৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৭৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৭৪১
মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবু ক্বাতাদাহ (রাঃ)
আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে রওনা হলাম, এমনকি ‘কাহাহ’ নামক স্থানে গিয়ে পৌঁছলাম। আমাদের কতক ইহরাম অবস্থায় এবং কতক ইহরামবিহীন অবস্থায় ছিল। আমি লক্ষ্য করলাম, আমার সঙ্গীরা একটা কিছুর দিকে তাকাচ্ছে। আমি তাকিয়ে দেখলাম, তা একটি বন্য গাধা।অতএব আমি আমার ঘোড়ার জিন বাঁধলাম এবং বল্লম তুলে নিলাম। এরপর ঘোড়ার পিঠে চেপে বসলাম। এ অবস্থায় আমার চাবুক নিচে পড়ে গেল। আমি আমার সঙ্গীদের তা তুলে দিতে বললাম, তারা ইহরাম অবস্থায় ছিল। তাই তারা আল্লাহর শপথ করে বলল, আমরা তোমাকে এ ব্যাপারে কিছুমাত্র সাহায্য করতে পারব না। অতঃপর আমি নিচে নেমে এসে তা তুললাম। অতঃপর ঘোড়ায় চড়ে গাধার পশ্চাদ্ধাবন করলাম। তা ছিল একটি টিলার আড়ালে। আমি বল্লমের আঘাতে এটাকে হত্যা করলাম। অতঃপর আমার সঙ্গীদের কাছে নিয়ে এলাম। তাদের কতক বলল, তা খাও, আর কতক বলল, খেও না। নবী (ﷺ) আমাদের সম্মুখভাগে ছিলেন। আমি ঘোড়া হাঁকিয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তা হালাল, অতএব তোমরা তা খাও।
২৭৪২
মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
তিনি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলেন। মক্কার একটি পথে যখন আমরা পৌঁছালাম, তখন তিনি তার কতিপয় মুহরিম সঙ্গীসহ নবী (ﷺ)-এর পেছনে পড়ে গেলেন। তিনি ছিলেন ইহরামমুক্ত। তিনি একটি বন্য গাধা দেখতে পেয়ে নিজের ঘোড়ায় চেপে বসলেন এবং সঙ্গীদেরকে তার চাবুকটি তুলে দিতে বললেন। তারা তা তুলে দিতে রাজি হননি। তিনি তাদেরকে নিজের বল্লমটি তুলে দিতে বললেন, এবারও তারা তার কথায় রাজি হননি। এরপর তিনি নিজেই তা তুলে নিলেন এবং ঘোড়া হাঁকিয়ে গাধাটি শিকার করলেন। নবী (ﷺ)-এর কতিপয় সাহাবী তার গোশত খেলেন এবং কতক তা প্রত্যাখ্যান করলেন। অতএব, তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছে তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, “এতো খাদ্য, মহান আল্লাহ তোমাদের তা দান করেছেন।”
২৭৪৩
মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
বন্য গাধা সম্পর্কিত হাদিসটি এ সূত্রেও আবু নজর বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ হয়েছে। কিন্তু জায়দ ইবন আসলামের বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, "এর কিছু গোশত তোমাদের সাথে আছে কি?"
২৭৪৪
মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)
আমার পিতা হুদায়বিয়ার বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে গেলেন। তাঁর সাহাবীগণ ইহরাম বাঁধলেন, কিন্তু আবু কাতাদাহ (রাঃ) ইহরাম বাঁধলেন না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অবহিত করা হল যে, শত্রুরা গায়কাহ নামক স্থানে ওঁৎ পেতে আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের যাত্রা অব্যাহত রাখলেন।আবু কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, আমি তাঁর সাহাবীদের সঙ্গে ছিলাম, তাদের কতক আমার দিকে চেয়ে হাসছিল। আমি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে একটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। আমি বর্শার আঘাতে তার গতিরোধ করলাম এবং সাহাবীদের সাহায্য চাইলাম। কিন্তু তারা আমাকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানালেন। আমরা এর গোশত খেলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকা করলাম।অতএব আমি তাঁর কাছে পৌঁছার জন্য কখনো ঘোড়া হাঁকিয়ে, আবার কখনো পদব্রজে অগ্রসর হতে লাগলাম। মধ্যরাতে গিফার গোত্রের এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলাম এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কোথায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছো? সে বলল, আমি তাঁকে তাহিন নামক স্থানে ছেড়ে এসেছি এবং তিনি সুকিয়া নামক স্থানে দুপুরের সময়টা যাত্রা বিরতি করার মনস্থ করেছেন।আমি (আবু কাতাদাহ) তাঁর সাথে মিলিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাহাবীগণ আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করেছেন। তারা আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকা করেছেন। অতএব আপনি তাদের জন্য অপেক্ষা করুন। অতএব তিনি তাদের জন্য অপেক্ষা করলেন।আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একটি শিকার ধরেছি এবং তার কিছু অংশ আমার কাছে অবশিষ্ট আছে। নবী (ﷺ) লোকদেরকে বললেন, তোমরা খাও। তারা ইহরাম অবস্থায় রয়েছে।
২৭৪৫
মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হজ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন এবং আমরাও তাঁর সফরসঙ্গী হলাম। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভিন্ন পথ ধরলেন এবং আবু কাতাদাহ (রাঃ) সহ কতিপয় সাহাবীকে (অন্য পথ অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়ে) বললেন, তোমরা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করা পর্যন্ত সমুদ্র তীরবর্তী পথ ধরে অগ্রসর হও।আবু কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, অতএব তারা সমুদ্র উপকূল বরাবর পথ ধরলেন। তারা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পথে মোড় নিলেন, তখন আবু কাতাদাহ (রাঃ) ছাড়া আর সকলে ইহরাম বাঁধলেন, তিনি ইহরাম বাঁধেননি। এ অবস্থায় পথ চলতে চলতে তারা কতগুলো বন্য গাধা দেখতে পেলেন এবং আবু কাতাদাহ (রাঃ) এগুলোকে আক্রমণ করে একটি গাধী শিকার করলেন। তারা যাত্রা বিরতি দিয়ে গাধীর গোশত খেলেন।আবু কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, তারা বললেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারের গোশত খেলাম। এরপর তারা এর অবশিষ্ট গোশত সঙ্গে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ইহরাম বেঁধেছি কিন্তু আবু কাতাদাহ (রাঃ) ইহরাম বাঁধেননি। এ অবস্থায় আমরা কয়েকটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। আবু কাতাদাহ (রাঃ) এগুলোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি গাধী শিকার করেন। আমরা যাত্রা বিরতি দিয়ে এর গোশত খেয়েছি। অতঃপর আমরা পরস্পর বললাম, আমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারকৃত পশুর গোশত আহার করব কি? অথচ আমরা মুহরিম? আমরা অবশিষ্ট গোশত সাথে করে নিয়ে এসেছি।নবী (ﷺ) বললেন, তোমাদের কেউ কি তা শিকার করার নির্দেশ অথবা ইঙ্গিত করেছে? তারা বললেন, না। তিনি বললেন, তাহলে অবশিষ্ট গোশতও খেতে পার।
২৭৪৬
মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
উসমান ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব (রহঃ)
শায়বানের বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের কেউ কি তাকে (গাধীটি) আক্রমণ করার নির্দেশ দিয়েছে অথবা এর প্রতি ইঙ্গিত করেছে?” আর শু‘বাহর বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কি (শিকারের দিকে) ইঙ্গিত করেছিলে অথবা সাহায্য করেছিলে” অথবা “শিকার করেছিলে”। শু‘বাহ্‌ বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দুইটি বাক্য বলেছেন কিনা তা আমার জানা নেই।
২৭৪৭
মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)
তাঁর পিতা তাঁকে অবহিত করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে হুদায়বিয়ার অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমি ছাড়া আর সকলেই উমরাহ করার জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। আমি একটি বন্য গাধা শিকার করলাম এবং আমার মুহরিম সঙ্গীদের এর গোশত খাওয়ালাম।অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে অবহিত করলাম যে, শিকারের অবশিষ্ট গোশত আমাদের সাথে আছে। তিনি বললেন, “তোমরা তা খাও”; তখন তারা ছিলেন মুহরিম।
২৭৪৮
মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)
তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে (সফরে) রওনা হলেন। তারা সবাই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু আবু কাতাদাহ (রাঃ) হালাল অবস্থায় ছিলেন। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, “এর কিছু গোশত তোমাদের সাথে আছে কি?” তারা বললেন, “এর পায়ের গোশত আমাদের সাথে আছে।” রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা নিয়ে আহার করলেন।
২৭৪৯
মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)
আবূ কাতাদাহ (রাঃ) ইহরামকারী একটি দলের সঙ্গে ছিলেন, কিন্তু তিনি ইহরামমুক্ত ছিলেন। হাদীসের পরবর্তী বর্ণনা পূর্ববৎ। এতে আছে: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের কেউ কি শিকারের দিকে ইঙ্গিত করেছে অথবা কোনো রূপ নির্দেশ দিয়েছে?” তারা বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! না।” তিনি বললেন, “তাহলে এটা খেতে পার।”
২৭৫০
মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
মু‘আয ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘উসমান আত্ তায়মী (রহঃ)
আমরা ইহরাম অবস্থায় তলহা ইবন উবাইদুল্লাহ (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তাকে (শিকার করা) পাখির গোশত উপঢৌকন দেয়া হল। এ সময় তিনি ঘুমে ছিলেন। আমাদের কতক তা খেল এবং কতক বিরত থাকল। তলহা (রাঃ) ঘুম থেকে উঠে গোশত আহরণকারীদের অনুকূলে মত প্রকাশ করলেন এবং বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে (ইহরাম অবস্থায়) তা (শিকার করা প্রাণীর গোশত) খেয়েছি।