৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৯০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৮৯১
উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীর জন্য ত্বওয়াফের পরে সা’ঈর পূর্বে ইহরাম খোলা জায়িয নয়, হাজ্জের উদ্দেশে ইহরামকারীও ত্বওয়াফে কুদূমের পর ইহরাম খুলতে পারবে না, ক্বিরান হজ্জকারীর হুকুমও অনুরূপ পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ)
ইরাকের অধিবাসী এক ব্যক্তি তাকে বলল, আমার পক্ষ থেকে আপনি উরওয়া ইবন যুবাইর (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করুন যে, এক ব্যক্তি হজের ইহরাম বাঁধল, সে বায়তুল্লাহর তাওয়াফের পর ইহরাম খুলতে পারবে কিনা? তিনি যদি আপনাকে বলেন, সে ইহরাম খুলতে পারবে না- তবে তাকে বলুন, এক ব্যক্তি বলেছে, সে ইহরাম খুলতে পারবে। রাবী বলেন, অতএব আমি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি হজ্জের ইহরাম বেঁধেছে, সে তা সমাধান না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতে পারবে না। আমি বললাম, কিন্তু এক ব্যক্তি তাই বলেছে। তিনি বললেন, সে যা বলছে তা দুঃখজনক।ইরাকের লোকটি আমার সাথে পুনরায় সাক্ষাৎ করলে আমি তাকে উপরোক্ত কথা বললাম। সে বলল, আপনি তাকে বলুন, কিন্তু এক ব্যক্তি বলে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাই করেছেন এবং আস্‌মা (রাঃ) ও যুবাইর (রাঃ) অনুরূপ করেছেন কেন? রাবী বলেন, আমি তার নিকট গিয়ে এ বিষয় তাকে জানাই। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, লোকটি কে? আমি বললাম, জানি না। তিনি বললেন, তার কী হয়েছে যে, সে নিজে আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করছে না? আমার মনে হয়, সে ইরাকি। আমি বললাম, জানি না। তিনি বললেন, সে মিথ্যা বলেছে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হজ সম্পর্কে আয়িশা (রাঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় পৌঁছে সর্বপ্রথম যে কাজ করেছেন তা ছিল এই যে, তিনি অজু করেন, এরপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছেন, অতঃপর আবু বকর (রাঃ) হজ করেছেন। তিনি (মক্কায় পৌঁছে) সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছেন এবং এরপর উমর (রাঃ)-ও অনুরূপ করেছেন। অতঃপর উসমান (রাঃ) হজ করেছেন। আমি তাকে সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে দেখেছি এবং এছাড়া অন্য কিছু করেননি। অতঃপর মুয়াবিয়া (রাঃ) ও আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-ও (অনুরূপ করেছেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইবন আওয়াম (রাঃ)-এর সাথে হজ করেছি। তিনিও সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছেন। এছাড়া অন্য কিছু করেননি। অতঃপর আমি মুহাজির ও আনসারদের অনুরূপ করতে দেখেছি। এছাড়া তারা অন্য কিছু করেননি।অতঃপর সর্বশেষে আমি যাকে অনুরূপ করতে দেখেছি, তিনি হচ্ছেন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)। তিনি হজকে উমরা দ্বারা ভঙ্গ করেননি। আর সে ইবন উমর (রাঃ) তো তাদের মধ্যে বর্তমান আছে। তারা কেন তাকে জিজ্ঞেস করছে না?এভাবে যত লোক অতীত হয়েছে, তারা মক্কায় পা রেখেই সর্বপ্রথম বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতেন। অতঃপর তারা ইহরাম খুলতেন না। আর আমি, আমার মা [আস্‌মা বিনত আবু বকর (রাঃ)] ও আমার খালা [আয়িশা (রাঃ)]-কেও দেখেছি যে, তারা মক্কায় পৌঁছে প্রথমেই বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছেন। এরপরও ইহরাম খুলেননি। আমার মা (আস্‌মা) আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি তার বোন (আয়িশা), যুবাইর (রাঃ) এবং অমুক অমুক শুধুমাত্র উমরার ইহরাম বেঁধে মক্কায় এসেছেন এবং তারা (তাওয়াফ ও সাঈর পরে) রুক্‌ন (হাজরে আসওয়াদ) স্পর্শ করার পর ইহরাম খুলেছেন। এ ব্যক্তি (ইরাকি) এ ব্যাপারে যা বলেছে, মিথ্যা বলেছে।
