৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬৪১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬৪০১
মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার ও উভয়ের মধ্যে কে তা পাওয়ার অধিক হাক্‌দার পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ)
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর দরবারে আগমন করলো। এরপর সে বলল, “আমি আপনার নিকট হিজরত ও জিহাদের জন্য বাইআত গ্রহণ করব। (এর দ্বারা) আমি আল্লাহর কাছে পুরস্কার ও বিনিময় আশা করি।” তিনি বললেন, “তোমার পিতা-মাতার মধ্যে কেউ জীবিত আছে কি?” সে বলল, “হ্যাঁ, তারা দুজনেই জীবিত।” তিনি আবার বললেন, “সত্যিই কি! তুমি আল্লাহর নিকট প্রতিদান আকাঙ্খা করছ?” সে বলল, “হ্যাঁ!” তিনি বললেন, “তাহলে তুমি তোমার পিতা-মাতার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের দুই জনের সঙ্গে সদাচরণ কর।”
৬৪০২
নফল সালাত ও অন্য যে কোন নফল ‘ইবাদতের উপর মাতা-পিতার খিদমাত অগ্রাধিকার প্রাপ্ত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
জুরায়জ (বনী ইসরাঈলের একজন আবিদ ব্যক্তি) তাঁর ইবাদতখানায় ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। হুমায়দ (রহঃ) বলেন, আমাদের কাছে আবু রাফি এমন ভঙ্গিতে ব্যক্ত করেন, যেমনভাবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর মায়ের ডাকের ভঙ্গিতে আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর কাছে ব্যক্ত করেছেন। কিভাবে তাঁর হাত তাঁর ভ্রুর উপর রাখছিলেন। এরপর তাঁর দিকে মাথা উঁচু করে তাকে ডাকছিলেন। বললেন, হে জুরায়জ! আমি তোমার মা, আমার সাথে কথা বলো। এ কথা এমন অবস্থায় বলছিলেন, যখন জুরায়জ সালাতে নিমগ্ন ছিলেন। তখন তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন, “হে আল্লাহ! (একদিকে) আমার মা আর (অপরদিকে) আমার সালাত (আমি কী করি?)”।রাবী বলেন, অবশেষে তিনি তাঁর সালাতকে অগ্রাধিকার দিলেন এবং তাঁর মা ফিরে গেলেন। পরে তিনি দ্বিতীয়বার আসলেন এবং বললেন, হে জুরায়জ! আমি তোমার মা, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলো। তিনি বললেন, ইয়া আল্লাহ! আমার মা, আমার সালাত। তখন তিনি তাঁর সালাতে ব্যস্ত রইলেন। তখন তাঁর মা বললেন, “হে আল্লাহ! এ জুরায়জ আমারই ছেলে। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছিলাম। সে আমার সাথে কথা বলতে অস্বীকার করল। হে আল্লাহ! তার মৃত্যু দিয়ো না, যে পর্যন্ত তাকে ব্যভিচারিণীদের মুখ না দেখাও।” তিনি (ﷺ) বলেন, যদি তাঁর মাতা তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোন বিপদের জন্য বদদোয়া করতেন তাহলে অবশ্যই সে বিপদে পতিত হত।তিনি (ﷺ) বলেন, এক মেষ রাখাল জুরায়জের ইবাদতখানার নিকটেই (মাঝে মাঝে) আশ্রয় নিত। এরপর গ্রাম থেকে এক মহিলা বের হয়ে এলে। উক্ত রাখাল তার সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। এতে মহিলাটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয়। তখন লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করলো, এ (সন্তান) কোথা থেকে? সে উত্তর দিল, এ ইবাদতখানায় যে বাস করে, তার থেকে।