৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২১১
আত্মহত্যাকারী কাফির হবে না তার প্রমাণ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
তুফায়ল ইবন আমর দাওসী (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর সামনে উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন করলেন, “হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি চান যে, আপনার জন্য একটি মজবুত দুর্গ ও সেনাবাহিনী হোক?” রাবী বলেন, “দাওস গোত্রে জাহিলিয়া যুগের একটি দুর্গ ছিল (তিনি এদিকে ইঙ্গিত করেন)। নবী (ﷺ) তা কবুল করলেন না। কারণ, আল্লাহ তা’আলা আনসারদের জন্য এ সৌভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। যখন নবী (ﷺ) মাদীনায় হিজরত করলেন, তখন তুফায়ল ইবন আমর (রাঃ) এবং তাঁর গোত্রের একজন লোকও তাঁর সঙ্গে মাদীনায় হিজরত করেন। কিন্তু মাদীনার আবহাওয়া তাদের অনুকূল হয়নি। তুফায়ল ইবন আমর (রাঃ)-এর সাথে আগত লোকটি অসুস্থ হয়ে পড়ল। সে রোগ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তীর নিয়ে তার হাতের আঙ্গুলগুলো কেটে ফেললো। এতে উভয় হাত থেকে রক্ত নির্গত হতে থাকে। অবশেষে সে মারা যায়। তুফায়ল ইবন আমর দাওসী (রাঃ) স্বপ্নে তাকে ভাল অবস্থায় দেখতে পেলেন, কিন্তু তিনি তার উভয় হাত আবৃত দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার রব তোমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করেছে?” সে বলল, “আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী (ﷺ) এর কাছে হিজরত করার কারণে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।” তুফায়ল (রাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কি হয়েছে যে, আমি তোমার হাত দুইটি আবৃত দেখছি?” সে বলল, “আমাকে বলা হয়েছে যে, তুমি স্বেচ্ছায় যে অংশ নষ্ট করেছো তা আমরা কখনো ঠিক করব না।” তুফায়ল (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) দোয়া করলেন: “ইয়া আল্লাহ! আপনি তার হাত দুইটিকেও ক্ষমা করে দিন।”
২১২
কিয়ামাতের পূর্বে এক বাতাস প্রবাহিত হবে, সামান্য ঈমানও যার অন্তরে আছে তার রূহ্‌ সে বাতাস কবয করে নিবে। পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা কেয়ামতের আগে ইয়ামান থেকে এক বাতাস প্রবাহিত করবেন যা হবে রেশম অপেক্ষাও নরম। যার অন্তরে দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে, ঐ বাতাস তার রুহ কবজ করে নিয়ে যাবে। রাবী আবু আলকামা مِثْقَالُ حَبَّةٍ বর্ণনায় আছে। আর রাবী আবদুল আজীজ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ উল্লেখ করেছেন।
২১৩
ফিত্‌নাহ্‌ প্রকাশের পূর্বেই নেক ‘আমালের প্রতি অগ্রসর হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আঁধার রাতের মতো ফিতনা আসার পূর্বেই তোমরা সৎ আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকালে কাফির হয়ে যাবে। বিকেলে মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে সে তার দ্বীন বিক্রি করে বসবে।
২১৪
‘আমাল বিনষ্ট হওয়া সম্পর্কে মু’মিনের আশঙ্কা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
যখন এ আয়াত নাযিল হলো, “হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠের উপর নিজেদের কণ্ঠ উঁচু করবে না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চৈঃস্বরে কথা বল তাঁর সাথে সেরূপ উচ্চৈঃস্বরে কথা বলবে না; এতে তোমাদের আমল বিনষ্ট হয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে অথচ তোমরা টেরও পাবে না”- (সূরা হুজুরাত ৪৯ : ২)।তখন সাবিত (রাঃ) নিজের ঘরে বসে গেলেন এবং বলতে লাগলেন, আমি একজন জাহান্নামী। এরপর থেকে তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবা সা’দ ইবনু মু’আযকে সাবিত (রাঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে বললেন, ‘হে আবু আমর! সাবিতের কি হলো?’সা’দ (রাঃ) বললেন, ‘সে আমার প্রতিবেশী, তার কোন অসুখ হয়েছে বলে তো জানি না।’ আনাস (রাঃ) বলেন, পরে সা’দ (রাঃ) সাবিতের কাছে গেলেন এবং তাঁর সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বক্তব্য উল্লেখ করলেন। সাবিত (রাঃ) বলেন, ‘এ আয়াত নাযিল হয়েছে। আর তোমরা জান রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর আমার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে উঁচু হয়ে যায়। সুতরাং আমি তো জাহান্নামী।’ সা’দ (রাঃ) রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে সাবিতের কথা বললেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, ‘না, বরং সে তো জান্নাতী।’
২১৫
‘আমাল বিনষ্ট হওয়া সম্পর্কে মু’মিনের আশঙ্কা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
সাবিত ইবন কায়স ইবন শাম্মাস (রাঃ) ছিলেন আনসারদের খতীব। যখন এ আয়াত নাযিল হলো : “তোমরা নবীর কণ্ঠের উপর নিজেদের কণ্ঠ উঁচু করো না”। বাকী অংশ হাম্মাদ বর্ণিত উল্লেখিত রিওয়ায়াতের অনুরূপ। তবে এ রিওয়ায়াতে সা’দ ইবন মু’আয (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই।আহমাদ ইবন সাঈদ ইবন সাখর আদ দারিমী (রহঃ) ..... আনাস ইবন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, যখন এ আয়াত নাযিল হলো : অর্থাৎ “তোমরা নবীর কণ্ঠের উপর নিজেদের কণ্ঠ উঁচু করো না”। এ বর্ণনায় সা’দ ইবন মু’আয (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই।
