৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৫১
মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হাক তসরুফকারীর প্রতি জাহান্নামের হুমকী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ উমামাহ্‌ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: যে ব্যক্তি কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হক বিনষ্ট করে, তার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম ওয়াজিব করে রেখেছেন এবং জান্নাত হারাম করে রেখেছেন। তখন জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, “হে আল্লাহর রসূল! অতি সামান্য বস্তু হলেও?” রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “আরাক (বাবলা গাছের মত এক ধরনের কাঁটাযুক্ত) গাছের ডাল হলেও এ শাস্তি দেয়া হবে।”
২৫২
মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হাক তসরুফকারীর প্রতি জাহান্নামের হুমকী পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার উপর অর্পিত চূড়ান্ত কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করে অথচ সে মিথ্যাবাদী, এমন অবস্থায় আল্লাহর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটবে যে, তিনি তার প্রতি রেগে থাকবেন। রাবী বলেন, আশআস ইবনু কায়স তথায় প্রবেশ করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, আবু আবদুর রহমান তোমাদেরকে কি বর্ণনা করলেন? তদুত্তরে সকলে উক্ত হাদীসটির কথা বললেন, তিনি বললেন, আবু আবদুর রহমান সত্যই বর্ণনা করেছেন, ঘটনাটি আমাকে কেন্দ্র করেই ঘটেছিল। ব্যাপার হলো, ইয়ামানে জনৈক ব্যক্তির সাথে আমারও একখণ্ড ভূমি ছিল। এর মীমাংসা করার জন্য আমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হই, রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার দাবির স্বপক্ষে তোমার নিকট কোন প্রমাণ আছে কি? আমি বললাম, না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তা হলে বিবাদীর কসম নেওয়া হবে। আমি বললাম, এ ব্যক্তি তো কসম করবেই। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি তার উপর অর্পিত চূড়ান্ত কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের সম্পদ গ্রাস করে অথচ সে মিথ্যাবাদী, আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় তার সাক্ষাৎ ঘটবে যে, আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধান্বিত থাকবেন। এরপর এ আয়াত নাযিল হয়, “যারা আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা এবং নিজেদের কসম তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে, পরকালে তাদের কোন অংশ নেই, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।” (সূরা আ-লি ইমরান ৩ : ৭৭)।
২৫৩
মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হাক তসরুফকারীর প্রতি জাহান্নামের হুমকী পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
যে ব্যক্তি মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন সম্পদ আত্মসাৎ করবে, আল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার প্রতি রেগে থাকবেন। পরে বর্ণনাকারী আ‘মাশ বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি (ইয়ামানের ভূমির স্থলে) এ কথা বলেন, জনৈক ব্যক্তির সাথে আমার সাথে একটি কূপ নিয়ে বিরোধ ছিল। আমরা এর মীমাংসার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হই। তখন তিনি বললেন, “তোমার দুজন সাক্ষী লাগবে অথবা বিবাদী থেকে কসম নেয়া হবে।”
২৫৪
মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হাক তসরুফকারীর প্রতি জাহান্নামের হুমকী পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সম্পদ আত্মসাতের জন্য মিথ্যা কসম করবে আল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ ঘটবে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার প্রতি রেগে থাকবেন।আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রমাণ হিসেবে এ আয়াত পাঠ করেন : “যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথ তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে, (পরকালে তাদের কোন অংশ নেই। কেয়ামতের দিনে আল্লাহ তাদের সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না; তাদের জন্য মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে)-(সূরা আ-লি ইমরান ৩ : ৭৭)।
২৫৫
মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হাক তসরুফকারীর প্রতি জাহান্নামের হুমকী পরিচ্ছেদ নাই
ওয়ায়িল (রাঃ)
ওয়াইল (রাঃ) বলেন, হাজরামাওতের জনৈক ব্যক্তি কিন্দার এক ব্যক্তিকে নিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হয়। হাজরামাওতবাসী লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যক্তি আমার একটি পৈতৃক ভূমি জোর করে দখল করে।কিন্দী বলে উঠল, না, এতো আমারই সম্পত্তি এবং আমারই দখলে আছে। এতে আমি চাষাবাদ করি, এতে কারোর কোন অধিকার নেই। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজরামাওতবাসীকে বললেনঃ তোমার কোন সাক্ষী আছে? সে উত্তর দিল, না।রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাহলে এ বিষয়ে বিবাদী কসম করবে। হাজরামাওতবাসী বলল, হে আল্লাহর রসূল! এতো অসৎ লোক, কসম করার বিষয়ে তার আদৌ পরোয়া নেই। আর সে কোন কিছুরই বাছ বিচার করে না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এছাড়া তার কাছ থেকে তোমার নেয়ার আর কোন পথ নেই।এরপর কিন্দী শপথ করতে উদ্যোগ নিল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যদি সে (কিন্দী) অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য শপথ করে তবে সে অবশ্যই আল্লাহর কাছে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তিনি তাঁর মুখ ফিরিয়ে নিবেন।
