৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৪২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৪১১
মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয় পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক মাসের জন্য তাঁর স্ত্রীদের সান্নিধ্য ত্যাগ করেছিলেন। তিনি ঊনত্রিশতম দিনে আমাদের কাছে আসলেন। আমরা বললাম, আজ তো ঊনত্রিশ দিন? তখন তিনি বললেনঃ ঊনত্রিশ দিনেও মাস হয়। তিনি তাঁর উভয় হাত তিনবার একত্রে মিলিয়ে ইঙ্গিত করে বুঝিয়ে দিলেন। তৃতীয়বার তিনি একটি আঙ্গুল বন্ধ রাখলেন।
২৪১২
মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয় পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের থেকে একমাস বিচ্ছিন্ন থাকলেন। অতঃপর তিনি ঊনত্রিশতম দিনের সকালে আমাদের কাছে আসলেন। উপস্থিত লোকদের কেউ কেউ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আজ তো আমরা ঊনত্রিশতম দিনের সকালে উপনীত হয়েছি। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ মাস তো ঊনত্রিশ দিনেও হয়। এরপর তিনি তিনবার উভয় হাত মেলালেন। প্রথম দুইবার উভয় হাতের সব আঙুলগুলো একত্রে মিলালেন এবং তৃতীয়বার নয়টি আঙুল একত্রে মিলালেন ও ইঙ্গিতে ঊনত্রিশ দিনে মাস বললেন।
২৪১৩
মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয় পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) একবার তাঁর স্ত্রীদের সান্নিধ্য থেকে এক মাস দূরে থাকার শপথ করলেন। অতঃপর ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হলে তিনি সকালে অথবা বিকালে তাঁদের কাছে আসলেন। তাঁকে বলা হলো, হে আল্লাহর নবী! আপনি এক মাস আমাদের কাছে না আসার শপথ করেছেন! তিনি (ﷺ) বললেন, ঊনত্রিশ দিনেও মাস হয়।
২৪১৪
মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
এ সূত্রেও উপরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২৪১৫
মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয় পরিচ্ছেদ নাই
সা’দ ইবনু ওয়াক্কাস (রাঃ)
বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর এক হাত দিয়ে অপর হাতের উপর আঘাত করলেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন, মাস এভাবে এবং এভাবে। তিনি (ﷺ) তৃতীয়বারে একটি আঙুল নীচু করে রাখলেন।
২৪১৬
মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয় পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবুন সা’দ থেকে তার পিতার সূত্র
নবী (ﷺ) বলেনঃ মাস এরূপ, এরূপ এবং এরূপ অর্থাৎ দশ দিন, দশ দিন এবং নয় দিন।
২৪১৭
মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয় পরিচ্ছেদ নাই
ইসমা’ঈল ইবনু আবূ খালিদ (রহঃ)
এ সনদে উপরোক্ত দুটি হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২৪১৮
নিজ নিজ শহরে চন্দ্রোদয়ের হিসাব অনুযায়ী কাজ করতে হবে, এক শহরের চন্দ্রোদয়ের হুকুম উল্লেখযোগ্য দূরত্বে অবস্থিত অন্য শহরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। পরিচ্ছেদ নাই
কুরায়ব (রাঃ)
হারিসের কন্যা উম্মুল ফজল (রাঃ) কুরাইবকে সিরিয়ায় মু'আবিয়া (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। কুরাইব বলেন, অতঃপর আমি সিরিয়া পৌঁছে তাঁর প্রয়োজনীয় কাজ সমাপন করলাম। সিরিয়ায় থাকতেই রমজান মাস এসে গেল। আমি জুমার রাতে রমজানের চাঁদ দেখতে পেলাম। অতঃপর মাসের শেষদিকে আমি মদীনায় ফিরে এলাম।আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) সিয়াম সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কখন চাঁদ দেখেছ?” আমি বললাম, “আমি তো জুমার রাতেই চাঁদ দেখেছি।” তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি নিজে তা দেখেছ?” আমি বললাম, “হ্যাঁ, অন্যান্য লোকেরাও দেখেছে এবং তারা সিয়াম পালন করেছে। এমনকি মু'আবিয়া (রাঃ)-ও সিয়াম পালন করেছেন।”আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, “আমরা তো শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছি, তাই আমরা পূর্ণ ত্রিশটি রোজা রাখব অথবা এর আগে যদি চাঁদ দেখতে পাই তাহলে তখন ইফতার করব।” আমি বললাম, “আপনি কি মু'আবিয়া (রাঃ)-এর চাঁদ দেখা ও সিয়াম পালন করাকে (রমজান মাস শুরু হওয়ার জন্য) যথেষ্ট মনে করেন না?” তিনি বললেন: “না, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এভাবেই (চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করা ও ইফতার করার জন্য) নির্দেশ দিয়েছেন।”
২৪১৯
চাঁদের আকারে (ত্রিশতম রাতে) ছোট বা বড় দেখা গেলে তাতে হুকুমের কোন পার্থক্য হবে না, আল্লাহ তা’আলা চাঁদকে দৃষ্টিগোচর হওয়ার উপযোগী করে দেন, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে মাসের ত্রিশদিন পূর্ণ করতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আবুল বাখতারী (রহঃ)
একবার আমরা উমরা করার জন্য বের হলাম। যখন আমরা (মক্কা ও তায়েফের মাঝামাঝি অবস্থিত) “বাতনে নাখলা” নামক স্থানে অবতরণ করলাম সকলে মিলে চাঁদ দেখতে লাগলাম। লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলল, এ তো তিনদিনের চাঁদ, আবার কেউ বলল দুইদিনের।বর্ণনাকারী বলেন, পরে আমরা ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আমরা চাঁদ দেখেছি। কিন্তু লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছে, এ তো দুইদিনের চাঁদ আবার কেউ কেউ বলেছে এ তো তিন দিনের চাঁদ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কোন রাতে চাঁদ দেখেছো? আমরা বললাম, অমুক দিন, অমুক রাতে। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেদিন রাতে চাঁদ দেখতেন ঐ দিনেরই তারিখ ধরতেন। সুতরাং চাঁদ সে রাতেই উঠেছে যে রাতে তোমরা দেখেছো।
২৪২০
চাঁদের আকারে (ত্রিশতম রাতে) ছোট বা বড় দেখা গেলে তাতে হুকুমের কোন পার্থক্য হবে না, আল্লাহ তা’আলা চাঁদকে দৃষ্টিগোচর হওয়ার উপযোগী করে দেন, আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে মাসের ত্রিশদিন পূর্ণ করতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আবুল বাখতারী (রহঃ)
“আমরা যখন 'যাতু ইরক' নামক স্থানে অবস্থান করছিলাম তখন রমজানের চাঁদ দেখতে পেলাম। অতঃপর আমরা এক ব্যক্তিকে ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠালাম। ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা চাঁদ দেখার সাথে মাস নির্ধারণ করেছেন, যদি তোমাদের নিকট তা অপ্রকাশিত থাকে (মেঘের কারণে) তাহলে তোমরা (ত্রিশ দিনে) মাস পূর্ণ কর।