়াল, যদি তা প্রকাশ পেত তাহলে তাঁর চেহারার জ্যোতি সৃষ্টি জগতের যতদুর পর্যন্ত পৌঁছতো তা পুড়ে ছারখার করে দিতো” পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
পূর্ব বর্ণিত সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সম্মুখে চারটি কথা নিয়ে দাঁড়ালেন। বর্ণনাকারী আবূ মু’আবিয়ার হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি ‘সৃষ্টিজগতের’ শব্দ উল্লেখ করেননি এবং তিনি ‘তিনি নূরের পর্দায় আচ্ছাদিত’ শব্দ উল্লেখ করেছেন।
৩৩৬
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী- নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তা’আলাকে নিদ্রা স্পর্শ করে না; তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেনঃ “নূরই তাঁর আড়াল, যদি তা প্রকাশ পেত তাহলে তাঁর চেহারার জ্যোতি সৃষ্টি জগতের যতদুর পর্যন্ত পৌঁছতো তা পুড়ে ছারখার করে দিতো” পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সম্মুখে চারটি কথা নিয়ে আলোচনা করে বলেন, আল্লাহ তা’আলা কখনো নিদ্রা যান না আর নিদ্রা তাঁর জন্য শোভাও পায় না, তিনি তুলাদণ্ড উঁচু এবং নিচু করেন, তাঁর নিকট রাতের পূর্বে দিনের আমল উত্থিত হয় এবং দিনের পূর্বে রাতের আমল উত্থিত হয়।
৩৩৭
আখিরাতে মু’মিনগণ তাদের প্রভুকে দেখতে পাবে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রাঃ)
নবী (ﷺ) ইরশাদ করেন, দুইটি জান্নাত এমন যে, এগুলোর বাসনপত্র ও সমুদয় সামগ্রী রূপার তৈরি। অন্য দুইটি জান্নাত এমন, যেগুলোর পাত্রাদি ও সমুদয় সামগ্রী স্বর্ণের তৈরি। 'আদন নামক জান্নাতে জান্নাতীগণ আল্লাহর দর্শন লাভ করবেন। এ সময় তাঁদের ও আল্লাহর মাঝে তাঁর মহিমার চাদর ব্যতীত আর কোন অন্তরায় থাকবে না।
৩৩৮
আখিরাতে মু’মিনগণ তাদের প্রভুকে দেখতে পাবে পরিচ্ছেদ নাই
সুহায়ব (রহঃ)
নবী (ﷺ) বলেন, জান্নাতীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে তখন আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে বলবেন, “তোমরা কি চাও, আমি আরো অনুগ্রহ বাড়িয়ে দেই?” তারা বলবে, “আপনি কি আমাদের চেহারাগুলো আলোকোজ্জ্বল করে দেননি, আমাদের জান্নাতে দাখিল করেননি এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত দেননি?”রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “এরপর আল্লাহ তা’আলা আবরণ তুলে নিবেন। আল্লাহর দর্শন লাভের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় জিনিস আর কিছুই তাদের দেওয়া হয়নি।”
৩৩৯
আখিরাতে মু’মিনগণ তাদের প্রভুকে দেখতে পাবে পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মাদ ইবনু সালামাহ্‌ (রাঃ)
তবে এতে তিনি আরো বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) এ আয়াত তিলাওয়াত করেনঃ “যারা ভাল আমল করে তাদের জন্য আছে কল্যাণ (জান্নাত) এবং আরো অধিক কিছু (আল্লাহর দর্শন)”-(সূরা ইউনুস ১০ : ২৬)।
৩৪০
মহান আল্লাহর দর্শন পথের জ্ঞান পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
