৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২২১
ইসলাম গ্রহণ এবং হিজরত ও হাজ্জ পালনের দ্বারা পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস
মুশরিকদের কিছু লোক যারা ব্যাপকভাবে হত্যা ও ব্যভিচারে লিপ্ত ছিল, তারা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করল, আপনি যে দ্বীনের প্রতি মানুষদের আহ্বান জানাচ্ছেন, এতো অনেক উত্তম বিষয়। তবে আমাদের পূর্বকৃত গুনাহসমূহের প্রায়শ্চিত্ত সম্পর্কে আপনি যদি আমাদের নিশ্চিতভাবে কিছু অবহিত করতেন। তখন এ আয়াত নাজিল হয় : “এবং যারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহকে ডাকে না, আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না; যে এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে”-(সূরা আল-ফুরকান ২৫:৬৮)। আরো নাজিল করেন : “হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না”-(সূরা আয-যুমার : ৫৩)।
২২২
ইসলাম গ্রহণের পূর্বের কুফ্‌রী জীবনের নেক কাজসমূহের প্রতিদান প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
হাকিম ইবনু হিযাম (রাঃ)
আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, জাহিলি যুগে আমি যে সব নেক কাজ করতাম, আমি কি তার কোন প্রতিদান পাব? রাসুলুল্লাহ (ﷺ) উত্তর করলেন : তোমার পূর্বকৃত সৎকর্মের বিনিময়ে তুমি ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছ। রাবী বলেন, হাদীসে উক্ত التَّحَنُّثُ শব্দটির অর্থ التَّعَبُّدُ নির্জনে ইবাদত করা।
২২৩
ইসলাম গ্রহণের পূর্বের কুফ্‌রী জীবনের নেক কাজসমূহের প্রতিদান প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
হাকিম ইবনু হিযাম (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সদাকা, দাসমুক্তি ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক রাখা ইত্যাদি যে সব নেক কাজ জাহিলী যুগে আমি করতাম, তার কি কোন প্রতিদান পাব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তরে বললেন, "তুমি তোমার পূর্বকৃত সৎকর্মের বিনিময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছ।"
২২৪
ইসলাম গ্রহণের পূর্বের কুফ্‌রী জীবনের নেক কাজসমূহের প্রতিদান প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ)
আমি রসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, ইয়া রসুলুল্লাহ! জাহিলী যুগে যে সকল কাজ করতাম, আমি কি তার কোন প্রতিদান পাব? রসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তোমার সে সব কাজের বিনিময়ে তুমি ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছ।” আমি বললাম, আল্লাহর কসম! জাহিলী যুগে যে সব কাজ আমি করেছি, ইসলামী জিন্দেগীতেও আমি তা করে যাব।
২২৫
ইসলাম গ্রহণের পূর্বের কুফ্‌রী জীবনের নেক কাজসমূহের প্রতিদান প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ্‌ ইব্‌নু যুবায়র (রাঃ)
হাকীম ইবন হিজাম (রাঃ) জাহিলী যুগে একশ ক্রীতদাসকে মুক্তি দিলেন এবং মাল বোঝাই একশ উট দান করেছিলেন। ইসলাম গ্রহণ করার পরেও তিনি একশ ক্রীতদাস আযাদ করেন এবং মালামাল বোঝাই একশ উট সদাকা করেন। পরে তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে এসে (এ বিষয়ে) প্রশ্ন করেন। এরপর বর্ণনাকারী উল্লেখিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
২২৬
ঈমানে সততা ও নিষ্ঠা পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
(আল্লাহ তা’আলার বাণী) : “যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলম দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদের জন্য, তারাই সৎপথপ্রাপ্ত”-(সূরা আল আন‘আম ৬ : ৮২)। এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলে তা সাহাবীদের কাছে খুবই কঠিন মনে হলো। তারা বললেন, আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে নিজের উপর আদৌ অত্যাচার করেনি? তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা যা মনে করেছ বিষয়টি তা নয়, বরং এর মর্মার্থ হচ্ছে লুকমান তাঁর পুত্রকে সম্বোধন করে যা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন : “হে বৎস! আল্লাহর সাথে কোন শরীক করো না, নিশ্চয়ই শির্ক চরম যুলম”-(সূরা লুকমান ৩১ : ১৩)।
২২৭
ঈমানে সততা ও নিষ্ঠা পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
আবূ কুরায়ব (রহঃ) বলেন, ইবনু ইদরিস (রহঃ) বলেছেন, প্রথমত আমার পিতা আমাকে আবান ইবন তাগলিব থেকে আমাশ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, পরবর্তীকালে আমি নিজেই আমাশ থেকে সরাসরি এ হাদিস শুনেছি।
২২৮
মনের কল্পনা বা খটকা আল্লাহ তা’আলা মাফ করে দেন, মানুষের সামর্থ্যানুযায়ীই আল্লাহ তাকে দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং ভাল বা মন্দ কর্মের মনস্থ করার বিধান পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
