৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৬৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৬৩১
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ক্বিলাবাহ (রহঃ)
আমাকে আবুল মালিহ (রহঃ) অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি তোমার পিতার সাথে আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি আমাদের নিকট বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আমার সাওম সম্পর্কে উল্লেখ করা হলে তিনি আমার কাছে এলেন। আমি তাঁর জন্য একটি চামড়ার বালিশ বিছিয়ে দিলাম। তাতে খেজুরের আঁশ ভর্তি ছিল। তিনি মাটির উপর বসে গেলেন এবং বালিশটি তাঁর ও আমার মাঝে পড়ে থাকল।তিনি আমাকে বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন সাওম পালন করা কি তোমার জন্য যথেষ্ট নয়? আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে পাঁচদিন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে সাতদিন? আমি বললাম : হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি এর অধিক সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে নয়দিন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি এর অধিক সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে এগারদিন। আমি বললাম : হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি এর অধিক সামর্থ্য রাখি। নবী (ﷺ) বললেন, দাউদ (আঃ)-এর সাওমের উপর কোন সাওম নেই। তিনি বছরের অর্ধেক অর্থাৎ একদিন সাওম পালন করতেন, আরেক দিন বাদ দিতেন।
২৬৩২
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‍র (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেন, তুমি একদিন সাওম পালন করলে পরের দিনের সওয়াব পাবে। আমি আরও অধিক রাখতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি দুই দিন সাওম পালন কর। তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোর সওয়াব পাবে। তিনি বললেন, আমি আরও অধিক সাওম পালন করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি তিন দিন সাওম পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোরও সওয়াব পাবে। তিনি বললেন, আমি আরও অধিক রাখতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি চার দিন সাওম পালন কর, তাহলে অবশিষ্ট দিনগুলোরও সওয়াব লাভ করবে। তিনি বললেন, আমি আরও অধিক রাখতে সক্ষম। তিনি বললেন, তুমি দাউদ (আঃ)-এর সাওম পালন কর যা আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম সাওম। তিনি পর্যায়ক্রমে একদিন সাওম পালন করতেন এবং পরের দিন বাদ দিতেন।
২৬৩৩
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন আমর! আমি জানতে পেরেছি যে, তুমি দিনের বেলা সাওম পালন কর এবং রাতের সালাতে থাক, তুমি এরূপ করো না। কারণ তোমার উপর তোমার দেহের একটি অংশ (হক) রয়েছে, তোমার উপর তোমার চোখের অংশ রয়েছে এবং তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অংশ রয়েছে। তুমি সাওমও পালন কর এবং বাদও দাও। প্রতি মাসে তিনদিন করে সাওম পালন কর এবং এটাই হল সারা বছরের সাওম (এর নিয়ম)।আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার আরও শক্তি আছে। তিনি বললেন, তাহলে দাউদ (আঃ)-এর সাওম-এর মতো সাওম পালন কর। পর্যায়ক্রমে একটি সাওম পালন কর এবং একদিন বাদ দাও।আবদুল্লাহ (রাঃ) বলতেন, হায়! আমি যদি সহজটার উপর আমল করতাম!