কয়েকজন সাহাবা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কেয়ামত দিবসে আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবো? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ পূর্ণিমার রাতে চাঁদ দেখতে কি তোমাদের পরস্পরের মাঝে কষ্ট হয়? সাহাবাগণ বললেন, না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের পরস্পরের কষ্টবোধ হয়? তাঁরা বললেন, না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তদ্রূপ তোমরা তাঁকেও দেখবে। কেয়ামত দিবসে আল্লাহ সকল মানুষকে জমায়েত করে বলবেন, পৃথিবীতে তোমরা যে যার ইবাদত করেছিলে আজ তাকেই অনুসরণ কর। তখন যারা সূর্যের উপাসনা করতো, তারা সূর্যের সাথে থাকবে। যারা চন্দ্রের উপাসনা করতো, তারা চন্দ্রের সাথে থাকবে। আর যারা আল্লাহদ্রোহীদের (তাগূতের) উপাসনা করতো, তারা আল্লাহদ্রোহীদের সাথে জমায়েত হয়ে যাবে। কেবল এ উম্মত অবশিষ্ট থাকবে। তন্মধ্যে মুনাফিকরাও থাকবে। তখন আল্লাহ তা’আলা তাদের নিকট এমন আকৃতিতে উপস্থিত হবেন যা তারা চিনে না। তারপর (আল্লাহ তা’আলা) বলবেন, আমি তোমাদের প্রতিপালক (সুতরাং তোমরা আমার পিছনে চল)। তারা বলবে, নাউযুবিল্লাহ। আমাদের প্রভু না আসা পর্যন্ত আমরা এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবো। আর তিনি যখন আসবেন, তখন আমরা তাঁকে চিনতে পারবো। এরপর আল্লাহ তা’আলা তাদের নিকট তাদের পরিচিত আকৃতিতে আসবেন, বলবেন : আমি তোমাদের প্রভু। তারা বলবে, হ্যাঁ, আপনি আমাদের প্রভু। এ বলে তারা তাঁকে অনুসরণ করবে।এমন সময়ে জাহান্নামের উপর দিয়ে সিরাত (সাঁকো) বসানো হবে। [নবী (ﷺ) বলেন] আর আমি ও আমার উম্মতই হব প্রথম এ পথ অতিক্রমকারী। সেদিন রসূলগণ ব্যতীত অন্য কেউ মুখ খোলারও সাহস করবে না। আর রসূলগণও কেবল এ দোয়া করবেন। হে আল্লাহ! নিরাপত্তা দাও, নিরাপত্তা দাও। আর জাহান্নামে থাকবে সা‘দান বৃক্ষের কাঁটার মত অনেক কাঁটাযুক্ত লৌহদণ্ড। তোমরা সা‘দান বৃক্ষটি দেখেছ কি? সাহাবাগণ বললেন, হ্যাঁ দেখেছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তা সা‘দান বৃক্ষের কাঁটার মতই, তবে সেটা যে কত বিরাট তা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। পাপ কাজের জন্য কাঁটার আংটাগুলো ছোবল দিতে থাকবে। তাদের কেউ কেউ মুমিন (যারা সাময়িক জাহান্নামী) তারা রক্ষা পাবে, আর কেউ তো শাস্তি ভোগ করে নাজাত পাবে। এরপর আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা হতে অবসর হলে স্বীয় রহমতে কিছু সংখ্যক জাহান্নামীদের (জাহান্নাম হতে) বের করতে দেয়ার ইচ্ছা করবেন তখন ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দিবেন যারা কালিমায় বিশ্বাসী ও শিরক করেনি যাদের উপর আল্লাহ তা’আলা রহম করতে চাইবেন যে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসো। আর যাদের উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করতে চেয়েছেন তারা ঐ সকল লোক যারা ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলত। অতঃপর ফেরেশতাগণ তাদের সনাক্ত করবেন।তারা সিজদা চিহ্নের সাহায্যে তাদের চিনবেন। কারণ, অগ্নি মানুষের দেহের সবকিছু জ্বালিয়ে ফেললেও সিজদার স্থান অক্ষত থাকবে। আল্লাহ তা’আলা সিজদার চিহ্ন নষ্ট করা হারাম (নিষিদ্ধ) করে দিয়েছেন। মোটকথা, ফেরেশতাগণ এদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবে এমন অবস্থায় যে, তাদের দেহ আগুনে দগ্ধ। তাদের উপর ‘মাউল-হায়াত’ (সঞ্জীবনী পানি) ঢেলে দেয়া হবে। তখন তারা এতে এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে যেমনভাবে শস্য অঙ্কুর পানিসিক্ত উর্বর জমিতে সতেজ হয়ে উঠে। তারপর আল্লাহ তা’আলা বান্দাদের বিচার সমাপ্ত করবেন। শেষে এক ব্যক্তি থেকে যাবে। তার মুখমণ্ডল হবে জাহান্নামের দিকে। এই হবে সর্বশেষ জান্নাতে প্রবেশকারী। সে বলবে, হে আমার প্রভু! (অনুগ্রহ করে) আমার মুখটি জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দিন। কারণ জাহান্নামের দুর্গন্ধ আমাকে অসহনীয় কষ্ট দিচ্ছে; এর লেলিহান অগ্নিশিখা আমাকে দগ্ধ করে দিচ্ছে। আল্লাহ যতদিন চান ততদিন পর্যন্ত সে তাঁর নিকট দোয়া করতে থাকবে। পরে আল্লাহ বলবেন, তোমার এ দোয়া কবুল করলে তুমি কি আরো কিছু কামনা করবে?