৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
৪৭/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
৪৬১
সালাত কয়েদী অথবা ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে মসজিদে বেঁধে রাখা।
আবূ হুরায়রাহ (রাযি.)
আবূ হুরায়রাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গত রাতে একটা অবাধ্য জিন হঠাৎ আমার সামনে প্রকাশ পেল। রাবী বলেন, অথবা তিনি অনুরূপ কোন কথা বলেছেন, যেন সে আমার সালাতে বাধা সৃষ্টি করে। কিন্তু আল্লাহ আমাকে তার উপর ক্ষমতা দিলেন। আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, তাকে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখি, যাতে ভোর বেলা তোমরা সবাই তাকে দেখতে পাও। কিন্তু তখন আমার ভাই সুলায়মান (‘আ.)-এর এই উক্তি আমার স্মরণ হলো, ‘‘হে প্রভু! আমাকে এমন রাজত্ব দান কর, যার অধিকারী আমার পরে আর কেউ না হয়’’- (সূরাহ্ সোয়াদ ৩৮/৩৫)। (বর্ণনাকারী) রাওহ্ (রহ.) বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই শয়তানটিকে অপমানিত করে ছেড়ে দিলেন।
৪৬২
সালাত ইসলাম গ্রহণের গোসল করা এবং মসজিদে কয়েদীকে বাঁধা।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজন অশ্বারোহী মুজাহিদকে নজদের দিকে পাঠালেন। তারা বানূ হানীফা গোত্রের সুমামাহ ইবনু উসাল নামক এক ব্যক্তিকে নিয়ে এসে তাকে মসজিদের খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট গেলেন এবং বললেনঃ সুমামাকে ছেড়ে দাও। (ছাড়া পেয়ে) তিনি মসজিদে নাবাবীর নিকট এক খেজুর বাগানে গিয়ে সেখানে গোসল করলেন, অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করে বললেনঃ ‘‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।’’
৪৬৩
সালাত রোগী ও অন্যদের জন্য মসজিদে তাঁবু স্থাপন।
আয়িশাহ (রাযি.)
আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ খন্দকের যুদ্ধে সা‘দ (রাযি.)-এর হাতের শিরা যখম হয়েছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে (তাঁর জন্য) একটা তাঁবু স্থাপন করলেন, যাতে নিকট হতে তাঁর দেখাশুনা করতে পারেন। মসজিদে বানূ গিফারেরও একটা তাঁবু ছিল। সা‘দ (রাযি.)-এর প্রচুর রক্ত তাঁদের দিকে প্রবাহিত হওয়ায় তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ হে তাঁবুর লোকেরা! তোমাদের তাঁবু হতে আমাদের দিকে কী প্রবাহিত হচ্ছে? তখন দেখা গেল যে, সা‘দের যখম হতে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। অবশেষে এতেই তিনি মারা গেলেন।
৪৬৪
সালাত প্রয়োজনে উট নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা।
উম্মু সালামাহ (রাযি.)
উম্মু সালামাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট (বিদায় হজ্জে) আমার অসুস্থতার কথা জানালে তিনি বললেনঃ সওয়ার হয়ে লোকদের হতে দূরে থেকে ত্বওয়াফ কর। আমি ত্বওয়াফ করলাম। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহর পাশে الطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ তিলাওয়াত করে সালাত আদায় করছিলেন।
৪৬৫
সালাত পরিচ্ছদ নেই
আনাস (রাযি.)
আনাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দু’জন সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট হতে অন্ধকার রাতে বের হলেন। (তাঁদের একজন ‘আবক্বাদ ইবনু বিশর (রাযি.) আর দ্বিতীয় জন সম্পর্কে আমার ধারণা যে, তিনি ছিলেন উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাযি.)) আর উভয়ের সাথে চেরাগ সদৃশ কিছু ছিল, যা তাঁদের সামনের দিকটাকে আলোকিত করছিল। তাঁরা উভয়ে যখন আলাদা হয়ে গেলেন, তখন প্রত্যেকের সাথে একটা করে (আলো) রয়ে গেল। অবশেষে এভাবে তাঁরা নিজেদের বাড়িতে পৌঁছলেন।
৪৬৬
সালাত মসজিদে ছোট দরজা ও পথ বানানো।
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.)
