৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৬১
জনগণের সঙ্গে খিয়ানাতকারী শাসক জাহান্নামের যোগ্য পরিচ্ছেদ নাই
হাসান (রহঃ)
আমরা মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ)-এর অসুস্থতাকালে তাঁর কুশলাদি জানতে গিয়েছিলাম। এমন সময় উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ তথায় উপস্থিত হন। মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) তাঁকে বললেন, আজ তোমাকে একটি হাদীস শোনাব যা আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি। পরে তিনি উল্লেখিত হাদীসদ্বয়ের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
২৬২
জনগণের সঙ্গে খিয়ানাতকারী শাসক জাহান্নামের যোগ্য পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মালীহ (রহঃ)
মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ)-এর অসুস্থাবস্থায় তাকে দেখতে উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ উপস্থিত হলে তাকে মা’কিল বলেন, আজ আমি তোমাকে একটি হাদীস বলব, আমি মৃত্যুশয্যায় না থাকলে তা বর্ণনা করতাম না। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, মুসলিমদের দায়িত্বে নিযুক্ত কোন আমীর (শাসক) যদি তাদের কল্যাণ কামনা না করে এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় সর্বাত্মক প্রয়াস না চালায় তবে সে মুসলিমদের সঙ্গে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
২৬৩
কারো কারো অন্তর থেকে ঈমান ও আমানাতদারী উঠিয়ে নেয়া এবং অন্তরে ফিত্‌নার সৃষ্টি হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
হুযাইফাহ্‌ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে দুটি কথা বলেছিলেন, সে দুটির একটি তো আমি স্বচোখেই দেখেছি আর অপরটির অপেক্ষা করছি। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মানব হৃদয়ের মূলে আমানত নাজিল হয়, তারপর কুরআন অবতীর্ণ হয়। অনন্তর তারা কুরআন শিখেছে এবং সুন্নাহর জ্ঞান লাভ করেছে।তারপর তিনি আমাদেরকে আমানত উঠিয়ে নেয়ার বর্ণনা দিলেন। বললেন, মানুষ ঘুমাবে আর তখন তার অন্তর হতে আমানত তুলে নেয়া হবে। ফলে তার চিহ্ন থেকে যাবে একটি নুকতার মত। এরপর আবার সে ঘুমায় তখন তার অন্তর থেকে আমানত তুলে নেয়া হবে। ফলে তার চিহ্ন থেকে যাবে ফোস্কার মত; যেন একটি আগুনের ফুলকি যা তুমি তোমার পায়ে রগড়ে দিলে। তখন তাতে ফোস্কা পড়ে যায় এবং তুমি তা ফোলা দেখতে পাও অথচ তাতে (পুঁজ-পানি ব্যতীত) কিছু নেই। তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েকটি কাঁকর নিয়ে তাঁর পায়ে ঘষলেন এবং বললেন, যখন এমন অবস্থা হয়ে যাবে তখন মানুষ বেচাকেনা করবে কিন্তু কেউ আমানত শোধ করবে না। এমন কি বলা হবে যে, অমুক বংশে একজন আমানতদার আছেন। এমন অবস্থা হবে যে, কাউকে বলা হবে বড়ই বাহাদুর, হুঁশিয়ার ও বুদ্ধিমান অথচ তার অন্তরে দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে না।হুযাইফা (রাঃ) বলেন, এমন এক যুগও গেছে যখন যে কারোর সাথে লেনদেন করতে দ্বিধা করতাম না। কারণ সে যদি মুসলিম হতো তবে তার দ্বীনদারিই তাকে আমার হক পরিশোধ করতে বাধ্য করত। আর যদি সে খ্রিষ্টান বা ইয়াহুদী হতো তবে তার প্রশাসক তা শোধ করতে তাকে বাধ্য করত। কিন্তু বর্তমানে আমি অমুক অমুক ব্যতীত কারো সাথে লেনদেন করতে রাজি না। ইবনু নুমায়র ও ইসহাক ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ)...... আ’মাশ (রহঃ)-এর সূত্রে পূর্ব বর্ণিত সানাদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
