৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৬৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৬৬১
পাপের কাজ ছাড়া অন্য সব ব্যাপারে শাসকের আনুগত্য আবশ্যক এবং পাপ কাজের ক্ষেত্রে (আনুগত্য) হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রাঃ)
অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৪৬৬২
পাপের কাজ ছাড়া অন্য সব ব্যাপারে শাসকের আনুগত্য আবশ্যক এবং পাপ কাজের ক্ষেত্রে (আনুগত্য) হারাম পরিচ্ছেদ নাই
উবাদাহ (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতে বাইআত হলাম এ মর্মে যে, আমরা শুনবো ও মানবো সংকটের সময় ও স্বাচ্ছন্দ্যের সময়, খুশির অবস্থায় ও অপছন্দের অবস্থায় এবং আমাদের ওপর অন্যদেরকে প্রাধান্য দিলেও। আর এ মর্মে যে, আমরা যোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্ব বরণ করে নিতে কোনো রকম কোন্দল করবো না। আর এ মর্মে যে, আমরা যেখানেই থাকবো হক কথা বলবো। আল্লাহর ব্যাপারে কোনো ভর্ৎসনাকারীর ভর্ৎসনাকে ভয় করবো না।
৪৬৬৩
পাপের কাজ ছাড়া অন্য সব ব্যাপারে শাসকের আনুগত্য আবশ্যক এবং পাপ কাজের ক্ষেত্রে (আনুগত্য) হারাম পরিচ্ছেদ নাই
উবাদাহ ইবনু ওয়ালীদ
উবাদা ইবন ওয়ালিদ (রহঃ) সূত্রে এই ইসনাদে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
৪৬৬৪
পাপের কাজ ছাড়া অন্য সব ব্যাপারে শাসকের আনুগত্য আবশ্যক এবং পাপ কাজের ক্ষেত্রে (আনুগত্য) হারাম পরিচ্ছেদ নাই
উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাতে বাইআত হই। এরপর ইবনু ইদরিস-এর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৪৬৬৫
পাপের কাজ ছাড়া অন্য সব ব্যাপারে শাসকের আনুগত্য আবশ্যক এবং পাপ কাজের ক্ষেত্রে (আনুগত্য) হারাম পরিচ্ছেদ নাই
যুনাদাহ ইবনু আবূ উমাইয়াহ (রাঃ)
আমরা উবাদাহ ইবনু সামিত (রাঃ)-এর খিদমতে গেলাম। তখন তিনি রোগগ্রস্ত। আমরা আরয করলাম, আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আমাদেরকে এমন কোন হাদিস বলুন-যা দ্বারা আল্লাহ আমাদেরকে উপকৃত করবেন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে শুনেছেন।তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে ডাকলেন এবং আমরা বাইআত হলাম। তিনি তখন আমাদেরকে যে শপথ গ্রহণ করান তার মধ্যে ছিল- আমরা শুনবো ও মেনে চলব, আমাদের খুশি অবস্থায় ও বিরক্ত অবস্থায়, আমাদের সংকটে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এবং আমাদের উপর অন্যকে প্রাধান্য দিলেও সুযোগ্য ব্যক্তির সাথে আমরা নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল করব না। - যাবৎ না তোমরা তার মধ্যে প্রকাশ্য কুফর দেখতে পাবে এবং তোমাদের কাছে এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আল্লাহর সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকবে।
৪৬৬৬
শাসক যখন আল্লাহ্‌ভীতির আদেশ দেন এবং ন্যায় বিচার করেন তখন তার জন্য পুরস্কার রয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। ইমাম বা শাসক ঢালস্বরূপ। তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধ করা হয় এবং শত্রুর ক্ষতি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। সে যদি তাকওয়া বা আল্লাহভীতি ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করে, তবে তার জন্য সে পুরস্কার হবে। আর যদি ন্যায় ব্যতীত অন্য কিছু আদেশ করে তবে সে পাপের জন্য দায়ী হবে।
৪৬৬৭
যে খলীফার কাছে প্রথম বাই’আত হবে তাকে অগ্রাধিকার দিবে। পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হাযিম (রহঃ)
আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর সাথে পাঁচ বছর থেকেছি। আমি তার কাছে শুনেছি, নবী (ﷺ) বলেছেন: বনি ইসরাইলদের পরিচালনা করতেন নবীগণ। তাঁদের মধ্যকার একজন নবী মৃত্যুবরণ করলে অপর একজন নবী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন। আমার পরে আর কোন নবী নেই; বরং খলিফাগণ হবেন এবং তারা সংখ্যায় প্রচুর হবেন। তখন সাহাবীগণ বললেন: তাহলে আপনি (এ ব্যাপারে) আমাদেরকে কি আদেশ করেন? তিনি বললেন: যার হাতে প্রথম বাইআত বা আনুগত্যের শপথ করবে, তাঁরই আনুগত্য করবে এবং তাঁদেরকে তাঁদের হক প্রদান করবে, আল্লাহই তাঁদেরকে সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তাঁরা কতটুকু দায়িত্ব পালন করেছে।
৪৬৬৮
যে খলীফার কাছে প্রথম বাই’আত হবে তাকে অগ্রাধিকার দিবে। পরিচ্ছেদ নাই
হাসান ইবনু ফুরাত (রহঃ)
উপরোক্ত বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৪৬৬৯
যে খলীফার কাছে প্রথম বাই’আত হবে তাকে অগ্রাধিকার দিবে। পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমার পরে স্বজনপ্রীতি ও তোমাদের অপছন্দনীয় অনেক কিছু ঘটবে। তখন সাহাবীগণ বললেন, আমাদের মধ্যকার যাঁরা তা পাবে তাঁদের ব্যাপারে আপনার নির্দেশ কি হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, তোমাদের উপর আরোপিত দায়িত্ব তোমরা পালন করে যাবে, আর তোমাদের প্রাপ্য হক তোমরা আল্লাহর কাছে চাইবে।
৪৬৭০
যে খলীফার কাছে প্রথম বাই’আত হবে তাকে অগ্রাধিকার দিবে। পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু ‘আবদ রাব্বিল কা’বা (রাঃ)
আমি একদা মসজিদে প্রবেশ করলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ) কা’বার ছায়ায় বসেছিলেন। লোকজন তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরেছিল। আমি তাদের নিকট গেলাম এবং তাঁর পাশেই বসে পড়লাম। তখন তিনি বললেন, কোন সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। আমরা একটি অবস্থান গ্রহণ করলাম। আমাদের মধ্যেকার কেউ তখন তার তাঁবু ঠিকঠাক করছিল, কেউ তীর ছুঁড়ছিল, কেউ তার পশুপাল দেখাশুনা করছিল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নকীব হাঁক দিল, “নামাযের ব্যবস্থা প্রস্তুত!” তখন আমরা গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পাশে মিলিত হলাম।তিনি বললেন, “আমার পূর্বে এমন কোন নবী অতিবাহিত হননি যাঁর উপর এ দায়িত্ব বর্তায়নি যে, তিনি তাঁদের জন্য যে মঙ্গলজনক ব্যাপার জানতে পেরেছেন তা উম্মতদেরকে নির্দেশনা দেননি এবং তিনি তার জন্য যে অনিষ্টকর ব্যাপার জানতে পেরেছেন, সে বিষয়ে তাঁদেরকে সাবধান করেননি। আর তোমাদের এ উম্মত (উম্মতে মুহাম্মদ)-এর প্রথম অংশে তার কল্যাণ নিহিত এবং এর শেষ অংশ অচিরেই নানাবিধ পরীক্ষা ও বিপর্যয়ের এবং এমন সব ব্যাপারের সম্মুখীন হবে, যা তোমাদের নিকট অপছন্দনীয় হবে। এমন সব বিপর্যয় একাদিক্রমে আসতে থাকবে যে, একটি অপরটিকে ছোট প্রতিপন্ন করবে। একটি বিপর্যয় আসবে তখন মুমিন ব্যক্তি বলবে – এটা আমার জন্য ধ্বংসাত্মক, তারপর যখন তা দূর হয়ে অপর বিপর্যয়টি আসবে তখন মুমিন ব্যক্তি বলবে, আমি তো শেষ হয়ে যাচ্ছি ইত্যাদি। সুতরাং যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে দূরে থাকতে চায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চায় –তার মৃত্যু যেন এমন অবস্থায় আসে যে, সে আল্লাহ ও আখিরাতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এবং সে যেন মানুষের সাথে এমনি আচরণ করে যে আচরণ সে নিজের জন্য পছন্দ করে। আর যে ব্যক্তি কোন ইমাম (বা নেতার) হাতে বাইআত হয় – আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করে তার হাতে হাত দিয়ে এবং অন্তরে সে ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সে যেন সাধ্যানুসারে তার অনুগত্য করে যায়। তারপর যদি অপর কেউ তার সাথে (নেতৃত্ব লাভের অভিলাষে) ঝগড়ায় প্রবৃত্ত হয় তবে ঐ পরবর্তী জনের গর্দান উড়িয়ে দেবে।”(রাবী বলেন) তখন আমি তাঁর নিকটে ঘেঁষলাম এবং তাঁকে বললাম, “আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, সত্যিই আপনি (নিজ কানে) কি তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে শুনেছেন?” তখন তিনি তাঁর দু’কান ও অন্তঃকরণের দিকে দু’হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, “আমার দু’কান তা শুনেছে এবং আমার অন্তঃকরণ তা সংরক্ষণ করেছে।”তখন আমি তাঁকে লক্ষ্য করে বললাম, “ঐ যে আপনার চাচাতো ভাই মুয়াবিয়া (রাঃ) তিনি আমাদেরকে আদেশ দেন যেন আমরা আমাদের পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করি আর নিজেদের মধ্যে পরস্পরে হানাহানি করি; অথচ আল্লাহ বলেছেন, ‘‘হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, ব্যবসার মাধ্যমে পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে ব্যতীত এবং তোমরা পরস্পরে হানাহানি করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান’’ –(সূরা আন নিসা ৪: ২৯)।” রাবী বলেন, তখন তিনি কিছুক্ষণের জন্য চুপ থাকলেন। তারপর বললেন, “আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারসমূহে তুমি তার আনুগত্য করবে এবং আল্লাহর অবাধ্যতার বিষয়গুলোতে তার অবাধ্যতা করবে।