৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৬৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৬২১
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীর (রহঃ)
উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে ‘প্রতি মাসে তিনদিন করে সিয়াম পালন করাই যথেষ্ট’- এ কথার পরে আরো আছে, “কেননা প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময়ে তার দশগুণ সওয়াব পাওয়া যায়, আর এভাবে তা সারা বছরের সিয়ামের সমতুল্য গণ্য হয়”।তিনি তার বর্ণিত হাদীসের আরো উল্লেখ করেছেন, “আমি বললাম, আল্লাহর নবী দাউদ (আঃ)-এর সিয়াম কী (ছিল)? তিনি বললেন, বছরের অর্ধেক (অর্থাৎ একদিন সিয়াম পালন করা ও একদিন সিয়াম ভাঙা)। তিনি (এ হাদীসে) কুরআন তিলাওয়াতের প্রসঙ্গে কিছুই উল্লেখ করেননি। এ বর্ণনায় তিনি “তোমার সাক্ষাৎ-প্রার্থীদেরও তোমার উপর হক আছে”- এ কথাটি উল্লেখ করেননি। বরং এতে আছেঃ তোমার সন্তানদেরও তোমার উপর হক আছে।
২৬২২
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তুমি প্রতি মাসে একবার করে সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ কর। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আরো বেশি পড়ার সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে তুমি বিশ দিন অন্তর একবার কুরআন খতম কর। রাবী বলেন, আমি আবার আরজ করলাম, আমার আরো (বেশি পাঠ করার) শক্তি আছে। তিনি বললেন, তাহলে তুমি সাত দিন অন্তর একবার সম্পূর্ণ কুরআন পাঠ কর। তবে এর চেয়ে বেশি (তিলাওয়াত) করো না। (কারণ এর চেয়ে কম সময়ের মধ্যে কুরআন খতম করলে কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা এবং এর মর্ম উপলব্ধি করার সুযোগ হয় না)।
২৬২৩
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ হে আবদুল্লাহ! (বেশি বেশি রাত জেগে) তুমিও অমুক ব্যক্তির মতো হয়ে যেও না। সে রাত জেগে জেগে সালাত আদায় করত, অতঃপর রাত জেগে ইবাদত করা ছেড়ে দিয়েছে।
২৬২৪
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ)
নবী (ﷺ) জানতে পারলেন, আমি অনবরত সিয়াম পালন করি এবং রাতভর সালাত আদায় করি। তিনি আমাকে ডেকে পাঠালেন অথবা (রাবীর সন্দেহ) আমি তাঁর সাথে দেখা করি। তিনি বললেন, “আমি খবর পেয়েছি, তুমি অনবরত সিয়াম পালন কর, বিরতি দাও না, আর রাতভর সালাত আদায় কর। এরপর আর এরূপ কর বে না। কেননা তোমার উপর তোমার চোখের অংশ (হক) আছে, তোমার দেহ ও আত্মার অংশ আছে এবং তোমার পরিবার-পরিজনেরও অংশ আছে। কাজেই তুমি সিয়ামও পালন কর, বিরতিও দাও, সালাতও আদায় কর, ঘুমও যাও। তুমি দশ দিনে একদিন সিয়াম পালন কর, তাহলে বাকি নয়টি দিনেরও সওয়াব পাবে।”তিনি বললেন, “হে আল্লাহর নবী! আমি নিজের মধ্যে এর চেয়েও অধিক সিয়াম পালন করার শক্তি রাখি।” তিনি বললেন, “তাহলে তুমি দাউদ (আঃ)-এর মত সিয়াম পালন কর।”তিনি (আবদুল্লাহ) বললেন, “হে আল্লাহর নবী! দাউদ (আঃ) কিভাবে সিয়াম পালন করতেন?” তিনি (নবী) বললেন, “দাউদ (আঃ) একদিন সিয়াম পালন করতেন এবং একদিন বিরতি দিতেন। এজন্যেই (দুর্বল হতেন না এবং) দুশমনের সম্মুখীন হলে (ময়দান ছেড়ে) পালাতেন না।”আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, “হে আল্লাহর নবী! এ ব্যাপারে কে আমার দায়িত্ব নিবে?” আতা বলেন, “আমি জানি না, অনবরত সিয়াম পালন করার বিষয়টি কিভাবে আলোচনায় আসল।” নবী (ﷺ) বললেন, “যে ব্যক্তি অনবরত সিয়াম পালন করল, সে যেন কোন সিয়ামই পালন করেনি। যে ব্যক্তি সব সময় সিয়াম পালন করল সে যেন সিয়ামই পালন করেনি, যে ব্যক্তি সদাসর্বদা সিয়াম পালন করল সে যেন সিয়ামই পালন করেনি।