যখন এ আয়াত নাযিল হলো : ‘আসমান ও জমিনে যত কিছু আছে সমস্ত আল্লাহরই। তোমাদের মনের অভ্যন্তরে যা আছে তা প্রকাশ কর কিংবা গোপন রাখ, আল্লাহ তোমাদের নিকট থেকে তার হিসাব গ্রহণ করবেন এবং যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করবেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন। আল্লাহ সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান’– (সূরা আল-বাকারা ২ : ২৮৪)। রাবী বলেন, তখন বিষয়টি সাহাবীদের কাছে খুবই কঠিন মনে হলো। তাই সবাই রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলেন এবং হাঁটু গেড়ে বসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! সালাত, সিয়াম, জিহাদ, সদাকা প্রভৃতি যে সমস্ত আমল আমাদের সামর্থ্যানুযায়ী ছিল এ যাবৎ আমাদেরকে সেগুলোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। এ বিষয়টি তো আমাদের ক্ষমতার বাইরে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আহলে কিতাব-ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানের ন্যায় তোমরাও কি এমন কথা বলবে যে, শুনলাম কিন্তু মানলাম না। বরং তোমরা বল; শুনলাম ও মানলাম। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর তোমার কাছেই আমরা ফিরে যাব। রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ নির্দেশ শুনে সাহাবায়ে কিরাম বললেন, আমরা শুনেছি ও মেনেছি, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, তুমিই আমাদের শেষ প্রত্যাবর্তনস্থল।রাবী বলেন, সাহাবীদের সকলে এ আয়াত পাঠ করলেন এবং মনেপ্রাণে তা গ্রহণ করে নিলেন। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেন : ‘রসূল ঈমান এনেছেন তাঁর প্রতি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুমিনগণও, তাদের সকলেই আল্লাহর, তাঁর ফেরেশতাগণের, তাঁর কিতাবসমূহের এবং তাঁর রসূলগণের ঈমান এনেছে। (তারা বলে) আমরা তাঁর রসূলগণের মধ্যে কোন তারতম্য করি না। আর তাঁরা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম! হে আমাদের রব! আমরা তোমার নিকট ক্ষমা চাই আর তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তনস্থল- (সূরা আল-বাকারা ২ : ২৮৫)। যখন তাঁরা সর্বতোভাবে আনুগত্য প্রকাশ করলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা উক্ত আয়াতের হুকুম রহিত করে নাযিল করলেন : “আল্লাহ কারো উপর এমন কোন কষ্টদায়ক দায়-দায়িত্ব অর্পণ করেন না যা তার পক্ষে করা অসম্ভব। সে ভাল যা উপার্জন করে তা তারই এবং মন্দ যা উপার্জন করে তাও তারই। হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করে ফেলি তবে তুমি আমাদেরকে পাকড়াও করো না।” আল্লাহ তা’আলা বললেন, হ্যাঁ, মেনে নিলাম।আরো ইরশাদ হলো : “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন, আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না। আল্লাহ তা’আলা বললেনঃ হ্যাঁ, মেনে নিলাম। আরো ইরশাদ হল : “হে আমাদের রব! এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই।” আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ হ্যাঁ, মেনে নিলাম। আরো ইরশাদ হলো, “আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও, আমাদের উপর দয়া কর, তুমিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে বিজয় দান কর।” -(সূরা আল-বাকারা ২ : ২৮৬)। আল্লাহ তা’আলা বললেন, হ্যাঁ, মেনে নিলাম।
২২৯
মনের কল্পনা বা খটকা আল্লাহ তা’আলা মাফ করে দেন, মানুষের সামর্থ্যানুযায়ীই আল্লাহ তাকে দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং ভাল বা মন্দ কর্মের মনস্থ করার বিধান পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
(মহান আল্লাহর বাণী) : “তোমাদের মনে যা আছে তা প্রকাশ কর কিংবা গোপন রাখ, আল্লাহ তোমাদের নিকট হতে তার হিসাব গ্রহণ করবেন”-(সূরা আল-বাকারা ২ : ২৮৪)। এ আয়াতটি নাযিল হলে সাহাবীগণ খুবই উদ্বিগ্ন হলেন, আর কোন বিষয়ে তারা এতো উদ্বিগ্ন হননি। তখন নবী (ﷺ) বলেন, বরং তোমরা বল, শুনলাম, আনুগত্য স্বীকার করলাম এবং মেনে নিলাম।ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তা’আলা তাঁদের অন্তরে ইমান ঢেলে দিলেন। তিনি নাযিল করলেন, আল্লাহ তা’আলা কারোর উপর এমন কোন কষ্টদায়ক দায়িত্ব অর্পণ করেন না, যা তার সাধ্যাতীত। সে ভালো যা উপার্জন করে তা তারই, আর মন্দ যা উপার্জন করে তাও তারই।হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুলে যাই অথবা ভুল করে ফেলি তবে আমাদের পাকড়াও করো না। তখন আল্লাহ তা’আলা বললেনঃ অবশ্যই মেনে নিলাম।আল্লাহ তা’আলা আরও ইরশাদ করলেন : হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলে, আমাদের উপর তেমন দায়িত্ব অর্পণ করো না। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ অবশ্যই মেনে নিলাম।আল্লাহ তা’আলা আরও ঘোষণা করলেন : ‘(বলুন) আমাদের পাপ মোচন কর, আমাদেরকে
২৩০
অন্তর ও নাফ্‌সের কুচিন্তাসমূহের গুনাহ ক্ষমা করা হবে যদি তা অন্তর ও নাফ্‌সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কথা বা কাজে পরিণত না করা পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা আমার উম্মতের জন্য তাদের মনে কল্পনাগুলোকে মাফ করে দিয়েছেন।