৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৩৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৩৮১
জামাআতের সাথে ‘ইশা ও ফজরের সালাত আদায় করার ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
জুনদুব ইবনু সুফ্‌ইয়ান (রহঃ)
নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে এ হাদীসে তিনি “তাকে উল্টিয়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন” কথাটি উল্লেখ করেননি।
১৩৮২
কোন ওযরবশতঃ জামা’আতে শরীক না হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
মাহ্‌মূদ ইবনুর রাবী’ আল আনসারী (রাঃ)
নবী (ﷺ) -এর সাথে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী আনসারী সাহাবী ইতবান ইবনু মালিক (রাঃ) রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছি। অথচ আমি আমার কওমের লোকদের ইমামতি করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে তাদের ও আমার এলাকার মধ্যবর্তী উপত্যকা প্লাবিত হয়ে যায়। তাই আমি মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করাতে পারি না। (এভাবে আমিও জামাতে সালাত আদায় করা থেকে বঞ্চিত হই) হে আল্লাহর রসূল! তাই আমার আকাঙ্ক্ষা হলো, আপনি আমার বাড়িতে গিয়ে একটি জায়গায় সালাত আদায় করবেন। সে স্থানটিকে আমি আমার সালাতের স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করে নেব।হাদিস বর্ণনাকারী মাহমুদ ইবন রাবী আল আনসারী বলেন, এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগীর আমি তা করব। ইতবান ইবনু মালিক আল আনসারী (রাঃ) বলেন: পরদিন সকালে কিছুটা বেলা হলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাঃ) আসলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) (আমার বাড়িতে প্রবেশের) অনুমতি চাইলেন। আমি তাঁকে অনুমতি দিলে তিনি বাড়ির ভিতরে গিয়ে না বসেই সোজা ঘরে প্রবেশ করলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ঘরের কোন স্থানে সালাত আদায় করলে তোমার ভাল হয়? আমি তখন তাঁকে ঘরের এক কোণের দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। তিনি তাকবিরে তাহরিমা বললে আমরাও তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি দুই রাকাত সালাত আদায় করে সালাম ফেরালেন।ইতবান ইবনু মালিক আল আনসারী (রাঃ) বলেন- আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর জন্য ছোট ছোট টুকরা করে যে গোশত পাক করেছিলাম তা খাওয়ার জন্য তাঁকে তৎক্ষণাৎ চলে যেতে বাধা দিলাম। ইতোমধ্যে (খবর ছড়িয়ে পড়াতে) আমাদের আশেপাশের বাড়ির লোকজন ছুটে আসল। শেষ পর্যন্ত ঘরে বেশ কিছু সংখ্যক লোক জমে গেল। তাদের মধ্যে একজন বলল, মালিক ইবনুদ দুখশুন কোথায়? (তাকে তো দেখছি না!) অন্য একজন বলে উঠল, আরে, সে তো মুনাফিক। সে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলকে মোটেই পছন্দ করে না।এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তার সম্পর্কে এভাবে বলো না। তুমি কি মনে করো না যে, সে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ” বলেছে। অর্থাৎ- “আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই” বলে বিশ্বাস করেছে। ইতবান ইবনু মালিক আল আনসারী (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে উপস্থিত সবাই বলল, আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই এ ব্যাপারে সর্বাধিক অবগত। একজন বলল, আমরা দেখি, সে মুনাফিকদের সাথে হাসিমুখে আলাপ করে এবং তাদের (উপদেশ দানের মাধ্যমে) কল্যাণ কামনা করে বা তাদের সাথে সলাপরামর্শ করে। (এ কথা শুনে) রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিমিত্তে ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই বলে ঘোষণা করেছে, আল্লাহ তা’আলা তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করেছেন।বর্ণনাকারী ইবনু শিহাব বলেন- পরে আমি বানী সালিম গোত্রের নেতৃস্থানীয় হুসাইন ইবন মুহাম্মাদ আনসারীকে মাহমুদ ইবন রাবী বর্ণিত হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি হাদিসটির সত্যতা স্বীকার করলেন।
১৩৮৩
কোন ওযরবশতঃ জামা’আতে শরীক না হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
ইত্‌বান ইবনু মালিক (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। তবে এ হাদীসে তিনি এতটুকু অধিক বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি বলে উঠল, মালিক ইবনু দুখশুন অথবা বলল (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মালিক ইবনু দুখাইশিন কোথায়? তিনি হাদীসটিতে এতটুকু কথা অধিক বলেছেন যে, মাহমুদ ইবন রাবী বলেন, আমি এ হাদীসটি একদল লোকের কাছে বর্ণনা করলাম। তাদের মধ্যে (সাহাবী) আবু আইয়ুব আনসারীও (রাঃ) ছিলেন। তিনি বললেন, তুমি যা বললে আমার মনে হয় না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা বলেছেন।মাহমুদ ইবন রাবী বলেন, এ কথা শুনে আমি এ মর্মে শপথ করলাম যে ‘ইতবান ইবন মালিককে আবার জিজ্ঞেস করার জন্য তার কাছে ফিরে যাব। অতঃপর আমি তার কাছে গেলাম। তখন তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তিও নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন তার কওমের ইমাম। আমি গিয়ে পাশে বসে এ হাদীসটি সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আমাকে প্রথমবারের মতো করে হাদীসটি বর্ণনা করে শুনালেন।হাদীসটির বর্ণনাকারী যুহরী বলেছেন, এ ঘটনার পরেও আরও অনেক ফরজ ও অন্যান্য বিষয়ে হুকুম-আহকাম অবতীর্ণ হয়েছে। আমরা মনে করি যে, (হুকুম-আহকামের) বিষয়টি এর পরেই শেষ হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি ধোঁকায় পড়তে না চায়, সে যেন এর দ্বারা ধোঁকায় না পড়ে।