২৮৯২
উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীর জন্য ত্বওয়াফের পরে সা’ঈর পূর্বে ইহরাম খোলা জায়িয নয়, হাজ্জের উদ্দেশে ইহরামকারীও ত্বওয়াফে কুদূমের পর ইহরাম খুলতে পারবে না, ক্বিরান হজ্জকারীর হুকুমও অনুরূপ পরিচ্ছেদ নাই
আসমা বিনতু আবূ বকর (রাঃ)
আমরা ইহরাম বেঁধে রওনা হলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যার সাথে কুরবানির পশু রয়েছে, সে যেন ইহরাম অবস্থায় থাকে। আর যার সাথে কুরবানির পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আমার সাথে কুরবানির পশু ছিল না, তাই আমি ইহরাম খুলে ফেললাম। কিন্তু (আমার স্বামী) যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে কুরবানির পশু ছিল, তাই তিনি ইহরাম খুলেননি।রাবি বলেন, আমি আমার স্বাভাবিক পোশাক পরিধান করে বের হয়ে গিয়ে যুবায়র (রাঃ)-এর পাশে বসলাম। তিনি বললেন, আমার নিকট থেকে উঠে যাও। আমি বললাম, তুমি কি আশঙ্কা করছ যে, আমি তোমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ব?
২৮৯৩
উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীর জন্য ত্বওয়াফের পরে সা’ঈর পূর্বে ইহরাম খোলা জায়িয নয়, হাজ্জের উদ্দেশে ইহরামকারীও ত্বওয়াফে কুদূমের পর ইহরাম খুলতে পারবে না, ক্বিরান হজ্জকারীর হুকুমও অনুরূপ পরিচ্ছেদ নাই
আসমা বিনতু আবূ বাক্‌র (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে হজের ইহরাম বেঁধে (মক্কায়) পৌঁছলাম। অবশিষ্ট বর্ণনা ইবনু জুরাইজের হাদিসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে, যুবায়র (রাঃ) বললেন, “তুমি আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাও, দূরে সরে যাও।” আমি (আসমা) বললাম, “তুমি কি আশঙ্কা করছ যে, আমি তোমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ব?”
২৮৯৪
উমরার উদ্দেশে ইহরামকারীর জন্য ত্বওয়াফের পরে সা’ঈর পূর্বে ইহরাম খোলা জায়িয নয়, হাজ্জের উদ্দেশে ইহরামকারীও ত্বওয়াফে কুদূমের পর ইহরাম খুলতে পারবে না, ক্বিরান হজ্জকারীর হুকুমও অনুরূপ পরিচ্ছেদ নাই
আসমা (রাঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম ‘আবদুল্লাহ
আসমা (রাঃ) যখনই আল-হাজুন (হারাম শরীফের সীমার মধ্যে মক্কার উচ্চভূমিতে একটি পাহাড়) অতিক্রম করতেন, তখনই তিনি তাকে বলতে শুনতেন, (ﷺ)। আমরা তাঁর সঙ্গে এখানে অবতরণ করেছিলাম, আমাদের বোঝা ছিল কম, বাহনের সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং রসদও ছিল সামান্য।আমি, আমার বোন আয়িশা (রাঃ), জুবাইর (রাঃ) এবং আরও অমুক অমুক উমরা পালন করেছিলাম। আমরা যখনই বায়তুল্লাহ স্পর্শ করলাম, তখনই ইহরাম খুলে ফেললাম। এরপর তৃতীয় প্রহরে হজের ইহরাম বাঁধলাম। অধঃস্তন রাবি হারূন তার রিওয়ায়াতে বলেছেন, “আসমা (রাঃ)-এর মুক্তদাস” এবং তিনি আবদুল্লাহ নাম উল্লেখ করেননি।
২৮৯৫
হজ্জে তামাত্তু’ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
মুসলিম আল কুর্রী (রহঃ)