২৬৩৪
প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন, ‘আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
মু’আযাহ্ আল ‘আদাবিয়্যাহ (রহঃ)
নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে জানতে চাইলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি প্রতি মাসে তিনদিন সাওম পালন করতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি পুনরায় তাকে জিজ্ঞেস করলাম, মাসের কোন কোন দিন তিনি সাওম পালন করতেন? আয়িশা (রাঃ) বললেন, তিনি মাসের যে কোন দিন সাওম পালন করতে দ্বিধা করতেন না।
২৬৩৫
প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন, ‘আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
নবী (ﷺ) তাকে বললেন অথবা (অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ) তিনি কোন ব্যক্তিকে বলেছেন এবং তিনি তা শুনলেন, হে অমুক! তুমি কি এ মাসের মধ্যভাগে সাওম পালন করেছিলে? সে বলল, না। তিনি বললেন, যখন তুমি তা ভঙ্গ করবে, তখন দুই দিন সাওম পালন করবে।
২৬৩৬
প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন, ‘আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ)
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, “আপনি কিভাবে সাওম পালন করেন?” তাঁর এ কথায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসন্তুষ্ট হলেন। ‘উমার (রাঃ) তাঁর অসন্তোষ লক্ষ্য করে বললেন, “আমরা আল্লাহর উপর (আমাদের) প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর (আমাদের) দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর আমাদের নবী হিসেবে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর ও তাঁর রসূলের অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।”উমার (রাঃ) কথাটি বার বার আওড়াতে থাকলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত রাসূল (ﷺ)-এর অসন্তোষের ভাব দূরীভূত হল। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! যে ব্যক্তি সারা বছর সাওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ?” তিনি বললেন, “সে সাওম পালন করেনি এবং ছেড়েও দেয়নি।” তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, “যে ব্যক্তি একদিন পর একদিন সাওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ?” তিনি বললেন, “এটা দাউদ (আঃ)-এর সাওম।” তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “যে একদিন সাওম পালন করে ও একদিন করে না, তার অবস্থা কিরূপ?” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “আমি আশা করি যে, আমার এতটা শক্তি হোক।”তিনি পুনরায় বললেন, “প্রতি মাসে তিনদিন সাওম পালন করা এবং রমজান মাসের সাওম এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান পর্যন্ত সারা বছর সাওম পালনের সমান। আর ‘আরাফাহ্ দিবসের সাওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে। আর ‘আশুরার সাওম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফ্‌ফারা হয়ে যাবে।
২৬৩৭
প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন, ‘আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ক্বাতাদাহ্ আল আনসারী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি অসন্তুষ্ট হলেন। তখন উমর (রাঃ) বললেন, “আমরা আল্লাহর উপর (আমাদের) প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর (আমাদের) দ্বীন হিসেবে, মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর (আমাদের) রসূল হিসেবে এবং আমাদের কৃত বাই’আতের উপর আমরা সন্তুষ্ট।” অতঃপর সারা বছর সাওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “সে সাওম পালন করেনি, ইফতার করেনি”, অথবা “সে সাওম পালন করেনি এবং সাওমহীনও থাকেনি।”অতঃপর একাধারে দুই দিন সাওম পালন করা ও একদিন সাওম পালন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “এভাবে সাওম পালনের সামর্থ্য কার আছে?” অতঃপর একদিন সাওম পালন ও দুই দিন সাওম ত্যাগ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “আল্লাহ যেন আমাদের এরূপ সাওম পালনের সামর্থ্য দান করেন।” অতঃপর একদিন সাওম পালন করা ও একদিন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “তা আমার ভাই দাউদ (আঃ)-এর সাওম।” সোমবারের সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “এ দিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং এ দিনই আমি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি বা আমার উপর (কুরআন) নাজিল করা হয়েছে।”তিনি আরও বললেন, “প্রতি মাসে তিন দিন এবং গোটা রমাদান সাওম পালন করাই হল সারা বছর সাওম পালনের সমতুল্য।” অতঃপর আরাফা দিবসের সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফ্‌ফারা হয়ে যাবে।” অতঃপর আশুরার সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “বিগত বছরের গুনাহের কাফ্‌ফারা হয়ে যাবে।” এ হাদীসে শু’আবাহ্-এর বর্ণনায় আরও আছে, “অতঃপর সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল”। কিন্তু আমাদের বৃহস্পতিবারের কথা ভুলবশত বর্ণিত হয়েছে, তাই আমরা তার উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম।
২৬৩৮
প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন, ‘আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ্ (রহঃ)
উপরোক্ত হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
২৬৩৯
প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন, ‘আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
গইলান ইবনু জারীর (রহঃ)
শু’আবাহ-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে তিনি (গাইলান) সোমবারের উল্লেখ করেছেন কিন্তু বৃহস্পতিবারের উল্লেখ করেননি।
২৬৪০
প্রতি মাসে তিনদিন, আরাফাতের দিন, ‘আশুরার দিন, সোম ও বৃহস্পতিবার সওম পালনের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে সোমবারের সাওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “ঐ দিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং ঐ দিন আমার উপর (কুরআন) নাজিল হয়েছে।”