৩৪৯৯
মোট হাদিস
৩৪৯৯
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
৪৮/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৪৯৯
৪৭১
সালাত মসজিদে আওয়ায উঁচু করা।
কাব ইবনু মালিক (রাযি.)
কা‘ব ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে তিনি ইবনু আবূ হাদরাদের নিকট তাঁর প্রাপ্য সম্পর্কে মসজিদে নাববীতে তাগাদা করেন। এতে উভয়ের আওয়ায উঁচু হয়ে গেল। এমন কি সে আওয়ায আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘর হতে শুনতে পেলেন। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘরের পর্দা সরিয়ে তাদের দিকে বের হয়ে এলেন এবং কা‘ব ইবনু মালিককে ডেকে বললেনঃ হে কা‘ব! উত্তরে কা‘ব বললেনঃ লাববায়কা ইয়া রাসূলাল্লাহ! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে ইঙ্গিত করলেন যে, তোমার প্রাপ্য হতে অর্ধেক ছেড়ে দাও। কা‘ব (রাযি.) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাই করলাম। তখন আল্লাহর রাসূল ইবনু আবূ হাদরাদ (রাযি.)-কে বললেনঃ উঠ এবার (বাকী) ঋণ পরিশোধ কর।
৪৭২
সালাত মসজিদে হালকা বাঁধা ও বসা।
ইবনু উমার (রাযি.)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে প্রশ্ন করলেন, তখন তিনি মিম্বারে ছিলেন- আপনি রাতের সালাত কীভাবে আদায় করতে বলেন? তিনি বলেনঃ দু’রাক‘আত দু’রাক‘আত করে আদায় করবে। যখন তোমাদের কারো ভোর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তখন সে আরো এক রাক‘আত আদায় করে নিবে। আর এটি তার পূর্ববর্তী সালাতকে বিত্র করে দেবে। [নাফি‘ (রহ.) বলেন] ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলতেনঃ তোমরা বিতরকে রাতের শেষ সালাত হিসেবে আদায় কর। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নির্দেশ দিয়েছেন।
৪৭৩
সালাত মসজিদে হালকা বাঁধা ও বসা।
ইবনু উমার (রাযি.)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এমন সময় আসলেন যখন তিনি খুৎবা দিচ্ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ রাতের সালাত কীভাবে আদায় করতে হয়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ দু’রাক‘আত দু’রাক‘আত করে আদায় করবে। আর যখন ভোর হবার আশঙ্কা করবে, তখন আরো এক রাক‘আত আদায় করে নিবে। সে রাক‘আত তোমার পূর্বের সালাতকে বিত্র করে দিবে। ওয়ালীদ ইব্ন কাসীর (রহ.) বলেনঃ ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহ.) আমার নিকট বলেছেন যে, ইবনু ‘উমার (রাযি.) তাঁদের বলেছেনঃ এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সম্বোধন করে বললেন, তখন তিনি মসজিদে ছিলেন।
৪৭৪
সালাত মসজিদে হালকা বাঁধা ও বসা।
আবূ ওয়াক্বিদ লায়সী (রাযি.)
আবূ ওয়াক্বিদ লায়সী (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনজন লোক এলেন। তাঁদের দু’জন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এগিয়ে এলেন আর একজন চলে গেলেন। এ দু’জনের একজন হালকায় খালি স্থান পেয়ে সেখানে বসে পড়লেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি তাদের পেছনে বসলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাবার্তা হতে অবসর হয়ে বললেনঃ আমি কি তোমাদের ঐ তিন ব্যক্তি সম্পর্কে খবর দেব? এক ব্যক্তি তো আল্লাহর দিকে অগ্রসর হলো। আল্লাহও তাকে আশ্রয় দিলেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি লজ্জা করলো, আর আল্লাহ তা‘আলাও তাকে (বঞ্চিত করতে) লজ্জাবোধ করলেন। তৃতীয় ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিল, কাজেই আল্লাহও তার হতে ফিরে থাকলেন।
৪৭৫
সালাত মসজিদে চিত হয়ে পা প্রসারিত করে শোয়া।
আব্বাদ ইবনু তামীম (রহ.)
