৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩০১
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সালাত ফরয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমার নিকট ফেরেশতা আসলেন এবং তাঁরা আমাকে নিয়ে যামযামে গেলেন। আমার বুক চিরে ফেলা হলো। তারপর যামযামের পানি দিয়ে আমাকে গোসল করানো হলো। এরপর নির্ধারিত স্থানে আমাকে ফিরিয়ে আনা হলো।
৩০২
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সালাত ফরয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জিবরীল (আঃ) এলেন, তখন তিনি শিশুদের সাথে খেলছিলেন। তিনি তাঁকে ধরে শোয়ালেন এবং বুক চিরে তাঁর হৃদপিণ্ডটি বের করে আনলেন। তারপর তিনি তাঁর বক্ষ থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করলেন এবং বললেন, এ অংশটি হলো শয়তানের।এরপর হৃদপিণ্ডটি একটি স্বর্ণের পাত্রে রেখে জমজমের পানি দিয়ে ধোয়া করলেন এবং তার অংশগুলো জড়ো করে আবার তা যথাস্থানে পুনঃস্থাপন করলেন। তখন ঐ শিশুরা দৌড়ে তাঁর দুধ মায়ের (হালিমা-এর) কাছে গেল এবং বললো, মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে হত্যা করা হয়েছে। কথাটি শুনে সবাই সেদিকে এগিয়ে গিয়ে দেখল তিনি ভয়ে বিবর্ণ হয়ে আছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বুকে সে সেলাই এর চিহ্ন দেখেছি।
৩০৩
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সালাত ফরয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
শারীক ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ নামির (রাযিঃ)
যে রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কা’বার মসজিদ থেকে মি’রাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে রাত সম্পর্কে আমি আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, ওহী প্রাপ্তির পূর্বে রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন মাসজিদুল হারামে নিদ্রিত অবস্থায় ছিলেন। এরূপে বর্ণনাকারী পূর্ব বর্ণিত সাবিতুল বুনানীর হাদীসেরই অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এ বর্ণনায় শব্দের কিছু আগপাছ ও কমবেশি রয়েছে।
৩০৪
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সালাত ফরয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাযিঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি মক্কাতে ছিলাম। আমার ঘরের ছাদ ফাঁক করা হলো। তখন জিবরীল (আঃ) অবতরণ করলেন। তিনি আমার বুক চিড়ে ফেললেন। এরপর তা যমযমের পানি দিয়ে ধুয়ে দিলেন। তারপর হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি পাত্র আনা হলো এবং এতে তা রাখা হলো, পুনঃ তা আমার বুকে ঢেলে বুক বন্ধ করে দিলেন। এরপর আমার হাত ধরলেন এবং ঊর্ধ্বাকাশে যাত্রা করলেন।আমরা যখন প্রথম আসমানে গিয়ে পৌঁছলাম, তখন জিবরীল (আঃ) এ আসমানের দারোয়ানকে বললেন, দরজা খুলুন, তিনি বললেন কে? বললেন, জিবরীল। দারোয়ান বললেন, আপনার সাথে কি অন্য কেউ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমার সাথে মুহাম্মাদ (ﷺ) আছেন। দারোয়ান বললেন, তাঁর কাছে আপনাকে পাঠানো হয়েছিল কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর দরজা খুলে দেয়া হলো। আমরা প্রবেশ করে দেখি, এক ব্যক্তি তাঁর ডানে একদল মানুষ এবং বাঁয়ে একদল মানুষ। যখন তিনি ডান দিকে তাকান তখন হাসেন, আর যখন বাঁ দিকে তাকান তখন কাঁদেন। তিনি আমাকে বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী। হে সুযোগ্য সন্তান!রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি জিবরীলকে বললাম, ইনি কে? তিনি বললেন, ইনি আদম (আঃ) আর ডান ও বাঁয়ের এ লোকগুলো তাঁর বংশধর। ডান দিকের লোকেরা হচ্ছে জান্নাতবাসী আর বাম দিকের লোকেরা হচ্ছে জাহান্নামবাসী। আর এ কারণেই তিনি ডান দিকে তাকালে হাসেন এবং বাঁ দিকে তাকালে কাঁদেন।তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বারোহণ করলেন এবং দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছলেন এবং এর দারোয়ানকে বললেন, দরজা খুলুন। তিনি প্রথম আসমানের দারোয়ানের ন্যায় প্রশ্নোত্তর করে দরজা খুলে দিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন যে, তিনি আসমানসমূহে আদম, ইদ্রীস, মূসা এবং ইবরাহীম (আঃ)-এর সাথে দেখা করেছেন। আদম (আঃ) প্রথম আসমানে এবং ইবরাহীম (আঃ) ৬ষ্ঠ আসমানে। এ ছাড়া অন্যান্য নবীর অবস্থান সম্পর্কে এ রিওয়ায়াতে কিছু উল্লেখ নেই।