২৫৬
মিথ্যা কসমের মাধ্যমে কোন মুসলিমের হাক তসরুফকারীর প্রতি জাহান্নামের হুমকী পরিচ্ছেদ নাই
ওয়ায়িল ইবনু হুজ্‌র (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। ইত্যবসরে দুজন ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে একটি ভূমি সম্পর্কে বিচার প্রার্থনা করে। তাদের মধ্যে একজন বলল, হে আল্লাহর রাসূল! জাহিলিয়্যাত যুগে এ ব্যক্তি আমার ভূমি জোর করে দখল করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, বিচার প্রার্থনাকারী ছিল ইমরুল কাইস ইবন আবিস আল কিন্দি আর তার বিবাদী ছিল রবি'আ ইবন আব্দান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার সাক্ষী পেশ কর। লোকটি বলল, আমার কোনো সাক্ষী নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাহলে বিবাদী থেকে কসম নেয়া হবে। লোকটি বলল, তবে তো সে মিথ্যা কসম করে সম্পত্তি আত্মসাৎ করবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এছাড়া তার কাছ থেকে তোমার নেয়ার আর কোনো পথ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বিবাদী যখন শপথ করার জন্য প্রস্তুত হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যে অন্যায়ভাবে ভূমি আত্মসাৎ করবে সে আল্লাহর কাছে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তিনি তার প্রতি রেগে থাকবেন। রাবী ইসহাক তার বর্ণনায় রবি'আ ইবন আইদান উল্লেখ করেন।
২৫৭
যুলম করে কারো সম্পদ আত্মসাৎ করতে চাইলে তার রক্ত তার জন্য বৃথা যাবে, আর নিহত হলে জাহান্নামে যাবে আর যে ব্যক্তি স্বীয় সম্পদ রক্ষায় নিহত হয় সে শাহীদ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রসূল! যদি কেউ আমার সম্পদ ছিনিয়ে নিতে উদ্যত হয় তবে আমি কী করব? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তাকে তোমার সম্পদ নিতে দিবে না।লোকটি বলল, যদি সে আমার সাথে এ নিয়ে মারামারি করে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তার সাথে মারামারি করবে।লোকটি বলল, আপনি কি বলেন যদি সে আমাকে হত্যা করে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন- তাহলে তুমি শহীদ বলে গণ্য হবে।লোকটি বলল, আপনি কি মনে করেন, যদি আমি তাকে হত্যা করি? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে জাহান্নামী।
২৫৮
যুলম করে কারো সম্পদ আত্মসাৎ করতে চাইলে তার রক্ত তার জন্য বৃথা যাবে, আর নিহত হলে জাহান্নামে যাবে আর যে ব্যক্তি স্বীয় সম্পদ রক্ষায় নিহত হয় সে শাহীদ পরিচ্ছেদ নাই
‘উমার ইবনু ‘আবদুর রহমানের আযাদকৃত গোলাম সাবিত (রাঃ)
আব্দুল্লাহ ইবন আমর ও আম্বাসা ইবন আবু সুফিয়ানের মধ্যে যখন কিছু সম্পদ নিয়ে ঝগড়া দেখা দেয় এবং তারা উভয়ে লড়াইয়ের জন্য উদ্যত হয়ে পড়ে, তখন খালিদ ইবন আস আব্দুল্লাহ ইবন আমর-এর নিকট গেলেন এবং বুঝাতে চেষ্টা করলেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবন আমর বললেন, “তুমি কি জান না? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তাঁর সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ।”মুহাম্মাদ ইবন হাতিম ও আহমাদ ইবন উসমান আস-নাওফালী (রহঃ) ..... ইবন জুরায়জ (রহঃ) থেকে উল্লেখিত সানাদে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।
২৫৯
জনগণের সঙ্গে খিয়ানাতকারী শাসক জাহান্নামের যোগ্য পরিচ্ছেদ নাই
হাসান (রহঃ)
মাকিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ)-এর মৃত্যুশয্যায় উবাইদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ তাঁর সাক্ষাতে যান। মাকিল (রাঃ) তাকে বললেন, আজ তোমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শোনা এমন একটি হাদীস শুনাব যা আমি আরো বেঁচে থাকব বলে জানলে তা কিছুতেই শুনাতাম না। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তাকে জনগণের দায়িত্ব দিয়েছেন কিন্তু খিয়ানতকারীরূপে যদি তার মৃত্যু হয় তবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন।
২৬০
জনগণের সঙ্গে খিয়ানাতকারী শাসক জাহান্নামের যোগ্য পরিচ্ছেদ নাই
হাসান (রহঃ)
মা’কিল ইবনু ইয়াসার (রাঃ) এর অসুস্থ অবস্থায় উবাইদুল্লাহ ইবনু জিয়াদ তাঁর সাক্ষাতে গেলেন এবং কিছু জানতে চাইলেন। তখন মা’কিল (রাঃ) বলেন, আজ তোমাকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করব যা আমি আগে তোমাকে বর্ণনা করার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তা’আলা যাকে জনগণের শাসনভার প্রদান করেন আর সে যদি খিয়ানতকারীরূপে মৃত্যুবরণ করে, তবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন। উবাইদুল্লাহ বললেন, আপনি কি আজ পর্যন্ত এ হাদিস আমাকে বর্ণনা করেননি? তিনি বললেন, না কখনো বর্ণনা করিনি। অথবা রাবী এ কথা বলেছেন, ‘না, বর্ণনা করতে ইচ্ছুক ছিলাম না।