৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৭০৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৭০৩১
জান্নাতে এমন একটি গাছ রয়েছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ’ বছর পর্যন্ত ভ্রমণ করতে থাকবে কিন্তু এতেও সে তার ছায়া অতিক্রম করতে পারবে না পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হাযিম (রহঃ)
নু’মান ইবনু আবু আইয়্যাশ যুরাকি (রহঃ)-এর কাছে এ হাদীস আমি বর্ণনা করার পর তিনি বললেন, আমাকে আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) বলেছেন, নবী (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতের মাঝে এমন একটি গাছ রয়েছে, যা দ্রুতগামী শক্তিশালী অশ্বারোহী একশ’ বছর পর্যন্ত চলার পরও তা অতিক্রম করতে পারবে না।
৭০৩২
জান্নাতবাসীদের উপর (চিরস্থায়ী) সন্তুষ্টি নাযিল হওয়া এবং কখনো অসন্তুষ্ট না হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদ্‌রী (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতী লোকদেরকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, ‘হে জান্নাতীগণ!’ তারা বলবে, ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আপনার আনুগত্যের জন্য উপস্থিত আছি। যাবতীয় কল্যাণ আপনারই হাতে।’ তারপর তিনি বলবেন, ‘তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছো?’ তারা জবাব দিবে, ‘হে আমাদের রব! কেন আমরা সন্তুষ্ট হব না? অথচ আপনি আমাদেরকে এমন বস্তু দান করেছেন যা আপনার সৃষ্টি জগতের অন্য কাউকে দান করেননি।’ তিনি বলবেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে এর থেকে উত্তম বস্তু দান করব না?’ তারা বলবে, ‘হে পালনকর্তা! এর চাইতে উত্তম বস্তু আর কি হতে পারে?’ এরপর আল্লাহ বলবেন, ‘আমি তোমাদের উপর আমার সন্তুষ্টি নাযিল করব। অতঃপর তোমাদের উপর আমি আর কক্ষনো অসন্তুষ্ট হব না।’
৭০৩৩
জান্নাতীগণ আকাশের তারকারাজির ন্যায় বালাখানাসমূহ দেখতে পাবে পরিচ্ছেদ নাই
সাহ্‌ল ইবনু সা‘দ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: জান্নাতবাসীগণ জান্নাতের সুউচ্চ বালাখানাসমূহ দেখতে পাবে, তোমরা যেমন আকাশের তারকারাজি দেখে থাকো।
৭০৩৪
জান্নাতীগণ আকাশের তারকারাজির ন্যায় বালাখানাসমূহ দেখতে পাবে পরিচ্ছেদ নাই
নু‘মান ইবনু আবূ ‘আইয়্যাশ
বর্ণনাকারী বলেন, নু‘মান ইবনু আবু ‘আইয়্যাশ-এর নিকট এ হাদীসটি আমি বর্ণনা করার পর তিনি বললেন, আমি আবু সাঈদ আল খুদরি (রাঃ)-এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যেমনিভাবে তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম আকাশের উজ্জ্বল তারকারাজি দেখে থাকো।
৭০৩৫
জান্নাতীগণ আকাশের তারকারাজির ন্যায় বালাখানাসমূহ দেখতে পাবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হাযিম (রহঃ)
ইয়াকুবের হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
৭০৩৬
জান্নাতীগণ আকাশের তারকারাজির ন্যায় বালাখানাসমূহ দেখতে পাবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, জান্নাতের বাসিন্দাগণ জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদসমূহ উপর দিকে দেখতে পাবে, যেমন দূরবর্তী উজ্জ্বল নক্ষত্রসমূহ তোমরা আকাশের পূর্ব বা পশ্চিম কোণে স্পষ্ট দেখতে পাও। কেননা তাদের পরস্পরের সম্মানের ক্ষেত্রে পার্থক্য সূচিত থাকবে। এ কথা শ্রবণে সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ স্তরসমূহ তো নবীদের জন্য নির্ধারিত। তাদের ছাড়া অন্যেরা তো এ স্তরে কখনো পৌঁছতে পারবে না। জবাবে তিনি বললেন, কেন পারবে না, অবশ্যই পারবে। যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ আমি তাঁর শপথ করে বলছি! যে সকল লোক আল্লাহতে ঈমান আনয়ন করে এবং তাঁর রসূলদের প্রতি আস্থা স্থাপন করে, তারা সকলেই এ মর্যাদা সম্পন্ন স্তরসমূহে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে।
৭০৩৭
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যারা তাদের পরিবার-পরিজন ও ধনৈশ্বর্যের বিনিময়ে দেখতে পছন্দ করবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার উম্মতের মাঝে আমাকে বেশি মহব্বতকারী ঐ সব লোকেরা হবে, যারা আবির্ভূত হবে আমার ইন্তিকালের পর, তারা আকাঙ্ক্ষা করবে, হায় যদি তাদের পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিনিময়েও আমাকে দেখতে পেত।
৭০৩৮
জান্নাতের বাজার ও তাতে যে সৌন্দর্য ও নি‘আমাত পাওয়া যাবে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: জান্নাতে একটি বাজার থাকবে। প্রত্যেক জুম’আয় জান্নাতী লোকেরা এতে একত্রিত হবে। তারপর উত্তরদিকের বায়ু প্রবাহিত হয়ে সেখানকার ধূলা-বালি তাদের মুখমণ্ডল ও পোশাক-পরিচ্ছদে গিয়ে লাগবে। এতে তাদের সৌন্দর্য এবং শরীরের রং আরো বেড়ে যাবে। তারপর তারা স্ব স্ব পরিবারের কাছে ফিরে আসবে। এসে দেখবে, তাদের শরীরের রং এবং সৌন্দর্যও বহু বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপর তাদের পরিবারের লোকেরা বলবে, আল্লাহর শপথ! আমাদের নিকট হতে যাবার পর তোমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরে তারাও বলবে, আল্লাহর শপথ! তোমাদের শরীরের সৌন্দর্য তোমাদের নিকট থেকে যাবার পর বহুগুণে বেড়ে গেছে।
৭০৩৯
পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় যে দলটি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল দীপ্তিমান হবে এবং তাঁদের গুণাবলী ও সহধর্মিণীগণের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ (রহঃ)
লোকেরা গর্ব প্রকাশ করে বলল, অথবা আলোচনা করতঃ বলল, জান্নাতে পুরুষ অধিক হবে, না মহিলা? এ কথা শ্রবণে আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আবুল কাসিম (ﷺ) কি বলেননি, যে দলটি জান্নাতে প্রথমে প্রবেশ করবে তাদের মুখায়ব পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হবে। তাদের পর যারা জান্নাতে যাবে তাদের চেহারা হবে ঊর্ধ্বাকাশের আলোকিত নক্ষত্রের মতো। তাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকবে দুইজন সহধর্মিণী। গোশতের এ পাশ হতে তাদের পায়ের নলার মগজ দৃশ্য হবে। জান্নাতের মাঝে কেউ অবিবাহিত থাকবে না।
৭০৪০
পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় যে দলটি সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের মুখমণ্ডল দীপ্তিমান হবে এবং তাঁদের গুণাবলী ও সহধর্মিণীগণের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু সীরীন (রহঃ)
পুরুষ ও মহিলাদের মধ্যে কারা অধিক জান্নাতী হবে এ বিষয়ে পুরুষ ও মহিলারা ঝগড়ায় লিপ্ত হলো। তারপর তারা এ ব্যাপারে আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলে তিনি ইবন উলাইয়ার ন্যায় বললেন, আবুল কাসিম (ﷺ) এ কথা বলেছেন।