এরপর তারা শাবল-কোদাল ইত্যাদি নিয়ে এলো এবং চিৎকার করে ডাক দিল। তখন জুরায়জ সালাতে মশগুল ছিলেন। কাজেই তিনি তাদের সাথে কথা বললেন না। এরপর তারা তাঁর ইবাদতখানা ধ্বংস করতে লাগল। তিনি এ অবস্থা দেখে নীচে নেমে এলেন। এরপর তারা বলল, এ মহিলাকে জিজ্ঞেস করো (সে কী বলছে)। তখন জুরায়জ মুচকি হেসে শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, তোমার পিতা কে? তখন শিশুটি বলল, আমার পিতা সে মেষ রাখাল। যখন তারা সে শিশুটির মুখে এ কথা শুনতে পেল তখন তারা বলল, (হে দরবেশ) আমরা তোমার ইবাদতখানার (গীর্জার) যতটুকু ভেঙে ফেলেছি তা সোনা-রূপা দিয়ে পুনঃনির্মাণ করে দেব। তিনি বললেন, না; বরং তোমরা মাটি দ্বারাই পূর্বের ন্যায় তা নির্মাণ করে দাও। এরপর তিনি তাঁর ইবাদতগাহে উঠে বসলেন।
৬৪০৩
নফল সালাত ও অন্য যে কোন নফল ‘ইবাদতের উপর মাতা-পিতার খিদমাত অগ্রাধিকার প্রাপ্ত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেনঃ তিনজন ব্যতীত কেউ দোলনায় কথা বলেনি। তাঁদের মধ্যে একজন ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)। আরেকজন জুরায়জ সম্পর্কিত শিশুটি। জুরায়জ ছিলেন একজন ইবাদতগুজার ব্যক্তি। তিনি একটি ইবাদতখানা তৈরি করে সেখানে অবস্থান করতেন। এক সময় তাঁর কাছে তাঁর মা আসলেন। তিনি সে সময় সালাতে নিমগ্ন ছিলেন। মা ডাকলেন, হে জুরায়জ! তখন তিনি (মনে মনে) বলতে লাগলেন, হে আমার প্রতিপালক! (একদিকে) আমার মা আর (অন্যদিকে) আমার সালাত। এরপর তিনি সালাতে মগ্ন থাকলেন। মা ফিরে গেলেন। পরের দিন তিনি আবার তার কাছে এলেন। তখনও তিনি সালাত আদায় করছিলেন। তিনি বললেন, হে জুরায়জ! তখন তিনি (মনে মনে) বললেন, হে আমার প্রতিপালক! একদিকে আমার মা (আমাকে ডাকছেন) আর (অন্য দিকে) আমার সালাত। এরপর তিনি সালাতে মশগুল রইলেন। মা ফিরে গেলেন। এরপরের দিন আবার এলেন। তখনও তিনি সালাতে রত ছিলেন। এবারও (মা) বললেন, হে জুরায়জ! তখন তিনি (মনে মনে) বললেন, হে আমার প্রতিপালক! (একদিকে) আমার মা (আমাকে ডাকছেন)। (অন্যদিকে) আমার সালাত। এরপর তিনি সালাতে ই লিপ্ত রইলেন। এবার তার মা বললেন, হে আল্লাহ! বদকার স্ত্রীলোকের সম্মুখীন করার আগ পর্যন্ত তুমি তার মৃত্যু দিয়ো না। এরপর বানু ইসরাইলদের মধ্যে জুরায়জ ও তার ইবাদত সম্পর্কে আলোচনা হতে লাগল। (বানী ইসরাইলের মধ্যে) সৌন্দর্যে উপমেয় এক দুশ্চরিত্রা স্ত্রীলোক ছিল। সে বলল, যদি তোমরা চাও তাহলে আমি তোমাদের সামনে তাকে (জুরায়জকে) ফিতনায় ফেলতে পারি। এরপর সে জুরায়জের সামনে নিজেকে পেশ করে। কিন্তু জুরায়জ তার প্রতি ভ্রুক্ষেপও করেননি। অবশেষে সে এক মেষ রাখালের নিকট আসে। সে জুরায়েজের ইবাদতখানায় মাঝে মধ্যে যাওয়া-আশা করত। সে তাকে নিজের দিকে প্রলুব্ধ করল। সে (রাখাল) তার উপর অনুরক্ত হলো। এতে সে গর্ভবতী হয়ে গেল। যখন সে সন্তান প্রসব করল তখন বলে দিল যে, এ সন্তান জুরায়জের। লোকেরা (এ কথা শুনে) তাঁর কাছে এসে জড়ো হলো এবং তাঁকে নীচে নামতে বাধ্য করল এবং তারা তার ইবাদতখানা ভেঙ্গে ফেলল আর তাঁকে প্রহার করতে লাগল। তখন তিনি (জুরায়জ) জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের ব্যাপার কী? তারা বলল, তুমি তো এ দুশ্চরিত্রা স্ত্রীলোকের সাথে ব্যভিচার করেছো এবং তোমার পক্ষ থেকে সে সন্তান প্রসব করেছে। তখন তিনি বললেন, শিশুটি কোথায়? তারা শিশুটি নিয়ে এলো। এরপর তিনি বললেন, আমাকে একটু অবকাশ দাও, আমি সালাত আদায় করে নেই। তারপর তিনি সালাত আদায় করলেন এবং সালাত শেষে শিশুটির কাছে এলেন। এরপর তিনি শিশুটির পেটে টোকা দিয়ে বললেন, হে বৎস! তোমার পিতা কে? সে উত্তর করল, অমুক রাখাল। বর্ণনাকারী বলেন, তখন লোকেরা জুরায়জের দিকে এগিয়ে আসলো এবং তাঁকে চুম্বন করতে এবং তাঁর গায়ে হাত