৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
৪৯/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
৪৮১
সালাত মাসজিদ ও অন্যান্য স্থানে এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলে প্রবেশ করানো।
আবূ মূসা (রাযি.)
আবূ মূসা (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ একজন মু’মিন আরেকজন মু‘মিনের জন্যে ইমারতস্বরূপ, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্তিশালী করে থাকে। এ ব’লে তিনি তার হাতের আঙুলগুলো একটার মধ্যে আরেকটা প্রবেশ করালেন।
৪৮২
সালাত মাসজিদ ও অন্যান্য স্থানে এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলে প্রবেশ করানো।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা আমাদের বিকালের এক সালাতে ইমামত করলেন। ইবনু সীরীন (রহ.) বলেনঃ আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) সালাতের নাম বলেছিলেন, কিন্তু আমি তা ভুলে গেছে। আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) বলেনঃ তিনি আমাদের নিয়ে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। অতঃপর মসজিদে রাখা এক টুকরা কাঠের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন। তাঁকে রাগান্বিত মনে হচ্ছিল। তিনি তাঁর ডান হাত বাঁ হাতের উপর রেখে এক হাতের আঙুল অপর হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করালেন। আর তাঁর ডান গাল বাম হাতের পিঠের উপর রাখলেন। যাঁদের তাড়া ছিল তাঁরা মসজিদের দরজা দিয়ে বাইরে চলে গেলেন। সাহাবীগণ বললেনঃ সালাত কি সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে? উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আবূ বকর (রাযি.) এবং ‘উমার (রাযি.)-ও ছিলেন। কিন্তু তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেলেন। আর লোকজনের মধ্যে লম্বা হাত বিশিষ্ট এক ব্যক্তি ছিলেন, যাঁকে ‘যুল-ইয়াদাইন’ বলা হতো, তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি সালাত সংক্ষেপ করা হয়েছে? তিনি বললেনঃ আমি ভুলিনি এবং সালাত সংক্ষেপও করা হয়নি। অতঃপর (অন্যদের) জিজ্ঞেস করলেনঃ যুল-ইয়াদাইনের কথা কি ঠিক? তাঁরা বললেনঃ হাঁ। অতঃপর তিনি এগিয়ে এলেন এবং সালাতের বাদপড়া অংশটুকু আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরালেন ও তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সিজদা’র মতো বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর মাথা উঠালেন। পরে পুনরায় তাকবীর বললেন এবং স্বাভাবিকভাবে সিজদা’র মত বা একটু দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে তাঁর মাথা উঠালেন। লোকেরা প্রায়ই ইবনু সীরীন (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করতো, ‘‘পরে কি তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন?’’ তখন ইবনু সীরীন (রহ.) বলতেনঃ আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, ‘ইমরান ইবনু হুসাইন (রাযি.) আমাকে খবর দিয়েছেন যে,ঃ অতঃপর তিনি সালাম ফিরিয়েছিলেন।
৪৮৩
সালাত মদীনার রাস্তার মাসজিদসমূহ এবং যে সকল স্থানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছিলেন।
মূসা ইবনু উকবাহ (রহ.)
মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ (রাযি.)-কে রাস্তার বিশেষ বিশেষ স্থান অনুসন্ধান করে সে সব স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছি এবং তিনি বর্ণনা করতেন যে, তাঁর পিতাও এসব স্থানে সালাত আদায় করতেন। আর তিনিও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এসব স্থানে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। মূসা ইবনু ‘উকবাহ (রহ.) বলেনঃ নাফি‘ (রহ.)-ও আমার নিকট ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি সেসব স্থানে সালাত আদায় করতেন। অতঃপর আমি সালিম (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করি। আমার জানামতে তিনিও সেসব স্থানে সালাত আদায়ের ব্যাপারে নাফি’ (রহ.)-এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন; তবে ‘শারাফুর-রাওহা’ নামক স্থানের মাসজিদটির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।
৪৮৪
সালাত মদীনার রাস্তার মাসজিদসমূহ এবং যে সকল স্থানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছিলেন।
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমারাহ ও হাজ্জের জন্যে রওয়ানা হলে ‘যুল-হুলায়ফা’য় অবতরণ করতেন, বাবলা গাছের নীচে ‘যুল হুলায়ফা’র মসজিদের স্থান। আর যখন কোন যুদ্ধ হতে অথবা হাজ্জ বা ‘উমারাহ করে সেই পথে ফিরতেন, তখন উপত্যকার মাঝখানে অবতরণ করতেন। যখন উপত্যকার মাঝখান হতে উপরের দিকে আসতেন, তখন উপত্যকার তীরে অবস্থিত পূর্ব নিম্নভূমিতে উট বসাতেন। সেখানে তিনি শেষ রাত হতে ভোর পর্যন্ত বিশ্রাম করতেন। এ স্থানটি পাথরের উপর নির্মিত মসজিদের নিকট নয় এবং যে মাসজিদ টিলার উপর, তার নিকটেও নয়। এখানে ছিল একটি ঝিল, যার পাশে ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) সালাত আদায় করতেন। এর ভিতরে কতগুলো বালির স্তূপ ছিল। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এখানেই সালাত আদায় করতেন। অতঃপর নিম্নভূমিতে পানির প্রবাহ হয়ে ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) যে স্থানে সালাত আদায় করতেন তা সমান করে দিয়েছে।
৪৮৫
সালাত মদীনার রাস্তার মাসজিদসমূহ এবং যে সকল স্থানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছিলেন।
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি.)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) [নাফি’ (রহ.)-কে] বলেছেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘শারাফুর-রাওহা’র মসজিদের নিকট ছোট মসজিদের স্থানে সালাত আদায় করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেখানে সালাত আদায় করেছিলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) সে স্থানের পরিচয় দিতেন এই বলে যে, যখন তুমি মসজিদে সালাতে দাঁড়াবে তখন তা তোমার ডানদিকে। আর সেই মাসজিদটি হলো যখন তুমি (মদ্বীনা হতে) মক্কা্ যাবে তখন তা ডানদিকের রাস্তার এক পাশে থাকবে। সে স্থান ও বড় মসজিদের মাঝখানে ব্যবধান হলো একটি ঢিল নিক্ষেপ পরিমাণ অথবা তার কাছাকাছি।
৪৮৬
সালাত মদীনার রাস্তার মাসজিদসমূহ এবং যে সকল স্থানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছিলেন।
ইবনু উমার (রাযি.)