২৬২৫
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
এ সূত্রে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি বলেছেন, আবু আব্বাস শাঈর (রহঃ) তাকে অবহিত করেছেন। (ইমাম মুসলিম বলেন): তিনি হলেন আবু আব্বাস আস সায়িব ইবন ফারুখ। তিনি মক্কার অধিবাসী এবং বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন।
২৬২৬
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর! তুমি তো একাধারে সাওম (রোজা) পালন করে যাচ্ছ। সারারাত ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাক। তুমি এরূপ করলে তাতে তোমার চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলবে। যে ব্যক্তি সর্বদা সাওম পালন করল, সে মূলত সাওম পালন করল না। মাসে তিন দিন সাওম পালন করা পূর্ণ মাস পালনের সমতুল্য। আমি বললাম, আমি এর চেয়েও বেশি সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, দাউদ (আঃ)-এর ন্যায় সাওম পালন কর। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন এবং একদিন ছেড়ে দিতেন এবং পলায়ন করতেন না যখন শত্রুর সম্মুখীন হতেন।
২৬২৭
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
হাবীব ইবনু আবূ সাবিত (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে আরও আছে, “এবং তুমি শ্রান্তক্লান্ত হয়ে পড়বে।”
২৬২৮
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, “আমাকে তোমার সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে যে, তুমি সারারাত দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর এবং দিনের বেলা সাওম রাখ?” আমি বললাম, “আমি অবশ্য করি।” তিনি বলেন, “তুমি এরূপ করতে গেলে অনিদ্রার কারণে তোমার চোখ কোটরাগত হবে এবং তুমি দুর্বল হয়ে পড়বে। তোমার চোখের হক রয়েছে, তোমার দেহের হক রয়েছে এবং তোমার পরিবার-পরিজনের হক রয়েছে। অতএব তুমি রাতে ইবাদতও করবে এবং নিদ্রাও যাবে। সাওমও পালন করবে, আবার তা বাদও দিবে।”
২৬২৯
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: আল্লাহর নিকট পছন্দনীয় সাওম হচ্ছে দাউদ (আঃ)-এর সাওম এবং তাঁর নিকট পছন্দনীয় সালাত হচ্ছে দাউদ (আঃ)-এর সালাত। তিনি অর্ধরাত ঘুমাতেন। অতঃপর এক-তৃতীয়াংশ রাত ইবাদতে থাকতেন। অতঃপর এক-ষষ্ঠাংশ রাত ঘুমাতেন। তিনি একদিন সাওম পালন করতেন এবং একদিন বাদ দিতেন।
২৬৩০
সারা বছর ধরে সিয়াম পালন করা নিষেধ, কারণ এতে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার এবং জরুরী কর্তব্য পালনে অক্ষম হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, একদিন পরপর সিয়াম পালন করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেন: আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় সাওম হচ্ছে দাউদ (আঃ)-এর সাওম। তিনি বছরের অর্ধেক কাল সাওম পালন করতেন। মহান আল্লাহর নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় সালাত হচ্ছে দাউদ (আঃ)-এর সালাত। তিনি অর্ধ রাত ঘুমাতেন, অতঃপর সালাতে দাঁড়াতেন, অতঃপর শেষ রাতে ঘুমিয়ে যেতেন। তিনি অর্ধ রাত অতিক্রান্ত হবার পর এক-তৃতীয়াংশ রাত ইবাদত করতেন।রাবী ইবনু জুরাইজ (রহঃ) বলেন, আমি আমর ইবনু দীনারকে বললাম, আমর ইবনু আওস (রাঃ) কি এ কথা বলতেন যে, তিনি অর্ধরাত অতিক্রান্ত হবার পর এক-তৃতীয়াংশ রাত ইবাদতে থাকতেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।