বুলাতে লাগল। এরপর বলল, আমরা আপনার ইবাদতখানা স্বর্ণ দ্বারা নির্মাণ করে দিব। তিনি বললেন, না বরং পুনরায় মাটি দিয়ে তৈরি করে দাও, যেমন ছিল। লোকেরা তাই করল। (তৃতীয় জন) একদা এক শিশু তার মায়ের দুধ পান করছিল। তখন উত্তম পোষাকে সজ্জিত এক লোক একটি হৃষ্টপুষ্ট সাওয়ারীর উপর আরোহণ করে সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। তখন তার মা বলল, “হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে এর মত বানিয়ে দাও। তখন শিশুটি মাতৃস্তন ছেড়ে তার প্রতি লক্ষ করে বলল, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এর মত বানিও না।” এরপর সে আবার স্তনের দিকে ফিরে দুধ পান করতে লাগল। রাবী বলেন, মনে হয় যেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এখনো দেখছি যে, তিনি তাঁর শাহাদাত আঙ্গুলি নিজ মুখে দিয়ে তা চুষে সে শিশুটির দুধ পানের দৃশ্য দেখাচ্ছেন। এরপর তিনি বর্ণনা করলেন যে, কিছু লোক একজন যুবতীকে নিয়ে যাচ্ছিল এবং তাকে তারা প্রহার করছিল এবং বলাবলি করছিল যে, তুই ব্যভিচার করেছিস, তুই চুরি করেছিস। আর সে বলছিল, আল্লাহর উপরই আমার ভরসা; আর তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক। তখন তার মা বলল, হে আল্লাহ! তুমি আমার পুত্রকে এর (দাসীর) মত বানিও না। তখন শিশুটি দুধপান ছেড়ে তার (দাসীর) প্রতি লক্ষ্য করে বলল, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এর (দাসীর) মত বানিয়ে দাও।” সে সময় মা ও পুত্রের মধ্যে কথোপকথন হলো। তখন মা বলল, ঠাটা পড়ুক (এ কেমন কথা)। সুদর্শন এক ব্যক্তি যাচ্ছিল। তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহ! তুমি আমার ছেলেকে এর মত বানিও”। আর তুমি বললে, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এর মত বানিও না” এরপর লোকেরা এ দাসীকে নিয়ে যাচ্ছিল। তখন তারা তাঁকে প্রহার করছিল এবং বলছিল, তুই ব্যভিচার করেছিস এবং তুই চুরি করেছিস। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ! তুমি আমার পুত্রকে তার মত বানিও না। আর তুমি বললে, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মতো বানাও। সে বলল, সে আরোহী ব্যক্তি ছিল অত্যাচারী। তাই আমি বলেছি, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মত বানিও না। আর যে দাসীকে ওরা বলছিল, তুই যিনা করেছিস। আসলে সে ব্যভিচারে লিপ্ত হয় নি এবং বলছিল, চুরি করেছিস, অথচ সে চুরি করেনি। তাই আমি বললাম, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তার মত বানিয়ে দাও”।
৬৪০৪
ধ্বংস সে ব্যক্তির, যে পিতা-মাতা অথবা একজনকে বার্ধক্যে পেয়েও জান্নাত পেল না পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: নাক ধূলিমলিন হোক, আবারও নাক ধূলিমলিন হোক, আবারও নাক ধূলিমলিন হোক। জিজ্ঞেস করা হল, কোন ব্যক্তির, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে অথবা একজনকে বার্ধক্যাবস্থায় পেল অথচ সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।
৬৪০৫
ধ্বংস সে ব্যক্তির, যে পিতা-মাতা অথবা একজনকে বার্ধক্যে পেয়েও জান্নাত পেল না পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, আবার সে ব্যক্তির নাক ধূলিমলিন হোক, আবার তার নাক ধূলিমলিন হোক। জিজ্ঞেস করা হলো, কার হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে কিংবা তাদের একজনকে বার্ধক্যজনিত অবস্থায় পেল, এরপরেও সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না।
