৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৭৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৭৭১
কোন অসুবিধার কারনে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামানো জায়িয, মাথা কামালে ফিদ্ইয়াহ্ দেয়া ওয়াজিব এবং ফিদ্ইয়ার পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুদায়বিয়ায় তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন- মক্কায় প্রবেশের পূর্বে- তিনি যখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন এবং নিজের হাঁড়ির নিচে আগুন জ্বালাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় তার (মাথা থেকে) মুখমণ্ডলে উকুন ঝরে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “এগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে?”তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তাহলে তোমার মাথা মুড়িয়ে ফেল এবং ছয়জন মিসকিনকে এক ফারাক খাদ্য দান কর (এক ফারাকে তিন সা’), অথবা তিন দিন সাওম পালন কর অথবা একটি কুরবানি কর।” ইবনু আবু নাজীহ-এর বর্ণনায় আছে, “অথবা একটি ছাগল কুরবানি কর।”
২৭৭২
কোন অসুবিধার কারনে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামানো জায়িয, মাথা কামালে ফিদ্ইয়াহ্ দেয়া ওয়াজিব এবং ফিদ্ইয়ার পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুদায়বিয়ায় তাঁর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেন, “পোকাগুলো কি তোমার মাথায় উপদ্রব করছে?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন, “মাথা মুড়িয়ে ফেল। অতঃপর একটি বকরী কুরবানী কর অথবা তিনদিন সাওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকিনকে তিন সা’ খেজুর খেতে দাও।”
২৭৭৩
কোন অসুবিধার কারনে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামানো জায়িয, মাথা কামালে ফিদ্ইয়াহ্ দেয়া ওয়াজিব এবং ফিদ্ইয়ার পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মা‘ক্বিল (রাঃ)
আমি মসজিদে কাব ইবন উজরাহ (রাঃ)-এর নিকট বসলাম। অতঃপর আমি তাকে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, “ফিদইয়াহ হিসেবে সাওম পালন করতে হবে অথবা সদকা দিতে হবে অথবা কুরবানি করতে হবে।” কাব (রাঃ) বললেন, তা আমার সম্পর্কে নাজিল হয়েছে। আমার মাথায় কিছু কষ্ট ছিল। অতঃপর আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে যাওয়া হল এবং তখন আমার মুখমণ্ডলে উকুন গড়িয়ে পড়ছিল। নবী (ﷺ) বললেন, “আমি যা দেখছি তাতে মনে হয় যে, তোমার অসহনীয় কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে?” আমি বললাম, না। তখন আয়াত নাজিল হয়, “ফিদইয়াহ হিসেবে সাওম পালন করতে হবে, সদকা দিতে হবে অথবা কুরবানি করতে হবে।” নবী (ﷺ) বললেন, “তিনদিন সাওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকিনের প্রত্যেককে অর্ধ সা‘ করে খাদ্য দান কর।” কাব (রাঃ) বলেন, আয়াতটি বিশেষভাবে আমার প্রসঙ্গে নাজিল হয়েছে কিন্তু এর নির্দেশ সাধারণভাবে তোমাদের সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
২৭৭৪
কোন অসুবিধার কারনে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামানো জায়িয, মাথা কামালে ফিদ্ইয়াহ্ দেয়া ওয়াজিব এবং ফিদ্ইয়ার পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ)
তিনি ইহরাম অবস্থায় নবী (ﷺ)-এর সাথে রওনা হন। তাঁর মাথা ও দাড়িতে উকুন ধরে যায়। নবী (ﷺ) তা জানতে পেরে তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং একজন নাপিতও ডাকলেন। তিনি তার মাথা মুড়িয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি বললেন, “তোমার সাথে কুরবানির পশু আছে কি?” তিনি বললেন, “আমি তা সংগ্রহ করতে সক্ষম নই।”অতঃপর নবী (ﷺ) তাঁকে তিন দিন রোযা রাখার অথবা ছয়জন মিসকিনের প্রত্যেককে এক সা’ করে খাদ্য দান করার নির্দেশ দিলেন। আল্লাহ তা‘আলা বিশেষ করে তাঁর প্রসঙ্গে নাজিল করলেন, “তোমাদের মধ্যে যে কেউ অসুস্থ হবে অথবা যার মাথায় কোনো অসুখ হবে...”। অতঃপর এ আয়াতের নির্দেশ সাধারণভাবে সকল মুসলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
