৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৪১
মহান আল্লাহর দর্শন পথের জ্ঞান পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
সাহাবীগণ রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কেয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের রবকে দেখতে পাব? ..... এরপর রাবী ইবরাহীম ইবনু সা’দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন।
৩৪২
মহান আল্লাহর দর্শন পথের জ্ঞান পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ)
আবু হুরায়রা (রাঃ) আমাদেরকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কতিপয় হাদিস বর্ণনা করেন। তন্মধ্যে এটিও ছিল, তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের জান্নাতীকে বলা হবে যে, তুমি কামনা কর। সে কামনা করতে থাকবে এবং আরো কামনা করবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি কি কামনা করেছ? সে বলবে, হ্যাঁ। আল্লাহ বলবেন, যা কামনা করেছ তা এবং এর অনুরূপ তোমাকে প্রদান করা হল।
৩৪৩
মহান আল্লাহর দর্শন পথের জ্ঞান পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে কতিপয় লোক তাঁকে জিজ্ঞেস করে বলল, হে আল্লাহর রসূল! কেয়ামত দিবসে আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ! তিনি আরো বললেনঃ দুপুরে মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে কি তোমাদের কষ্ট হয়? চন্দ্রের চৌদ্দ তারিখে মেঘমুক্ত অবস্থায় চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কষ্ট হয়? সকলে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! তা হয় না। নবী (ﷺ) বললেনঃ ঠিক তদ্রূপ কেয়ামত দিবসে তোমাদের বারাকাতময় মহামহিম প্রতিপালককে দেখতে এতটুকুও কষ্ট হবে না যেমন চাঁদ ও সূর্য দেখতে কষ্ট হয় না। সে দিন এক ঘোষণাকারী ঘোষণা দিবে, ‘যে যার উপাসনা করতো সে আজ তার অনুসরণ করুক।’ তখন আল্লাহ ব্যতীত তারা অন্য দেব-দেবী ও মূর্তিপূজার বেদীর উপাসনা করত তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না; সকলেই জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। সৎ হোক বা অসৎ যারা আল্লাহর ইবাদত করত তারাই কেবল অবশিষ্ট থাকবে এবং কিতাবীদের (যারা দেব-দেবী ও বেদীর উপাসক ছিল না তারাও বাকী থাকবে)।এরপর ইয়াহুদীদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে, আল্লাহর পুত্র উজায়র-এর। তাদেরকে বলা হবে মিথ্যা বলছো। আল্লাহ কোন স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। তোমরা কি চাও? তারা বলবে, হে আল্লাহ! আমাদের খুবই পিপাসা পেয়েছে। আমাদের পিপাসা নিবারণ করুন। প্রার্থনা শুনে তাদেরকে ইঙ্গিত করে মরীচিকাময় জাহান্নামের দিকে জমায়েত করা হবে। সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা যেন পানির ঢেউ খেলবে। এর একাংশ আরেক অংশকে গ্রাস করতে থাকবে। তারা এতে ঝাঁপিয়ে পড়বে। এরপর খ্রিস্টানদেরকে ডাকা হবে, বলা হবে, তোমরা কার ইবাদত করতে? তারা বলবে, আল্লাহর পুত্র মাসীহ-এর (ঈসার) উপাসনা করতাম। বলা হবে, মিথ্যা বলছ। আল্লাহ কোন স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি। জিজ্ঞেস করা হবে, এখন কি চাও? তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের দারুণ পিপাসা পেয়েছে, আমাদের পিপাসা নিবারণ করুন। তখন তাদেরকেও পানির ঘাটে যাবার ইঙ্গিত করে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নিয়ে জমায়েত করা হবে। এটিকে মরীচিকার ন্যায় মনে হবে। সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা যেন পানির ঢেউ খেলবে। এর একাংশ অপর অংশকে গ্রাস করে নিবে। তারা তখন জাহান্নামে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকবে।শেষে সৎ হোক বা অসৎ এক আল্লাহর উপাসক ব্যতীত আর কেউ (ময়দানে) অবশিষ্ট থাকবে না। তখন আল্লাহ তা’আলা পরিচিত আকৃতিতে তাদের নিকট আসবেন। বলবেন, সবাই তাদের স্ব স্ব উপাস্যের অনুসরণ করে চলে গেছে, আর তোমরা কার অপেক্ষা করছ? তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! যেখানে আমরা বেশী মুখাপেক্ষী ছিলাম সে দুনিয়াতেই আমরা অপরাপর মানুষ থেকে পৃথক থেকেছি এবং তাদের সঙ্গী হইনি। তখন আল্লাহ বলবেন, আমিই তো তোমাদের প্রভু। মুমিনরা বলবে, “আমরা তোমার থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি” — আল্লাহর সঙ্গে আমরা কিছুই শরীক করি না। এ কথা তারা দুই বা তিনবার বলবে। এমন কি কেউ কেউ অবাধ্যতা প্রদর্শনেও অবতীর্ণ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলবেন, আচ্ছা, তোমাদের নিকট এমন কোন নিদর্শন আছে যদ্বারা তাঁকে তোমরা চিনতে পার? তারা বলবে অবশ্যই আছে। এরপর পায়ের সাক উন্মোচিত হবে। তখন পৃথিবীতে যারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করত, সে মুহূর্তে তাদেরকে আল্লাহ সিজদা করার অনুমতি দিবেন এবং তারা সবাই সিজদাবনত হয়ে পড়বে।আর যে কেউ ভীতি অথবা লোক দেখানোর জন্য সিজদা করত তার মেরুদণ্ড শক্ত ও অনমনীয় করে দেয়া হবে। যখনই তারা সিজদা করতে ইচ্ছা করবে তখনই তারা চিৎ হয়ে পড়ে যাবে। অতঃপর তারা তাদের মাথা উঠাবে এবং তিনি তাঁর আসলরূপে আবির্ভূত হবেন। অতঃপর বলবেন, আমি তোমাদের রব, তারা বলবে, হ্যাঁ! আপনি আমাদের রব। তারপর জাহান্নামের উপর “জাসর” (পুল) স্থাপন করা হবে। শাফাআতেরও অনুমতি দেয়া হবে। মানুষ বলতে থাকবে, হে আল্লাহ! আমাদের নিরাপত্তা দিন, আমাদের নিরাপত্তা দিন। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! “জাসর” কী? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটি এমন স্থান যেখানে পা পিছলে যায়। সেখানে আছে নানা প্রকারের লৌহ শলাকা ও কাঁটা, দেখতে নাজদের সাদান বৃক্ষের কাঁটার ন্যায়।মুমিনদের কেউ তো এ পথ চোখের পলকের গতিতে, কেউ বিদ্যুৎ গতিতে, কেউ বায়ুর গতিতে, কেউ উত্তম অশ্ব গতিতে, কেউ উষ্ট্রের গতিতে অতিক্রম করবে। কেউ তো অক্ষত অবস্থায় নাজাত পাবে, আর কেউ তো হবে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় নাজাতপ্রাপ্ত। আর কতককে কাঁটাবিদ্ধ অবস্থায় জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। অবশেষে মুমিনরা জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সে সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, ঐ দিন মুমিনরা তাদের ঐ সব ভাইদের জন্য আল্লাহর সাথে এত অধিক অনুরোধ করবে যারা জাহান্নামে রয়ে গেছে যে, তোমাদের পার্থিব অধিকারের ক্ষেত্রেও এমন অনুরোধ করবে না। তারা বলবে, হে রব! এরা তো আমাদের সাথেই সিয়াম, সালাত আদায় করত, হজ্জ করত। তখন তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে; যাও, তোমাদের পরিচিতদের উদ্ধার করে আন। উল্লেখ্য, এরা জাহান্নামে পতিত হলেও মুখমণ্ডল আজাব থেকে রক্ষিত থাকবে (তাই তাদেরকে চিনতে কোন অসুবিধা হবে না)।মুমিনরা জাহান্নাম হতে এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে আনবে। এদের অবস্থা এমন হবে যে, কারো তো পায়ের নলা পর্যন্ত, আবার কারো হাঁটু পর্যন্ত দেহ আগুন ছাই করে দিবে। উদ্ধার শেষ করে মুমিনরা বলবে, হে রব! যাদের সম্পর্কে আপনি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, তাদের মাঝে আর কেউ অবশিষ্ট নেই। আল্লাহ বলবেন, পুনরায় যাও, যার অন্তরে এক দীনার পরিমাণও ভালো রয়েছে তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন তারা আরো একদলকে উদ্ধার করে এনে বলবে, হে রব! অনুমতিপ্রাপ্তদের কাউকেও রেখে আসিনি। আল্লাহ বলবেন: আবার যাও, যার অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণও ভালো রয়েছে তাকেও বের করে আন। তখন আবার এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! যাদের আপনি উদ্ধার করতে বলেছিলেন তাদের কাউকে ছেড়ে আসিনি। আল্লাহ বলবেন: আবার যাও, যার অন্তরে অণু পরিমাণও ভালো রয়েছে তাকেও উদ্ধার করে আন। তখন আবারও এক বিরাট দলকে উদ্ধার করে এনে তারা বলবে, হে রব! যাদের কথা বলেছিলেন তাদের কাউকেও রেখে আসিনি। সাহাবা আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, তোমরা যদি এ হাদিসের ব্যাপারে আমাকে সত্যবাদী মনে না কর তবে এর সমর্থনে নিম্নোক্ত আয়াতটি চাইলে তিলাওয়াত করতে পার: “আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না এবং অণু পরিমাণ নেক কাজ হলেও আল্লাহ তা দ্বিগুণ করে দেন এবং তাঁর নিকট হতে মহাপুরস্কার প্রদান করেন”— (সূরা আন নিসা ৪:৪০)।এরপর আল্লাহ তা’আলা বলবেন: ফেরেশতারা সুপারিশ করলেন, নবীগণও সুপারিশ করলেন এবং মুমিনরাও সুপারিশ করেছে, কেবলমাত্র আরহামুর রাহিমীন-পরম দয়াময়ই রয়ে গেছেন। এরপর তিনি জাহান্নাম থেকে এক মুঠো তুলে আনবেন, ফলে এমন একদল লোক মুক্তি পাবে যারা কখনো কোন ভালো কাজ করেনি এবং আগুনে জ্বলে কালো হয়ে গেছে। পরে তাদেরকে জান্নাতের প্রবেশ মুখের ‘নাহরুল হায়াতে’ ফেলে দেয়া হবে। তারা এতে এমনভাবে সতেজ হয়ে উঠবে, যেমনভাবে শস্য অঙ্কুর স্রোতবাহিত পানি ভেজা উর্বর জমিতে সতেজ হয়ে উঠে। (রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন:) তোমরা কি কোন বৃক্ষ কিংবা পাথরের আড়াল কোন শস্যদানা অঙ্কুরিত হতে দেখনি? যেগুলো সূর্য কিরণের মাঝে থাকে সেগুলো হলুদ ও সবুজ রূপ ধারণ করে, আর যেগুলো ছায়াযুক্ত স্থানে থাকে সেগুলো সাদা হয়ে যায়। সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! মনে হয় আপনি যেন গ্রামাঞ্চলে পশু চরিয়েছেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এরপর তারা নহর থেকে মুক্তার ন্যায় ঝকঝকে অবস্থায় উঠে আসবে এবং তাদের গ্রীবাদেশে মোহরাঙ্কিত থাকবে যা দেখে জন্নাতীরা তাদের চিনতে পারবেন।এরা হল ‘উতাকাউল্লাহ’—আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত। আল্লাহ তা’আলা সৎ আমল ব্যতীতই তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন। এরপর আল্লাহ তাদেরকে লক্ষ্য করে বলবেন: যাও, জান্নাতে প্রবেশ কর। আর যা কিছু দেখছ সব কিছু তোমাদেরই। তারা বলবে, হে রব! আপনি আমাদেরকে এত দিয়েছেন যা সৃষ্টজগতের কাউকে দেননি। আল্লাহ বলবেন: তোমাদের জন্য আমার নিকট এর চেয়েও উত্তম বস্তু আছে। তারা বলবে, কী সে উত্তম বস্তু? আল্লাহ বলবেন: সে হলো আমার সন্তুষ্টি। এরপর আর কখনো তোমাদের উপর অসন্তুষ্ট হবো না।ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেনঃ শাফাআতের সম্পর্কীয় এ হাদিসটি আমি ঈসা ইবনু হাম্মাদ যুগবাতুর মিসরী-এর নিকট পাঠ করতে বললাম, আপনি লায়স ইবনু সা’দ থেকে নিজে এ হাদিসটি শুনেছেন? আমি কি আপনার পক্ষ থেকে এ হাদিসটি বর্ণনা করতে পারি? তিনি উত্তর করলেন, হ্যাঁ! এরপর আমি ঈসা ইবনু হাম্মাদকে হাদিসটি এ সূত্রে শুনিয়েছি যে, ঈসা ইবনু হাম্মাদ (রহঃ) আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আমাদের প্রভুকে দেখতে পাব? রসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তর করলেন: মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখতে ভীড়ের কারণে তোমাদের কি কোন অসুবিধা হয়? আমরা বললাম, না .....। এভাবে হাদিসটির শেষ পর্যন্ত তুলে ধরলাম। এ হাদিসটি হাফিজ ইবনু মাইসারাহ বর্ণিত হাদিসেরই অনুরূপ। তিনি بِغَيْرِ عَمَلٍ عَمِلُوهُ وَلاَ قَدَمٍ قَدَّمُوهُ এ অংশটুকুর পর فَيُقَالُ لَهُمْ لَكُمْ مَا رَأَيْتُمْ অর্থাৎ তাদের বলা হবে: তোমাদের জন্য রয়েছে যা তোমরা দেখছ। আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেন, আমার কাছে রেওয়ায়াতে পৌঁছেছে যে, ‘জাসর’ (পুল) চুল অপেক্ষা বেশ সূক্ষ্ম ও তরবারি অপেক্ষা বেশ তীক্ষ্ণ। তাছাড়া লায়সের হাদিসে فَيَقُولُونَ رَبَّنَا أَعْطَيْتَنَا مَا لَمْ تُعْطِ أَحَدًا مِنَ الْعَالَمِينَ বাক্যটির পরবর্তী অংশগুলো উল্লেখ নেই।
৩৪৪
মহান আল্লাহর দর্শন পথের জ্ঞান পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু আসলাম (রাঃ)
পূর্ব বর্ণিত হাদিসদ্বয়ের সনদে হাফস ইবনু মায়সারার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে এ বর্ণনায় শব্দগুলো কিছু কম আছে।
৩৪৫
শাফা’আত ও তাওহীদবাদীদের জাহান্নাম থেকে উদ্ধার লাভের প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতীদেরকে আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তাঁর রহমতেই তিনি যাকে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।তারপর (ফেরেশতাদেরকে) বলবেন : যার অন্তরে সরিষা দানা পরিমাণও ঈমান দেখতে পাবে তাকেও জাহান্নাম থেকে উদ্ধার করে আনবে এবং তারা এমন কিছু লোককে সেখান থেকে বের করে আনবে, যারা আগুনে জ্বলে কালো হয়ে গেছে এবং ‘হায়াত’ বা ‘হায়া’ নামক নহরে নিক্ষেপ করবে।তখন তারা এতে এমন সতেজ হয়ে উঠবে যেমনভাবে শস্য অঙ্কুর স্রোতবাহিত পলিতে সতেজ হয়ে উঠে। তোমরা কি দেখনি, কত সুন্দররূপে সে শস্যদানা কেমনভাবে হলুদ মাথা মোড়ানো অবস্থায় অঙ্কুরিত হয়?