৬৪০৬
ধ্বংস সে ব্যক্তির, যে পিতা-মাতা অথবা একজনকে বার্ধক্যে পেয়েও জান্নাত পেল না পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তার নাক ধূলিমলিন হোক- কথাটি তিনবার বলেছেন। এরপর তিনি উক্ত হাদীসের মতোই উল্লেখ করেছেন।
৬৪০৭
পিতা-মাতার বন্ধু-বান্ধব প্রমুখের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
মক্কায় এক রাস্তায় আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর সাথে এক বেদুঈনের সাক্ষাৎ হলো। আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁকে সালাম দিলেন এবং তিনি যে গাধার পিঠে আরোহণ করতেন, সে গাধাটি তাকে আরোহণের জন্য দিয়ে দিলেন। তিনি তাঁর মাথার পাগড়িটিও তাকে দান করলেন।তখন আবদুল্লাহ ইবন দিনার (রহঃ) তাঁকে বললেন যে, আমরা তাকে বললাম, “আল্লাহ আপনার কল্যাণ করুন। বেদুঈনরা তো অল্পতেই তুষ্ট হয়ে যায়।” (এত দেয়ার প্রয়োজন কি ছিল?)তখন আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বললেন, “এ ব্যক্তির পিতা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর বন্ধু ছিলেন। আর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তির সর্বোত্তম নেকীর কাজ হচ্ছে তার পিতার বন্ধুর সঙ্গে সহমর্মিতার সম্পর্ক বজায় রাখা।”
৬৪০৮
পিতা-মাতার বন্ধু-বান্ধব প্রমুখের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার হলো পিতার বন্ধুর সাথে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখা।
৬৪০৯
পিতা-মাতার বন্ধু-বান্ধব প্রমুখের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
যখন তিনি মক্কা অভিমুখে রওনা হতেন তখন তাঁর সাথে একটি গাধা থাকত। উটের সওয়ারিতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে ক্ষণিক স্বস্তি লাভের জন্য তাতে আরোহণ করতেন। আর তাঁর সঙ্গে একটি পাগড়ী থাকত, যা দিয়ে তিনি মাথা বেঁধে নিতেন। কোনো একসময় তিনি উক্ত গাধায় আরোহণ করে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর পাশ দিয়ে একজন বেদুঈন অতিক্রম করছিল। তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি অমুক এর পুত্র অমুক নও?” সে বলল, “হ্যাঁ।” তখন তিনি তাকে গাধাটি দিয়ে দিলেন এবং বললেন, “এতে আরোহণ কর।” তিনি তাঁকে পাগড়ীটিও দান করলেন এবং বললেন, “এটি দ্বারা তোমার মাথা বেঁধে নাও।”তখন তাঁর সঙ্গীদের কেউ কেউ তাঁকে বললেন, “আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন। আপনি এ বেদুঈনকে গাধাটি দিয়ে দিলেন, যার উপর আরোহণ করে আপনি স্বস্তি লাভ করতেন এবং পাগড়ীটিও দান করলেন, যার দ্বারা আপনার মাথা বাঁধতেন।” তখন তিনি বললেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, সর্বোত্তম সদ্ব্যবহার হলো কোন ব্যক্তির পিতার ইন্তিকালের পর তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে সদ্ব্যবহার বজায় রাখা। আর এ বেদুইনের পিতা ছিলেন উমর (রাঃ)-এর অন্তরঙ্গ বন্ধু।”
৬৪১০
পাপ-পুণ্যের ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ নাই
নাও্ওয়াস ইবনু সাম’আন আল আনসারী (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পুণ্য ও পাপ সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তখন তিনি জবাব দিলেন, পুণ্য হলো উন্নত চরিত্র। আর পাপ হলো যা তোমার অন্তরে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে এবং লোকে তা জানুক তা তুমি অপছন্দ করো।