২৭৭৫
ইহরাম অবস্থায় শিঙ্গা লাগানো জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন।
২৭৭৬
ইহরাম অবস্থায় শিঙ্গা লাগানো জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু বুহায়নাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় মক্কায় যাবার পথে নিজের মাথার মধ্যস্থলে শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন।
২৭৭৭
ইহরাম অবস্থায় চোখের চিকিৎসা করানো জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
নুবায়হ ইবনু ওয়াহ্ব (রহঃ)
আমি (ইহরাম অবস্থায়) আবান ইবন উসমান (রহঃ)-এর সাথে রওনা হলাম। আমরা 'মালাল' নামক স্থানে পৌঁছলে উমর ইবন উবাইদুল্লাহর চোখে পীড়া দেখা দিল। 'রাওহা' নামক স্থানে পৌঁছে তার চোখের ব্যথা আরও তীব্রতর হল। তিনি (নুবাইহ) আবান ইবন উসমান (রহঃ)-এর কাছে (কী করতে হবে তা) জিজ্ঞেস করার জন্য একজনকে পাঠালেন, তিনি বলে পাঠালেন, চোখে মুসব্বরের প্রলেপ দাও, কারণ উসমান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ইহরাম অবস্থায় এক ব্যক্তির চক্ষুরোগ দেখা দিলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার চোখে মুসব্বরের প্রলেপ দেন।
২৭৭৮
ইহরাম অবস্থায় চোখের চিকিৎসা করানো জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
নুবায়হ ইবনু ওয়াহাব্ (রহঃ)
উবায়দুল্লাহ ইবন মা‘মারের পুত্র উমর এর চোখ ফুলে উঠলে তিনি সুরমা লাগানোর ইচ্ছা করলেন। কিন্তু আবান ইবন উসমান (রাঃ) তাকে চোখে সুরমা লাগাতে নিষেধ করলেন এবং মুসব্বরের প্রলেপ দেয়ার নির্দেশ দিলেন। তিনি উসমান ইবন আফ্‌ফান (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এও বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন।
২৭৭৯
মুহরিম ব্যক্তির জন্য শরীর ও মাথা ধৌত করা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
ইব্রাহীম ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু হুনায়ন (রহঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস ও মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) আবওয়া নামক স্থানে পরস্পর মতবিরোধে লিপ্ত হলেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধৌত করতে পারবে, কিন্তু মিসওয়ার (রাঃ) বললেন, সে মাথা ধৌত করতে পারবে না। ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে (অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু হুনাইনকে) এ সম্পর্কিত মাসআলা জানার জন্য আবু আইয়ুব আল আনসারী (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। আমি তাকে কূপের দু’ খুঁটির মাঝে গোসলরত অবস্থায় পেলাম। তিনি একখণ্ড কাপড় টাঙিয়ে নিজেকে আড়াল করে নিয়েছিলেন। আমি তাকে সালাম করলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে? আমি বললাম, আবদুল্লাহ ইবনু হুনাইন, আমাকে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আপনার নিকট এ কথা জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় কিভাবে মাথা ধৌত করতেন?আবু আইয়ুব (রাঃ) তার হাত টানানো কাপড়ের উপর রাখলেন এবং তা (সামান্য) নিচু করলেন- যাতে তার মাথা আমার দৃষ্টিগোচর হলো। অতঃপর তিনি তার গোসলে সাহায্যকারী ব্যক্তিকে পানি ঢালতে বললেন। অতপর সে তার মাথায় ঢালল। এরপর তিনি উভয় হাত সামনে ও পিছনে সঞ্চালন করে নিজের মাথা মললেন। এরপর তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ করতে দেখেছি।
২৭৮০
মুহরিম ব্যক্তির জন্য শরীর ও মাথা ধৌত করা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু আসলাম (রাঃ)
এ সনদ সূত্রে উপরোক্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আবু আইয়ুব (রাঃ) তার উভয় হাত সামনে-পিছনে সঞ্চালন করে সম্পূর্ণ মাথা ভালোভাবে মললেন। এরপর মিসওয়ার (রাঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বললেন, আমি আর কখনও আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবো না।