৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩১১
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সালাত ফরয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
মুজাহিদ (রহঃ)
আমরা ইবনু আব্বাস (রাঃ) এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। উপস্থিত সবাই দাজ্জালের আলোচনা উঠালেন। তখন কোন একজন বললেন, তার (দাজ্জালের) দুই চোখের মাঝখানে “কাফির” শব্দ খচিত আছে। তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন কিছু বলেছেন বলে আমি শুনিনি। তবে এতটুকু বলতে শুনেছি যে, ইবরাহিম (আঃ) এর আকৃতি জানতে হলে তোমাদের এ সাথীরই (নিজের দিকে ইঙ্গিত) দিকে তাকাও। (তিনি অনুরূপই ছিলেন) আর মূসা (আঃ) ছিলেন গন্ধূমী বর্ণের সুঠামদেহী। তাকে লাল বর্ণের একটি উটের পিঠে আরোহিত দেখেছি। আমি যেন তাকে এখনো তালবিয়া পাঠ করা অবস্থায় উপত্যকার ঢালু দিয়ে নামতে দেখেছি।
৩১২
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সালাত ফরয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাযিঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: আমার নিকট নাবীগণকে উপস্থিত করা হলো, তখন মূসা (আঃ)-কে দেখলাম একজন মধ্যম ধরনের মানুষ, অনেকটা শানুআহ গোত্রীয় লোকদের ন্যায়। আর ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)-কে দেখলাম, তাঁর নিকটতম ব্যক্তি হলেন উরওয়া ইবনু মাসউদ। ইবরাহিম (আঃ)-কে দেখলাম, তাঁর অনেকটা কাছাকাছি সদৃশ ব্যক্তি হচ্ছেন তোমাদের এ সাথী অর্থাৎ স্বয়ং রসূলুল্লাহ (ﷺ)। জিবরীল (আঃ)-কে দেখলাম তাঁর কাছাকাছি সদৃশ ব্যক্তি হচ্ছেন দিহইয়া। ইবনু রুমহ-এর বর্ণনায় আছে, দিহইয়া ইবনু খলিফার ন্যায়।
৩১৩
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সালাত ফরয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ)
নবী (ﷺ) বলেন, মি’রাজ রজনীতে আমি মূসা (আঃ)-এর সাথে দেখা করেছি। এরপর নবী (ﷺ) তাঁর দেহের আকৃতি বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, নবী (ﷺ) তাঁর দেহের আকৃতি বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মৃদু কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট। দেখতে শানুয়াহ গোত্রের লোকদের ন্যায়।নবী (ﷺ) বলেন, আমি ঈসা (আঃ)-এর সাথে দেখা করেছি। এরপর তিনি ঈসা (আঃ)-এর আকৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তিনি মধ্যম ধরনের লোহিত বর্ণের পুরুষ। মনে হচ্ছিল এক্ষুনি যেন গোসলখানা থেকে বেরিয়ে আসলেন।রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি ইব্রাহীম (আঃ)-কে দেখেছি। তাঁর সন্তানদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে বেশী তাঁর সাদৃশ্যের অধিকারী। এরপর আমার সম্মুখে দুইটি পাত্র পেশ করা হয়, এর একটি দুধের অপরটি শরাবের। আমাকে বলা হলো, এর মধ্যে যেটা আপনার ইচ্ছা সেটা গ্রহণ করুন। আমি দুধ গ্রহণ করে তা পান করলাম। জিবরীল (আঃ) আমাকে বললেন, আপনাকে ফিতরাতের দিকেই হিদায়াত করা হয়েছে। আপনি যদি শরাব গ্রহণ করতেন তবে আপনার উম্মত গোমরাহ হয়ে যেত।
৩১৪
মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা ('আ) ও মাসীহিদ দাজ্জাল- এর বর্ণনা। পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এক রাতে (স্বপ্নে) আমি কা’বা শরীফের কাছে আমাকে দেখতে পেলাম। গোধুম (গম) বর্ণের এক ব্যক্তিকে দেখলাম। এ বর্ণের যত লোক তোমরা দেখেছ তিনি ছিলেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। ঘাড় পর্যন্ত লম্বা চুল ছিল তাঁর। তিনি এ চুল আঁচড়ে রেখেছেন আর তা থেকে পানি ঝরছিল। দু’জনের উপর বা বর্ণনাকারী বলেন, দু’জনের কাঁধের উপর ভর করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছেন। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হলো ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম। তারপর দেখি আরেক ব্যক্তি, অধিক কোঁকড়ানো চুল, ডান চক্ষুটি টেরা যেন একটি আঙুর ফুলে আছে। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হলো, মাসীহুদ দাজ্জাল।
৩১৫
মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা ('আ) ও মাসীহিদ দাজ্জাল- এর বর্ণনা। পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযিঃ)
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের সম্মুখে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করে বললেন, অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা টেরা চোখবিশিষ্ট নন। জেনে রাখ, দাজ্জালের ডান চোখ টেরা, যেন ফোলা একটি আঙুর। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, একবার আমি স্বপ্নে আমাকে কাবার কাছে পেলাম। গোধূম বর্ণের এক ব্যক্তিকে দেখলাম। এ বর্ণের তোমরা যত লোক দেখেছ, তিনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর। চুল তাঁর কাঁধ পর্যন্ত ঝুলছিল। তাঁর চুলগুলো ছিল সোজা। তা থেকে তখন পানি ঝরছিল। তিনি দুই ব্যক্তির কাঁধে হাত রেখে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছিলেন। জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হলো, ইনি মাসীহ ইবনু মারইয়াম। তাঁরই পেছনে দেখলাম, আরেক ব্যক্তি, অধিক কোঁকড়ানো চুল। তার ডান চোখ ছিল টেরা। সে দেখতে ছিল ইবনু কাতান-এর ন্যায়। সেও দুই ব্যক্তির কাঁধে হাত রেখে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করছিল। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হলো, মাসীহুদ দাজ্জাল।
৩১৬
মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা ('আ) ও মাসীহিদ দাজ্জাল- এর বর্ণনা। পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি স্বপ্নযোগে কা’বার নিকটে খাড়া চুলবিশিষ্ট বাদামী রংয়ের এক ব্যক্তিকে দুজন লোকের কাঁধের উপর হাত রাখা অবস্থায় দেখেছি। তাঁর মাথা থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল অথবা বলেছেন, ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ছিল। আমি জানতে চাইলাম, ইনি কে? লোকেরা বললো, ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) অথবা বলেছেন, আল মাসীহ ইবনু মারইয়াম (আঃ)।সালিম বলেন, ইবনু উমর (রাঃ) সঠিকভাবে অবগত নন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) কোনটি বলেছেন। তবে তিনি এ কথাও বলেছেন যে, তাঁর পেছনে আমি এমন ব্যক্তিকেও দেখেছি, যে রক্তবর্ণের, স্থূলদেহী, মাথার চুল কোঁকড়ানো, ডান চোখ কানা, আকৃতিতে আমার দেখা (কাফির) ইবনু কাতানের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আমি জানতে চাইলাম, এ লোকটি কে? তারা বললেন, এ হলো ‘মাসীহে দাজ্জাল’।
৩১৭
মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা ('আ) ও মাসীহিদ দাজ্জাল- এর বর্ণনা। পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাযিঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, (মি’রাজের সংবাদে) কুরাইশরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলে অপবাদ দিল। তখন আমি হাজরে আসওয়াদের পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ তা‘আলা আমার সম্মুখে বাইতুল মাকদাসকে তুলে ধরেন, আর আমি চোখে দেখেই তার সকল নিদর্শনাবলী উল্লেখ করে যেতে লাগলাম।