২৬৪
শুরুতেই ইসলাম ছিল অপরিচিত; শিঘ্রই আবার তা অপরিচিতের ন্যায় হয়ে যাবে এবং তা দু’ মাসজিদ (মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুন নাবাবী) এর মাঝে আশ্রয় নিবে পরিচ্ছেদ নাই
হুযাইফাহ্‌ (রাঃ)
একদিন আমরা উমর (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তিনি বললেন, “তোমাদের মধ্যে কে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনেছ?” উপস্থিত একদল বললেন, “আমরা শুনেছি।” উমর (রাঃ) বললেন, “তোমরা হয়তো একজনের পরিবার ও প্রতিবেশীর ফিতনার কথা মনে করেছ।” তারা বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই।” তিনি বললেন, “সালাত, সিয়াম ও সদাকার মাধ্যমে এগুলোর কাফ্‌ফারা হয়ে যায়। কিন্তু তোমাদের মধ্যে কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বড় বড় ফিতনার কথা বর্ণনা করতে শুনেছ, যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ধেয়ে আসবে?” হুযাইফা (রাঃ) বলেন, প্রশ্ন শুনে সবাই চুপ হয়ে গেল। আমি বললাম, “আমি (শুনেছি)।” উমর (রাঃ) বললেন, “তুমি শুনেছ, মাশাআল্লাহ।” হুযাইফা (রাঃ) বললেন, “আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, চাটাই বুননের মত এক এক করে ফিতনা মানুষের অন্তরে আসতে থাকে। যে অন্তরে তা গেঁথে যায় তাতে একটি করে কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তা প্রত্যাখ্যান করবে তাতে একটি উজ্জ্বল দাগ পড়বে। এমনি করে দুইটি অন্তর দুই ধরনের হয়ে যায়। এটি সাদা পাথরের ন্যায়; আসমান ও জমিন যতদিন থাকবে ততদিন কোন ফিতনা তার কোন ক্ষতি করতে পারে না। আর অপরটি হয়ে যায় উল্টানো সাদা মিশ্রিত কলসির ন্যায়, তার প্রবৃত্তির মধ্যে যা গেছে তা ছাড়া ভাল-মন্দ বলতে সে কিছুই চিনে না।” হুযাইফা (রাঃ) বললেন, উমর (রাঃ)-কে আমি আরও বললাম, “আপনি এবং সে ফিতনার মধ্যে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। অচিরেই সেটি ভেঙে ফেলা হবে।” উমর (রাঃ) বললেন, “সর্বনাশ! তা ভেঙে ফেলা হবে? যদি ভেঙে ফেলা না হত তাহলে হয়ত পুনরায় বন্ধ করা যেত।” হুযাইফা (রাঃ) উত্তর করলেন, “না, ভেঙে ফেলাই হবে।” হুযাইফা (রাঃ) বললেন, “আমি উমর (রাঃ)-কে এ কথাও শুনিয়েছি, সে দরজাটি হলো একজন মানুষ; সে নিহত হবে কিংবা স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করবে। এটি কোন গল্প নয় বরং রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীস।” বর্ণনাকারী আবু খালিদ বলেনঃ আমি সা’দকে জিজ্ঞেস করলাম, “এর অর্থ কী?” উত্তরে তিনি বললেন, “কালো-সাদায় মিশ্রিত রং।” আমি বললাম, “এর অর্থ কী?” তিনি বললেন, “উল্টানো কলসি।”
২৬৫
শুরুতেই ইসলাম ছিল অপরিচিত; শিঘ্রই আবার তা অপরিচিতের ন্যায় হয়ে যাবে এবং তা দু’ মাসজিদ (মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুন নাবাবী) এর মাঝে আশ্রয় নিবে পরিচ্ছেদ নাই
রিব’ঈ (রহঃ)
হুযাইফা (রাঃ)-এর নিকট থেকে ফিরে এসে আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করছিলেন। তিনি বললেন, গতকাল যখন আমি আমীরুল মু’মিনীন উমর (রাঃ)-এর কাছে বসা ছিলাম, তখন তিনি তাঁর সঙ্গীদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তোমাদের মধ্যে কার ফিতনা সম্পর্কীয় হাদীস স্মরণ আছে .....”। এরপর রাবী আবূ খালিদ বর্ণিত পূর্বের হাদীসটির ন্যায় বর্ণনা করেন। তবে তিনি এর আবূ মালিক বর্ণিত ব্যাখ্যার উল্লেখ করেননি।
২৬৬
শুরুতেই ইসলাম ছিল অপরিচিত; শিঘ্রই আবার তা অপরিচিতের ন্যায় হয়ে যাবে এবং তা দু’ মাসজিদ (মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুন নাবাবী) এর মাঝে আশ্রয় নিবে পরিচ্ছেদ নাই
রিব’ঈ ইবনু হিরাশ (রহঃ)
একদিন উমর (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিতনা সম্পর্কে কী বলেছেন এ সম্পর্কে তোমাদের কেউ আমাকে হাদিস বর্ণনা করতে পারবে? তখন হুযাইফা (রাঃ)-ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন, আমি পারব। এরপর রিব’ঈ-এর সূত্রে বর্ণিত আবু মালিক-এর রিওয়ায়াতের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে বর্ণনাকারী এ হাদিসে এও উল্লেখ করেন যে, হুযাইফা (রাঃ) বলেছেন, আমি উমর (রাঃ)-কে যে হাদিস বর্ণনা করেছি তা কোন বানোয়াট কথা নয়; বরং রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকেই তা বর্ণনা করেছি।
২৬৭
শুরুতেই ইসলাম ছিল অপরিচিত; শিঘ্রই আবার তা অপরিচিতের ন্যায় হয়ে যাবে এবং তা দু’ মাসজিদ (মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুন নাবাবী) এর মাঝে আশ্রয় নিবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: ইসলাম শুরুতে অপরিচিত ছিল, অচিরেই তা আবার শুরুর মতো অপরিচিত হয়ে যাবে। সুতরাং এরূপ অপরিচিত অবস্থায়ও যারা ইসলামের উপর টিকে থাকবে তাদের জন্য মুবারকবাদ।
২৬৮
শুরুতেই ইসলাম ছিল অপরিচিত; শিঘ্রই আবার তা অপরিচিতের ন্যায় হয়ে যাবে এবং তা দু’ মাসজিদ (মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুন নাবাবী) এর মাঝে আশ্রয় নিবে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অপরিচিতের ন্যায় ইসলাম শুরু হয়েছিল, অচিরেই তা আবার অপরিচিত অবস্থায় ফিরে যাবে। সাপ যেমন সংকুচিত হয়ে তার গর্তে প্রবেশ করে, তদ্রূপ ইসলামও দুই মসজিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।
২৬৯
শুরুতেই ইসলাম ছিল অপরিচিত; শিঘ্রই আবার তা অপরিচিতের ন্যায় হয়ে যাবে এবং তা দু’ মাসজিদ (মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুন নাবাবী) এর মাঝে আশ্রয় নিবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ সাপ যেমন সংকুচিত হয়ে আপন গর্তের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, তদ্রূপ ঈমানও সংকুচিত হয়ে মদিনার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।
২৭০
শেষ যুগে ঈমান বিদায় নিবে। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবীতে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ বলার মতো লোক থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত কেয়ামত হবে না। আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ..... আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন : ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ বলার মতো একটি মানুষ অবশিষ্ট থাকতে কেয়ামত হবে না।