আব্বাদ ইবনু তামীম (রহ.) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন, তিনি (তাঁর চাচা) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে মসজিদে চিত হয়ে এক পায়ের উপর আরেক পা রেখে শুয়ে থাকতে দেখেছেন। ইবনু শিহাব (রহ.) সা‘ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, ‘উমার ও ‘উসমান (রাযি... ‘আনহুমা) এমন করতেন।
৪৭৬
সালাত লোকের অসুবিধা না হলে রাস্তায় মাসজিদ বানানো বৈধ।
আয়িশাহ (রাযি.)
উরওয়াহ বিন যুবাইর সংবাদ দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আমার জ্ঞানমতে আমি আমার মাতা-পিতাকে সব সময় দ্বীনের অনুসরণ করতে দেখেছি। আর আমাদের এমন কোন দিন যায়নি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে দিনের উভয় প্রান্তে সকাল-সন্ধ্যায় আমাদের নিকট আসেননি। অতঃপর আবূ বকর (রাযি.)-এর মাসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন দেখা দিল। তিনি তাঁর ঘরের আঙ্গিণায় একটি মাসজিদ তৈরি করলেন। তিনি এতে সালাত আদায় করতেন ও কুরআন তিলাওয়াত করতেন। মুশরিকদের মহিলা ও ছেলেমেয়েরা সেখানে দাঁড়াতো এবং এতে তারা বিস্মিত হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতো। আবূ বকর (রাযি.) ছিলেন একজন অধিক ক্রন্দনকারী ব্যক্তি। তিনি কুরআন পড়া শুরু করলে অশ্রু সংবরণ করতে পারতেন না। তাঁর এ অবস্থা নেতৃস্থানীয় মুশরিক কুরাইশদের নেতৃবৃন্দকে শঙ্কিত করে তুলল।
৪৭৭
সালাত বাজারের মসজিদে সালাত আদায়।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জামা‘আতের সাথে সালাত আদায় করলে ঘর বা বাজারে সালাত আদায় করার চেয়ে পঁচিশ গুণ সওয়াব বৃদ্ধি পায়। কেননা, তোমাদের কেউ যদি ভাল করে উযূ করে কেবল সালাতের উদ্দেশেই মসজিদে আসে, সে মসজিদে প্রবেশ করা পর্যন্ত যতবার কদম রাখে তার প্রতিটির বিনিময়ে আল্লাহ তা‘আলা তার মর্যাদা ক্রমান্বয়ে উন্নীত করবেন এবং তার এক-একটি করে গুনাহ মাফ করবেন। আর মসজিদে প্রবেশ করে যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ তাকে সালাতেই গণ্য করা হয়। আর সালাত শেষে সে যতক্ষণ ঐ স্থানে থাকে ততক্ষণ মালাকগণ তার জন্যে এ বলে দু’আ করেনঃ হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তাকে রহম করুন- যতক্ষণ সে কাউকে কষ্ট না দেয়, উযূ ভেঙ্গে যাওয়ার কোন কাজ সেখানে না করে।
৪৭৮
সালাত মাসজিদ ও অন্যান্য স্থানে এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলে প্রবেশ করানো।
ইবনু উমার (রাযি.)
ইবনু ’উমার বা ইবনু ’আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাতের আঙ্গুল আর এক হাতের আঙুলে প্রবেশ করান।
৪৭৯
সালাত মাসজিদ ও অন্যান্য স্থানে এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলে প্রবেশ করানো।
ইবনু উমার (রাযি.)
ইবনু ‘উমার বা ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাতের আঙ্গুল আর এক হাতের আঙুলে প্রবেশ করান।
৪৮০
সালাত মাসজিদ ও অন্যান্য স্থানে এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলে প্রবেশ করানো।
আসিম ইবনু আলী (রহ.)
আসিম ইবনু ‘আলী (রহ.) হতে বর্ণিত। ‘আসিম ইবনু মুহাম্মাদ (রহ.) বলেনঃ আমি এ হাদীস আমার পিতা হতে শুনেছিলাম, কিন্তু আমি তা স্মরণ রাখতে পারিনি। পরে এ হাদীসটি আমাকে ঠিকভাবে বর্ণনা করেন ওয়াকিদ (রহ.) তাঁর পিতা হতে। তিনি বলেনঃ আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযি.) বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ হে ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর! যখন তুমি নিকৃষ্ট লোকদের সাথে অবস্থান করবে, তখন তোমার কী অবস্থা হবে?