৩৫০০
মোট হাদিস
৩৫০০
দেখানো হচ্ছে
৬৪
অধ্যায়
৮৯৯
বর্ণনাকারী
১১৯/৩৫০
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
তাওহীদ পাবলিকেশন

বুখারী শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৩৫০০
১১৭৭
তাহাজ্জুদ যারা যুহা সালাত আদায় করেন না, তবে বিষয়টিকে প্রশস্ত মনে করেন (কারো ইচ্ছাধীন মনে করেন)।
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে যুহা-এর সালাত আদায় করতে আমি দেখিনি। তবে আমি তা আদায় করে থাকি।
১১৭৮
তাহাজ্জুদ মুকীম অবস্থায় যুহা সালাত আদায় করা।
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.)
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খলীল ও বন্ধু (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যাত (বিশেষ আদেশ) করেছেন, মৃত্যু পর্যন্ত তা আমি পরিত্যাগ করব না। (তা হল) (১) প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম, (২) সালাতুয্-যুহা এবং (৩) বিতর (সালাত) আদায় করে শয়ন করা।
১১৭৯
তাহাজ্জুদ মুকীম অবস্থায় যুহা সালাত আদায় করা।
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)
আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক স্থুল দেহ বিশিষ্ট আনসারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট আরয্ করলেন, আমি আপনার সঙ্গে (জামা‘আতে) সালাত আদায় করতে পারি না। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর উদ্দেশে খাবার তৈরি করে তাঁকে দাওয়াত করে নিজ বাড়িতে নিয়ে এলেন এবং একটি চাটাই এর এক অংশে (কোমল ও পরিচ্ছন্ন করার উদ্দেশে) পানি ছিটিয়ে (তা বিছিয়ে) দিলেন। তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম )-এর উপরে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। ইবনু জারূদ (রহ.) আনাস ইবনু মালিক (রাযি.)-কে জিজ্ঞেস করলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি চাশ্ত-এর সালাত আদায় করতেন? আনাস (রাযি.) বললেন, সেদিন বাদে অন্য সময়ে তাঁকে এ সালাত আদায় করতে দেখিনি।
১১৮০
তাহাজ্জুদ যোহরের (ফরযের) পূর্বে দু’রাকআত সালাত
ইবনু ‘উমার (রাযি.)
ইবনু ‘উমার (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমি দশ রাক‘আত সালাত আমার স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে রেখেছি। যুহরের পূর্বে দু’রাক‘আত পরে দু’ রাক‘আত, মাগরিবের পরে দু’রাক‘আত তাঁর ঘরে, ‘ইশার পরে দু’রাক‘আত তাঁর ঘরে এবং দু’রাক‘আত সকালের (ফজরের) সালাতের পূর্বে। [ইবনু ‘উমার (রাযি.) বলেন] আর সময়টি ছিল এমন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট (সচরাচর) কোন লোককে প্রবেশ করতে দেয়া হত না।
১১৮১
তাহাজ্জুদ যোহরের (ফরযের) পূর্বে দু’রাকআত সালাত
উম্মুল মু’মিনীন হাফসাহ (রাযি.)
উম্মুল মু’মিনীন হাফসাহ (রাযি.) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন মুআয্যিন আযান দিতেন এবং ফজর উদিত হত তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন।
১১৮২
তাহাজ্জুদ যোহরের (ফরযের) পূর্বে দু’রাকআত সালাত
আয়িশাহ্ (রাযি.)
আয়িশাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুহরের পূর্বে চার রাক‘আত এবং (ফজরের পূর্বে) দু’রাক‘আত সালাত ছাড়তেন না। ইবনু আবূ আদী ও ‘আমর (রহ.) শু‘বাহ (রহ.) হতে হাদীস বর্ণনায় ইয়াহ্ইয়া (রহ.)-এর অনুসরণ করেছেন।
১১৮৩
তাহাজ্জুদ মাগরিবের (ফরয এর) পূর্বে সালাত।
আবদুল্লাহ্ মুযানী (রাযি.)
আবদুল্লাহ্ মুযানী (রাযি.) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ তোমরা মাগরিবের (ফরযের) পূর্বে (নফল) সালাত আদায় করবে; লোকেরা এ ‘আমলকে সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, এটা কারণে তৃতীয়বারে তিনি বললেনঃ এ তার জন্য যে ইচ্ছা করে।
১১৮৪
তাহাজ্জুদ মাগরিবের (ফরয এর) পূর্বে সালাত।
মারসাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইয়াযানী (রহ.)
মারসাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ্ ইয়াযানী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ‘উকবাহ ইবনু জুহানী (রাযি.)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে বললাম, আবূ তামীম (রহ.) সম্পর্কে এ কথা বলে কি আমি আপনাকে বিস্মিত করে দিব না যে, তিনি মাগরিবের (ফরয) সালাতের পূর্বে দু’ রাক‘আত (নফল) সালাত আদায় করে থাকেন। ‘উক্বাহ (রাযি.) বললেন, (এতে বিস্ময়ের কী আছে?) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে তো আমরা তা আদায় করতাম। আমি প্রশ্ন করলাম, তা হলে এখন কিসে আপনাকে বাধা দিচ্ছে? তিনি বললেন, কাজকর্মের ব্যস্ততা।
১১৮৫
তাহাজ্জুদ নফল সালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করা।
ইবনু শিহাব (রহ.)