আমি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট তামাত্তু হজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি তার অনুমতি দিলেন কিন্তু ইবনু যুবাইর (রাঃ) তা নিষেধ করতেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, এই তো ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর মা, তিনি বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা করার অনুমতি দিয়েছেন। তোমরা তার কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস কর।রাবী বলেন, আমরা তার কাছে গেলাম, তিনি ছিলেন স্থূলদেহী এবং তার দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়েছিল। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তামাত্তু হজের অনুমতি দিয়েছেন।
২৮৯৬
হজ্জে তামাত্তু’ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ্‌ (রহঃ)
এ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। অধঃস্তন রাবী আব্দুর রহমানের বর্ণনায় “আল মুতআহ” উল্লেখ আছে- “মুতআতুল হজ্জ” নয় এবং ইবনু জাফর (রহঃ)-এর বর্ণনায় শু’আба (রহঃ) বলেন, মুসলিম আল কুররী (রহঃ) বলেছেন, তামাত্তু হজ না মুতআহ বিয়ে সম্পর্কে বলা হয়েছে, তা আমি জানি না।
২৮৯৭
হজ্জে তামাত্তু’ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
মুসলিম আল কুর্‌রী (রহঃ)
ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, নবী (ﷺ) উমরার ইহরাম বাঁধলেন এবং তাঁর সাহাবীগণ হজের ইহরাম বাঁধলেন। নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানির পশু ছিল, তারা ইহরাম খুলেননি। অন্যরা (তওয়াফ ও সাঈর পর) ইহরাম মুক্ত হয়ে গেলেন। যারা সাথে কুরবানির পশু এনেছিলেন, তালহা (রাঃ) তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অতএব তিনিও ইহরাম খুলেননি।
২৮৯৮
হজ্জে তামাত্তু’ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ্‌ (রহঃ)
পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে তার বর্ণনায় হাদীসের শেষাংশ এরূপ: “যাদের সাথে কুরবানি পশু ছিল না, তালহা ইবন উবাইদুল্লাহ (রাঃ) এবং আরও এক ব্যক্তি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অতএব তারা উভয়ে ইহরাম খুলে ফেলেন।”
২৮৯৯
হজ্জের মাসসমূহে ‘উমরাহ্‌ পালন করা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
জাহিলি যুগে লোকেরা হজের মাসসমূহে উমরাহ পালন করাকে পৃথিবীর বুকে সর্বাপেক্ষা বড় অপরাধ মনে করত এবং মুহাররম মাসকে সফর মাস হিসেবে গণনা করত। তারা বলত, যখন উটে পিঠ ভালো হয়ে যাবে, হাজীদের পদচিহ্ন লুপ্ত হয়ে যাবে এবং সফর মাস অতিবাহিত হয়ে যাবে, তখন যে ব্যক্তি উমরাহ করতে চায়, তার জন্য তা করা জায়িজ হবে।নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ (রাঃ) হজের ইহরাম বেঁধে যিলহজের চার তারিখে মক্কায় পৌঁছলে তিনি তাদের হজ্জের ইহরামকে উমরাহর ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। কিন্তু এ নির্দেশ তাদের কাছে গুরুতর কাজ বলে মনে হল। অতএব তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিরূপে ইহরামমুক্ত হব? তিনি বললেন, সম্পূর্ণরূপে ইহরামমুক্ত হবে।
২৯০০
হজ্জের মাসসমূহে ‘উমরাহ্‌ পালন করা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
আবুল ‘আলিয়াহ্ আল বার্রা (রহঃ)
তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হজের ইহরাম বাঁধলেন। তিনি যিলহজ মাসের ৪ তারিখের পর (মক্কা) পৌঁছলেন এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করতে চায়, সে তা করতে পারে।