সে বিভিন্ন ধরণের ওয়াদা ও অঙ্গীকার করে বলবে যে, জাহান্নামের দিক থেকে ফিরিয়ে দিবেন। তার চেহারা যখন জান্নাতের দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে, আর সে জান্নাত দেখবে, তখন আল্লাহ যতদিন চান সে নীরব থাকবে। পরে আবার বলবে, হে আমার প্রতিপালক! কেবল জান্নাতের দরজা পর্যন্ত আমাকে পৌঁছে দিন। আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি না অঙ্গীকার দিয়েছিলে যে, আমি তোমাকে যা দিয়েছি তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না। হে আদম সন্তান! তুমি হতভাগা ও তুমি সাংঘাতিক ওয়াদাভঙ্গকারী। তখন সে বলবে, হে আমার রব! এই বলে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকবে। আল্লাহ বলবেন, তুমি যা চাও তা যদি দিয়ে দেই তবে আর কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, আপনার ইজ্জতের কসম! আর কিছু চাইব না। এভাবে সে তার অক্ষমতা (আল্লাহর কাছে) পেশ করতে থাকবে যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা হয়। তারপর তাকে জান্নাতের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়া হবে। এবার যখন সে জান্নাতের দরজায় দাঁড়াবে, তখন জান্নাত তার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। সে জান্নাতের সমৃদ্ধি ও সুখ দেখতে থাকবে। সেখানে আল্লাহ যতক্ষণ চান সে ততক্ষণ চুপ করে থাকবে। পরে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিন।আল্লাহ বলবেন, তুমি না সকল ধরণের ওয়াদা ও অঙ্গীকার করে বলেছিলে, আমি যা দান করেছি এর চাইতে বেশি আর কিছু চাইবে না? হে হতভাগা আদম সন্তান! তুমি তো ভীষণ ওয়াদাভঙ্গকারী। সে বলবে, হে আমার রব! আমি যেন আপনার সৃষ্টির সবচেয়ে দুর্ভাগা না হই। সে বার বার দোয়া করতে থাকবে। পরিশেষে তার অবস্থা দেখে আল্লাহ তা’আলা হেসে ফেলবেন। আল্লাহ তা’আলা বলবেন, যাও জান্নাতে প্রবেশ কর। (জান্নাতে প্রবেশের পর) আল্লাহ তাকে বলবেন, (যা চাওয়ার) চাও। তখন সে তার সকল কামনা চেয়ে শেষ করবে। এরপর আল্লাহ নিজেই স্মরন করিয়ে বলবেন, অমুক অমুকটা চাও। এভাবে তার কামনা শেষ হয়ে গেলে আল্লাহ বলবেন, তোমাকে এ সব এবং এর সমপরিমাণ আরো দেয়া হলো।‘আতা ইবনু ইয়াজীদ বলেন, এবং আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) এ হাদিসটি আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত এ হাদিসের কোন কথাই রদ করেননি। তবে আবু হুরায়রা (রাঃ) যখন এ কথা উল্লেখ করলেন, “আল্লাহ তা’আলা ঐ ব্যক্তিকে বলবেন, তোমাকে এ সব এবং এর সমপরিমাণ আরো দেয়া হলো” তখন আবু সাঈদ (রাঃ) বললেনঃ হে আবু হুরায়রা! বরং তা সহ আরো দশগুণ দেয়া হবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে “এর সম-পরিমাণ” এ শব্দ স্মরণ রেখেছি। আবু সাঈদ (রাঃ) বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে “আরো দশগুণ” এ শব্দ সংরক্ষিত রেখেছি।রাবী বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) পরিশেষে বলেন, এ ব্যক্তি হবে জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী।