৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৩২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৩১১
মুত্‌‘আহ্‌ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
রাবী’ ইবনু সাব্‌রাহ্‌ (রহঃ)
তাঁর পিতা মক্কা বিজয় অভিযানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। আমরা তথায় ১৫ দিন অর্থাৎ পূর্ণ ১৩ দিন এবং এক দিন ও এক রাত অবস্থান করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মুত‘আর অনুমতি দিলেন। তখন আমি এবং আমার গোত্রের একজন ব্যক্তি বেরিয়ে পড়লাম। আমি তার তুলনায় আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী ছিলাম এবং সে ছিল প্রায় কুৎসিত। আমাদের উভয়ের সাথে একটি করে চাদর ছিল। আমার চাদরটি ছিল পুরাতন এবং আমার চাচাত ভাইয়ের চাদরটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন।অবশেষে আমরা মক্কার নিম্নভূমিতে অথবা উচ্চভূমিতে পৌঁছে একটি যুবতী মেয়ের সাক্ষাৎ পেলাম, যাকে দেখতে উঠতি বয়সের চালাক এবং লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট উষ্ট্রীর মত। আমরা প্রস্তাব দিলাম, আমাদের দুইজনের কারো সাথে তোমার মুত‘আ বিবাহ কি সম্ভব? সে বলল, তোমরা কী বিনিময় দিবে? তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ চাদর মেলে ধরল। সে তাদের দুইজনের দিকে তাকাতে লাগল। আমার সঙ্গীও তার দিকে তাকাল। যখন স্ত্রীলোকটির দিকে তাকিয়ে বলল, তার এ চাদর পুরাতন এবং আমার চাদর একেবারে নতুন। স্ত্রীলোকটি তিনবার কি দুইবার বলল, তার চাদরটি গ্রহণে কোন ক্ষতি নেই। অতঃপর আমি তাকে মুত‘আ বিবাহ করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা হারাম ঘোষণা না করা পর্যন্ত ফিরে আসিনি।
৩৩১২
মুত্‌‘আহ্‌ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
সাবরাহ আল জুহানী (রাযিঃ)
আমরা মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে মক্কায় রওনা হলাম ..... বাকী অংশ উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ। তবে এতে রয়েছে, স্ত্রীলোকটি বলল, ‘‘এটা কি ঠিক হবে? তার চাদরটি পুরাতন এবং ছিঁড়ে গেছে।’’
৩৩১৩
মুত্‌‘আহ্‌ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
সাবরাহ আল জুহানী (রাযিঃ)
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বললেন, “হে লোক সকল! আমি তোমাদেরকে স্ত্রীলোকদের সাথে মুতআ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু অচিরেই আল্লাহ তা'আলা তা হারাম করেছেন কেয়ামত-এর দিন পর্যন্ত। অতএব যার নিকট এ ধরনের বিবাহ সূত্রে কোন স্ত্রীলোক আছে, সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয়। আর তোমরা তাদের যা কিছু দিয়েছ তা কেড়ে দিয়ো না।”
৩৩১৪
মুত্‌‘আহ্‌ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
আব্দুল ‘আযীয ইবনু ‘উমার (রাযিঃ)
তিনি (সাবরাহ আল জুহানী (রাঃ)) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে (কাবার) দরজা ও রুকনের মাঝে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি ..... বাকীঅংশ উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ।
৩৩১৫
মুত্‌‘আহ্‌ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল মালিক ইবনু রাবী’ ইবনু সাবরাহ আল জুহানী (রহঃ)
তিনি (দাদা) বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমাদের মক্কায় প্রবেশকালে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মুত’আ বিবাহের অনুমতি দান করেন। তিনি আমাদের তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত (নারী সঙ্গ ত্যাগ করে) বের হয়ে আসিনি।
৩৩১৬
মুত্‌‘আহ্‌ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
সাব্‌রাহ্‌ ইবনু মা’বাদ (রাযিঃ)
নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর তাঁর সাহাবীগণকে স্ত্রীলোকদের সাথে মুত‘আর অনুমতি দেন। সাবরা (রাঃ) বলেন, তখন আমি এবং সুলায়ম গোত্রের আমার এক সাথী বের হয়ে পড়লাম এবং শেষ পর্যন্ত বনী আমির গোত্রের এক যুবতীকে পেয়ে গেলাম। সে ছিল দীর্ঘাঙ্গী যুবতী উটনীর ন্যায়। আমরা তার নিকট মুত‘আ বিবাহের প্রস্তাব দিলাম এবং আমাদের চাদর তার সামনে পেশ করলাম।তখন সে তাকিয়ে দেখল এবং আমাকে আমার সঙ্গীর তুলনায় সুন্দর দেখতে পেল, অপরদিকে আমার চাদরের তুলনায় আমার সঙ্গীর চাদর উৎকৃষ্টতর দেখল। সে মনে মনে কিছুক্ষণ চিন্তা করল। অতঃপর আমার সঙ্গীর চাইতে আমাকে অগ্রাধিকার দিল। তারা আমাদের সাথে তিনদিনের মুত‘আ করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বিদায় করে দেয়ার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন।
৩৩১৭
মুত্‌‘আহ্‌ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
রাবী’ ইবনু সাবরাহ (রহঃ)
নবী (ﷺ) মুত'আ (বিবাহ) করতে নিষেধ করেছেন।
৩৩১৮
মুত্‌‘আহ্‌ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
রাবী’ ইবনু সাবরাহ (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের দিন মুত‘আ নিষিদ্ধ করেন।
৩৩১৯
মুত্‌‘আহ্‌ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
রাবী’ ইবনু সাবরাহ আল জুহানী (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের কালে স্ত্রীর সঙ্গে মুত'আ করতে নিষেধ করেছেন। তাঁর পিতা দুইটি লাল চাদরের বিনিময়ে মুত'আ করেছিলেন।
৩৩২০
মুত্‌‘আহ্‌ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকবে পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ্‌ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) মক্কায় (ভাষণ দিতে) দাঁড়িয়ে বললেন, কিছু লোক এমন আছে আল্লাহ (ﷻ) যেমন তাদের চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন তেমনি অন্তরকেও অন্ধ করে দিয়েছেন। তারা মুত'আর পক্ষে ফাতাওয়া দেয়। এ কথা বলে তিনি এক ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করলেন। সে ব্যক্তি ইবনু আব্বাস (রাঃ)। তাঁকে ডেকে বললেন, তুমি একটি অসভ্য ও কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যক্তি। আমার জীবনের শপথ! ইমামুল মুত্তাকীন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে মুত'আ প্রচলিত ছিল। ইবনু যুবাইর (রাঃ) তাকে বললেন, আপনি নিজে একবার করে দেখুন। আল্লাহর শপথ! আপনি যদি তা (মুত'আ) করেন তাহলে আপনার জন্য নির্ধারিত পাথর দিয়েই আপনাকে রজম (পাথর নিক্ষেপে হত্যা) করব।ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, খালিদ ইবনুল মুহাজির ইবনু সাইফুল্লাহ (রহঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এক ব্যক্তির নিকট বসা ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি এসে তাকে মুত'আ সম্পর্কে ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করে। তিনি তাকে মুত'আর অনুমতি দিলেন। ইবনু আবু আমরা আল আনসারী (রাঃ) তাকে বললেন থামুন। সে বলল, কেন? আল্লাহর শপথ! ইমামুল মুত্তাকীন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে তা করা হত।ইবনু আবু আমরা (রাঃ) বললেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে নিরুপায় অবস্থায় তার অনুমতি ছিল (যেমন নিরুপায় অবস্থায়) মৃত জীব, রক্ত ও শূকরের (গোশত ভক্ষণে) ন্যায়। অতঃপর আল্লাহ তার দীনকে শক্তিশালী এবং সুদৃঢ় করলেন এবং তা নিষিদ্ধ করলেন।ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, রাবী ইবনু সাবরা আল জুহানী আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর পিতা বলেছেন, নবী (ﷺ)-এর যুগে আমি দুইটি লাল চাদরের বিনিময়ে আমির গোত্রের একটি স্ত্রীলোকের সাথে মুত'আ করেছিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মুত'আ করতে নিষেধ করেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) আরও বলেন, আমি রাবী ইবনু সাবরাকে উমর ইবনু আবদুল আজিজ (রহঃ)-এর নিকট তা বর্ণনা করতে শুনেছি, আমি তখন (সেখানে) বসা ছিলাম।