ইবনু শিহাব (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মাহমূদ ইবনু রাবী‘ আনসারী (রাযি.) আমাকে জানিয়েছেন যে, (শিশুকালে তাঁর দেখা) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা তাঁর ভাল স্মরণ আছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বাড়ির কুপ হতে (পানি মুখে নিয়ে বারাকাতের জন্য) তার মুখমন্ডলে যে ছিটিয়ে দিচ্ছিলেন সে কথাও তার ভাল মনে আছে।
১১৮৬
তাহাজ্জুদ নফল সালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করা।
মাহমূদ (রহ.)
মাহমূদ (রহ.) বলেন যে, ইতবান ইবনু মালিক আনসারী (রাযি.)-কে (যিনি ছিলেন বদর জিহাদে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে উপস্থিত বদরী সাহাবীগণের অন্যতম) বলতে শুনেছেন যে, আমি আমার কাওম বনূ সালিমের সালাতে ইমামাত করতাম। আমার ও তাদের (কাওমের মসজিদের) মধ্যে ছিল একটি উপত্যকা। বৃষ্টি হলে উপত্যকা আমার মাসজিদ গমনে বাধা সৃষ্টি করতো এবং এ উপত্যকা অতিক্রম করে তাদের মসজিদে যাওয়া আমার জন্য কষ্টকর হতো। তাই আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খিদমতে হাযির হয়ে আরয করলাম, (হে আল্লাহর রাসূল!) আমি আমার দৃষ্টিশক্তির কমতি অনুভব করছি (উপরন্তু) আমার ও আমার গোত্রের মধ্যকার উপত্যকাটি বৃষ্টি হলে প্লাবিত হয়ে যায়। তখন তা পার হওয়া আমার জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই আমার একান্ত আশা যে আপনি শুভাগমন করে আমার ঘরের কোন স্থানে সালাত আদায় করবেন; আমি সে স্থানটিকে সালাতের স্থানরূপে নির্ধারিত করে নিব। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, শীঘ্রই তা করবো। পরের দিন সূর্যের উত্তাপ যখন বেড়ে গেল, তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং আবূ বকর (রাযি.) আসলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (প্রবেশের) অনুমতি চাইলে আমি তাঁকে স্বাগত জানালাম, তিনি উপবেশন না করেই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার ঘরের কোন্ জায়গায় আমার সালাত আদায় করা তুমি পছন্দ কর? যে স্থানে সালাত আদায় করা আমার মনঃপূত ছিল, তাঁকে আমি সে স্থানের দিকে ইঙ্গিত করে দিলাম। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন, আমরা সারিবদ্ধভাবে তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। তিনি দু’রাক’আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। তাঁর সালাম ফেরানোর সময় আমরাও সালাম ফিরালাম। অতঃপর তাঁর উদ্দেশে যে খাযীরা প্রস্তুত করা হচ্ছিল তা আহারের জন্য তাঁর প্রত্যাগমনে আমি বিলম্ব ঘটালাম। ইতিমধ্যে মহল্লার লোকেরা আমার বাড়িতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অবস্থানের সংবাদ শুনতে পেয়ে তাঁদের কিছু লোক এসে গেলেন। এমন কি আমার ঘরে অনেক লোকের সমাগম ঘটলো। তাঁদের একজন বললেন, মালিক (ইবনু দুখায়শিন) করল কী? তাকে দেখছি না যে? তাঁদের একজন জবাব দিলেন, সে মুনাফিক! আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ এমন কথা বলবে না। তুমি কি লক্ষ্য করছ না যে, আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু’ উচ্চারণ করেছে। সে ব্যক্তি বলল, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তবে আল্লাহর কসম! আমরা মুনাফিকদের সাথেই তার ভালবাসা ও আলাপ-আলোচনা দেখতে পাই। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা সে ব্যক্তিকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে ’লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহু’ উচ্চারণ করে। মাহমূদ (রাযি.) বলেন, এক যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদল লোকের নিকট বর্ণনা করলাম তাঁদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবী আবূ আইয়ুব (আনসারী) (রাযি.) ছিলেন। তিনি সে যুদ্ধে ওফাত পেয়েছিলেন। আর ইয়াযীদ ইবনু মু’আবিয়া (রাযি.) রোমানদের দেশে তাদের আমীর ছিলেন। আবূ আইয়ুব (রাযি.) আমার বর্ণিত হাদীসটি অস্বীকার করে বললেন, আল্লাহর কসম! তুমি যে কথা বলেছ তা যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তা আমি বিশ্বাস করতে পারি না। ফলে তা আমার নিকট ভারী মনে হল। তখন আমি আল্লাহর নামে প্রতিজ্ঞা করলাম যে, যদি এ যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত তিনি আমাকে নিরাপদ রাখেন, তাহলে আমি ইত্বান ইবনু মালিক (রাযি.)-কে তাঁর কাউমের মসজিদের বিষয়ে জিজ্ঞেস করবো, যদি তাঁকে জীবিত অবস্থায় পেয়ে যাই। অতঃপর আমি ফিরে চললাম এবং হাজ্জ কিংবা উমরার নিয়্যাতে ইহরাম করলাম। অতঃপর সফর করতে করতে আমি মদিনা্য় উপনীত হয়ে বনূ সালিম গোত্রে উপস্থিত হলাম। দেখতে পেলাম ’ইত্বান (রাযি.) যিনি তখন একজন বৃদ্ধ ও অন্ধ ব্যক্তি কাউমের সালাতে ইমামাত করছেন। তিনি সালাত সমাপ্ত করলে আমি তাঁকে সালাম দিলাম এবং আমার পরিচয় দিয়ে উক্ত হাদীস সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি প্রথমবারের মতই হাদীসটি আমাকে শুনালেন।