১৩৮৪
কোন ওযরবশতঃ জামা’আতে শরীক না হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
মাহমূদ ইবনুর রাবী (রহঃ)
মাহমুদ ইবনুর রাবী' (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বাড়িতে একটি বালতি থেকে পানি নিয়ে যে কুলি করেছিলেন, তা এখনো আমার মনে আছে। ইতবান ইবন মালিক (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমার দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি এভাবে হাদীসটি বর্ণনা করে, “তিনি আমাদের সাথে নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। আর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য পাকানো জাশীশা নামক খাবার খেতে তাঁকে ঠেকিয়ে রাখলাম” পর্যন্ত উল্লেখ করলেন। তবে এরপর ইউনুস ও মা'মার বর্ণিত অতিরিক্ত কথাটুকু তিনি উল্লেখ করেননি।
১৩৮৫
জামাআতে নাফ্‌ল সালাত এবং চাটাই, মুসল্লা ও কাপড় ইত্যাদি পবিত্র বস্তুর উপর সালাত আদায় জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তাঁর দাদী মুলাইকা তার নিজের হাতে প্রস্তুত একটি খাবার খেতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দাওয়াত দিলে তিনি (ﷺ) তা খেলেন। খাওয়া শেষে তিনি (ﷺ) বললেনঃ তোমরা সবাই উঠে দাঁড়াও, আমি তোমাদের (বারাকাত বা শিক্ষাদানের) জন্য সালাত আদায় করব। আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেনঃ আমি উঠে গিয়ে আমাদের একটি চাটাইয়ের উপর দাঁড়ালাম যা দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে কালো বর্ণ ধারণ করেছিল। আমি সেটির উপর কিছু পানি ছিটিয়ে দিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ চাটাইয়ের উপর দাঁড়ালেন। আর বৃদ্ধা মহিলা দাঁড়ালেন পিছনে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সাথে নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর চলে গেলেন।
১৩৮৬
জামাআতে নাফ্‌ল সালাত এবং চাটাই, মুসল্লা ও কাপড় ইত্যাদি পবিত্র বস্তুর উপর সালাত আদায় জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আখলাক বা নৈতিক চরিত্রের বিচারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন সর্বোত্তম মানুষ। অনেক সময় এমন হয়েছে যে, তিনি (ﷺ) আমাদের ঘরে থাকতেই সালাতের সময় হয়ে গেছে। তখন তিনি (ﷺ) যে বিছানার উপর থাকতেন সেটিই ঝেড়ে ফেলে পানি ছিটিয়ে দিতে বলতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতের ইমামত করতেন। আমরা তাঁর পিছনে দাঁড়াতাম। তিনি (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করতেন। বর্ণনাকারী (আবু তাইয়্যাহ) বলেনঃ তাঁর (আনাস ইবনু মালিকের) বাড়ির বিছানা খেজুর পাতায় তৈরি ছিল।
১৩৮৭
জামাআতে নাফ্‌ল সালাত এবং চাটাই, মুসল্লা ও কাপড় ইত্যাদি পবিত্র বস্তুর উপর সালাত আদায় জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
একদিন নবী (ﷺ) আমাদের বাড়িতে আসলেন। তখন সেখানে শুধু আমি, আমার মা এবং আমার খালা উম্মু হারাম ছিলেন। তিনি (ﷺ) [আমাদের লক্ষ্য করে বললেন,] উঠো, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। তখন কোন ফরজ সালাতের ওয়াক্ত ছিল না। তিনি (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। একজন ব্যক্তি (হাদিস বর্ণনাকারী) সাবিতকে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি (ﷺ) আনাসকে তাঁর কোন পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন? তিনি (সাবিত) বললেনঃ তিনি (ﷺ) তাকে ডান পাশে দাঁড় করিয়েছিলেন। এরপর তিনি (ﷺ) আমাদের পরিবারের সবার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের সব রকম কল্যাণের জন্য দোয়া করলেন। আমার মা তখন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার এ ক্ষুদ্র খাদিমের (আনাসের) জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তিনি (ﷺ) আমার জন্য সব রকমের কল্যাণের দোয়া করলেন। দোয়ার শেষভাগে তিনি (ﷺ) যা বললেন তা হলো : হে আল্লাহ! তার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দাও এবং এতে তাকে বরকত দান করো।
১৩৮৮
জামাআতে নাফ্‌ল সালাত এবং চাটাই, মুসল্লা ও কাপড় ইত্যাদি পবিত্র বস্তুর উপর সালাত আদায় জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে এবং তাঁর মা অথবা খালাকে সাথে করে সালাত আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তাঁর ডানে দাঁড় করালেন এবং নারীকে আমাদের পেছনে দাঁড় করালেন।
১৩৮৯
জামাআতে নাফ্‌ল সালাত এবং চাটাই, মুসল্লা ও কাপড় ইত্যাদি পবিত্র বস্তুর উপর সালাত আদায় জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ্‌ (রহঃ)
একই সনদে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।
১৩৯০
জামাআতে নাফ্‌ল সালাত এবং চাটাই, মুসল্লা ও কাপড় ইত্যাদি পবিত্র বস্তুর উপর সালাত আদায় জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী মায়মূনাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতেন আর আমি তাঁর পাশেই থাকতাম। তিনি (ﷺ) যখন সিজদা করতেন তখন কোন কোন সময় তাঁর কাপড় আমার শরীর স্পর্শ করত। আর তিনি (ﷺ) চাটাইয়ের উপর সালাত আদায় করতেন।