৩৪৬
শাফা’আত ও তাওহীদবাদীদের জাহান্নাম থেকে উদ্ধার লাভের প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
উহায়ব ও খালিদ উভয়ে ‘আম্‌র ইবনু ইয়াহ্‌ইয়ার
উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ অতঃপর তাদেরকে (জাহান্নাম থেকে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত লোকদের) ‘হায়াত’ নামক নহরে ফেলে দেয়া হবে। খালিদের বর্ণনায় আছে, প্লাবনে সিক্ত মাটিতে বীজ যেমন অঙ্কুরিত হয়ে উঠে। উহাইবের বর্ণনায় রয়েছে : যেমন বীজ আপনা আপনি তরতাজা হয়ে ওঠে পানির স্রোতের কিনারায় কাদা মাটির মধ্যে।
৩৪৭
শাফা’আত ও তাওহীদবাদীদের জাহান্নাম থেকে উদ্ধার লাভের প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জাহান্নামীদের মধ্যে যারা প্রকৃত জাহান্নামী, তাদের মৃত্যুও ঘটবে না এবং তারা বেঁচেও থাকবে না। তবে তাদের মধ্যে এমন কতিপয় লোকও থাকবে যারা গুনাহের দায়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এরপর আল্লাহ তা‘আলা (তাদের উপর পতিত ‘আযাবের নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে) তাদেরকে কিছুকাল নির্জীব করে রেখে দিবেন। অবশেষে তারা পুড়ে কয়লার মতো হয়ে যাবে। এ সময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে শাফা‘আতের অনুমতি হবে। তখন এদেরকে দলে দলে নিয়ে আসা হবে এবং জান্নাতের নহরগুলোতে ছড়িয়ে দেয়া হবে। পরে বলা হবে, হে জান্নাতীরা! তোমরা এদের গায়ে পানি ঢেলে দাও। ফলতঃ স্রোতবাহিত পলিতে গজিয়ে উঠা শস্য দানার ন্যায় তারা সজীব হয়ে উঠবে। উপস্থিতদের মধ্যে একজন বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) যেন এককালে গ্রামে অবস্থান করতেন।
৩৪৮
শাফা’আত ও তাওহীদবাদীদের জাহান্নাম থেকে উদ্ধার লাভের প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে ‘ফী হামিলিস সাইলি’ কথাটি পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তবে পরবর্তী অংশটুকু উল্লেখ করেননি।
৩৪৯
জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তি পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জাহান্নাম থেকে সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ও জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী লোকটিকে আমি অবশ্যই জানি। সে হামাগুড়ি দিয়ে বা হেঁচড়ে হেঁচড়ে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে। আল্লাহ তা’আলা তাকে বলবেন : যাও জান্নাতে প্রবেশ করো। সে সেখানে আসবে। আর তার ধারণা হবে যে, তাতো পূর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে কোনো স্থান নেই তাই সে ফিরে এসে বলবে, হে প্রভু! আমিতো তা পরিপূর্ণ পেয়েছি।আল্লাহ তা’আলা আবার তাকে বলবেন : যাও জান্নাতে প্রবেশ করো। তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ এ ব্যক্তি সেখানে আসলে তার ধারণা হবে যে, তাতো পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সে ফিরে এসে বলবে, হে প্রভু! আমিতো তা পূর্ণ পেয়েছি। আল্লাহ তাকে পুনরায় বলবেন : যাও জান্নাতে প্রবেশ করো। তোমাকে দুনিয়ার মতো এবং তার দশগুণ দেওয়া হলো। অথবা তিনি বলেছেন, তোমাকে পৃথিবীর দশগুণ দেওয়া হলো। অতঃপর সে বলবে, আপনি কি আমার সাথে ঠাট্টা করছেন? অথবা সে বলবে, এ সময় আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এমনভাবে হাসতে দেখেছি যে, তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত প্রকাশ হয়ে পড়েছিল। এ হবে সবচেয়ে নিম্নশ্রেণীর জান্নাতি।
৩৫০
জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ব্যক্তি পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জাহান্নাম থেকে সর্বশেষ বের হয়ে আসা লোকটিকে অবশ্যই আমি জানি। সে হেঁচড়িয়ে হেঁচড়িয়ে জাহান্নাম থেকে বেরিয়ে আসবে। তারপর তাকে বলা হবে, যাও জান্নাতে প্রবেশ করো। সে গিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে লোকদেরকে দেখতে পাবে যে, তারা পূর্বেই জান্নাতের সকল স্থান দখল করে রেখেছে।তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমার কি পূর্বকালের কথা (জাহান্নামের) স্মরণ আছে? সে বলবে, হ্যাঁ! তাকে বলা হবে : তুমি কামনা করো। সে তখন কামনা করবে। তখন তাকে বলা হবে, যাও, তোমার আশা পূর্ণ করলাম। সেই সাথে পৃথিবীর আরও দশগুণ বেশি প্রদান করলাম। লোকটি বলবে, আপনি সর্বশক্তিমান প্রভু! আর আপনি আমার সাথে তামাশা করছেন? সাহাবা বলেন, এ কথাটি বলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) এত হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে গেল।