২১৬
‘আমাল বিনষ্ট হওয়া সম্পর্কে মু’মিনের আশঙ্কা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
যখন এই আয়াত নাযিল হলো...। এতে সা'দ ইবন মু'আয (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। তবে শেষে আছে, আমরা তাকে ভাবতাম, একজন জান্নাতি লোক আমাদের মাঝে বিচরণ করছেন।
২১৭
জাহিলী যুগের ‘আমালের ব্যাপারেও কি পাকড়াও হবে? পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
কিছু সংখ্যক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, জাহিলী যুগে আমরা যা করেছি এর জন্য কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন, ইসলাম গ্রহণের পর যে ব্যক্তি ভালো কাজ করবে তাকে জাহিলী যুগের আমলের জন্য পাকড়াও করা হবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পরও মন্দ করবে তাকে জাহিলী ও ইসলাম উভয় যুগের (মন্দ) কাজের জন্য পাকড়াও করা হবে।
২১৮
জাহিলী যুগের ‘আমালের ব্যাপারেও কি পাকড়াও হবে? পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু নুমায়র ও আবূ বাক্‌র ইবনু আবূ শাইবাহ (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রশ্ন করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! আমরা জাহিলী যুগে যা করেছি এর জন্য কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে ভালো কাজ করবে জাহিলী যুগে সে যা করেছে তার জন্য পাকড়াও করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর মন্দ কাজ করে তাকে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাকড়াও করা হবে।
২১৯
জাহিলী যুগের ‘আমালের ব্যাপারেও কি পাকড়াও হবে? পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণিত আছে।
২২০
ইসলাম গ্রহণ এবং হিজরত ও হাজ্জ পালনের দ্বারা পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু শামাসাহ্‌ আল মাহ্‌রী (রহঃ)
আমরা আমর ইবন আস (রাঃ)-কে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে উপস্থিত হলাম। তখন তিনি দেয়ালের দিকে মুখ করে অনেকক্ষণ কাঁদছিলেন। তাঁর পুত্র তাঁকে তাঁর সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রদত্ত বিভিন্ন সুসংবাদের উল্লেখপূর্বক সান্ত্বনা দিচ্ছে যে, আব্বা! রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি আপনাকে অমুক সুসংবাদ দেননি? রসূলুল্লাহ (ﷺ) কি আপনাকে অমুক সুসংবাদ দেননি?রাবী বলেন, তখন তিনি পুত্রের দিকে মুখ ফিরালেন এবং বললেন, আমার সর্বোৎকৃষ্ট পাথেয় হচ্ছে “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ” এ কালিমার সাক্ষ্য দেয়া। আর আমি অতিক্রম করেছি আমার জীবনের তিনটি পর্যায়। এক সময় তো আমি এমন ছিলাম যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর বিরুদ্ধাচরণে আমার চেয়ে কঠোরতর আর কেউই ছিল না। সে সময়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কব্জায় পেয়ে হত্যা করা ছিল আমার সবচাইতে প্রিয় ভাবনা। যদি সে অবস্থায় আমার মৃত্যু হত তবে নিশ্চিত আমাকে জাহান্নামে যেতে হত।এরপর আল্লাহ যখন আমার অন্তরে ইসলামের অনুরাগ সৃষ্টি করে দিলেন, তখন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে অনুরোধ জানালাম যে, আপনার ডান হাত বাড়িয়ে দিন, আমি বাইআত করতে চাই। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ডান হাত বাড়িয়ে দিলেন, তখন আমি আমার হাত টেনে নিলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমর, কী ব্যাপার? বললাম, পূর্বে আমি শর্ত করে নিতে চাই। রসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, কী শর্ত করবে? আমি উত্তর করলাম, আল্লাহ যেন আমার সব গুনাহ মাফ করে দেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমর! তুমি কি জানো না যে, ইসলাম পূর্ববর্তী সকল অন্যায় মিটিয়ে দেয়? আর হিজরত পূর্ববর্তী সকল অন্যায় মিটিয়ে দেয়? আর হজ্জ পূর্ববর্তী সকল অন্যায় মিটিয়ে দেয়?আমর বলেন, এ পর্যায়ে আমার অন্তরে রসূলুল্লাহ (ﷺ) অপেক্ষা বেশি প্রিয় আর কেউ ছিল না। আমার চোখে তিনি অপেক্ষা মহান আর কেউ নেই। অপরিসীম শ্রদ্ধার কারণে আমি তাঁর প্রতি চোখভরে তাকাতেও পারতাম না। আজ যদি আমাকে তাঁর দৈহিক আকৃতির বর্ণনা করতে বলা হয় তবে আমার পক্ষে তা সম্ভব নয়। কারণ চোখ ভরে আমি কখনই তাঁর প্রতি তাকাতে পারিনি। ঐ অবস্থায় যদি আমার মৃত্যু হত তবে অবশ্যই আমি জান্নাতী হওয়ার আশাবাদী থাকতাম।পরবর্তীকালে আমরা নানা বিষয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েছি, তাই জানি না, এতে আমার অবস্থান কোথায়? সুতরাং আমি যখন মারা যাব, তখন যেন কোন বিলাপকারিণী অথবা আগুন সে জানাযার সাথে না থাকে। আমাকে যখন দাফন করবে তখন আমার উপর আস্তে আস্তে মাটি ফেলবে এবং দাফন সেরে একটি উট যাবাহ করে তার গোশ্ত বণ্টন করতে যে সময় লাগে ততক্ষণ আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে। যেন তোমাদের উপস্থিতির কারণে আমি আতঙ্কমুক্ত অবস্থায় থাকি ও চিন্তা করতে পারি যে, আমার প্রতিপালকের দূতের কি জবাব দিব।