আনাস (রাঃ) বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও জিবরীল (আঃ) ইদ্রীস (আঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, মারহাবা, হে সুযোগ্য নবী! সুযোগ্য ভ্রাতা! রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? জিবরীল (আঃ) উত্তর দিলেন; ইনি ইদ্রীস (আঃ)। তারপর আমরা মূসা (আঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনিও বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী, সুযোগ্য ভ্রাতা! জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি মূসা (আঃ)। তারপর আমরা ঈসা (আঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনিও বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী! সুযোগ্য ভ্রাতা! জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি ঈসা ইবনে মারইয়াম। তারপর আমরা ইবরাহীম (আঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তিনিও বললেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবী! সুযোগ্য সন্তান! জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি বললেন, ইনি ইবরাহীম (আঃ)।ইবনু শিহাব, ইবনু হাযম, ইবনু আব্বাস ও আবু হাব্বাহ আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে নিয়ে আরো ঊর্ধ্বে চললেন। আমরা এমন এক স্তরে পৌঁছলাম যে তথায় আমি কলমের খশখশ শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।ইবনু হাযম ও আনাস ইবনু মালিক বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেন। আমি এ নিয়ে ফেরার পথে মূসা (আঃ)-এর সাথে দেখা হয়। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনার প্রতিপালক আপনার উম্মতের উপর কি ফরজ করেছেন? আমি উত্তরে বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে। মূসা (আঃ) আমাকে বললেন, আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান; কেননা আপনার উম্মত এতে সক্ষম হবে না।তাই আমি আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলাম। তখন আল্লাহ এর অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি আবার ফিরে এসে মূসা (আঃ)-কে জানালে তিনি বললেন, না। আপনি পুনরায় ফিরে যান; কেননা আপনার উম্মত এতেও সক্ষম হবে না।রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: তারপর আমি আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলে তিনি বললেন, এ নির্দেশ পাঁচ, আর পাঁচই পঞ্চাশের সমান করে দিলাম, আমার কথার কোন রদবদল নেই। এরপর আমি মূসা (আঃ)-এর নিকট ফিরে আসি। তিনি তখনো বললেন, আপনি ফিরে যান আল্লাহর দরবারে। আমি বললাম: আমার লজ্জা লাগছে।তারপর জিবরীল (আঃ) আমাকে ‘সিদরাতুল মুনতাহা’ নিয়ে চললেন, আমরা পৌঁছলাম। তা এর বিচিত্র রঙে আবৃত যে, আমি বুঝতে পারছি না যে, আসলে তা কী? তারপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো। তথায় ছিল মুক্তার গম্বুজ আর তার মাটি ছিল মিশকের।
৩০৫
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সালাত ফরয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)
রাবী বলেন, আনাস (রাঃ) সম্ভবত তাঁর সম্প্রদায়ের জনৈক মালিক ইবনু সাসআহ (রাঃ) বলেন যে, ‘নবী (ﷺ) বলেন, একদিন আমি কাবা শরীফের নিকটে নিদ্রা ও জাগরণের মাঝামাঝি ছিলাম। তখন তিন ব্যক্তির মধ্যবর্তী একজনকে কথা বলতে শুনতে পেলাম। যা হোক তিনি আমার নিকট এসে আমাকে নিয়ে গেলেন। তারপর আমার নিকট একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হলো, তাতে যমযমের পানি ছিল। এরপর তিনি আমার বক্ষদেশ এখান থেকে ওখান পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন। বর্ণনাকারী কাতাদাহ (রহঃ) বলেন, আমি আমার পার্শ্বস্থ একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এখান থেকে ওখান পর্যন্ত’ বলে কি বুঝাতে চেয়েছেন? তিনি জবাব দিলেন, “বুক থেকে পেটের নিচ পর্যন্ত।”রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এরপর আমার হৃদপিণ্ডটি বের করা হলো এবং যমযমের পানি দিয়ে তা ধুয়ে পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করে দেয়া হলো। ঈমান ও হিকমাতে আমার হৃদয় পূর্ণ করে দেয়া হলো। এরপর আমার নিকট বুরাক নামের একটি সাদা জন্তু উপস্থিত করা হয়। এটি গাধা থেকে কিছু বড় এবং খচ্চর থেকে ছোট। যতদূর দৃষ্টি যায় একেক পদক্ষেপে সে ততদূর চলে। এর উপর আমাকে আরোহণ করানো হলো। আমরা চললাম এবং দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌঁছলাম। জিবরীল (আঃ) দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বললেন, জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বললেন, আমার সাথে মুহাম্মাদ (ﷺ) আছেন। দ্বাররক্ষী বললেন, তাঁর কাছে আপনাকে পাঠানো হয়েছিল কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর দরজা খুলে দিলেন এবং বললেন, মারহাবা! কত সম্মানিত আগন্তুকের আগমন হয়েছে।রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তারপর আমরা আদম (আঃ)-এর নিকট আসলাম ..... এভাবে বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করে যান। তবে এ রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্বিতীয় আসমানে ঈসা ও ইয়াহিয়া, তৃতীয় আসমানে ইউসুফ, চতুর্থ আসমানে ইদ্রিস, পঞ্চম আসমানে হারূন (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তারপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে গিয়ে পৌঁছি এবং মূসা (আঃ)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে সালাম দেই। তিনি বললেন, মারহাবা, হে সুযোগ্য নবী, সুযোগ্য ভ্রাতা! এরপর আমরা তাঁকে অতিক্রম করে চলে গেলে তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। আওয়াজ এল, তুমি কেন কাঁদছো? তিনি জবাব দিলেন, প্রভু! এ বালককে আপনি আমার পরে পাঠিয়েছেন, অথচ আমার উম্মত অপেক্ষা তাঁর উম্মত অধিক সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমরা আবার চললাম এবং সপ্তম আসমানে গিয়ে পৌঁছলাম ও ইবরাহীম (আঃ)-এর নিকট আসলাম। সাহাবা তা এ হাদীসে আরো উল্লেখ করেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেন, সেখানে তিনি চারটি নহর দেখেছেন। তন্মধ্যে দুইটি প্রকাশ্য ও দুইটি অপ্রকাশ্য। সবগুলোই সিদরাতুল মুন্তাহার গোড়া হতে প্রবাহিত। নবী (ﷺ) বলেন, আমি বললাম, হে জিবরীল! এ নহরগুলো কি? তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য নহরদ্বয় তো জান্নাতের নহর আর প্রকাশ্যগুলো নীল ও ফুরাত। অর্থাৎ এ দুইটি নহরের সাদৃশ্য রয়েছে জান্নাতের ঐ দুইটি নহরের সাথে।এরপর আমাকে বাইতুল মামূর-এ উঠানো হলো। বললাম, হে জিবরীল! এ কি? তিনি বললেন, এ হচ্ছে ‘বাইতুল মামূর’। প্রত্যহ এতে সত্তর হাজার ফেরেশতা (তাওয়াফের জন্য) প্রবেশ করে। তারা একবার তাওয়াফ সেরে বের হলে কখনো আর ফের তাওয়াফের সুযোগ হয় না তাদের। তারপর আমার সম্মুখে দুইটি পাত্র পেশ করা হলো- একটি শরাবের, অপরটি দুধের। আমি দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলাম। তিনি আমাকে বললেন, আপনি ঠিক করেছেন। আল্লাহ আপনার উম্মতকেও আপনার ওয়াসীলায় ফিতরাতের উপর কায়িম রাখুন। তারপর আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয় ..... এভাবে বর্ণনাকারী হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন।
৩০৬
রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সলাত ফারয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
মালিক ইবনু সা’সা’আহ্‌ (রাযিঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে রাবী এতে ..... এরপর আমার নিকট ঈমান ও হিকমত ভর্তি একটি রেকাবি আনা হলো এবং আমার বুকের উপরিভাগ হতে পেটের নিম্নাংশ পর্যন্ত বিদীর্ণ করা হলো ও জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করে হিকমত ও ঈমান দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়া হলো, এ অংশটুকু অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে।
৩০৭
রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মি’রাজ ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেন: মূসা (আঃ) হচ্ছেন শানুআহ গোত্রীয় লোকদের ন্যায় দীর্ঘদেহী, গন্দম (গম) বর্ণের। ঈসা (আঃ) মধ্যমাকৃতি সুঠাম দেহ বিশিষ্ট। তাছাড়া রসূলুল্লাহ (ﷺ) জাহান্নামের রক্ষী মালিক ও দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেছিলেন। পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাযিঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মি’রাজ ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে বলেন: মূসা (আঃ) হচ্ছেন শানুআহ গোত্রীয় লোকদের ন্যায় দীর্ঘদেহী, গন্দম (গম) বর্ণের। ঈসা (আঃ) মধ্যমাকৃতি সুঠাম দেহ বিশিষ্ট। তাছাড়া রসূলুল্লাহ (ﷺ) জাহান্নামের রক্ষী মালিক ও দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
৩০৮
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সালাত ফরয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাযিঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ মি’রাজের রাতে আমি মূসা (আঃ)-এর নিকট দিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি দেখতে গম বর্ণের, দীর্ঘদেহী অনেকটা দেখতে শানুয়া গোত্রীয় লোকদের ন্যায়। ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)-কে দেখেছি, তাঁর রং ছিল শ্বেত লাল, সুঠামদেহী আর তাঁর চুলগুলো ছিল স্বাভাবিক।বর্ণনাকারী বলেন, যে নিদর্শনসমূহ কেবল তাকেই দেখানো হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে জাহান্নামের রক্ষী মালিককে এবং দাজ্জালকে দেখানো হয়। “অতএব তুমি তাঁর সাক্ষাৎ সম্পর্কে সন্দেহ করো না”। (সূরা সিজদা ৩২:২৩) এ আয়াতের তাফসীরে কাতাদাহ (রহঃ) বলতেন যে, নবী (ﷺ) মূসা (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
৩০৯
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সালাত ফরয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আযরাক উপত্যকা অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, তখন বললেন, এটি কোন উপত্যকা? সঙ্গীগণ উত্তর দিলেন, আযরাক উপত্যকা। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “আমি যেন মূসা (আঃ)-কে গিরিপথ থেকে অবতরণ করতে দেখেছি, তিনি উচ্চৈঃস্বরে তলবিয়া পাঠ করছিলেন।”তারপর রসূল (ﷺ) হারশা গিরিপথে আসলেন। তিনি বললেন, “এটি কোন গিরিপথ?” সঙ্গীগণ বললেন, “হারশা গিরিপথ।” রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “আমি যেন ইউনুস ইবনু মত্তা (আঃ)-কে দেখছি। তিনি সুঠামদেহী লাল উটের পিঠে আরোহিত। গায়ে একটি পশমী জুব্বা, আর তাঁর উটের রশিটি খেজুরের ছাল দিয়ে তৈরি।” ইবনু হাম্বল তাঁর হাদীসে বলেনঃ হুশায়ম বলেছেন, এর অর্থ খেজুর বৃক্ষের ছাল।
৩১০
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মি’রাজ এবং সালাত ফরয হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু আব্বাস (রাযি:)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে আমরা মাক্কা ও মাদীনা মধ্যকার এক স্থানে সফর করছিলাম। আমরা একটি উপত্যকা অতিক্রম করছিলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন উপত্যকা? সঙ্গীগণ উত্তর করলেন, আযরাক উপত্যকা। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি যেন এখনো মূসা (আঃ)-কে দেখতে পাচ্ছি, তিনি তাঁর কর্ণদ্বারের ছিদ্রে অঙ্গুলি রেখে উচ্চস্বরে তালবিয়াহ পাঠ করে এ উপত্যকা অতিক্রম করে যাচ্ছেন।বর্ণনাকারী বলেন, এখানে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মূসা (আঃ)-এর দেহের বর্ণ ও চুলের আকৃতি সম্পর্কে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু রাবী দাঊদ তা স্মরণ রাখতে পারেননি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারপর আমরা সামনে আরো অগ্রসর হলাম এবং একটি গিরিপথে এসে পৌঁছলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, এটি কোন গিরিপথ? সঙ্গীগণ বললেন হারশা কিংবা লিফত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি যেন এখনো ইউনুস (আঃ)-কে দেখতে পাচ্ছি তালবিয়াহ পাঠ করা অবস্থায় তিনি গিরিপথ অতিক্রম করে যাচ্ছেন। তাঁর গায়ে একটি পশমি জুব্বা, আর তিনি একটি লাল উটের পিঠে আরোহিত। তাঁর উটের রশিটি খেজুর বৃক্ষের ছাল দ্বারা তৈরি।