৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৮৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৮৭১
তামাত্তু’ হাজ্জের বৈধতা পরিচ্ছেদ নাই
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেন। অবশ্য তিনি বলেছেন, “আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে হজ করেছি।” তিনি এরূপ বলেননি- “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের তা করার নির্দেশ দিয়েছেন”।
২৮৭২
তামাত্তু’ হাজ্জ পালনকারীর জন্য কুরবানী ওয়াজিব; যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য না রাখে, সে হাজ্জের অনুষ্ঠান চলাকালে তিনদিন এবং বাড়িতে প্রত্যাবর্তনের পরে সাতদিন সওম পালন করবে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তামাত্তু করেছেন, প্রথমে উমরাহ ও পরে হজ করেছেন এবং পশু কুরবানি করেছেন। তিনি যুল হুলাইফা থেকে সাথে করে কুরবানির পশু নিয়েছিলেন। এখান থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথমে উমরার, অতঃপর হজ্জের তালবিয়া পাঠ শুরু করেন। লোকেরাও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুসরণে হজের সাথে উমরা যুক্ত করে তামাত্তু করেছে। কতক লোকেরা কুরবানির পশু সাথে নিয়েছিল, আর কতকের কুরবানির পশু ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় উপনীত হয়ে লোকদের উদ্দেশে বললেন, তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানির পশু আছে, হজ শেষ না করা পর্যন্ত তাদের জন্য (সাময়িকভাবে) নিষিদ্ধ কোনো জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানির পশু নেই- তার যেন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করে মাথার চুল খাটো করার পর ইহরাম খুলে ফেলে। অতঃপর তারা (৮ যিলহজ্জ) পুনরায় হজের জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং (নির্দিষ্ট দিনে) কুরবানি করবে। কোনো ব্যক্তি কুরবানির পশু না পেলে হজ চলাকালীন সময়ে তিনদিন এবং বাড়িতে ফেরার পর সাতদিন সাওম পালন করবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় পৌঁছে প্রথমে রুকনে (হাজরে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলেন- তিন চক্কর সামান্য দ্রুতগতিতে এবং চার চক্কর ধীরগতিতে। বায়তুল্লাহর তাওয়াফ সমাপ্ত করে তিনি মাকামে ইবরাহীমের নিকট দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করলেন। অতঃপর তিনি সাফা পাহাড়ে এলেন এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাতবার সাঈ করলেন। এরপর তিনি কোনো জিনিস হালাল করেননি- যা হারাম হয়েছিল (ইহরামের কারণে অর্থাৎ তিনি ইহরামমুক্ত হননি) যে পর্যন্ত না হজ সমাপন করেন এবং কুরবানির দিন নিজের পশু কুরবানি না করেন এবং কা‘বা ঘরের তাওয়াফ করেছেন। অতঃপর যে সব জিনিস হারাম ছিল, তা তাঁর জন্য হালাল হয়ে গেল (অর্থাৎ তিনি ইহরাম খুললেন) আর যেসব লোক সাথে করে কুরবানির পশু এনেছিল, তারাও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুরূপ করেছিল।
২৮৭৩
তামাত্তু’ হাজ্জ পালনকারীর জন্য কুরবানী ওয়াজিব; যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য না রাখে, সে হাজ্জের অনুষ্ঠান চলাকালে তিনদিন এবং বাড়িতে প্রত্যাবর্তনের পরে সাতদিন সওম পালন করবে পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ) তাঁকে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর তামাত্তু হজ পালন এবং তাঁর সাথের লোকদের তামাত্তু হজ সম্পাদন সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
২৮৭৪
ক্বিরান হাজ্জ সমাপনকারী ইফরাদ হজ্জ সম্পাদনকারীর সাথেই ইহরাম খুলতে পারবে, তার আগে নয় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী হাফসা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কী ব্যাপার, লোকেরা ইহরামমুক্ত হল অথচ আপনি উমরাহ করার পরও ইহরাম খুলেননি? তিনি বললেন, “আমি আমার মাথার চুল জমাট করেছি এবং কুরবানির পশুর গলায় মালা বেঁধেছি। অতএব আমি কুরবানি না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতে পারি না।”
২৮৭৫
ক্বিরান হাজ্জ সমাপনকারী ইফরাদ হজ্জ সম্পাদনকারীর সাথেই ইহরাম খুলতে পারবে, তার আগে নয় পরিচ্ছেদ নাই
হাফ্‌সাহ্‌ (রাঃ)
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কী ব্যাপার, আপনি ইহরাম খুলেননি?... উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ।
২৮৭৬
ক্বিরান হাজ্জ সমাপনকারী ইফরাদ হজ্জ সম্পাদনকারীর সাথেই ইহরাম খুলতে পারবে, তার আগে নয় পরিচ্ছেদ নাই
হাফ্সাহ্ (রাঃ)
আমি নবী (ﷺ)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কী ব্যাপার, লোকেরা ইহরাম খুলেছে অথচ আপনি উমরাহ করার পরও ইহরাম খুলেননি? তিনি বললেন, আমি কুরবানির পশুর গলায় মালা বেঁধেছি এবং মাথার চুল জমাট করেছি। অতএব হজ্জের যাবতীয় অনুষ্ঠান শেষ না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম খুলতে পারব না।
২৮৭৭
ক্বিরান হাজ্জ সমাপনকারী ইফরাদ হজ্জ সম্পাদনকারীর সাথেই ইহরাম খুলতে পারবে, তার আগে নয় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাফসা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! ... মালিক বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ- কুরবানি না করা পর্যন্ত আমি হালাল হতে পারি না।
২৮৭৮
ক্বিরান হাজ্জ সমাপনকারী ইফরাদ হজ্জ সম্পাদনকারীর সাথেই ইহরাম খুলতে পারবে, তার আগে নয় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
হাফসা (রাঃ) আমাকে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিদায় হজের দিন তাঁর স্ত্রীদের (উমরা সমাপনের পর) নির্দেশ দিলেন তাঁরা যেন ইহরাম খুলেন।হাফসা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আপনাকে ইহরাম খুলতে কিসে বাধা দিচ্ছে? তিনি বললেন, আমি মাথার চুল আঠালো করেছি এবং সাথে কুরবানির পশু এনেছি। অতএব পশু কুরবানি না করা পর্যন্ত আমি ইহরাম খুলতে পারি না।
২৮৭৯
বাধাপ্রাপ্ত হলে হালাল হওয়ার বৈধতা এং হাজ্জে ক্বিরান বৈধ হওয়ার বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
নাফি’ (রহঃ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হাঙ্গামা [হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ও ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর মধ্যকার সংঘাত] চলাকালীন সময়ে ‘উমরা করার উদ্দেশে রওনা হন। ‘বায়তুল্লাহ পৌঁছতে আমরা যদি বাধাপ্রাপ্ত হই তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে যেরূপ করেছিলাম, এখনও তদ্রূপ করব।’ অতএব তিনি রওনা হলেন এবং ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন। তিনি সফর অব্যাহত রাখলেন যতক্ষণ না আল-বায়দা নামক স্থানে পৌঁছলেন। এখানে তিনি নিজের সঙ্গীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, ‘হজ ও ‘উমরা উভয়ের নিয়ম একই। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি যে, আমি নিজের জন্য হজকে ‘উমরার সাথে বাধ্যতামূলক করলাম।’ (বর্ণনাকারী বলেন) অতএব তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌঁছলেন, সাতবার তাওয়াফ করলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার সাঈ করলেন, এর অতিরিক্ত কিছু করেননি এবং নিজের (হজ ও ‘উমরার) জন্য এটাই (এক তাওয়াফ ও এক সাঈ) যথেষ্ট বিবেচনা করলেন এবং কুরবানি করলেন।
২৮৮০
বাধাপ্রাপ্ত হলে হালাল হওয়ার বৈধতা এং হজ্জে ক্বিরান বৈধ হওয়ার বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
নাফি’ (রহঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ এবং সালিম ইবনু আবদুল্লাহ উভয়ে আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ)-এর সাথে কথা বললেন- যে বছর হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসেছিল। তারা উভয়ে বললেন, এ বছর হজ না করলে আপনার কী ক্ষতি আছে? কারণ আমাদের আশংকা হচ্ছে- গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আপনি বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে পারবেন না।আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, যদি তা আমার ও বায়তুল্লাহ-এর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়ও তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করেছেন, আমিও তদ্রূপ করব। কুরায়শ কাফিররা যখন তাঁর ও বায়তুল্লাহর মাঝে প্রতিবন্ধক হয়েছিল, এ সময় আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি উমরার নিয়্যাত করলাম।অতঃপর তিনি রওনা হয়ে 'যুল হুলাইফা' নামক স্থানে পৌঁছে উমরার জন্য তালবিয়া পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন, যদি আমার পথ উন্মুক্ত থাকে, তবে আমি উমরা পূর্ণ করব। আর যদি আমার ও বায়তুল্লাহ-এর মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে (অনুরূপ পরিস্থিতিতে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করেছেন আমিও তাই করব। সে সময় আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন : “তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”-(সূরা আল আহযাব ৩৩ : ২১)।তিনি আবার চলতে লাগলেন, যতক্ষণ না বাইদা নামক স্থানের উপকণ্ঠে পৌঁছলেন। এখানে পৌঁছে তিনি বললেনঃ হজ্জ ও উমরার বিধান একই। যদি আমার এবং উমরার মাঝে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়, তবে আমার এবং হজের মাঝেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। আমি তোমাদের সাক্ষী করছি যে, আমি আমার উমরার সাথে হজকেও বাধ্যতামূলক করে নিলাম।অতঃপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং কুদাইদ নামক স্থানে পৌঁছে কুরবানির পশু ক্রয় করলেন। অতঃপর তিনি হজ্জ ও উমরা উভয়ের জন্য এক তওয়াফ (সাত চক্কর) ও এক সাঈ (সাফা-মারওয়ার মাঝে সাতবার দৌড়) করলেন এবং ইহরাম খুললেন না, বরং হজ সমাপন করে কুরবানীর দিন উভয়ের ইহরাম খুললেন।