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ভাষণে বললেনঃ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা আছে- এ দুয়ের মধ্যে একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দিলেন। তিনি আল্লাহর নিকট যা আছে-তা গ্রহণ করলেন। তখন আবূ বকর (রাযি.) কাঁদতে লাগলেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, এই বৃদ্ধকে কোন্ বস্তুটি কাঁদাচ্ছে? আল্লাহ তাঁর এক বান্দাকে দুনিয়া ও আল্লাহর নিকট যা রয়েছে- এ দুয়ের একটা গ্রহণ করার ইখতিয়ার দিলে তিনি আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা গ্রহণ করেছেন (এতে কাঁদার কী আছে?)। মূলতঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -ই ছিলেন সেই বান্দা। আর আবূ বকর (রাযি.) ছিলেন আমাদের মাঝে সর্বাধিক জ্ঞানী। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে আবূ বকর, তুমি কাঁদবে না। নিজের সাহচর্য ও সম্পদ দিয়ে আমাকে যিনি সবচেয়ে অধিক ইহসান করেছেন তিনি আবূ বকর। আমার কোন উম্মাতকে যদি আমি খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) রূপে গ্রহণ করতাম, তবে তিনি হতেন আবূ বকর। কিন্তু তাঁর সাথে রয়েছে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য। আবূ বকরের দরজা ব্যতীত মসজিদের কোন দরজাই রাখা হবে না, সবই বন্ধ করা হবে।
৪৬৭
সালাত মসজিদে ছোট দরজা ও পথ বানানো।
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.)
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তিম রোগের সময় এক টুকরা কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে বাইরে এসে মিম্বারে বসলেন। আল্লাহর প্রশংসা ও সানা সিফাত বর্ণনার পর বললেনঃ জান-মাল দ্বারা আবূ বকর ইবনু আবূ কুহাফার চেয়ে অধিক কেউ আমার প্রতি ইহসান করেনি। আমি কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে অবশ্যই আবূ বকরকে গ্রহণ করতাম। তবে ইসলামের বন্ধুত্বই উত্তম। আবূ বকরের দরজা ব্যতীত এই মসজিদের ছোট দরজাগুলো সব বন্ধ করে দাও।
৪৬৮
সালাত পরিচ্ছদ নেই
ইবনু ‘উমার (রাযি.)
ইবনু ‘উমার হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা্য় আসেন তখন ‘উসমান ইবনু তালহা (রাযি.)-কে ডাকলেন। তিনি দরজা খুলে দিলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম , বিলাল, উসামাহ ইবনু যায়দ ও ‘উসমান ইবনু ত্বলহাহ (রাযি.) ভিতরে গেলেন। অতঃপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হল। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। অতঃপর সকলেই বের হলেন। ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেনঃ আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে বিলাল (রাযি.)-কে (সালাতের কথা) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভিতরে সালাত আদায় করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ কোন্ স্থানে? তিনি বললেন, দুই স্তম্ভের মাঝামাঝি। ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেনঃ কয় রাক‘আত আদায় করেছেন তা জিজ্ঞেস করতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম।
৪৬৯
সালাত মসজিদে মুশরিকের প্রবেশ।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় অশ্বারোহী সৈন্য নজদ অভিমুখে পাঠালেন। তারা বানূ হানীফা গোত্রের সুমামা ইবনু উসাল নামক এক ব্যক্তিকে নিয়ে এলেন। অতঃপর তাকে মসজিদের একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখলেন।
৪৭০
সালাত মসজিদে আওয়ায উঁচু করা।
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.)
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মসজিদে নাববীতে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমার দিকে একটা কাঁকর নিক্ষেপ করলো। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, তিনি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)। তিনি বললেনঃ যাও, এ দু’জনকে আমার নিকট নিয়ে এস। আমি তাদের নিয়ে তাঁর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কারা? অথবা তিনি বললেনঃ তোমরা কোন্ স্থানের লোক? তারা বললোঃ আমরা তায়েফের অধিবাসী। তিনি বললেনঃ তোমরা যদি মদিনার লোক হতে, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের কঠোর শাস্তি দিতাম। তোমরা দু’জনে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলছো!