৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৬২৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৬২৫১
জাবির (রাঃ)-এর বাবা ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনু হারাম (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
উহুদের দিবসে আমার বাবাকে অঙ্গহানি অবস্থায় আনা হলো এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে রাখা হলো। তারপর তাদের অবিকল হাদিস রিওয়ায়াত করেন।
৬২৫২
জুলাইবীব (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বারযাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক জিহাদে ছিলেন। আল্লাহ তা’আলা তাঁকে গনীমতের সম্পদ দান করলেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের বললেন, “তোমরা কেউ কি হারিয়ে যাওনি?” লোকেরা বলল, “হ্যাঁ, অমুক, অমুক ও অমুককে।” তিনি বললেন, “তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ?” লোকেরা বলল, “হ্যাঁ, অমুক, অমুক এবং অমুককে।” তিনি পুনরায় বললেন, “তোমরা কি কাউকে হারিয়েছ?” লোকেরা বলল, “না।” তিনি বললেন, “কিন্তু আমি জুলায়বীবকে হারিয়েছি। তোমরা তাঁকে সন্ধান করো।”তখন তাঁকে নিহতদের মাঝে সন্ধান করা হলো। তারা সাতটা লাশের সামনে তাঁকে খুঁজে পেল। তিনি এ সাতজনকে মেরে ফেলেছিলেন। তারপর শত্রুরা তাঁকে মারে। তখন নবী (ﷺ) তাঁর নিকট আসলেন এবং ওখানে দাঁড়িয়ে বললেন, “সে সাতজন হত্যা করেছে; তারপর শত্রুরা তাকে মেরেছে। সে আমার আর আমিও তার। সে আমার আর আমিও তার।” অতঃপর তিনি তাঁকে দুইবাহুর উপর উঠিয়ে নিলেন। কেবল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাহুই তাঁকে বহন করছিল। তাঁর কবর খনন করা হলো এবং তিনি তাঁকে তাঁর কবরে রেখে দিলেন। রাবী তাঁর গোসলের বর্ণনা করেননি।
৬২৫৩
আবূ যার (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
আমরা আমাদের গিফার সম্প্রদায় হতে বের হলাম। তারা হারাম মাসগুলোকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করত। আমি আমার ভাই উনাইস এবং আমাদের মা সহ বের হলাম এবং আমাদের এক মামার নিকট গেলাম। মামা আমাদের অনেক সসম্মানে গ্রহণ করলেন এবং আমাদের সঙ্গে ভদ্রতাসূচক আচরণ করলেন। এতে তাঁর সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা আমাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হল। তারা বলল, তুমি যখন তোমার পরিবার হতে দূরে থাকো তখন উনাইস তোমার অনুপস্থিতিতে তাদের নিকট আসা-যাওয়া করে। তারপর আমাদের মামা আসলেন এবং তাঁকে যা বলা হয়েছে তিনি তা আমাদের কাছে বলে দিলেন।তখন আমি বললাম, আপনি আমাদের সঙ্গে অতীতে যে সদ্ব্যবহার করেছেন তাকে নিঃশেষ করে দিলেন। তারপর আপনার সাথে আমাদের এক থাকার কোনো সুযোগ নেই। অতঃপর আমরা আমাদের উটগুলোকে সন্নিকটে আনলাম এবং তাদের উপর আরোহিত হলাম। তখন আমাদের মামা তাঁর বস্ত্র দ্বারা নিজেকে আবৃত করে কাঁদতে শুরু করলেন। আমরা রওনা হয়ে মক্কার নিকটবর্তী অবতরণ করলাম। উনাইস আমাদের পশুগুলো এবং সে পরিমাণ পশুর মাঝে বাজি ধরল। এরপর তারা উভয়ে এক গণকের নিকট গেল। গণক উনাইসকে শ্রেষ্ঠ বলে রায় দিল। তারপর উনাইস আমাদের উটগুলো এবং তার সমসংখ্যক উট নিয়ে আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাবর্তন করল।আবু যার (রাঃ) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে দেখা করার তিন বছর আগে সালাত আদায় করেছি। আমি বললাম, কার জন্যে? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্যে। আমি বললাম, কোন্ দিকে মুখ ফিরাতেন? তিনি বললেন, আমার মহান আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে মুখ ফিরাতাম। আমি ঈশার সালাত আদায় করতে করতে রাতের শেষাংশে ঘুমের ঘোরে ঢলে পড়তাম, যতক্ষণ না সূর্যের কিরণ এসে আমার উপর পড়ত। তারপর উনাইস (রাঃ) বললেন, মক্কায় আমার একটু দরকার আছে। সুতরাং আপনি আমার সংসার দেখাশুনা করবেন। তারপর উনাইস (রাঃ) চলে গেল এবং মক্কায় পৌঁছলো এবং সে দেরিতে আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, তুমি কী করলে? সে বলল, আমি মক্কায় জনৈক লোকের দেখা পেয়েছি যিনি আপনার দ্বীনের উপর অবিচল। তিনি মনে করেন যে, আল্লাহ তাঁকে (রাসূল হিসেবে) পাঠিয়েছেন।আমি [আবু যার (রাঃ)] বললাম, ব্যক্তিরা তাঁর ব্যাপারে কী বলে। সে বলল, তারা তাঁকে কবি, জ্যোতিষী ও জাদুকর বলে। উনাইস (রাঃ) নিজেও একজন কবি ছিল। উনাইস (রাঃ) বলল, আমি বহু গণকের কথা শুনেছি; কিন্তু সে লোকের কথা গণকের মতো নয়। আমি তাঁর বাক্যকে কবিদের রচনার সাথে মিলিয়ে দেখেছি; কিন্তু কোনো কবির ভাষার সঙ্গে তার কোনো সামঞ্জস্য নেই। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী এবং ওরা মিথ্যাবাদী। তিনি বললেন, আমি বললাম, তুমি আমার সংসার খোঁজ-খবর রাখবে এবং আমি গিয়ে একটু দেখে নেই।তিনি বললেন, আমি মক্কায় আসলাম এবং তাদের এক জীর্ণ লোককে উদ্দেশ্য করে বললাম, সে লোক কোথায়, যাকে তোমরা সাবী (বিধর্মী) বলে ডাক? সে আমার দিকে ইঙ্গিত করল এবং বলল, এ-ই সাবী। এরপর মক্কা পর্বতের ব্যক্তিরা ঢেলা ও হাড়সহ আমার উপর চড়াও হলো, এমনকি আমি অজ্ঞান হয়ে লুটে পড়লাম। তিনি বললেন, যখন আমি উঠলাম তখন লাল মূর্তির (অর্থাৎ- রক্তের ঢল) অবস্থায় উঠলাম। তারপর আমি যমযম কূপের নিকট এসে আমার রক্ত ধুয়ে নিলাম। তারপর তার পানি পান করলাম। হে ভ্রাতুষ্পুত্র! আমি সেখানে ত্রিশ রাত-দিন অবস্থান করেছিলাম। সে সময় যমযমের পানি ব্যতীত আমার নিকট কোনো খাবার ছিল না। এরপর আমি এমন মোটা হয়ে গেলাম যে, আমার পেটের চামড়ায় ভাঁজ পড়ে গেল। আমি আমার অন্তরে ক্ষুধার যাতনা বুঝতে পারিনি।তিনি বললেন, ইতোমধ্যে মক্কাবাসীরা যখন এক উজ্জ্বল গভীর রাতে ঘুমিয়ে পড়ল, তখন কেউ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করছিল না। সে সময় তাদের মধ্য থেকে দু’জন মহিলা ইসাফ ও নায়িলাকে ডাকছিল। তারা তাওয়াফ করতে করতে আমার নিকট এসে উপস্থিত হল। আমি বললাম, তাদের একজনকে অপরজনের সঙ্গে বিবাহে আবদ্ধ কর। তিনি বললেন, তবুও তারা তাদের কথা হতে বিচ্ছিন্ন হলো না। তারা আবার আমার সামনে দিয়ে আসলো। আমি অধৈর্য হয়ে বললাম, গুপ্তাঙ্গ কাষ্ঠের ন্যায়। এখানে আমি ইশারা ইঙ্গিত না করে স্পষ্টভাবেই বললাম। এতে তারা অভিসম্পাত করতে করতে ফিরে চলল আর বলতে লাগল, যদি এখানে আমাদের লোকদের মাঝে কেউ থাকত (তাহলে এ দুষ্টকে উপযুক্ত শাস্তি দিত)!পথিমধ্যে উভয় নারীর সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাঃ)-এর দেখা হলো। তখন তাঁরা উভয়ে উঁচুভূমি থেকে নিচে নামছিলেন। তিনি তাদের দু’জনকেই প্রশ্ন করলেন, কী হয়েছে তোমাদের? তাঁরা বলল, কা‘বা ও তার পর্দার মধ্যস্থলে এ বিধর্মী আছে। তিনি প্রশ্ন করলেন, সে তোমাদের কী বলেছে? তারা বলল, সে এমন কথা বলেছে যাতে মুখ ভরে যায় (মুখে বলা ঠিক না)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে তাঁর সাথীসহ হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করে সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি তাঁর সালাত আদায় শেষ করলেন তখন আবু যার (রাঃ) বললেন, আমি প্রথম লোক, যে তাঁকে ইসলামী শরীয়ত নিয়মে সালাম জানিয়ে বললাম, আসসালামু ‘আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ! (আপনার প্রতি সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক)। অতঃপর তিনি জানতে চাইলেন, তুমি কে? তিনি বললেন, আমি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি।তিনি বললেন, তারপর তিনি তাঁর হাত ঝুকালেন এবং তাঁর হাতের আঙ্গুলগুলো কপালে রাখলেন। আমি ধারণা করলাম, গিফার সম্প্রদায়ের প্রতি আমার সম্পর্ককে তিনি পছন্দ করছেন না। তারপর আমি তাঁর হাত ধরতে চাইলাম। তাঁর সাথী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি তাঁকে আমার তুলনায় বহু বেশী ভাল জানতেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলে দেখলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কতদিন যাবৎ এখানে অবস্থান করছ? আমি বললাম, আমি এখানে ত্রিশটি রাত্রদিন যাবৎ আছি। তিনি বললেন, তোমাকে কে খাদ্য দিত? আমি বললাম, যমযম কূপের পানি ব্যতীত আমার জন্য অন্য কোনো খাদ্য ছিল না। এ পানি পান করেই আমি স্থূলদেহী হয়ে গেছি, এমনকি আমার পেটের চামড়ায় ভাঁজ পড়েছে এবং আমি কক্ষনো ক্ষুধার কোনো দুর্বলতা বুঝতে পারিনি। তিনি বললেন, এ পানি অতিশয় বারাকাতময় ও প্রাচুর্যময় এবং তা অন্যান্য খাবারের মতো তা পেট পূর্ণ করে দেয়। তারপর আবু বকর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! তাকে আজ রাতের খাবার খাওয়ানোর জন্য আমাকে অনুমতি দিন।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাঃ) রওনা হলেন এবং আমিও তাঁদের সঙ্গে চললাম। আবু বকর (রাঃ) একটি দরজা খুললেন এবং আমাদের জন্য তিনি মুষ্টি ভরে তায়েফের কিশমিশ খেতে দিলেন। এটাই ছিল আমার প্রথম খাদ্য যা সেখানে আমি খেলাম। সেখানে যতক্ষণ থাকার তা থাকলাম। তারপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলাম। তিনি বললেন, আমাকে খেজুর সমৃদ্ধ একটি দেশের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমার ধারণা সেটি ইয়াসরিব (মদিনার পুরনো নাম) ব্যতীত অন্য কোনো জায়গা নয়। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি আমার পক্ষ থেকে তোমার সম্প্রদায়ের নিকট আমার আহ্বান পৌঁছে দিবে? হয়ত তোমার ওয়াসীলায় আল্লাহ তাদের কল্যাণ দান করবেন এবং এদের হিদায়াতের জন্য তোমাকে পুরস্কৃত করবেন।তারপর আমি উনাইসের নিকট প্রত্যাবর্তন করলাম। সে বলল, আপনি কী করেছেন? আমি বললাম, আমি অবশ্যই ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছি। সে (উনাইস) বলল, আপনার দ্বীন সম্পর্কে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবুল করেছি এবং ঈমান এনেছি। তারপর আমরা দু’জনে মায়ের নিকট আসলাম। তিনি বললেন, তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমিও ইসলাম কবুল করলাম এবং ঈমান আনলাম। তারপর আমরা আরোহিত হয়ে আমাদের গিফার সম্প্রদায়ের নিকট আসলাম। তাদের অর্ধেক লোক ইসলাম কবুল করল এবং ইমা ইবনু রহাজাহ্ গিফারী তাঁদের ইমামাত করেন। তিনি ছিলেন তাঁদের নেতা। তাদের বাকী অর্ধেক বলল, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনায় আসবেন তখন আমরা ইসলাম কবুল করব। তারপরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনাতে আসলেন এবং তাঁদের (গিফার সম্প্রদায়ের) অবশিষ্ট অর্ধেক ব্যক্তি ইসলামে দীক্ষিত হলো। এরপর আসলাম সম্প্রদায়ের লোকেরা আসলো। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের ভাইয়েরা (মিত্ররা) যেভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আমরাও তাঁদের ন্যায় ইসলাম গ্রহণ করলাম। এভাবে তাঁরাও ইসলামে দীক্ষিত হলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ গিফার সম্প্রদায়কে আল্লাহ তা‘আলা মাফ করুন এবং আসলাম গোত্রকে আল্লাহ তা‘আলা নিরাপত্তা প্রদান করুন।
৬২৫৪
আবূ যার (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
হুমায়দ ইবনু হিলাল (রাঃ)
এ সূত্রে (রাবী) আবূ যার (রাঃ)-এর কথা “আমি বললাম, তুমি এখানে অবস্থান করো, আমি গিয়ে সে ব্যক্তিকে দেখে নেই।” তারপর বর্ধিত করে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিন্তু মক্কাবাসীদের সম্পর্কে সাবধান থাকবেন। তারা তাঁর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং তাঁর সাথে খারাপ আচরণ করে।
৬২৫৫
আবূ যার (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু সামিত (রাঃ)
আবূ যার (রাঃ) বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! নবী (ﷺ)-এর আবির্ভাবের আগে আমি দু’বছর সালাত আদায় করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, আপনি কোন দিকে মুখ ফিরাতেন? তিনি [আবু যার (রাঃ)] বললেন, আল্লাহ যেদিকে আমার মুখ ফিরিয়ে দিতেন সেদিকে। তারপর তিনি সুলায়মান ইবনু মুগীরাহ (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল রিওয়ায়াত করেন। আর তিনি হাদীসে বলেছেন, তারপর তারা দু’জনে এক গণকের নিকট গেলেন। তিনি [আবু যার (রাঃ)] বলেন, আমার ভাই উনাইস এ গণকের প্রশংসা করতে লাগল, পরিশেষে প্রতিপক্ষের উপর বিজয়ী হলো। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা তার জন্তুগুলো নিলাম এবং আমাদের জন্তুগুলোর সঙ্গে একত্রিত করে রাখলাম। তিনি তাঁর হাদীসে আরও বর্ণনা করেছেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন এবং বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। অতঃপর মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। তিনি [আবু যার (রাঃ)] বলেন, আমি তাঁর (ﷺ)-এর কাছে আসলাম এবং আমিই প্রথম লোক, যে তাঁকে ইসলামী বিধান অনুযায়ী সালাম করে। আমি বললাম, আসসালামু ‘আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ (ﷺ)! (হে আল্লাহর রাসূল! আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক)। তিনি (ﷺ) বললেন, ‘ওয়া ‘আলাইকুমুস সালাম’ (তোমার প্রতিও শান্তি বর্ষিত হোক)। তুমি কে? তাঁর বর্ণিত হাদীসে আরও রয়েছে যে, এরপর তিনি বললেন, তুমি এখানে কতদিন ধরে আছ? আমি বললাম, পনের দিন ধরে অবস্থান করছি। এ হাদীসের আরও অতিরিক্ত রয়েছে, অতঃপর আবু বকর (রাঃ) বললেন, তাঁকে এক রাতের আতিথেয়তার অনুমতি আমাকে দিন।
৬২৫৬
আবূ যার (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
যখন আবূ যার (রাঃ)-এর নিকট সংবাদ আসলো যে, মক্কায় নবী (ﷺ)-এর আবির্ভাব হয়েছে, তখন তিনি তাঁর ভাইকে বললেন, তুমি সওয়ারীতে চড়ে সে (মক্কা) উপত্যকায় যাও এবং সে লোকের ব্যাপারে আমাকে অবহিত কর, যিনি মনে করেন যে, আসমান থেকে তাঁর নিকট ওহী আসে। তাঁর কথা ভাল করে শুনবে এবং এরপর তুমি আমার নিকট আসবে। তখন অপর লোক (তাঁর ভাই) রওনা হয়ে মক্কায় আসলো এবং তাঁর কথা শুনল। এরপর সে আবূ যার (রাঃ)-এর নিকট প্রত্যাবর্তন করল এবং সে বলল, আমি তাঁকে দেখেছি যে, তিনি উত্তম চরিত্রের আদেশ দেন এবং এমন বাণী শুনান, যা কবিতার সাদৃশ্য নয়। তখন তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বললেন, আমি যা চেয়েছি তা তুমি পূরণ করতে পারনি।এরপর তিনি পাথেয় ব্যবস্থা করলেন এবং একটি পানি ভর্তি মশক নিলেন। পরিশেষে মক্কায় পৌঁছে তিনি মসজিদে আসলেন। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সন্ধান করলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে চিনতে পারলেন না। আর তাঁর ব্যাপারে (কারও নিকট) প্রশ্ন করাও পছন্দ করলেন না। পরিশেষে রাত হয়ে গেল। তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন আলী (রাঃ) তাঁকে দেখলেন এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে, ইনি একজন আগন্তুক, তখন তিনি তাঁকে দেখে তাঁর অনুকরণ করলেন; কিন্তু কেউ কারও নিকট কিছু প্রশ্ন করলেন না। এমনকি (এভাবে) সকাল হয়ে গেল।এরপর তিনি [আবূ যার (রাঃ)] তাঁর আসবাবপত্র ও মশক মসজিদে রাখলেন এবং সেদিনটি সেখানে অতিবাহিত করলেন। তিনি নবী (ﷺ)-কে সাক্ষাৎ পেলেন না, এমনকি সন্ধ্যা হয়ে গেল। এরপর তিনি তার ঘুমানোর স্থানে ফিরে এলেন। আলী (রাঃ) তাঁর নিকট এলেন এবং বললেন, এখনও সময় আসেনি, যাতে সে লোকটির গন্তব্য সম্বন্ধে জানা যায়। তারপর তিনি তাঁকে দাঁড় করালেন এবং তাঁকে সাথে নিয়ে চললেন। তবে কেউ কারোর নিকট কোন বিষয়ে প্রশ্ন করলেন না। এমনকি তৃতীয় দিন এসে গেল। এদিনও তেমনটি করলেন।তারপর আলী (রাঃ) তাঁর সাথে তাঁকে দাঁড় করিয়ে বললেন, আপনি কি আমাকে জানাবেন, কিসে আপনাকে এ শহরে এনেছে? তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বললেন, আপনি যদি আমাকে পথ দেখানোর ওয়াদাবদ্ধ হন তাহলে আমি আপনার নিকট বলব। তিনি (ওয়াদা) করলেন। তখন তিনি [আবূ যার (রাঃ)] তাঁকে সব জানালেন। তারপর আলী (রাঃ) বললেন তিনি (ﷺ) হক এবং তিনি আল্লাহর রসূল। সকাল হলে আপনি আমাকে অনুকরণ করবেন। যদি আমি এমন কিছু দেখতে পাই যাতে আপনার ভয় আছে, তখন আমি দাঁড়িয়ে যাব, যেন আমি প্রস্রাব করছি। পুনরায় যখন আমি চলতে শুরু করব তখন আমাকে অনুসরণ করবেন। পরিশেষে আমার প্রবেশ দ্বারে আপনি প্রবেশ করবেন। তিনি তা-ই করলেন। তিনি তাঁর পশ্চাতে চললেন, শেষ অবধি তিনি [আলী (রাঃ)] রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হলেন আর আবূ যার (রাঃ)-ও তাঁর সাথে উপস্থিত হলেন। অতঃপর তিনি তাঁর (ﷺ-এর) কথা শুনলেন এবং সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন।তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে যাও এবং তাদের নিকট (দ্বীনের) সংবাদ পৌঁছে দাও। আমার আদেশ তোমার নিকট পৌঁছা পর্যন্ত (এ কাজ করতে থাক)। তারপর তিনি [আবূ যার (রাঃ)] বললেন, সে মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, আমি তা মক্কাবাসীদের মধ্যে চীৎকার করে প্রচার করব।এরপর তিনি বেরিয়ে পড়লেন এবং মসজিদে ঢুকলেন। এরপর উচ্চৈঃস্বরে প্রচার করলেন: … “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রসূল।” এতে ব্যক্তিরা ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে আঘাত করে ধরাশায়ী করে ফেলল। আব্বাস (রাঃ) সেখানে এলেন এবং তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়লেন। তারপর তিনি [আব্বাস (রাঃ)] বললেন, তোমাদের জন্য আফসোস! তোমাদের কি অজানা যে, তিনি গিফার সম্প্রদায়ের ব্যক্তি? তোমাদের সিরিয়া দেশে বাণিজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের এলাকা দিয়ে। এরপর তিনি তাঁকে তাদের নিকট হতে ছাড়িয়ে আনলেন। পরের দিন তিনি আবার আগের দিনের মতোই করলেন। ব্যক্তিরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং তাঁকে বেদম প্রহার করল। আব্বাস (রাঃ) তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়লেন এবং তাঁকে তিনি মুক্ত করলেন।
৬২৫৭
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমি ইসলাম কবূলের পর হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে (তাঁর নিকট প্রবেশে) বাধা দেননি এবং তিনি আমার দিকে হাসিমুখ ব্যতীত দৃষ্টিপাত করতেন না।
৬২৫৮
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
জারীর (রাঃ)
আমি ইসলাম কবূল করার পর হতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকট প্রবেশে আমাকে বাধা দেননি। তিনি আমার মুখমণ্ডলে মৃদু হাসি ব্যতীত দেখেননি। ইবনু নুমায়র (রহঃ) তাঁর হাদীসে ইবনু ইদ্রীস (রহঃ) হতে বর্ধিত রেওয়ায়াত করেছেন, “আমি তাঁর নিকট অভিযোগ করলাম যে, আমি ঘোড়ার পৃষ্ঠে দৃঢ়ভাবে থাকতে পারি না। তখন তিনি তাঁর হাত দ্বারা আমার বুকে মৃদু আঘাত করে দোয়া করলেনঃ اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا “হে আল্লাহ! তাকে স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্তের অন্তর্ভুক্ত করুন।”
৬২৫৯
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
জারীর (রাঃ)
জাহিলি যুগে একটি গৃহ ছিল, যেটিকে ‘যুলখালাসা’ বলা হত এবং এটাকে ইয়ামানি কাবা ও শামী কাবাও বলা হত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (জারীর (রাঃ)-কে) বললেন, “তুমি কি আমাদের যুলখালাসা, ইয়ামানি কাবা ও শামী কাবা থেকে চিন্তামুক্ত করতে পারবে?” তখন আমি আহমাস সম্প্রদায়ের একশ পঞ্চাশজন ব্যক্তি সাথে নিয়ে রওনা হলাম। যুলখালাসাকে ভেঙ্গে দিলাম এবং সেখানে যাদের পেলাম তাদের হত্যা করলাম। তারপর আমি তাঁর নিকট ফিরে এসে তাঁকে জানালাম। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি আমাদের ও আহমাস সম্প্রদায়ের জন্য দোয়া করলেন।
৬২৬০
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর ফযিলত পরিচ্ছেদ নাই
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ বাজালী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন, “হে জারীর! তুমি কি আমাকে খাসআম গোত্রের ঘর (প্রতিমা মন্দির) যুলখালাসা থেকে চিন্তামুক্ত করবে না? এটাকে ইয়ামানি কাবাও বলা হত।” জারীর (রাঃ) বলেন, “এরপর আমি দেড়শ অশ্বারোহীসহ সেদিকে রওনা হলাম; অথচ আমি ঘোড়ার পিঠে স্থিরভাবে থাকতে পারতাম না। আমি এ ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি আমার বুকে তাঁর হাত মারলেন এবং দোয়া করলেন: ‘হে আল্লাহ! তাকে (ঘোড়ার পিঠে) স্থির রাখুন এবং তাকে হিদায়াতকারী ও হিদায়াতপ্রাপ্তের অন্তর্ভুক্ত করুন।’”বর্ণনাকারী বলেন, “তারপর তিনি চলে গেলেন এবং সেটি (যুলখালাসা মূর্তি) আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দিলেন। এরপর জারীর (রাঃ) আমাদের মাঝখান হতে আবু আরতাহ (রাঃ) নামধারী জনৈক লোককে সুখবর দেয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রেরণ করলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁকে বললেন, ‘আমরা যুলখালাসাকে খোসপেছলা উটের ন্যায় করে দিয়ে আপনার নিকট এসেছি।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আহমাস গোত্রীয় ঘোড়া ও লোকদের জন্য পাঁচবার কল্যাণের প্রার্থনা করলেন।