৩১৮
মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা ('আ) ও মাসীহিদ দাজ্জাল- এর বর্ণনা। পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযিঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, একদিন আমি ঘুমিয়েছিলাম। তখন দেখি যে, আমি কা’বা তাওয়াফ করছি। বাদামী বর্ণের মধ্যমাকৃতির এক ব্যক্তিকে সেখানে দেখলাম। তাঁর চুলগুলো ছিল সোজা। তিনি দুজনের কাঁধে ভর করে তাওয়াফ করছেন। আর তাঁর মাথা হতে টপটপ করে পানি ঝরছে। বর্ণনাকারী বলেন, এখানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘হয়তো’ ‘অথবা’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? বলা হলো ইনি ইবনু মারইয়াম (আঃ)। তারপর আমি চোখ ফিরিয়ে তাকালাম; লোহিত বর্ণের মোটা এক ব্যক্তিকে দেখলাম, তাঁর চুলগুলো ছিল কোঁকড়ানো। তাঁর চোখ ছিল টেরা, যেন একটি ফোলা আঙ্গুর। জিজ্ঞেস করলাম, এ কে? বলা হলো, এ হলো দাজ্জাল। তাঁর নিকটতম সদৃশ হলো ইবনু কাতান।
৩১৯
মারইয়াম পুত্র ‘ঈসা ('আ) ও মাসীহিদ দাজ্জাল- এর বর্ণনা। পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি হাজরে আসওয়াদের নিকট ছিলাম। এ সময় কুরাইশরা আমাকে আমার মি'রাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করে। তারা আমাকে বাইতুল মাকদিসের এমন সব বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে লাগল যা আমি ভালভাবে দেখিনি। ফলে আমি খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লাম।রসূল (ﷺ) বলেন, তারপর আল্লাহ তা'আলা আমার সামনে বাইতুল মাকদিসকে উদ্ভাসিত করে দিলেন এবং আমি তা দেখছিলাম। তারা আমাকে যে প্রশ্ন করছিল তাঁর জবাব দিতে লাগলাম। এরপর নবীদের এক জামাতে আমি নিজেকে উদ্ভাসিত দেখলাম। মূসা (আঃ)-কে সালাতে দণ্ডায়মান দেখলাম। তিনি শানুয়াহ গোত্রের লোকদের ন্যায় মধ্যমাকৃতি। তাঁর চুল ছিল কোঁকড়ানো। ঈসা (আঃ)-কে ও সালাতে দাঁড়ানো দেখলাম। তিনি তোমাদের এ সাথীর মতই দেখতে অর্থাৎ মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর মত।রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তারপর সালাতের সময় হলো, আমি তাঁদের ইমামত করলাম। সালাত শেষে এক ব্যক্তি আমাকে বললেন, হে মুহাম্মাদ (ﷺ)! ইনি জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক মালিক ওকে সালাম করুন। আমি তাঁর দিকে তাকালাম। তিনি আমাকে আগেই সালাম করলেন।
৩২০
সিদরাতুল মুনতাহার আলোচনা। পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মি’রাজ রজনীতে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হলো। এটি ষষ্ঠ আসমানে অবস্থিত। জমিন থেকে যা কিছু উত্থিত হয় তা সে পর্যন্ত এসে পৌঁছে এবং সেখান থেকে তা গ্রহণ করা হয়। তদ্রূপ ঊর্ধ্বলোক থেকে যা কিছু অবতরণ হয় তাও এ পর্যন্ত এসে পৌঁছে এবং সেখান থেকে তা গ্রহণ করা হয়।এরপর আবদুল্লাহ (রাঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ “যখন প্রান্তবর্তী বাদরী বৃক্ষটি যা দ্বারা আচ্ছাদিত হবার, তা দ্বারা আচ্ছাদিত হলো” – (সূরা আন-নাজম ৫৩ : ১৬) এবং বলেন, এখানে ‘যা দ্বারা’ কথাটির অর্থ সোনার পতঙ্গসমূহ।তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তিনটি বিষয় দান করা হলো, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, সূরা আল-বাকারার শেষ দু’ আয়াত এবং শির্ক মুক্ত উম্মাতের মারাত্মক গুনাহ তাওবার মাধ্যমে ক্ষমার সুসংবাদ”।