আর ইবনু ‘উমার (রাযি.) ‘রাওহা’র শেষ মাথায় ‘ইরক’ (ছোট পাহাড়)-এর নিকট সালাত আদায় করতেন। সেই ‘ইরক’-এর শেষ প্রান্ত হলো রাস্তার পাশে মসজিদের কাছাকাছি মক্কা যাওয়ার পথে রাওহা ও মক্কার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এখানে একটি মাসজিদ নির্মিত হয়েছে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) এই মসজিদে সালাত আদায় করতেন না, বরং সেটাকে তিনি বামদিকে ও পেছনে ফেলে অগ্রসর হয়ে ‘ইরক’-এর নিকটে সালাত আদায় করতেন। আর ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) রাওহা হতে বেরিয়ে ঐ স্থানে পৌঁছার পূর্বে যুহরের সালাত আদায় করতেন না। সেখানে পৌঁছে যোহর আদায় করতেন। আর মক্কা্ হতে আসার সময় এ পথে ভোরের এক ঘণ্টা পূর্বে বা শেষ রাতে আসলে সেখানে অবস্থান করে ফজরের সালাত আদায় করতেন।
৪৮৭
সালাত মদীনার রাস্তার মাসজিদসমূহ এবং যে সকল স্থানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছিলেন।
আবদুল্লাহ (রাযি.)
আবদুল্লাহ (রাযি.) আরো বর্ণনা করেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘রুওয়ায়ছা’র নিকটে রাস্তার ডানদিকে রাস্তা সংলগ্ন প্রশস্ত সমতল ভূমিতে একটা বিরাট গাছের নীচে অবস্থান করতেন। অতঃপর তিনি ‘রুওয়ায়ছা’র ডাকঘরের দু’মাইল দূরে ঢিলার পাশ দিয়ে রওয়ানা হতেন। বর্তমানে গাছটির উপরের অংশ ভেঙে গিয়ে মাঝখানে ঝুঁকে গেছে। গাছের কান্ড এখনো দাঁড়িয়ে আছে। আর তার আশেপাশে অনেকগুলো বালির স্তূপ বিস্তৃত রয়েছে।
৪৮৮
সালাত মাসজিদ ও অন্যান্য স্থানে এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলে প্রবেশ করানো।
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি.)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) আরো বর্ণনা করেছেনঃ ‘আরজু’ গ্রামের পরে পাহাড়ের দিকে যেতে যে উচ্চভূমি আছে, তার পাশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছেন। এই মসজিদের পাশে দু’তিনটি কবর আছে। এসব কবরে পাথরের বড় বড় খন্ড পড়ে আছে। রাস্তার ডান পাশে গাছের নিকটেই তা অবস্থিত। দুপুরের পর সূর্য ঢলে পড়লে ‘আবদুল্লাহ (রাযি.) ‘আর্জ’-এর দিক হতে এসে গাছের মধ্য দিয়ে যেতেন এবং ঐ মসজিদে যুহরের সালাত আদায় করতেন।
৪৮৯
সালাত মদীনার রাস্তার মাসজিদসমূহ এবং যে সকল স্থানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছিলেন।
আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘উমার (রাযি.)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) আরো বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে রাস্তার বাঁ দিকে বিরাট গাছগুলোর নিকট অবতরণ করেন যা ‘হারশা’ পাহাড়ের নিকটবর্তী নিম্নভূমির দিকে চলে গেছে। সেই নিম্নভূমিটি ‘হারশা’-এর এক প্রান্তের সাথে মিলিত। এখান হতে সাধারণ সড়কের দূরত্ব প্রায় এক তীর নিক্ষেপের পরিমাণ। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) সেই গাছগুলোর মধ্যে একটির নিকট সালাত আদায় করতেন, যা ছিল রাস্তার নিকটে এবং সবচেয়ে উঁচু।
৪৯০
সালাত মদীনার রাস্তার মাসজিদসমূহ এবং যে সকল স্থানে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাত আদায় করেছিলেন।
আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযি.)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাযি.) আরো বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবতরণ করতেন ‘মাররুয যাহরান’ উপত্যকার শেষ প্রান্তে নিম্নভূমিতে, যা মাদ্বীনার দিকে যেতে ছোট পাহাড়গুলোর নীচে অবস্থিত। তিনি সে নিম্নভূমির মাঝখানে অবতরণ করতেন। এটা মক্কা্ যাওয়ার পথে বাম পাশে থাকে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মনযিল ও রাস্তার মাঝে দূরত্ব এক পাথর নিক্ষেপ পরিমাণ।